বিনিয়োগের দারুণ একটা জায়গা খুঁজছেন? IPO সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানুন

Amit Pratihar
৪ মিনিট
বিনিয়োগের দারুণ একটা জায়গা খুঁজছেন? IPO সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানুন

যে কোনও মধ্যবিত্তের কপালেই চিন্তার ভাঁজের একটা অন্যতম কারণ যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তবে উত্তর হিসাবে যা যা উঠে আসবে তার অন্যতম হলো, 'বিনিয়োগ কোথায় করব?' ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিসে দিন দিন সুদের হার কমতে থাকার প্রবণতা, সেনসেক্সের ওঠাপড়া, শেয়ার মার্কেটের ফাটকা, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জটিলতা ইত্যাদি ইত্যাদির চক্রব্যুহে কপালে গাঢ় হতে থাকে চিন্তার ভাঁজ। উপার্জিত টাকা কোথায় বিনিয়োগ করলে রিটার্নটা খুব ভালো আসবে এবং নিশ্চিন্তও থাকা যাবে?

ঠিক এখানেই আলোকপাত করা যাক একধরণের বিনিয়োগ পদ্ধতির উপর যার নাম IPO বা ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং। IPO কী? খায় না মাখে? বিনিয়োগের সাথে এর কী সম্পর্ক? কীভাবে কাজ করে? এর সুবিধা কী? পদ্ধতি কী? আবেদন কীভাবে করা যায় এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগের জন্য? এখানে বিনিয়োগ করা কি ভালো? নিশ্চয়তা কতটুকু? আমরা চেষ্টা করব ধরে ধরে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে।

IPO কী? :

আইপিও, ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (Initial Public Offering) বা প্রথম পাবলিক অফারিং এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি প্রাইভেট কোম্পানি প্রথমবার তার কোম্পানির শেয়ারগুলি জনগণের বনিয়োগের জন্য বিক্রি করে। এর মূল কারণ হলো সেই কোম্পানিগুলো ব্যাঙ্ক থেকে লোন না নিয়েই নিজেদের মূলধন বাড়াতে চায় এবং পরিণত হয় পাবলিক কোম্পানিতে।

ধরে নেওয়া যাক, আপনি একটি পাঁপড়ের কোম্পানি খুলেছেন। শুরুতে অর্থের জন্য কাছের লোকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কোম্পানি চালিয়েছিলেন। বর্তমানে আপনার কোম্পানির পাঁপর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে সুতরাং চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন নতুন কারখানা ও নতুন নতুন যন্ত্রপাতির। আপনার কোম্পানি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন এখন প্রচুর অর্থের এবং শ্রমিকের। অর্থাৎ মূলধনের। এই মূলধন জোগাড় করার জন্য আপনি যদি ব্যাঙ্কের কাছে যান তাহলে আপনাকে প্রতি মাসে আসলের সাথে সুদ দিতে হবে, যা একটা বিশাল বড় অর্থ। অন্যদিকে আপনার কাছে সুযোগ রয়েছে আপনার কোম্পানির কিছু অংশ পাবলিকের উদ্দ্যেশ্য বিক্রি করে দিতে পারবেন, অর্থাৎ আপনাকে স্টক এক্সচেঞ্জে নাম নথিভুক্ত করতে হবে । আপনি যে সরাসরি আপনার কোম্পানির শেয়ার পাবলিককে অফার করছেন এটিই হল IPO।

আইপিওর মাধ্যমে, কোম্পানিটি স্টক এক্সচেঞ্জে তার নাম তালিকাভুক্ত করে। সাধারণ মানুষ সেই কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করলে বিক্রির আগে অবধি হয়ে ওঠেন সেই কোম্পানির আংশিক মালিক। আমাদের দেশে আইপিওকে রিস্ক ফ্রি বনিয়োগ পদ্ধতি হিসাবে দেখা হয়। কারণ এই বিনিয়োগে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা একদম নেই বললেই চলে।

IPO তে বিনিয়োগের পদ্ধতি কী? :

আইপিও-তে বিনিয়োগের জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট এবং পাশাপাশি একটি ট্রেডিং অ্যাকাউন্টও খুলতে হবে। ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট আপনাকে আপনার পছন্দসই শেয়ারগুলিতে লেনদেন করতে দেয় এবং ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট আপনার ক্রয়কৃত শেয়ারগুলি জমা রাখে। যখন কোনও কোম্পানি তাদের আইপিও ডিক্লেয়ার করে তখন আইপিওতে বিনিয়োগের জন্য, আইপিওর বিবরণ, বিড নম্বর, লট সাইজ অর্থাৎ আপনি যে পরিমাণ বিনিয়োগ করতে চান, ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং প্যান নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনও বিনিয়োগকারী অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার পর আপনি যতদিন না স্টক পাচ্ছেন,ততদিন যে পরিমান লট আবেদন করছেন সেই পরিমান টাকা ব্লক হয়ে থাকবে অর্থাৎ সেই পরিমান টাকা আপনি আর খরচ করতে পারবেন না।

এমন না যে আবেদন করলেই আপনি সেই কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন। প্রচুর চাহিদার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারের বন্টন হয় লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে। সেই লটারিতে যাদের নাম ওঠে, তারাই কোম্পানির শেয়ার পান এবং বাকিদের বিনিয়োগ করা টাকা আবার ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট-এ।

IPO তেই বিনিয়োগ কেন? সুবিধা কী? :

বিভিন্ন ধরণের সুবিধা আছে আইপিওতে বিনিয়োগ করার তার মধ্যে অন্যতম হলো, এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগ একেবারেই ঝুঁকি মুক্ত। আপনার অর্থের পরিমাণের কোনওরকম ঘাটতি ঘটে না।

যেহেতু কোম্পানি প্রথমবারের জন্য পাবলিকের কাছে শেয়ার ছাড়ে, তাই কোম্পানির শেয়ারের দাম কম থাকে। এবং পরবর্তীকালে তা বেড়ে যায়।

রিটার্ন বেশি। আবেদন করার পর আইপিও পেয়ে গেলে, এই বিনিয়োগের রিটার্ন এর হার বেশি এবং সেটাও খুবই অল্পসময়ের মধ্যেই।

এটি একটি অল্পসময়ের বিনিয়োগ পদ্ধতি। ৩-১০ দিনের মধ্যে আপনার বিনিয়োগ পদ্ধতি সম্পূর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ আপনার অর্থ বেশিদিনের জন্য আটকে থাকে না।

IPO তে বিনিয়োগের আগে কী কী মাথায় রাখতে হবে?

IPO-তে বিনিয়োগ করা সাধারণত একটি সুবিধাজনক বিকল্প, কিন্তু বিনিয়োগের আগে, আপনাকে নিম্নলিখিত জিনিসগুলি মনে রাখতে হবে :-

১. আইপিও-তে বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানি, তার ব্যাকগ্রাউন্ড, ফাইন্যান্সিয়াল, ভবিষ্যতের দিকগুলি পড়ুন।

২. IPO লকিং পিরিয়ড নোট করুন। লকিং পিরিয়ড একটি সময়কাল যাতে আপনি প্রাথমিক বিনিয়োগের পরে স্টকগুলি বিক্রি বা ট্রেড করতে পারবেন না।

৩. যে কোনও IPO-তে বিনিয়োগ করার আগে সবসময় একটি বিনিয়োগের কৌশল পরিকল্পনা করুন।

IPO এর উদাহরণ কী? :

বিভিন্ন ধরণের আইপিও প্রতি সপ্তাহে আসতে থাকে, যেমন এই মুহূর্তে আইপিও বাজারের বড় খবর হলো LIC, Bharat Petrolium, Paytm এর মতো কোম্পানিগুলো বাজারে নিয়ে আসতে চলেছে তাদের IPO

IPO তে বিনিয়োগ করা ভালো না খারাপ? :

সমস্ত আইপিওতে চোখ বুজে বিনিয়োগ করা কখনোই ভালো নয়। বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানিটির ব্যাপারে জানতে হবে, বুঝতে হবে শুরু থেকে তার পারফরম্যান্স এর ধরণ। একটা বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন আইপিওতে বিনিয়োগের আগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যদি আপনার ধারণা না থাকে তবে ব্রোকারের সাহায্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতেই পারে। একজন ব্রোকার মার্কেটের সমস্ত খবর রাখেন, তার কাছে স্পষ্ট ধারণা থাকে কোন কোম্পানির ওপর বিনিয়োগ করা ভালো, কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা খারাপ। সার্ভে অনুযায়ী আইপিও কখনোই লং টার্ম বিনিয়োগ হিসাবে দারুণ বিকল্প নয়।

লিখেছেন
Amit Pratihar
Amit Pratihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।