বাড়বে আইফোনের দাম! ট্রাম্পের সেকেন্ডারি শুল্কের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

Trump : সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়া বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। জাহাজ ট্র্যাক করে তৈরি করা ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছর রাশিয়ার তেল রফতানির পরিণাম কমছে।

inscript
৩ মিনিট
বাড়বে আইফোনের দাম! ট্রাম্পের সেকেন্ডারি শুল্কের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

রাশিয়ায় উপর সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু তবুও তারা ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চান তিনি। তাই এই দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখা সমস্ত দেশের উপর চড়া শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বলাই বাহুল্য, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে জটিল ধাক্কা।

দেখাযাক এর ফলে কী প্রভাব পড়বে?

ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যদি আগামী ৮ অগাস্টের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতিতে রাজি না হয়, তবে এই দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা যে কোনো দেশের উপরই নতুন সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করা হবে। আর রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভালো। এর জন্য ভারতের উপর প্রথমেই ২৫% শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এবার আরও ২৫% শুক্ল চাপালেন। অর্থাৎ ভারতের উপর দু’দফায় মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অপারেশন সিঁদুর: ভারতের হারানো যুদ্ধবিমানের সংখ্যা নিয়ে কেন মাথাব্যথা ট্রাম্পের?

India-Pakistan conflict: সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান ধ্বংস নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চার-পাঁচটি বিমান ধ্বংসের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাশিয়া সবচেয়ে বেশি রফতানি করে তেল ও গ্যাস। আর চীন, ভারত ও তুরস্ক মস্কোর সবচেয়ে বড় ক্রেতা। রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও তেল কেনে ভারত। এটিই ট্রাম্পের মাথাব্যথার কারণ। রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের উপর অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করেছেন ট্রাম্প। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার জানিয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধর পর থেকে ভারত রাশিয়ার তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন আগেও সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করেছে। এর আগে ভেনেজুয়েলার তেল ক্রেতাদের উপর সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করা হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পুতিন কাছে এলেন বলেই ট্রাম্প দূরে গেলেন?

Trump: ২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর থেকে রাশিয়ান তেল আমদানি ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।

সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়া বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। তবে জাহাজ ট্র্যাক করে তৈরি করা ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছর রাশিয়ার তেল রফতানির পরিণাম কমছে। যদি আবার এই শুল্ক কার্যকর হয় তবে বিশ্ব বাজারে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সরবরাহ আরও কমবে। এর ফলে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

যদি সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করা হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলোকে ভারতের পণ্য আমদানি করার সময় শতভাগ শুল্ক দিতে হবে। এই নীতির উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা যাতে অন্য কোথাও থেকে সস্তায় পণ্য কিনে নেয়। ফলে ভারতের রাজস্ব কমবে।

এই সেকেন্ডারি শুল্ক চাপানোর ফলে আমেরিকানরা ভারতের মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা খাবে। মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল ভারতে তাদের আইফোন উৎপাদনের বড় অংশ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে সেগুলোই স্থানান্তর করা হচ্ছে যেগুলো তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে চায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এসব পণ্য নতুন চুক্তিতে পড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের এই ফোন দ্বিগুণ দামে কিনতে হতে পারে। কারণ আমদানি শুল্ক মূলত সংস্থার উপর চাপানো হয় আর এই সংস্থাগুলি সাধারণত সব খরচই গ্রাহকের থেকে আদায় করে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও মেশিনারির মতো পণ্য অন্য কোনো দেশ থেকে পাওয়া খুব কঠিন। ফলে এই চুক্তি হলে আমেরিকানদেরও বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হবে। আবার ফিনল্যান্ডভিত্তিক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের এক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তুরস্ক এখনও রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা। রাশিয়ান জ্বালানিতে শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হলে ইইউ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া পণ্যের পরিমাণ কমে যেতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ভারত-আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। এখনও পর্যন্ত দু’দেশের মধ্যে পাঁচ দফায় আলোচনা হয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি, আরও আলোচনা হওয়ার কথা। চুক্তি হওয়ার আগে অন্তর্বর্তী সমঝোতা করতে চাইছে দুই দেশ। তাই মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদের ভারতেও আসার কথা রয়েছে। আগেই জানা গিয়েছিল, আমেরিকা চায় ভারত কৃষিপণ্য, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে তাদের সুবিধা করে দিক। কিন্তু ভারত তাতে রাজি হয়নি। এখনো দেখার, ভারত-আমেরিকার মধ্যে চূড়ান্ত বাণিজ্যচুক্তি কী হয়?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।