বিজেপি হারছে? এই মুহূর্তে কী বলছে সাট্টা বাজারের হিসেব?

Lok Sabha Election 2024: লোকসভা নির্বাচনের ভোটগণনা আগামী ৪ জুন। ঠিক এই সময় রাজস্থানের ফলোদির সাট্টা বাজার কী বলছে? কী বলছে দেশের বাদবাকি জুয়ার বাজার?

Sohini Das
৪ মিনিট
বিজেপি হারছে? এই মুহূর্তে কী বলছে সাট্টা বাজারের হিসেব?

লোকসভা ভোট প্রায় শেষের পথে। বাকি মাত্র আর এক দফা। এই সময় সাট্টা বাজারে জমে উঠেছে খেলা। উঠে আসছে একের পর ভবিষ্যদ্বাণী। ভোটে জিতে কি তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসতে চলেছেন এনডিএ সরকার? ফের সিংহাসনে বসবেন নরেন্দ্র মোদি? নাকি ভোটের হাওয়া বইবে সম্পূর্ণ উল্টোদিকে। বিজেপি বিরোধিতায় সরব হয়েছে দেশের প্রায় সবকটি বিজেপি বিরোধী দল। সেই জোট 'ইন্ডিয়া'-রই বা কতটা সম্ভবনা ক্ষমতায় আসার? ঠিক এই সময় রাজস্থানের ফলোদির সাট্টা বাজার কী বলছে? কী বলছে দেশের বাদবাকি জুয়ার বাজার? যেখানকার বাতাসে লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে উড়ছে দেদার টাকা।

লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের ইস্তেহার সামনে আসার পর থেকেই একটু হলেও যেন বুক কেঁপেছে বিজেপির। যে মনের জোর দিয়ে গোটা বছর এবং ভোটের কর্মসূচীর পরিকল্পনা করেছিল, তা যেন কোথাও একটু হলেও বাধা পেয়েছে। তাই কি ভোটের বাজারে বারবার নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেখা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদির মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিককে। বারবার সংখ্যালঘুকে আক্রমণ করে নিজের দিকে ঘোরাতে দেখা গিয়েছে হিন্দুভোটকে? শুরুর দিকে প্রায় সমস্ত জনসভাতেই মোদি দাবি করেছেন, এবার ভোটে চারশো পার করবে তার দল। কিন্তু ভোট যত এগিয়েছে, বিজেপির সেই আত্মবিশ্বাসকে যেন ততই মাটিতে গড়াগড়ি খেতে দেখা গিয়েছে। ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, কিছুতেই চারশো পেরোতে পারবে না বিজেপি। কিন্তু এবার ভোটে জিতে এনডিএ সরকারের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরা নিশ্চিত। গতবার যত ভোট পেয়েছিল বিজেপি, ঠিক সেই সংখ্যক বা তার চেয়ে সামান্য বেশি সংখ্যক ভোট পেতে চলেছে বিজেপি। আর এর মধ্যেই ফলোদির সাট্টাবাজার কিন্তু বলছে অন্য সম্ভাবনার কথা।

বুধবার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ও এই বার লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগরের প্রার্থী মহুয়া মৈত্রের ফ্যান পেজ থেকে সম্প্রতি এক্স অ্যাকাউন্টে একাধিক সাট্টা বাজারের বেশ কিছু ভবিষ্য়দ্বাণী প্রকাশ করা হয়েছে। কী দেখা যাচ্ছে সেখানে? রাজস্থানের ফলোদি সাট্টা বাজার মনে করছে এই লোকসভা ভোটে বিজেপি পেতে পারে ২০৯টি আসন, এনডিএ পাবে ২৫৩টি। অন্যদিকে কংগ্রেস পেতে চলেছে ১১৭টি আসন, ইন্ডিয়া জোট পাবে ২৪৬টি। গুজরাটের পালনপুর সাট্টা বাজারের ভবিষ্যদ্বাণী, ২১৬টি আসন পাবে বিজেপি, এনডিএ পাবে ২৪৭টি আসন। কংগ্রেস পাচ্ছে ১১২ এবং ইন্ডিয়া পেতে চলেছে ২২৫টি। হরিয়ানার করনাল সাট্টা বাজারের মতে, বিজেপি পাচ্ছে ২৩৫টি আসন, এনডিএ জোট পাবে ২৬৩টি আসন। কংগ্রেসের শিকেয় ছিঁড়ছে ১০৮টি আসন, ইন্ডিয়া জোট পাবে ২৩১। অসমের বোহরি সাট্টা বাজার বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে ২২৭ আসনে, এনডিএ রয়েছে ২৫৫-তে। কংগ্রেস রয়েছে ১১৫-তে, ইন্ডিয়া পাচ্ছে ২১২টি সিট। কর্ণাটকের বেলগাম সাট্টা বাজারের ভবিষ্যদ্বাণীও একই রকম। কলকাতার সাট্টা বাজার বলছে, বিজেপি পেতে চলেছে ২১৮টি আসন, এনডিএ ২৬১। কংগ্রেস পাচ্ছে ১২৮ ও ইন্ডিয়া জোট ২২৮। ইন্দৌরে সরাফা সাট্টা বাজার থেকে শুরু করে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া, গুজরাটের আমেদাবাদ ও সুরাট সাট্টাবাজারেরও ভবিষ্যদ্বাণী কিছু উনিশ-বিশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জুয়ার স্বর্গ এখানেই! ভোট এলেই জমে ওঠে ফালোদির 'সট্টা' বাজার

Phalodi satta market: ভোট এলেই বাজারে ভিড় জমতে থাকে ক্রমে। ভোট যত গড়ায়, তত বড় বড় টাকার বাজি ওঠে ফালোদি বাজারে। জমে ওঠে জুয়ার মার্কেট।

Satta Bazar predicts a close contest between NDA & INDIA.

Interesting times ahead. 😎✌🏻

— Mahua Moitra Fans (@MahuaMoitraFans)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি আর বিজেপি দুই-ই এবার ব্যাকফুটে || মুখোমুখি পরাকলা প্রভাকর

Exclusive Interview of Parakala Prabhakar: বিজেপি কি সত্যিই ২৩০-এর বেশি আসন পাবে না? হিন্দু-মুসলিম ন্যারেটিভের বাইরে গিয়ে ইলেক্টোরাল বন্ড নিয়ে আদৌ চিন্তিত মানুষ? ইনস্ক্রিপ্টের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় পরকলা প্রভাকর।

অর্থাৎ গোড়া থেকে যে চারশো পারের দাবি মোদি ও তাঁর দলবল করে আসছেন, তা যে নিখাদ মিথ্যে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। এনডিএ জোট যে কোনও মতেই চারশো পার করতে পারবে না এই লোকসভা ভোটে, তা পরিষ্কার সাট্টাবাজারগুলোর ভবিষ্যদ্বাণী থেকে। কারণ যথেষ্ট ক্ষেত্রসমীক্ষার পরেই এই সব উত্তরগুলো ঘোরে সাট্টাবাজারগুলিতে। এবং দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক দিন আগে সাট্টা বাজারগুলি যে ভবিষ্য়দ্বাণী করেছিল, ভোটের ৬ দফা পেরিয়ে এসে সেই হিসেব যেন অনেকটাই ঘুরেছে। বেড়েছে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের আসন সংখ্যা। সেদিক থেকে দেখতে গেলে সাট্টা বাজারের হিসেব যে ভাবে ঘুরছে, তাতে কি ঘুরে যেতে পারে ভারতের ভাগ্যের চাকা? সিংহাসনের হিসেব বদলে যেতে পারে আগামী কয়েক দিনে?

আগামী ৪ জুন ভোটগণনা। দেশের আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য নির্ভর করে রয়েছে ওই দিনটার উপরেই। দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পরাকলা প্রভাকর কিন্তু প্রথম থেকে বলে আসছেন, বিজেপি কোনও মতেই ২৩০টির বেশি আসন পাবে না এই ভোটে। বিজেপির প্রচারের ধরণ থেকে শুরু করে তাদের গতিবিধি ও প্রথম কয়েকটি পর্বে ভোট পড়ার হার দেখে তেমনটাই মনে করেছেন এই অর্থনীতিবিদ। সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ যোগেন্দ্র যাদবের গলাতেও শোনা গিয়েছে সেই সুর। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি জানিয়েছিলেন, এই লোকসভা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বিজেপি। ২৭২ আসনের অনেক নিচেই থাকবে। এমনকী এনডিএ-ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ। এবার সাট্টা বাজারগুলির হিসেবও যেন দিকনির্দেশ করছে সেদিকেই।

ভারতবর্ষের ভাগ্যনির্ধারণ হতে আর খুব বেশি দেরি নেই। এর মধ্যে কতটা পাল্টাতে চলেছে রাজনীতির অঙ্ক। আগামী ১ জুন শেষ দফার লোকসভা ভোট। সেদিন কলকাতা-সহ অনেকগুলি জরুরি কেন্দ্রে ভোট রয়েছে। সেই দফায় প্রাপ্ত ভোট কতটা ওলটপালট করতে চলেছে লোকসভা ভোটের হিসেব? আগামী দিনে কতটা বদলাবে সাট্টা বাজারের ভবিষ্যদ্বাণী? এনডিএ-কে ক্ষমতায় ফেলে এগিয়ে আসতে পারবে ইন্ডিয়া জোট? যদি না-ও পারে, তাহলেও যে সে জোর টক্কর দিতে চলেছে তা অন্তত পরিষ্কার সাট্টা বাজারের এই হিসেব থেকে? কী হতে চলেছে চার তারিখ? সেটাই এখন দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।