৪১ বছর পর মহাকাশে ভারতীয়! ১৪ দিনের অভিযান কতটা রোমাঞ্চকর?
Shubhanshu Shukla: ১৪ দিনের এই অভিযানকে সফল করতে চার মহাকাশযাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ দিন তাঁদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেই থাকতে হবে।

৪১ বছর পর আবার মহাকাশ যাত্রা ভারতীয়র। লখনউয়ে শুভাংশু শুক্লা ইতিহাস গড়তে চলেছেন। ২৫ জুন ভারতের মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্ল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS)-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি অ্যাক্সিওম মিশন-ফোর-এর অংশ হয়ে ১৪ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকবেন। কে এই শুভাংশু শুক্লা?
ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ২৫ জুন ভারতীয় সময় ১২টা এক মিনিটে রওনা হয়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট। শুভ্রাংশু সঙ্গে আরও চার মহাকাশচারী রয়েছেন। ২৬ জুন ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ তাঁরা পৌঁছে গিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন(আইএসএস)-এ।
১৪ দিনের এই অভিযানকে সফল করতে চার মহাকাশযাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ দিন তাঁদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেই থাকতে হবে। সেখানে অন্তত ৬০টি পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি পরীক্ষা ভারতীয় গবেষকদের সিদ্ধান্ত।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Vienna Tour: কলকাতায় নিশ্চিন্তে বুড়ো হতে পারি। বাকি সব শহর, সব কিছু কত এগিয়ে যাচ্ছে। যাক। আমার এই আলস্য মন্দ লাগে না।
শুভ্রাংশু শুক্লা কে?
শুভ্রাংশু ভারতীয় বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা। লখনউ-এ বেড়ে ওঠা শুভ্রাংশু-র জন্ম ১৯৮৫ সালে। এখন তাঁর বয়স ৩৯ বছর। তিনিই এই মহাকাশযানটির পাইলট। ২০০৫ সালে তাঁর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হয়। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। ২০২০ সালে রাশিয়ায় গ্যাগারিন কসমোনট নামে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে থেকেও প্রশিক্ষণ নেন তিনি। তাঁর মিগ, জাগুয়ার, হক এবং অন্যান্য যুদ্ধবিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৯ সালে ইসরো থেকেও ডাক পেয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে গ্রুপ ক্যাপ্টেনের পদ পান। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, শুভ্রাংশু গগনযান মিশনে ভারত-কে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
প্রযুক্তিগত জটিলতার জন্য বাধা
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Zohran Mamdani: বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত উগান্ডার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান হলেন জোহরান মামদানি।
২৫জুন যাত্রা শুরুর আগে কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেয়। দ্রুত তা সরিয়ে নেওয়া হয়।
পুনরায় সব দেখে নিয়ে লঞ্চ কমপ্লেক্সের ৩৯এ থেকে ফ্যালকন রকেটটি রওনা হয়। ১৯৬৯ সালে এখান থেকেই অ্যাপলো ১১ করে চাঁদে পাড়ি দিয়েছিলেন নীল আর্মস্ট্রং।
এই মহাকাশযাত্রাটি হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ২৯ মে। খারাপ আবহাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তা বারবারেই পিছিয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও পাঁচবার এই যাত্রা বাতিল হয়েছে। অবশেষে ২৫ জুন মহাকাশযাত্রার জন্য রওনা হয় তাঁরা।অভিযানের রকেটটি ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্সের বানানো ফ্যালকন নয় রকেট। অতীতে ১৬ বার এই রকেট মহাকাশযাত্রায় গিয়েছে। শুভ্রাংশু শুক্লাকে মহাকাশে পাঠাতে ভারত সরকারকে ৫৫০ কোটি টাকা দিতে হয়েছে।
প্রথম ভারতীয় হিসাবে মহাকাশে গিয়েছিলেন রাকেশ শর্মা। সেটা ছিল ১৯৮৪। আর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে মহাকাশে গেলেন শুভ্রাংশু শুক্লা। এখন মহাকাশে ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। শুভাংশুর এই অর্জন গোটা দেশের জন্য গর্বের।















