মগজাস্ত্র ক্ষুরধার, ফোনে বানচাল করেন আক্রমণ! ভারতের প্রকৃত জেমস বন্ড অজিত ডোভাল

Ajit Doval: ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ভারতের আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে নেয় আইএসআইএস জঙ্গিরা। বিমানে উপস্থিত ১৭০ জন ভারতীয়কে সম্পূর্ণ সুস্থ ভাবে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পড়ল অজিত ডোভালের উপর।

Arunava Nag Roy
৫ মিনিট
মগজাস্ত্র ক্ষুরধার, ফোনে বানচাল করেন আক্রমণ! ভারতের প্রকৃত জেমস বন্ড অজিত ডোভাল

অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করলে সেই যুদ্ধ বারবার লড়তে হয়, কিন্তু মগজাস্ত্র প্রয়োগ করলে শত্রুকে চিরতরে নির্মূল করে দেওয়া যায়। সিনেমার পর্দায় আমরা জেমস বন্ডকে দেখে বহুবার আমোদিত হয়েছি। ভারতেও একজন জেমস বন্ড আছেন। তিনি পর্দার নন, বাস্তবের জেমস বন্ড। তিনি বর্তমান ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার অজিত ডোভাল। ৮০ বছরের ডোভালের উদ্যম দেখলে, তাঁর আসল বয়স ঠাহর করা মুশকিল। প্লেন হাইজ্যাক আটকানো হোক কিংবা সার্জিকাল স্ট্রাইক, কাশ্মীরের সমস্যা হোক বা দিল্লির দাঙ্গা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দায়িত্ব গিয়ে পড়ে অজিত ডোভালের ওপর। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যেকার সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত। সামরিক প্রত্যাঘাতের দিকেই এগোচ্ছে ভারতের পরিকল্পনা। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে বুধবার অসামরিক মহড়া পরিচালিত হতে চলেছে। ২৭টি রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই অসামরিক মহড়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। মহড়ার আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পহেলগাঁওয়ের জবাব দেওয়ার জন্য ডোভালের উপর কতখানি নির্ভর করছে কেন্দ্র?

১৯৪৫ সালে উত্তরাখণ্ডে জন্ম অজিত ডোভালের। তাঁর বাবা ছিলেন আর্মিতে। মিলিটারি পরিবার হওয়ায় ছোট থেকেই প্রচণ্ড অনুশাসনে বড় হয়েছেন অজিত। পড়াশোনা শেষ করে ১৯৬৮ সালে কেরল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৭২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অর্থাৎ সিবিআইতে যোগ দেন ডোভাল। এই সময় তিনি এমকে নারায়ণনের (ভারতের তৃতীয় NSA এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল) সংস্পর্শে আসেন। সিবিআইয়ে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডোভালের সামনে আসে এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ।

ফিরে যাওয়া যাক সত্তরের গোড়ায়। ১৯৭২ সাল, উত্তর-পূর্ব ভারতে তখন ভয়ংকর ইনসার্জেন্সি চলছে। সেখানকার বিভিন্ন রাজ্য থেকে দাবি উঠছে তাদের আলাদা করে একটি দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। এই সময় মিজোরামে একপ্রকার সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছেন লালডেঙ্গা। লালডেঙ্গার আতঙ্কে দিল্লি পর্যন্ত কেঁপে উঠছে। এই সময় দিল্লির আইবি অফিসে মিটিং ডাকা হয়। লালডেঙ্গার ডেরায় যাবে কে? এই প্রশ্নের জবাবে যখন সব বড় বড় অফিসাররা একে অপরের মুখ দেখছেন, তখন সটান দাঁড়িয়ে উঠে ডোভাল বললেন, তিনি যাবেন। মিজোরামে গিয়ে অজিত ডোভাল প্রথমে লালডেঙ্গার বিশ্বস্ত সাতজন কমান্ডারের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতালেন। ধীরে ধীরে কমান্ডারদের বোঝাতে থাকলেন ভারতের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার কী কী সুবিধা। তিনি কমান্ডারদের আশ্বস্ত করেন যে, ভারত সরকার তাদের উপর থেকে সব ক্রিমিনাল চার্জ তুলে নেবে। শর্ত একটাই, তাদের ভারত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। ডোভাল ওই কমান্ডারদের জানান, ভারত সরকারের সঙ্গে জুড়ে গেলে মিজোরামে ভোট হবে। ফলত আর বেআইনিভাবে নয়, সম্পূর্ণ আইনি স্বীকৃতি নিয়েই লালডেঙ্গা নিজের সরকার চালাতে পারবেন মিজোরামে। ফলত ১৯৭২ সালের শেষভাগে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত হয় মিজোরাম। সেখানে ইনসার্জেন্সি সম্পূর্ণরূপে শেষ হয় এবং ১৯৮৬ সালে সেখানে প্রথম বিধানসভা নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গড়ে এমএনএফ এবং মুখ্যমন্ত্রী হন লালডেঙ্গা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রেসকোর্স থেকে জ্যোতিষ চেম্বার! কলকাতা পুলিশের রহস্যভেদ হার মানাবে ওয়েব সিরিজকেও!

Kolkata Police Murder Mystery: “বিশ্বাস করুন স্যার আমি খুন করিনি! ওরা খুন করেছে স্যার, আমি বারণ করেছিলাম। সুরজিৎদা আমায় বাঁচান, বিশ্বাস করুন আমি খুন করিনি!”, শুভজিৎ, সুরজিৎ দু'জনেই থ!

অজিত ডোভাল

মিজোরাম সামলালেও অজিত ডোভালের জন্য অপেক্ষা করছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ। এবার ডোভালের মোকাবিলা হওয়ার ছিল আমেরিকার সঙ্গে। ১৯৭৩ সালে সিকিমের রাজা এক আমেরিকান মহিলাকে বিয়ে করেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে এই মহিলা ছিলেন সিআইএ এজেন্ট। এই খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে আইবি। ক্রমশ লক্ষ্য করা যায় সিকিমের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন রানি-রূপী ওই সিআইএ এজেন্ট। দিল্লির ভয় ছিল আমেরিকাকে নিয়ে। যদি তারা সিকিম দখল করে নেয়, তাহলে পক্ষান্তরে ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে পারে চিন। মোট কথা, সিকিম কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। এবার অজিত ডোভালকে পাঠানো হলো সিকিম। অজিত ডোভাল গিয়ে সিকিমের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই দলের নেতাদের তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, সিকিমকে বাঁচাতে হলে সিকিমকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ফলত সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং সিকিমের মহারাজার মধ্যে লেগে গেল বিবাদ। সেই সময় সিকিমের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট। রাজা ফরমান জারি করলেন সিকিমের প্রধানমন্ত্রী-সহ সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসের সব নেতাকে রাতারাতি কারাবন্দি করার। এই খবর অজিত ডোভালের কাছে যেতেই তিনি ফোন করেন ইন্দিরা গান্ধীকে। রাতারাতি সেনা পৌঁছে গেল সিকিমে এবং বন্দি করা হয় সিকিমের রাজাকে। সিকিমের প্রধানমন্ত্রী এবং অজিত ডোভালের উপস্থিতিতে ১৯৭৫ সালে পাকাপাকিভাবে ভারতের অংশ হলো সিকিম।

লালডেঙ্গা

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলকাতা ভোলেনি বন্দরের 'গ্যাংযুদ্ধ'! সেকালের হত্যাকাণ্ডের সমাধানে ঘুম উড়েছিল পুলিশের

Gang War of Kolkata: মণিময় ব্যানার্জি লেনে নর্দমার ধারে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে একটি ছেলে। জীবিত না মৃত বোঝা যাচ্ছে না! খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে গেলেন ওয়াটগঞ্জ থানার ওসি।

নিজের কর্মজীবনে বহুবার মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখেছেন অজিত ডোভাল। ১৯৭৭ সালে র এবং আইডির তরফে প্রায় ২০০ জন সিক্রেট এজেন্টকে পাকিস্তান পাঠানো হয় পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম সাবোটাজ করার জন্য। এদিকে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জিয়াউল হকের সঙ্গে মনের আনন্দে কথা বলতে বলতে সেই তথ্য ফাঁস করে দেন। রাতারাতি প্রায় সব সিক্রেট এজেন্টকে খুঁজে খুঁজে হত্যা করে আইএসআই। কোনওমতে সেবার প্রাণ বাঁচিয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন অজিত ডোভাল। তবে ফিরতে ফিরতেও পাকিস্তানকে মোক্ষম ধাক্কা দিয়ে এসেছিলেন তিনি। মোসাডকে তিনি জানিয়ে দেন পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম না আটকালে সবচেয়ে বড় বিপদ ইজরায়েলের। নিউক্লিয়ার বোম বানিয়ে সবার আগে ইজরায়েলের ওপরেই ফেলবে পাকিস্তান। পাকিস্তান এই নিউক্লিয়ার বোম অত্যন্ত সংগোপনে তৈরি করছিল। কিন্তু এই তথ্য বিশ্বের দরবারে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাদের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম ১৫ বছর পিছিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, কাশ্মীর থেকে কেরল, পঞ্জাব থেকে উত্তর পূর্ব- বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজের কর্মদক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন ডোভাল।

মোরারজি দেশাই এবং জিয়াউল হক

বিপদের সময় কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হয় তা বারংবার শিখিয়েছেন অজিত ডোভাল। ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ভারতের আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে নেয় আইএসআইএস জঙ্গিরা। নেপাল থেকে দিল্লি আসছিল ফ্লাইটটি কিন্তু সেটিকে কান্দাহার উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আইএসআইএসের তরফে দাবি করা হয় ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং ৩৫ জন বন্দিকে ছাড়তে হবে। কান্দাহারে সেই সময় তালিবানদের থেকেও সমর্থন পাচ্ছিল আইএসআইএস। মনে করা হয়, তাদের গোপনে টাকা জোগাত আইএসআই। বিমানে উপস্থিত ১৭০ জন ভারতীয়কে সম্পূর্ণ সুস্থ ভাবে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পড়ল অজিত ডোভালের উপর। ডোভাল এবার শুরু করলেন নিজের ‘মাইন্ড গেম’। সিআইএ, কেজিবি, এমআই-৫, মোসাড, ইন্টারপোল, পেন্টাগন- সব জায়গায় ফোন করে ফ্লাইটে উপস্থিত জঙ্গিদের সম্বন্ধে তথ্য জোগাড় করা শুরু করলেন তিনি। এই খবর আইএসআইয়ের কানে যেতেই তারা নড়ে বসে। তারা আশঙ্কা করে যখন তখন তাদের উপর আক্রমণ হতে পারে। আইএসআই জঙ্গিদের নির্দেশ দেয়, অজিত ডোভালকে ফোন করে পাল্টা চাপ দেওয়ার জন্য। অজিত সাফ জানিয়ে দেন এক পয়সাও তিনি দেবেন না, বড়জোর একজন জঙ্গিকে ছাড়তে পারেন তারা। উল্টোদিকে আইএসআই আইএসআইএসের উপর চাপ বাড়াতে থাকে। শেষমেষ ঠিক হয় ৩ জন জঙ্গিকে ছাড়বে ভারত। অবশেষে ৩ জন জঙ্গিকে ছেড়ে ১৭০ জন ভারতীয়কে সুস্থভাবে ভারতে নিয়ে আসেন ডোভাল।

শোনা যায়, ২০০৫ সালে দাউদকে হত্যার পুরো পরিকল্পনা করেছিল র এবং আইবি। তৎকালীন আইবি চিফ অজিত ডোভালের পরামর্শে নেপাল থেকে আনানো হয় ছোটা রাজনের দুই শার্প-শুটারকে। প্ল্যান ছিল, দুবাইয়ে নিজের মেয়ের বিয়েতে দাউদ যোগ দিতে গেলে সেখানেই তাকে নিকেশ করা হবে। প্ল্যানটি কার্যকরী হওয়ার আগেই মাঝখানে চলে আসে মুম্বই পুলিশ। মনে করা হয়, মুম্বই পুলিশের উচ্চস্তরে অনেকে দাউদের থেকে মাসোহারা পেতেন। উপরন্তু ততদিনে রিটায়ার হয়ে গিয়েছেন অজিত ডোভাল। যদি মুম্বই পুলিশ হস্তক্ষেপ না করত তাহলে এতদিনে দাউদের নামের আগে ‘লেট’ বসেই যেত। অবসর গ্রহণের পরেও তিনি দেশের উন্নতিকল্পে কাজ করে গেছেন। ২০০৯ এবং ২০১১ সালে কালো টাকা এবং কর ফাঁকি নিয়ে প্রকাশিত তাঁর রিপোর্ট শোরগোল ফেলে দেয় দেশ জুড়ে।

নরেন্দ্র মোদির অন্যতম বিশ্বাসের পাত্র অজিত ডোভাল

এছাড়াও বিভিন্ন সময় ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সওয়াল করেছেন ডোভাল। সেই থেকেই বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে অজিত ডোভালকে দেশের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চাইলে পুলিশ সার্ভিসে থেকে অনেক আরামের জীবন কাটাতে পারতেন অজিত ডোভাল। কিন্তু তিনি তা করেননি। দেশের স্বার্থে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে গুপ্তচরের কাজ করেছেন, সামলেছেন কঠিন থেকে কঠিনতর পরিস্থিতিও। শুধুমাত্র মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করাই নয়, শত্রুকে চাপে ফেলে কাজ করিয়ে নেওয়াতে আজও তাঁর জুড়ি মেলা ভার।

লিখেছেন
Arunava Nag Roy
Arunava Nag Roy
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নন্দীগ্রামে প্রতীকহীন তৃণমূল, রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন: কেমন হচ্ছে উপনির্বাচন?

Nandigram Rejinagar by - election 2026: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রে ১৮,৮৯৫টি ভোটার আপিল হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯০টিতে। অযোগ্য ভোটার হিসাবে ঘোষিতদের, ৯৪-৯৫ শতাংশ মুসলিম। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিজের প্রতীক নেই, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রেজিনগরে, ভোট চলাকালীন, হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল জানা যাবে, ৯ অক্টোবর।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।