ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ! কী প্রভাব পড়বে ভারতে?

Iran-Israel conflict: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চললে খনিজ তেলের দাম বাড়বে। ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে বন্ধ হতে পারে উপসাগরীয় দেশ লাগোয়া সমুদ্র বাণিজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা।

inscript
৩ মিনিট
ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ! কী প্রভাব পড়বে ভারতে?

শুক্রবার সকালে ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন ‘রাইজিং লায়ন’ অভিযান চালায় ইজরায়েল। ইজরায়েলি হামলার পর শুক্রবার রাতে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। তাদের অভিযানের নাম ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৩’। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাঘাত চলস ইজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর তেল আভিভের দক্ষিণে। এর পরেই আবার পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেয় ইজরায়েল। পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধ পরিস্থিতি। তীব্র হচ্ছে ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ। বিশ্ব রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতে পড়েছে তার প্রভাব। এই দ্বন্দ্বে নয়াদিল্লির কপালেও পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। প্রশ্ন উঠছে অবিরত, ইরান-ইজরায়েল দ্বন্দ্বে কী প্রভাব পড়তে পারে ভারতে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চললে খনিজ তেলের দাম বাড়বে। ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে বন্ধ হতে পারে উপসাগরীয় দেশ লাগোয়া সমুদ্র বাণিজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। তার ফলে বাড়তে পারে নানা পণ্যের দ্রব্যমূল্য।

অয়েল প্রাইস ডট কমের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ জুন ভোরে ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ শুরু হতেই বিশ্ব বাজারে ‘তরল সোনা’র দাম বেড়েছে প্রায় ৯%শতাংশ। এক দিনেই প্রায় পাঁচ ডলার বেড়ে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেলে ৭৪ থেকে ৭৫ টাকার মধ্যে হয়ে গিয়েছে। ওপেক বাক্সেটে এর দাম ৭০ থেকে ৭২ টাকা। যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিলে ব্যারেল প্রতি অশোধিত তেলের দাম ৯০ থেকে ৯৫ ডলার ছাড়াতে পারে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

পশ্চিমি গণমাধ্যমগুলির দাবি, একদিনে প্রায় ৩৩ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করে ইরান। এটি বিশ্বব্যাপী তরল সোনা উৎপাদনের প্রায় ৩%। তেহরান এর মধ্যে দৈনিক ১৫ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানি করে থাকে। এর মূল ক্রেতা চিন এবং তুরস্ক। সাবেক পারস্য দেশ থেকে ৮০ শতাংশ অশোধিত তেল আমদানি করে বেজিং। যুদ্ধে পরিস্থিতির মধ্যে ইরান খনিজ তেলের সরবরাহ বন্ধ করলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়বে।

তবে, ইরান থেকে আর খনিজ তেল কেনে না ভারত। ভারতে আমদানি করা তরল সোনার ৩৬% আসে রাশিয়া থেকে। ২০২২ সাল থেকে ভারতকে সস্তা দরে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করছে রাশিয়া।তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইরাক এবং সৌদি আরব।

ইজরায়েল-ইরান সংঘাতে ভারতের পশ্চিম এশিয়ার তেল আমদানি সমস্যায় পড়লেও দেশের অন্দরে পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, মস্কো থেকে সস্তায় তরল সোনা কিনবে ভারত। এতে মোদি সরকারের নির্ভরশীলতা বাড়বে রাশিয়ার উপর। তবে ভবিষ্যতে ক্রেমলিনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি করতে পারে ভারত, যা এখন রয়েছে মাত্র ৩%।

তবে এই দ্বন্দ্বে ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এতে পশ্চিম এবং মধ্য এশিয়ায় পণ্য পরিবহণ করতে পারবে না ভারত। অন্যদিকে, ইরান মদতপুষ্ট হুথিরা লোহিত সাগরের রাস্তা বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তখন আর সুয়েজ খাল ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছোতে পারবে না ভারতীয় জাহাজ। এতে ইউরোপে ভারতের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানকে এড়াতে মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্যে করতে দক্ষিণ ইরানের চাবাহার বন্দরটি তৈরি করেছে ভারত। কেন্দ্র সরকার এখানে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে এই রাস্তা রেলপথের মাধ্যমে যুক্ত করার কাজ করছিল ভারত। আবার রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে করতেও ৭,২০০ কিলোমিটার লম্বা ‘আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর’ ব্যবহার করে ভারত। এটি চাবাহার বন্দরের উপর দিয়ে গিয়েছে। যুদ্ধে ইজরায়েলি বায়ুসেনা এই এলাকাকে নিশানা করলে সমস্যায় পড়বে ভারত।

উল্লেখ্য, আরবের একাধিক দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেগুলিকেও এ বার নিশানা করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সাবেক পারস্য দেশের সেনাকর্তারা। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার আরও একাধিক জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভারতের ইরান এবং ইজরায়েল উভয় দেশের সঙ্গেই কৌশলগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া এবং চিনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে তেহরানের দিকে। আর আমেরিকা সমর্থন রয়েছে করছে ইজরায়েলকে। এই পরিস্থিতি ভারত কী ভাবে সামাল দেবে এবং এরপর কী হতে পারে, তাই এখন দেখার।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।