কেন ক্রমেই ইজরায়েলপন্থী হচ্ছে ভারত?

India Israel Relation: ইজরায়েল কেন একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিল, কিংবা মানবিক সাহায্য পাঠানোয় বাধা সৃষ্টি করল, তা নিয়ে কোনও প্রশ্নও তোলেনি ভারত।

Asish Gupta
৩ মিনিট
কেন ক্রমেই ইজরায়েলপন্থী হচ্ছে ভারত?

মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড যখন ভারত সফরে এসেছিলেন, তখনই ইজরায়েল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় প্যালেস্তাইনে নরসংহারে মেতে ওঠে। বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে ৫০৬ জন প্যালেস্তাইনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০০ জন শিশু! ৯০৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার ভোর থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে কমপক্ষে ১১০ জন নিহত হয়েছেন।

তুলসী গ্যাবার্ডের ভারত সফর শেষে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক মাত্র তিন লাইনের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে শুধু পণবন্দিদের মুক্তির দাবি জানানো হয় এবং গাজার মানবিক সাহায্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। তবে, ইজরায়েলের বোমা বর্ষণ বা নরসংহার বন্ধের কোনও দাবি সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। ইজরায়েল কেন একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিল, কিংবা মানবিক সাহায্য পাঠানোয় বাধা সৃষ্টি করল, তা নিয়ে কোনও প্রশ্নও তোলা হয়নি।

এটি স্পষ্ট যে, ভারতের এই অবস্থান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দৃষ্টি রেখে নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার আগে থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসের কাছে পণবন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।এই দাবি জানানোর কোনও প্রয়োজন ছিল না কারণ ফেব্রুয়ারি মাসে হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে পণবন্দিদের মুক্তির প্রক্রিয়া চলছিল। প্রথম পর্যায়ে হামাস ৩৩ জন ইজরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেয়, যার বিনিময়ে ইজরায়েল শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়। এই সময় গাজায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক মানবিক সাহায্য প্রবেশ করছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে নেতানিয়াহুর নির্দেশে ইজরায়েলি সেনারা গাজার প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসিয়ে মানবিক সাহায্য নিষিদ্ধ করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দুর্নীতি ঢাকতেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার গাজায় আক্রমণ নেতানিয়াহুর?

Netanyahu's Strike on Gaza: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর দুর্নীতি মামলায় নির্ধারিত সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, কারণ গাজায় আকস্মিক হামলার ফলে দুই মাসের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একসময় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা থেকে দূরে সরে যায় এবং শুধু পণবন্দিদের মুক্তির দাবি জানাতে থাকে। এর ফলে নেতানিয়াহু তাঁর জোট সরকারের দক্ষিণপন্থী শরিকদের সমর্থন নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করেন। ইজরায়েল গাজায় হামলা পুনরায় শুরু করলে বিভিন্ন দেশ প্রতিবাদ জানালেও ভারত নীরব থেকেছে। ভারত শুধু পণবন্দিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে কিন্তু ইজরায়েলের নিষ্ঠুর আক্রমণ বন্ধের দাবি জানায়নি।

ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো, 'সরাসরি আলোচনার' মাধ্যমে দুই-রাষ্ট্র সমাধান, যেখানে একটি সার্বভৌম প্যালেস্তাইন "নিরাপদ এবং স্বীকৃত সীমানার মধ্যে শান্তিতে বসবাস করবে, ইজরায়েলের পাশাপাশি।" তবে, ২০২৩ সালের ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষের সময় ভারত যুদ্ধবিরতির পক্ষে সরাসরি ভোট দেয়নি, কারণ সেই প্রস্তাবে হামাসের বিরুদ্ধে কোনও নিন্দা ছিল না। ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইজরায়েলের প্রতি তার ঝোঁক স্পষ্ট করে, যা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার কারণে পরিচালিত হচ্ছে।

দেশিয়ভাবে, হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থানের কারণে ইজরায়েলপন্থী মনোভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ইজরায়েলের নিরাপত্তা মডেলের প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে এবং প্যালেস্তাইনপন্থী বিক্ষোভ দমনে সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের মতোই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। আসলে প্যালেস্তাইন ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপকেই কার্যত অনুসরণ করে চলেছে ভারত।

আন্তর্জাতিকভাবে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও প্যালেস্তাইনের প্রতি নীতিকে প্রভাবিত করছে। উপসাগরীয় দেশগুলো যেখানে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও জ্বালানির উৎস, সেখানে ইজরায়েল পাকিস্তান ও চিনের বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা প্রদান করছে। ফলে, ভারত একটি ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে, তবে গাজার সংকট ক্রমশ তাকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করছে।

ভারতের নীতি একসময় উপনিবেশ বিরোধী সংহতির মধ্যে শিকড় গেড়েছিল কিন্তু এখন তা কৌশলগত বাস্তবতার দ্বারা পুনর্গঠিত হয়েছে। গাজার পরিস্থিতিতে ভারতের অস্পষ্ট অবস্থান এবং নৈতিক দ্বিধা তার আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের দাবিকে হাস্যকর করে তুলেছে । ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘর্ষ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই ভারতের নীতি তার অস্পষ্টতা ও নীরবতার জন্য কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হবে।

লিখেছেন
Asish Gupta
Asish Gupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।