সংবিধান অমান্য করছে খোদ ইডি! কেন শীর্ষ আদালতের প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা?

Enforcement Directorate: বিরোধীশাসিত রাজ্যে এবং বিরোধী দল ও তাদের নেতাদের দমাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে।

Sangita Ghorai
২ মিনিট
সংবিধান অমান্য করছে খোদ ইডি! কেন শীর্ষ আদালতের প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা?

“সংবিধানের তোয়াক্কা করছে না, সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে”, ইডিকে কড়া ধমক দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বারেবারেই দেশের শাসক সরকারের বিরুদ্ধে ইডি সহ নানা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এবার কেন শীর্ষ আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ল এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি?

তামিলনাড়ুর একটি সরকারি সংস্থার সদর দফতরে ইডি হানার পর, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গভাই। প্রধান বিচারপতি বলেন, “ইডি সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। একটি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা মানে সংবিধান এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে গুরুত্ব না দেওয়া।”

ঠিক কী ঘটনার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম আদালতের এই বক্তব্য? ‘তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন’ (তাসম্যাক)-এর বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি তারই তদন্তভার ইডিকে দেয় মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এরপরই তাসম্যাকের দফতরে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তার বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। ২৩ মে সেই মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি বি আর গভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানব পাচারকারী দালালদের স্বর্গরাজ্য! মোদির গুজরাত নিয়ে ভয়াবহ তথ্য ইডির

Gujarat Human Trafficking: গুজরাতের এক পরিবারের চারজন ২০২২ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন-কানাডা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় ঠান্ডায় জমে গিয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে ১১ এবং ৩ বছরের দু'টি শিশুও ছিল।

সেই শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বলেন, “কীভাবে একটা সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে পারে? কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়া উচিত ছিল। একটা সংস্থার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা! ইডি সমস্ত সীমা পার করছে।”

এদিন শুধু কড়া ধমক নয়, ইডির তদন্তে স্থগিতাদেশও দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তারই সঙ্গে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তার কী কী প্রমাণ ইডির হাতে এসেছে, এই বিষয়ে শীর্ষ আদালত হলফনামা জমা দিতে বলেছে ইডিকে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শীর্ষ আদালতের ইডির বিরুদ্ধে এমন কড়া মন্তব্য এবং তাদের তদন্তে স্থগিতাদেশ দেওয়া এক বড় দিকনির্দেশ করেছে। কারণ সাম্প্রতিক অতীতে, বিরোধীশাসিত রাজ্যে এবং বিরোধী দল ও তাদের নেতাদের দমাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে।

অথচ শীর্ষ আদালতই একসময় আর্থিক তছরুপ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বড় ক্ষমতা দিয়েছিল। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই, এ.এম. খানউইলকার, দীনেশ মহেশ্বরী ও সি.টি. রবিকুমারের বেঞ্চ ইডিকে ছাড়পত্র দেয় যে, আর্থিক তছরুপের মামলায় গ্রেফতার, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা তল্লাশি চালাতে পারবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে ন’বছরে ১১২টি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। অথচ নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার পর গত আট বছরে ৩,০১০টি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বিরোধীদের দমন করতে ইডিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার যে অভিযোগ বারবার নরেন্দ্র মোদি সরকারের উপর উঠেছে, এই পরিসংখ্যান কি তাহলে তারই ইঙ্গিত দেয়?

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।