ইজরায়েলি হানাদারি! ইরানের যে বিশিষ্টজনের প্রাণ গিয়েছে

Iranian : ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, আইআরজিসি-র বিমানবাহিনীর বেশ কয়েকজন কমান্ডারের সাথে ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টারে বৈঠক করছিলেন তিনি। ইজরায়েলি হামলায় পুরো সেন্টারটি ধ্বংস হয়ে যায়।

inscript
৩ মিনিট
ইজরায়েলি হানাদারি! ইরানের যে বিশিষ্টজনের প্রাণ গিয়েছে

১৩ জুন ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, রেভ্যুলেশনারি গার্ড-এর কমান্ডার হোসেইন সালামি-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্তত ৬ জন পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরান। সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী ছাড়াও ইজরায়েলের হামলায় ২২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কমপক্ষে ৭০ জন নারী ও শিশু রয়েছে। ইরানের নিহত হওয়া হাই-প্রােফাইল কমান্ডারদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মোহাম্মদ বাঘেরি

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সেনাপ্রধান ছিলেন মোহাম্মদ বাঘেরি। অর্থাৎ, তিনিই ছিলেন রেভলিউশনারি গার্ডস ও সেনাবাহিনী– এই দুই বাহিনীরই প্রধান। ১৯৮০ সালে যখন তাঁর ২০ বছর বয়সে সে সময় বাঘেরি আইআরজিসি-তে যোগ দেন। বাঘেরি এবং তাঁর ভাইয়ের আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আইআরজিসি-র গোয়েন্দা বিভাগ প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রয়েছে। অন্য কমান্ডারদের তুলনায় তাঁকে কম কট্টরপন্থী বলে মনে করা হতো। চলতি বছর এপ্রিল মাসে এক ভাষণে যুদ্ধ এড়িয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলায় ইরানের মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। এখন তাঁর জায়গায় সশস্ত্র বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে আব্দোলরাহিম মৌসাভি-কে।

হোসেইন সালামি

ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস, আইআরজিসি-র কমান্ডার ইন চিফ ছিলেন হোসেইন সালামি।বাঘেরির মতো হোসেইন সালামিও ১৯৮০ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আইআরজিসি-তে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তিনি ডেপুটি কমান্ডার এবং ২০১৯ সালে বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন। সালামি একজন সুবক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্যও তাঁর নাম ছিল। চলতি বছর মে মাসে এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ইজরায়েল বা আমেরিকা ইরানে হামলা করলে তাদের জন্য 'নরকের দরজা খুলে দেওয়া হবে'। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এখন আইআরজিসি-র নতুন কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে মোহাম্মাদ পাকপোর-কে।

গোলামালি রশিদ

আইঅরজিসি-র খাতাম-আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান ছিলেন গোলামালি রাশিদ। সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স আইআরজিসি ও ইরানের সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতো। ইরাক ও ইরানের যুদ্ধে সামনে থেকে লড়েছিলেন গোলামালি রশিদ। পরবর্তীতে ইরানের সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আলি সাদমানি সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

আমির আলি হাজিযাদেহ

আইআরজিসি-র বিমান ও মহাকাশ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধান ছিলেন আমির আলি হাজিযাদেহ।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবেও নিযুক্ত ছিলেন তিনি। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, আইআরজিসি-র বিমানবাহিনীর বেশ কয়েকজন কমান্ডারের সাথে ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টারে বৈঠক করছিলেন তিনি। ইজরায়েলি হামলায় পুরো সেন্টারটি ধ্বংস হয়ে যায়। আইডিএফের দাবি, সেখান থেকে ইজরয়েলের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন তারা। আইডিএফের দাবি করেছে, ২০২৪ সালে অক্টোবর ও এপ্রিলে ইরান ইজরায়েলে যে মিসাইল হামলা করেছিল, তার নির্দেশদাতা ছিলেন আমির আলি হাজিযাদেহ। ২০২০ সালে তেহরানে ইউক্রেনিয়ান বিমানে আক্রমণ করা হয়, তার দায় স্বীকার করেছিলেন আমির আলি হাজিযাদেহ। ওই ঘটনায় ১৭৬ জন বিমান যাত্রী নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার পর থেকে ইরানের নাগরিকদের কাছে হাজিযাদেহর গ্রহণযোগ্যতা অনেকটা কমে গিয়েছিল।

ফেরেইদুন আব্বাসি

ফেরেইদুন আব্বাসি ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন। ইরানের পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান ছিলেন ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এরপর ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন।চলতি বছরের মে মাসে ইরানের টিভি চ্যানেল এসএনএন-এর সাথে সাক্ষাৎকারে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি।

ইজরায়েলের হামলায় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা গিয়েছে আরও কয়েকজন সুপরিচিত পরমাণু বিজ্ঞানী মারা গিয়েছেন।

মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি: তেহরানের আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ছিলেন।

আবদুল্লাহামিদ মিনৌচেহর: ইরানের শহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ছিলেন।

আহমেদ রেজা জোলফাঘারি: শহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যপক ছিলেন।

আমিরহোসেইন ফেকহি: শহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যপক ছিলেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।