ইরান-ইজরায়েল: কার সামরিক সক্ষমতা বেশি?

Israel-Iran conflict: গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইজরায়েলের থেকে  তিন গুণ বেশি। তবে দুটি দেশই বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশেরগুলির মধ্যে শীর্ষে থাকা কুড়িটি দেশে রয়েছে।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
ইরান-ইজরায়েল: কার সামরিক সক্ষমতা বেশি?

শুক্রবার ভোররাতে ইজরায়েল সুপরকল্পিত ভাবে ইরানের বহু জায়গায় একযোগে আক্রমণ শুরু করে। ইরানের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি, পরমাণবিক ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার খবর ফুটে উঠতে থাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। অভিযানে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)-এর প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামি-সহ অন্তত তিনজন শীর্ষ জেনারেল নিহত হওয়ার খবর আসে। ঠিক তার পরেই ইরানের শীর্ষ নেতা আলি খামেনেই প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তেল আভিভে মিসাইল চালায় তেহরান। শনিবার সকালে দু'দফায় প্রায় ১০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। ইরানের পাল্টা হামলায় ইজরায়েলে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য-সহ পুরো বিশ্বের নজর এখন ইরান-ইজরায়েল পরিস্থিতির দিকে। প্রশ্ন উঠছে, এই আঘাত প্রত্যাঘাতের শেষ কোথায়? কার বাহুবল বেশি? ইরান-ইজরায়েলের মধ্যে সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে?

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইজরায়েলের থেকে তিন গুণ বেশি। তবে দুটি দেশই বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশেরগুলির মধ্যে শীর্ষে থাকা কুড়িটি দেশের মধ্যে রয়েছে। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইরানের অবস্থান ১৪তম আর ইজরায়েলের অবস্থান ১৭তম।

সামরিক শক্তিতে খরচ

ইরান ও ইজরায়েল দুই দেশই প্রতিরক্ষা খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। তবে বাৎসরিক সামরিক বাজেটে ইরানের তুলনায় ইজরায়েল দ্বিগুণেরও বেশি খরচ করেছে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেট হলো ২,৪৪০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, সেখানে ইরানের বাজেট ৯৯৫ কোটি ডলার।

সৈন্যসংখ্যা

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, সৈন্য সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে ইরান। ইরানের ১১ লাখ ৮০ হাজার সেনা আছে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের সেনা সংখ্যা ৬ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে ইরানের হাতে অতিরিক্ত সেনা (রিজার্ভ) আছে সাড়ে তিন লাখ আর ইজরায়েলের অতিরিক্ত সেনা (রিজার্ভ) আছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার।

যুদ্ধবিমান

ইরানের মোট সামরিক বিমানের সংখ্যা ৫৫১টি আর ইজরায়েলের ৬১২টি। ইরানের কাছে যুদ্ধ বিমান আছে ১৮৬টি আর ইজরায়েলের কাছে যুদ্ধবিমান আছে ২৪১টি। ইরানের অ্যাটাকিং বিমান সংখ্যা ২৩টি, অন্যদিকে ইজরায়েলের অ্যাটাকিং বিমান সংখ্যা ৩৯টি। ইরানের পরিবহন বিমান সংখ্যা ৮৬টি, ইজরায়েলের ১২টি। ইরানের প্রশিক্ষণ বিমান ১০২টি, আর ইজরায়েলের ১৫৫টি।

হেলিকপ্টার

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার-এর তথ্য বলছে, ইরানের হেলিকপ্টার আছে ১২৯টি আর ইজরায়েলের ১৪৬টি। অ্যাটক হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে ইজরায়েল বেশি শক্তিশালী। ইজরায়েলের কাছে অ্যাটাক হেলিকপ্টার রয়েছে ৪৮টি। অন্যদিকে, ইরানের অ্যাটক হেলিকপ্টারের সংখ্যা ১৩টি।

ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়ি

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার- এর তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়ি-র ক্ষেত্রে বেশি শক্তিশালী ইরান। ইসরায়েলের ট্যাংক আছে ১,৩৭০টি আর ইরানের ১,৯৯৬টি। ইরানের কাছে সাঁজোয়া গাড়ি আছে ৬৫ হাজার ৭৬৫টি আর ইজরায়েলের আছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি।

এছাড়া কামান জাতীয় সমরাস্ত্র সক্ষমতায় এগিয়ে ইরান। দেশটির রকেট কামান জাতীয় সমরাস্ত্র এমএলআরএস এর সংখ্যা ৭৭৫টি এবং সেলফ প্রপেলড কামান জাতীয় সমরাস্ত্রর সংখ্যা ৫৮০টি। অন্যদিকে, ইজরায়েলের সেফল প্রপেলড কামান জাতীয় সমরাস্ত্রর সংখ্যা ৬৫০টি এবং এমএলআরএস বা রকেট কামান জাতীয় সমরাস্ত্রর সংখ্যা ১৫০টি।

নৌবাহিনী

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার জানিয়েছে, নৌশক্তিতে এগিয়ে ইরান। দেশটির ১০১টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। তার মধ্যে ৭টি ফ্রিগেট এবং ২১টি টহল জাহাজ। ইসরায়েলের যুদ্ধজাহাজ সংখ্যা ৬৭টি। দেশটির টহল জাহাজ আছে ৪৫টি এবং এদের কোনো ফ্রিগেট নেই। সাবমেরিনের দিক থেকেও ইরান শক্তিশালী। ইরানের ১৯টি সাবমেরিন আছে। ইসরায়েলের কাছে সাবমেরিন রয়েছে ৫টি।

পারমাণবিক শক্তি

সুইডেনের গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)- এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৯টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫১২টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, চিন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইজরায়েল। ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কখনোই ছিল না। কিন্তু আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেশ কয়েকবার দাবি করেছে যে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। ইরান দাবি করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেনি কোন দেশের কাছে কত পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।