India VS Bharat: সুপ্রিম কোর্ট থেকে সাংবিধানিক সভা, কোন দিকে ঝুঁকে রায়?

India VS Bharat: পাখির চোখ ২০২৪ -এর লোকসভা নির্বাচন। ২০২৪ -এর নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী জোটের নাম নির্বাচিত হয়েছে I.N.D.I.A. বা Indian National Democratic Inclusive Alliance। এই কারণেই কি দেশের নাম পরিবর্তনে ব্যস্ত বিজেপি?

inscript
৩ মিনিট
India VS Bharat: সুপ্রিম কোর্ট থেকে সাংবিধানিক সভা, কোন দিকে ঝুঁকে রায়?

ভারত নাকি ইন্ডিয়া? কোন নামে ডাকা হবে দেশকে?এই নিয়ে কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। জি২০ সম্মেলন আরও একবার সেই বিতর্ক উসকে দিয়ে গেল। দেশ-বিদেশের অতিথিদের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরিচয় হিসেবে লেখা হয়েছিল, Prime Minister, Bharat. একইভাবে জি-২০ সম্মেলনের মঞ্চেও তাঁর নামফলকে লেখা ছিল ভারত। তাহলে কি বিশ্বের সামনে ভারত নামেই সিলমোহর পড়তে চলেছে এবার? প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। জেনে নেওয়া যাক এই নামের ইতিহাস।

ইন্ডিয়া এবং ভারত: ইতিহাস কী বলছে?

পার্সিয়ানদের 'স' এর বদলে 'হ' -এর উচ্চারণে সিন্ধু হল হিন্দু। হিন্দু থেকে ইরানিয়ানদের প্রভাবে বদলে দাঁড়াল হিন্দুস্তান। গ্রিকদের আগমনের পরে, ইন্দাস ভ্যালি থেকে ইন্দোস হয়ে ইন্ডিয়া। ইতিহাসের পাতায় ভৌগলিক ভূ-বিন্যাসের কারণে নাম হল ইন্ডিয়া। অন্যদিকে, ভারত নামের পেছনে উপনিষদের প্রভাব। রয়েছে 'মহাভারত'-এর অনুষঙ্গও। অনেকে মনে করেন রাজা দুষ্মন্ত এবং শকুন্তলার পুত্র ভরতের নাম থেকেই ভারত নামের উৎপত্তি ঘটেছে। সমাজবিজ্ঞানী ক্যাথরিন ক্লেমেন্টিন ওঝা-র মতে ভারত সম্পূর্ণভাবে একটি ধর্মীয় এবং সামাজিক পরিচয়।যদিও ভারতের সংবিধানের প্রথম বাক্যেই দুটি নামকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।"India that is Bharat, shall be a union of states."

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইন্ডিয়া নয়, ভারতেই জোর মোদির! জি-২০ তে স্পষ্ট হচ্ছে যেসব ইশারা

G20 Prime Minister of Bharat : ৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই ভারতের টুইটার ট্রেন্ডিং তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে রয়েছে 'Prime Minister of Bharat'।

বিচারব্যবস্থা কী বলছে?

২০১৬ সালের মে মাসে, দেশের নাম ভারত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বিচারপতি টি.এস.ঠাকুর সেই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেন। এবং এই বিষয়ে কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ সময় অপচয় করার জন্য ভর্ৎসনা করেন। খারিজ করার যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছিল, যাঁর ইচ্ছে ভারত নামে ডাকার তিনি ডাকতে পারেন। যাঁরা ইন্ডিয়া নামে ডাকতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ দিতে হবে। সংবিধানে এই দুই নামেরই উল্লেখ রয়েছে। বোঝা যায়, তখনও শাসকদলের তরফে কোনও বিশেষ নাম চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা শুরু হয়ে যায়নি। পরে, ক্রমশই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। ২০২০ সালে দিল্লির এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে ফের জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। সংবিধানের ১ নং ধারার বদল চেয়ে তিনি ইন্ডিয়া নাম বাতিলের পরামর্শ দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ইন্ডিয়া নাম বাতিলের মধ্যে দিয়ে পূর্বপুরুষদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বদেশচেতনা প্রবল হবে। যদিও এই মামলাও খারিজ হয়ে যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারত বনাম ইন্ডিয়া: প্রথম নয়, আগেও যেভাবে পাল্টে ফেলা হয়েছে এই সব রাজ্যের নাম

India vs Bharat row: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নাকি জি-২০ সমাবেশে আগত অতিথিদের আমন্ত্রণপত্রে নিজের পরিচয় দিয়েছেন 'প্রেসিডেন্ট অব ভারত' হিসেবে। মজার ব্যাপার, এক কালে নাকি দেশের নাম বদলে 'ভারত' করার দাবি নাকচ করে দিয়েছিলেন মোদি স্বয়ং।

যদি বর্তমানে, ভারত নামটিই শুধুমাত্র ব্যবহার করতে চাওয়া হয়, সেই ক্ষেত্রে সংবিধানে সংশোধন ঘটাতে হবে। কোন পথে হাঁটছে কেন্দ্র সরকার?

নাম প্রসঙ্গে নানা মত:

সংবিধান সভার অন্যতম সদস্য, কে.ভি. কামাথ সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব রেখে বলেন, হয় ভারত নাহলে ইন্ডিয়া যেকোনও একটি নামই ব্যবহার করা উচিৎ। যদিও বিশ্বে চিন,জাপান,হল্যান্ডের মতো একাধিক দেশ একাধিক নামে পরিচিত। সংবিধান সভার আরেক সদস্য, শেঠ গোবিন্দ দাসের মতে, প্রাচীন ইতিহাসে ইন্ডিয়া নামের প্রচলন ছিলনা। গ্রিকরা আসার পরে, এই নাম প্রচলিত হয়। অন্যদিকে ভারত নাম 'বিষ্ণুপুরাণ' তথা উপনিষদেও ব্যবহৃত হয়েছে। তাই ইন্ডিয়া নাম বর্জন করে, ইতিহাস অনুসরণে সংস্কৃতিকে তুলে ধরা উচিৎ।

এক দেশ, এক নাম:

পাখির চোখ ২০২৪ -এর লোকসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই কানাঘুষো শোনা গেছে এক দেশ,এক নাম,এক নির্বাচনের ডাক দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। ২০২৪ -এর নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী জোটের নাম নির্বাচিত হয়েছে I.N.D.I.A. বা Indian National Democratic Inclusive Alliance। এই কারণেই কি দেশের নাম পরিবর্তনে ব্যস্ত বিজেপি? এক নির্বাচনের বিষয়েও ধন্দে পড়তে হচ্ছে আমজনতাকে। এতদিন লোকসভা নির্বাচন এবং রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচন ভিন্ন সময়ে হত। ফলত, দুই নির্বাচনের ইস্যুও হত পৃথক।'এক নির্বাচনের' ফলে, স্থানীয় ইস্যুগুলি যেমন মূল্যহীন হয়ে যাবে, তেমনই গুরুত্ব হারাতে পারে স্থানীয় দলগুলিও। ভারতের সংস্কৃতি বহুত্বের মাঝে ঐক্যের বার্তা দেয়। একটি বিরোধী জোটের নাম ঘিরে, সংবিধান সংশোধন করে সারা দেশের নাম বদলে ফেলা যে আদতে একনায়কতন্ত্রী মনোভাবের ফসল। বুঝতে অসুবিধে হয় না কারোরই

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।