কেন বাংলাদেশি পণ্যে বিধিনিষেধ ভারতের?

Bangladesh: সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হত।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
কেন বাংলাদেশি পণ্যে বিধিনিষেধ ভারতের?

স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে আমদানি পণ্যের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত। এপ্রিল মাসের শুরুতেই ভারত তৃতীয় দেশে রফতানি পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। জবাবে বাংলাদেশও স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতো আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বিধিনিষেধ কী কী? কোন কোন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ? কোন দেশে কী প্রভাব পড়বে?

বিধিনিষেধ

১৬ মে শুক্রবার ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ঘোষণা করা হয়েছে- কোন স্থলবন্দর দিয়েই তৈরি পোশাকসহ কিছু বাংলাদেশি পণ্য ভারতে আমদানি করা যাবে না। আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংরাবান্ধা ও ফুলবাড়ী দিয়ে ভারতের আমদানি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। আমদানি নিষেধ করা হয়েছে-

১) ফল, ফলের-স্বাদযুক্ত যে কোনো ধরনের পানীয় ও কার্বোটেড ড্রিংকস,

২) বেকারি, চিপস, স্ন্যাকস এবং কনফেকশনারিতে তৈরি প্রক্রিয়াজাত খাবার,

৩) তুলো ও সুতোর পণ্য,

৪) পিভিসি-সহ বিভিন্ন প্লাস্টিকের পণ্য,

৫) কাঠের তৈরি আসবাবপত্র,

তবে মাছ এলপিজি ভোজ্যতেল ও পাথর আমদানি করা যাবে। ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের ওপর দিয়ে ভুটান ও নেপালে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি অব্যাহত থাকবে। পোশাক শুধুমাত্র কলকাতা ও মুম্বাইয়ের নভসেবা সমুদ্র বন্দরের দিয়েই ভারতে প্রবেশ করতে পারবে।

ব্যবসায় প্রভাব

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিষয়টি শুধুই অর্থনৈতিক নয় এতে বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তাও স্পষ্ট হয়েছে। এতে ভারতীয় আমদানিকারকরাও ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্য বলছে, ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ছিল। ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে বিভিন্ন কোম্পানি নতুন করে বিনিয়োগের পরিকল্পনাও করছিল। নতুন ঘোষণার পর দুই দেশেরই ব্যবসায়িকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হত। ২০২৩-২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারে পণ্য রফতানি করা হয়েছিল। পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যই সেখানে বেশি ছিল। এছাড়াও ছিল প্লাস্টিক পণ্য ও আসবাব সামগ্রী। আমদানির ক্ষেত্রে ২০২৩-২৪ সালে বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করেছে ৯০০ কোটি ডলারের পণ্য। গত বছর বাংলাদেশ আরও অন্যান্য দেশে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। বলে রাখা ভালো, এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পণ্য অন্য দেশে রফতানি হয়েছে ভারতের বন্দর থেকে। সে সময় ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধে পেত বাংলাদেশ।

সমুদ্র বন্দরে খরচ বেশি

সমুদ্র বন্দর দিয়ে পণ্য পাঠালে খরচ বেশি হয় এবং সময়ও বেশি লাগে। তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল সামাদ বিবিসি বাংলা-কে বলেছেন- এই সিদ্ধান্তে দুই দেশেরই ক্ষতি হবে। তাঁর কথায়, "স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পাঠালে আমাদের খরচ ও সময় কম লাগে। সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে পণ্য পাঠালে ব্যয় বাড়বে। আবার সময়ও অনেক বেশি লাগবে। কিন্তু এতে যে শুধু আমাদের ক্ষতি হবে তা নয়। ভারতীয় আমদানিকারকদেরও তো খরচ বাড়বে।"

স্থল বন্দর ব্যবহার করেই ভারতে রফতানি বাড়ছিল। ভারতে সবচেয়ে বেশি পণ্য রফতানি করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। তারা ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি পণ্য রফতানি করে। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভারত নতুন বিধিনিষেধের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তিনি এও দাবি করেছেন যে, এই বিধি-নিষেধে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের ব্যবসায়ীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের বড়ো বাজার রয়েছে। ভারতের এই অংশেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। বাংলাদেশের আওয়ামী সরকারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিলই। বিশ্লেষকরা একাংশ বলছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত এমনি এমনি হয় না। এই সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। রফতানির এই নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ কী বিকল্প বেছে নেবে? এই সংকট থেকেই বা কীভাবে বেরোবে বাংলাদেশ? তাই এখন দেখার।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।