মগজাস্ত্র ক্ষুরধার, ফোনে বানচাল করেন আক্রমণ! ভারতের প্রকৃত জেমস বন্ড অজিত ডোভাল

Ajit Doval: ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ভারতের আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে নেয় আইএসআইএস জঙ্গিরা। বিমানে উপস্থিত ১৭০ জন ভারতীয়কে সম্পূর্ণ সুস্থ ভাবে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পড়ল অজিত ডোভালের উপর।

Arunava Nag Roy
৫ মিনিট
মগজাস্ত্র ক্ষুরধার, ফোনে বানচাল করেন আক্রমণ! ভারতের প্রকৃত জেমস বন্ড অজিত ডোভাল

অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করলে সেই যুদ্ধ বারবার লড়তে হয়, কিন্তু মগজাস্ত্র প্রয়োগ করলে শত্রুকে চিরতরে নির্মূল করে দেওয়া যায়। সিনেমার পর্দায় আমরা জেমস বন্ডকে দেখে বহুবার আমোদিত হয়েছি। ভারতেও একজন জেমস বন্ড আছেন। তিনি পর্দার নন, বাস্তবের জেমস বন্ড। তিনি বর্তমান ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার অজিত ডোভাল। ৮০ বছরের ডোভালের উদ্যম দেখলে, তাঁর আসল বয়স ঠাহর করা মুশকিল। প্লেন হাইজ্যাক আটকানো হোক কিংবা সার্জিকাল স্ট্রাইক, কাশ্মীরের সমস্যা হোক বা দিল্লির দাঙ্গা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দায়িত্ব গিয়ে পড়ে অজিত ডোভালের ওপর। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যেকার সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত। সামরিক প্রত্যাঘাতের দিকেই এগোচ্ছে ভারতের পরিকল্পনা। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে বুধবার অসামরিক মহড়া পরিচালিত হতে চলেছে। ২৭টি রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই অসামরিক মহড়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। মহড়ার আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পহেলগাঁওয়ের জবাব দেওয়ার জন্য ডোভালের উপর কতখানি নির্ভর করছে কেন্দ্র?

১৯৪৫ সালে উত্তরাখণ্ডে জন্ম অজিত ডোভালের। তাঁর বাবা ছিলেন আর্মিতে। মিলিটারি পরিবার হওয়ায় ছোট থেকেই প্রচণ্ড অনুশাসনে বড় হয়েছেন অজিত। পড়াশোনা শেষ করে ১৯৬৮ সালে কেরল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৭২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অর্থাৎ সিবিআইতে যোগ দেন ডোভাল। এই সময় তিনি এমকে নারায়ণনের (ভারতের তৃতীয় NSA এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল) সংস্পর্শে আসেন। সিবিআইয়ে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডোভালের সামনে আসে এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ।

ফিরে যাওয়া যাক সত্তরের গোড়ায়। ১৯৭২ সাল, উত্তর-পূর্ব ভারতে তখন ভয়ংকর ইনসার্জেন্সি চলছে। সেখানকার বিভিন্ন রাজ্য থেকে দাবি উঠছে তাদের আলাদা করে একটি দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। এই সময় মিজোরামে একপ্রকার সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছেন লালডেঙ্গা। লালডেঙ্গার আতঙ্কে দিল্লি পর্যন্ত কেঁপে উঠছে। এই সময় দিল্লির আইবি অফিসে মিটিং ডাকা হয়। লালডেঙ্গার ডেরায় যাবে কে? এই প্রশ্নের জবাবে যখন সব বড় বড় অফিসাররা একে অপরের মুখ দেখছেন, তখন সটান দাঁড়িয়ে উঠে ডোভাল বললেন, তিনি যাবেন। মিজোরামে গিয়ে অজিত ডোভাল প্রথমে লালডেঙ্গার বিশ্বস্ত সাতজন কমান্ডারের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতালেন। ধীরে ধীরে কমান্ডারদের বোঝাতে থাকলেন ভারতের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার কী কী সুবিধা। তিনি কমান্ডারদের আশ্বস্ত করেন যে, ভারত সরকার তাদের উপর থেকে সব ক্রিমিনাল চার্জ তুলে নেবে। শর্ত একটাই, তাদের ভারত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। ডোভাল ওই কমান্ডারদের জানান, ভারত সরকারের সঙ্গে জুড়ে গেলে মিজোরামে ভোট হবে। ফলত আর বেআইনিভাবে নয়, সম্পূর্ণ আইনি স্বীকৃতি নিয়েই লালডেঙ্গা নিজের সরকার চালাতে পারবেন মিজোরামে। ফলত ১৯৭২ সালের শেষভাগে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত হয় মিজোরাম। সেখানে ইনসার্জেন্সি সম্পূর্ণরূপে শেষ হয় এবং ১৯৮৬ সালে সেখানে প্রথম বিধানসভা নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গড়ে এমএনএফ এবং মুখ্যমন্ত্রী হন লালডেঙ্গা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রেসকোর্স থেকে জ্যোতিষ চেম্বার! কলকাতা পুলিশের রহস্যভেদ হার মানাবে ওয়েব সিরিজকেও!

Kolkata Police Murder Mystery: “বিশ্বাস করুন স্যার আমি খুন করিনি! ওরা খুন করেছে স্যার, আমি বারণ করেছিলাম। সুরজিৎদা আমায় বাঁচান, বিশ্বাস করুন আমি খুন করিনি!”, শুভজিৎ, সুরজিৎ দু'জনেই থ!

অজিত ডোভাল

মিজোরাম সামলালেও অজিত ডোভালের জন্য অপেক্ষা করছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ। এবার ডোভালের মোকাবিলা হওয়ার ছিল আমেরিকার সঙ্গে। ১৯৭৩ সালে সিকিমের রাজা এক আমেরিকান মহিলাকে বিয়ে করেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে এই মহিলা ছিলেন সিআইএ এজেন্ট। এই খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে আইবি। ক্রমশ লক্ষ্য করা যায় সিকিমের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন রানি-রূপী ওই সিআইএ এজেন্ট। দিল্লির ভয় ছিল আমেরিকাকে নিয়ে। যদি তারা সিকিম দখল করে নেয়, তাহলে পক্ষান্তরে ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে পারে চিন। মোট কথা, সিকিম কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। এবার অজিত ডোভালকে পাঠানো হলো সিকিম। অজিত ডোভাল গিয়ে সিকিমের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই দলের নেতাদের তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, সিকিমকে বাঁচাতে হলে সিকিমকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ফলত সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং সিকিমের মহারাজার মধ্যে লেগে গেল বিবাদ। সেই সময় সিকিমের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট। রাজা ফরমান জারি করলেন সিকিমের প্রধানমন্ত্রী-সহ সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসের সব নেতাকে রাতারাতি কারাবন্দি করার। এই খবর অজিত ডোভালের কাছে যেতেই তিনি ফোন করেন ইন্দিরা গান্ধীকে। রাতারাতি সেনা পৌঁছে গেল সিকিমে এবং বন্দি করা হয় সিকিমের রাজাকে। সিকিমের প্রধানমন্ত্রী এবং অজিত ডোভালের উপস্থিতিতে ১৯৭৫ সালে পাকাপাকিভাবে ভারতের অংশ হলো সিকিম।

লালডেঙ্গা

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলকাতা ভোলেনি বন্দরের 'গ্যাংযুদ্ধ'! সেকালের হত্যাকাণ্ডের সমাধানে ঘুম উড়েছিল পুলিশের

Gang War of Kolkata: মণিময় ব্যানার্জি লেনে নর্দমার ধারে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে একটি ছেলে। জীবিত না মৃত বোঝা যাচ্ছে না! খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে গেলেন ওয়াটগঞ্জ থানার ওসি।

নিজের কর্মজীবনে বহুবার মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখেছেন অজিত ডোভাল। ১৯৭৭ সালে র এবং আইডির তরফে প্রায় ২০০ জন সিক্রেট এজেন্টকে পাকিস্তান পাঠানো হয় পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম সাবোটাজ করার জন্য। এদিকে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জিয়াউল হকের সঙ্গে মনের আনন্দে কথা বলতে বলতে সেই তথ্য ফাঁস করে দেন। রাতারাতি প্রায় সব সিক্রেট এজেন্টকে খুঁজে খুঁজে হত্যা করে আইএসআই। কোনওমতে সেবার প্রাণ বাঁচিয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন অজিত ডোভাল। তবে ফিরতে ফিরতেও পাকিস্তানকে মোক্ষম ধাক্কা দিয়ে এসেছিলেন তিনি। মোসাডকে তিনি জানিয়ে দেন পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম না আটকালে সবচেয়ে বড় বিপদ ইজরায়েলের। নিউক্লিয়ার বোম বানিয়ে সবার আগে ইজরায়েলের ওপরেই ফেলবে পাকিস্তান। পাকিস্তান এই নিউক্লিয়ার বোম অত্যন্ত সংগোপনে তৈরি করছিল। কিন্তু এই তথ্য বিশ্বের দরবারে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাদের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম ১৫ বছর পিছিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, কাশ্মীর থেকে কেরল, পঞ্জাব থেকে উত্তর পূর্ব- বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজের কর্মদক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন ডোভাল।

মোরারজি দেশাই এবং জিয়াউল হক

বিপদের সময় কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হয় তা বারংবার শিখিয়েছেন অজিত ডোভাল। ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ভারতের আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে নেয় আইএসআইএস জঙ্গিরা। নেপাল থেকে দিল্লি আসছিল ফ্লাইটটি কিন্তু সেটিকে কান্দাহার উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আইএসআইএসের তরফে দাবি করা হয় ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং ৩৫ জন বন্দিকে ছাড়তে হবে। কান্দাহারে সেই সময় তালিবানদের থেকেও সমর্থন পাচ্ছিল আইএসআইএস। মনে করা হয়, তাদের গোপনে টাকা জোগাত আইএসআই। বিমানে উপস্থিত ১৭০ জন ভারতীয়কে সম্পূর্ণ সুস্থ ভাবে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পড়ল অজিত ডোভালের উপর। ডোভাল এবার শুরু করলেন নিজের ‘মাইন্ড গেম’। সিআইএ, কেজিবি, এমআই-৫, মোসাড, ইন্টারপোল, পেন্টাগন- সব জায়গায় ফোন করে ফ্লাইটে উপস্থিত জঙ্গিদের সম্বন্ধে তথ্য জোগাড় করা শুরু করলেন তিনি। এই খবর আইএসআইয়ের কানে যেতেই তারা নড়ে বসে। তারা আশঙ্কা করে যখন তখন তাদের উপর আক্রমণ হতে পারে। আইএসআই জঙ্গিদের নির্দেশ দেয়, অজিত ডোভালকে ফোন করে পাল্টা চাপ দেওয়ার জন্য। অজিত সাফ জানিয়ে দেন এক পয়সাও তিনি দেবেন না, বড়জোর একজন জঙ্গিকে ছাড়তে পারেন তারা। উল্টোদিকে আইএসআই আইএসআইএসের উপর চাপ বাড়াতে থাকে। শেষমেষ ঠিক হয় ৩ জন জঙ্গিকে ছাড়বে ভারত। অবশেষে ৩ জন জঙ্গিকে ছেড়ে ১৭০ জন ভারতীয়কে সুস্থভাবে ভারতে নিয়ে আসেন ডোভাল।

শোনা যায়, ২০০৫ সালে দাউদকে হত্যার পুরো পরিকল্পনা করেছিল র এবং আইবি। তৎকালীন আইবি চিফ অজিত ডোভালের পরামর্শে নেপাল থেকে আনানো হয় ছোটা রাজনের দুই শার্প-শুটারকে। প্ল্যান ছিল, দুবাইয়ে নিজের মেয়ের বিয়েতে দাউদ যোগ দিতে গেলে সেখানেই তাকে নিকেশ করা হবে। প্ল্যানটি কার্যকরী হওয়ার আগেই মাঝখানে চলে আসে মুম্বই পুলিশ। মনে করা হয়, মুম্বই পুলিশের উচ্চস্তরে অনেকে দাউদের থেকে মাসোহারা পেতেন। উপরন্তু ততদিনে রিটায়ার হয়ে গিয়েছেন অজিত ডোভাল। যদি মুম্বই পুলিশ হস্তক্ষেপ না করত তাহলে এতদিনে দাউদের নামের আগে ‘লেট’ বসেই যেত। অবসর গ্রহণের পরেও তিনি দেশের উন্নতিকল্পে কাজ করে গেছেন। ২০০৯ এবং ২০১১ সালে কালো টাকা এবং কর ফাঁকি নিয়ে প্রকাশিত তাঁর রিপোর্ট শোরগোল ফেলে দেয় দেশ জুড়ে।

নরেন্দ্র মোদির অন্যতম বিশ্বাসের পাত্র অজিত ডোভাল

এছাড়াও বিভিন্ন সময় ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সওয়াল করেছেন ডোভাল। সেই থেকেই বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে অজিত ডোভালকে দেশের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চাইলে পুলিশ সার্ভিসে থেকে অনেক আরামের জীবন কাটাতে পারতেন অজিত ডোভাল। কিন্তু তিনি তা করেননি। দেশের স্বার্থে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে গুপ্তচরের কাজ করেছেন, সামলেছেন কঠিন থেকে কঠিনতর পরিস্থিতিও। শুধুমাত্র মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করাই নয়, শত্রুকে চাপে ফেলে কাজ করিয়ে নেওয়াতে আজও তাঁর জুড়ি মেলা ভার।

লিখেছেন
Arunava Nag Roy
Arunava Nag Roy
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।