সামনেই বাংলা-বিহারে নির্বাচন! ইন্ডিয়া জোটের শীতঘুম কাটবে কবে?

India Bloc: বিহারের পরে, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাংলার নির্বাচন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু ইতোমধ্যেই তাঁর দলকে ঐক্যবদ্ধ করে ফেলেছেন

suman sengupta
৬ মিনিট
সামনেই বাংলা-বিহারে নির্বাচন! ইন্ডিয়া জোটের শীতঘুম কাটবে কবে?

গত লোকসভা নির্বাচনের আগে যখন মনে হচ্ছিল অযোধ্যায় রামমন্দির এবং সেই সংক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রচারে ধুয়ে যাবে বিরোধীরা, তখনই ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে খানিক আশা জাগিয়েছিল বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। INDIA অর্থাৎ ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্সের নামকরণথেকেই অনেকে বুঝতে পেরেছিলেন, এই বিরোধী ঐক্যকে জোরদার করতে পারলেই বিপুল ক্ষমতাধর বিজেপিকে পরাজিত করা সম্ভব। তাহলে সেই ইন্ডিয়া জোট এত ছন্নছাড়া হলো কেন? যে বিজেপির হুঙ্কার ছিল "আব কি বার চারশো পার", সেই বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীচে নামিয়ে দেওয়ার পরেও কেন মনে হচ্ছে বিজেপি-আরএসএস অপ্রতিরোধ্য? কেন ইন্ডিয়ার পক্ষে আর ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজেপির আগ্রাসী বুলডোজার রাজনীতিকে ঠেকানো সম্ভব নয়? কেন মনে হচ্ছে, আরএসএস তাদের শতবর্ষে ভারতের সংবিধানকে বদলে দিয়ে হিন্দুরাষ্ট্র ঘোষণা করেই ছাড়বে। কোনও আশাই কি নেই বিজেপি-আরএসএসকে ঠেকানোর? যে সংবিধান বাঁচানোর লড়াই দেখেছিল ২০২৪ সালের লোকসভা, সেই সংবিধানের বদল অবশ্যম্ভাবী তবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।

গত লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই অনেক মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির আসন কমেনি, সারা দেশেই বিজেপি চারশো আসনের লক্ষ্যপূরণ করতে পারেনি। নরেন্দ্র মোদির দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়াতে মানুষের এই আনন্দের দিকে নজর রেখেই বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এবং দৈনিক পত্রিকা ফলাফল বেরনোর পর প্রথম পাতায় লিখেছিল, ভারত অথবা ইন্ডিয়া জোট নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষা দিল। প্রশ্ন উঠেছিল, সংখ্যাগত দিক থেকে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই হয়েছে। তাহলে কেন বলা হচ্ছে, বিজেপি পরাজিত? হ্যাঁ, তথ্যগত হিসেবে বিষয়টা হয়তো ঠিক, কিন্তু প্রচলিত গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে, তাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যখন নাটকীয় প্রত্যাশা তৈরি করা হয়, তখন এই ধরনের ধাক্কাকেই পরাজয়ের মতো দেখায়। যখন একটি দল এবং নেতাদের অজেয়, অপরাজেয় বলে দেখানো হয়, তখন সীমাবদ্ধতার সঙ্গে ক্ষমতা ধরে রাখা আসলে পরাজয়েরই নামান্তর। এই ছিল বিজেপির দুর্দশা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা দুই মেয়াদ শাসন করার পরে, বিজেপি তৃতীয়বার ফিরতে পারে, কিন্তু তাকে ছোট দলের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে, যে দলগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই জনমানসে প্রশ্ন ছিল। তাহলে এত কিছু সত্ত্বেও ইন্ডিয়া জোট সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারল না কেন?

লোকসভা ভোটের কয়েকমাসের মধ্যে হরিয়ানা বিধানসভার ভোট ছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সেফোলজিস্টরা বলতে শুরু করেছিলেন, লোকসভায় বিজেপির ফলের ধারাবাহিকতায়, কংগ্রেস এককভাবে হরিয়ানাতে ক্ষমতায় আসছে। সবাই ধরেই নিয়েছিলেন, বিজেপির নিম্নগামী যাত্রা এবার হরিয়ানা থেকেই শুরু হবে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে হরিয়ানাতে বিজেপি জয়ী হলো। কংগ্রেসের এই পরাজয়ের পিছনে যেমন দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব দায়ী, তেমনই দায়ী ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক আম আদমি পার্টির হরিয়ানাতে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দেওয়া। লোকসভা ভোটের আগে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যখন ইডি গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যায়, তখন ইন্ডিয়া জোটের সমস্ত শরিকেরা যেভাবে দিল্লির রামলীলা ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজেপির অভিযুক্ত ‘রাজনৈতিক’ শাখা ইডি এবং সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন, তা সত্যিই অভাবনীয় ছিল। তারপরে লোকসভায় দিল্লিতে ৭টি আসনে সমঝোতা হওয়াতে অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার বোধহয় বড় শত্রুর বিরুদ্ধে সবাই একজোট হলো কিন্তু হরিয়ানাতে আম আদমি পার্টি আবার কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়াতে, বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নির্বাচন পরবর্তী ঐক্য প্রাথমিকভাবে ধাক্কা খায়। অনেকেই বলেছিলেন, কংগ্রেস বড় শরিক হওয়াতে, তাদেরও উচিত ছিল আরও নমনীয় হয়ে আপ-কে কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া।

হরিয়ানার পরেই মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন। গত লোকসভায় বিজেপি বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ি চমকপ্রদ ফল করেছিল। ৪৮টি আসনের মধ্যে ৩০টি আসন পেয়ে শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে শিবির), কংগ্রেস এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি বিধানসভায় ২৮৮টি আসনে জয়ী হবে বলে ভেবেছিলেন অনেকেই। এই বিধানসভার ক্ষেত্রে কিন্তু বিরোধী জোটে কোনও দৃশ্যগত অনৈক্য ছিল না। এমনকী, কংগ্রেস এই জোটের ছোট অংশীদার হিসেবে অনেকটাই উদারতা দেখিয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিজেপির মহাদ্যুতি জোট একেবারে দুরমুশ করে পরাজিত করেছিল বিরোধীদের। আবারও ইভিএম সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা উঠেছিল, কথা উঠেছিল লোকসভা থেকে বিধানসভা নির্বাচনের চার মাস সময়ের মধ্যে কী করে নতুন করে ৪০ লক্ষ ভোটার যুক্ত হয়েছিল, তা নিয়েও। কথা হয়েছিল, বিরোধী ইন্ডিয়া জোট ইভিএম, ভোটার তালিকায় গরমিল ইস্যুতে রাস্তায় নামবে! কিন্তু কোথায় কী!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কংগ্রেসকে আর কোনও দিন ফেরাতে পারবেন 'রাজনৈতিক সন্ন্যাসী' রাহুল গান্ধি?

Rahul Gandhi: রাহুল গান্ধির লড়াইটা কঠিন। বিগত বছরে তাঁর সংবিধানের সংকল্প, ভারত জোড়ো যাত্রা তাঁকে গান্ধি পরিবারের সুরক্ষিত আসন ছেড়ে মানুষের মাঝখানে জায়গা করে দিয়েছিল। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়েছে কি?

মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের সময়েই ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনও হয়েছিল। সেখানেও বিরোধী ইন্ডিয়া জোট ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ে, বিজেপিকে পরাজিত করতে পেরেছিল। তা সত্ত্বেও ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমে ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বলা হয়, ইন্ডিয়া জোট লোকসভা নির্বাচনের পরে নিজেদের সভা অবধি করতে পারেনি। যে ইন্ডিয়া জোটের সবচেয়ে বড় শরিক কংগ্রেসের নিজের ক্ষমতায় একটি রাজ্যের বিধানসভাতেও জিতে আসার ক্ষমতা নেই, সেই কংগ্রেসের রাহুল গান্ধিকে কেন ইন্ডিয়া জোটের মুখ হিসেবে রাখা হবে? প্রশ্ন তোলা হয় তৃণমূল কংগ্রেস, কেজরিওয়াল, শরদ পাওয়ার, কাশ্মীরের ওমর আবদুল্লার পক্ষ থেকে। ইতোমধ্যে কিন্তু কাশ্মীরের নির্বাচনেও বিজেপি পরাজিত হয়েছে। কিন্তু সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিজেপির কোনও এক অজানা সমঝোতার কারণে সম্ভবত তিনিও আর বিজেপির বিরুদ্ধে খুব বেশি সরব নন। মঝখান থেকে বিহারের আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদব অবধি রাহুলের পরিবর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইন্ডিয়া জোটের নতুন আহ্বায়ক হওয়ার প্রস্তাবকে সমর্থন করে বসলেন। মমতা

বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানান তিনি রাজি। এর মধ্যে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন ঘোষিত হওয়াতে সেখানেও সম্মুখসমরে নেমে পড়ে কংগ্রেস এবং আপ। কেজরিওয়াল থেকে শুরু করে আপ-এর মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্যরা পরাজিত হলেন।

এই বিধানসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের তরফ থেকে ভোটার তালিকায় কারচুপির নানা অভিযোগ আগেই করা হয়েছিল। তবে, তখন যেহেতু কংগ্রেস এবং আপ যুযুধান তাই কোনও দলই এই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে বিশেষ উচ্চবাচ্য করল না। শুধু ফল ঘোষণার আগের দিন কংগ্রেস, শিবসেনা এবং উদ্ধব ঠাকরের দলের পক্ষ থেকে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানা নির্বাচনে ভোটার তালিকায় গরমিল সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলা হলো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। কার্যত, তাঁরা যে আপ-এর আগের করা অভিযোগের সঙ্গে একমত সেটাও বুঝিয়ে দেওয়া হলো। এর মধ্যে বিজেপি কিন্তু এক একটি রাজ্যের বিধানসভায় জিতে নিজেদের আরও সংহত করতে শুরু করেছে। তারা তাদের দু’দিকের দুই সঙ্গী চন্দ্রবাবু নাইডু এবং নীতিশকুমারের জন্য বাজেটে বেশ কিছু ব্যয়বরাদ্দ বাড়িয়ে, সংসদে একের পর এক বিল পাশ করাতে লাগল। নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে, ‘এক দেশ এক ভোট’-এর কাজ শুরু করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করা, ওয়াকফ বিল, যৌথ সংসদীয় কমিটির রিপোর্টের তোয়াক্কা না করে পাশ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হলো, আর হতোদ্যম বিরোধী ইন্ডিয়া জোট শুধু দেখতেই থাকল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইন্ডিয়া জোটের রাজ্যেই অত্যাচারিত মহিলারা? আসলে কতটা মহিলাদরদি বিজেপি?

Modi in Barasat: ২০২২-২০২৩ সালে প্রতিদিন গড়ে ছয়জন করে মহিলা ধর্ষিতা হয়েছেন গুজরাত রাজ্যে। আহমেদাবাদ শহরে প্রতিদিন একজন করে মহিলা ধর্ষিতা হন।

সামনে বিহার নির্বাচন। বিহারের বিরোধী মহাগঠবন্ধনের মধ্যে একমাত্র সিপিআইএমএল ছাড়া সবাই এখনও শীতঘুমে। বিরোধী জোটের পক্ষে কে মুখ হবেন, কী এজেন্ডায় লড়াই হবে, কোনও দিশা নেই! কে কত আসনে লড়াই করবে তাও স্পষ্ট না। নীতিশকুমারের মন্ত্রিসভায় ৭ জন বিধায়ককে ইতোমধ্যেই বিজেপি মন্ত্রী বানিয়ে কোমর বেঁধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে কিন্তু কংগ্রেস আর লালুপ্রসাদের আরজেডি এখনও জানেই না, বিজেপি এবং নীতিশকুমারকে কী প্রশ্নে আক্রমণ করতে হবে। তার মধ্যে, প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজ পার্টি যে বিরোধী ভোটে ভাগ বসাবে তা বলাই বাহুল্য।

বিহারের পরে, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাংলার নির্বাচন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু ইতোমধ্যেই তাঁর দলকে ঐক্যবদ্ধ করে ফেলেছেন এবং ভুয়ো ভোটার, জাল ভোটার কার্ড ইস্যুতে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছেন। বিহারে ইন্ডিয়া জোট এখনও অবধি ভেঙে যাওয়ার কোনও সংকেত না দিলেও, বাংলায় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা লড়বেন, তা ঘোষণা করে দিয়েছেন। সিপিআইএম এখনও বিজেপিকে ফ্যাসিস্ট বলতে দ্বিধান্বিত। তাদের এখনও মনে হচ্ছে, বিজেপি একটি স্বৈরতান্ত্রিক দল, যাদের মধ্যে একটি ফ্যাসিস্ট ঝোঁক আছে মাত্র। এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে আসলে তারা তৃণমূল এবং বিজেপিকে একাসনে রাখতে চায়, যাতে উভয়ের বিরুদ্ধেই একই মাত্রায় কথা বলা যায়। কংগ্রেসকেও একইভাবে কেরলে সমালোচনা করার রাস্তা তারা খুলে রেখেছে। এরই মধ্যে সীতারাম ইয়েচুরির অকালমৃত্যু এক বড় ক্ষতি। যে মানুষটি বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত ছোট দলকে একমঞ্চে আনতে পারতেন, তাঁর অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে বড় ক্ষতি।

অথচ, ইস্যু যে নেই তা নয়। জাতীয় ক্ষেত্রে আসন পুনর্বিন্যাস একটি বড় ইস্যু হতে চলেছে। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এই প্রক্রিয়ার ফলে ভেঙে পড়তে বাধ্য। আছে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। ভুয়ো ভোটার ধরার নাম করে, তারা ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধারের তথ্যভাণ্ডারকে সংযোগ করিয়ে মিলিয়ে দেখার প্রস্তাব রেখেছে, যাকে উদ্বাহু হয়ে সমর্থন করেছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে কংগ্রেস। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রহসনে পরিণত হয়ে যাবে। বিভিন্ন সাংবাদিক, ধারাভাষ্যকার এবং ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের মতো সংস্থা অবধি কথা বলছে কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বেশিরভাগই মনেই করছে না, এ তেমন কোনও ইস্যু।

একটি বাসস্থানের পরিচায়ককে যদি ভোটার তালিকায় সংযোগ করানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়, তাহলে বায়োমেট্রিক তথ্য না মেলার কারণে বহু আসল ভোটার যে বেনাগরিক হয়ে যাবেন, তা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বুঝছে না কেন? মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা বা দিল্লির মতো ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে যদি বাংলাতেও বিজেপি জিতে যায়, তাহলে তো ‘যোগীর সুশাসন’ এবং আরএসএসের বাংলা বিরোধী রাজনীতি এখানেও প্রয়োগ করা হবে। এখনও কি বিজেপি বিরোধী দলগুলি বুঝতে পারছে না যে গত লোকসভা ভোটে বিজেপিকে মানুষ চায়নি বলেই বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এছাড়াও আছে ওয়াকফ বিল এবং একজোট হয়ে প্যালেস্টাইনের পক্ষে ভারত সরকারকে কথা বলতে বাধ্য করা। আছে এক দেশ-এক ভোট নিয়ে জনমত সংগঠিত করার বিষয়টিও। কেন জনশুনানি হচ্ছে না, তা নিয়েও রাস্তায় নামা সম্ভব একজোট হয়ে। এই ইস্যুতে কথা যদি না-ই হয় তাহলে কীসের ইন্ডিয়া জোট! সাহিত্যিক কাফকা সাধে বলেছিলেন,

“One idiot is one idiot. Two idiots are two idiots. Ten thousand idiots are a political party.”

লিখেছেন
suman sengupta
suman sengupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।