জমিদখল থেকে লুঠতরাজ! ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যে তাণ্ডব চালাচ্ছে ইজরায়েলি দখলদারেরা

Israel-Palestine conflict: কার্ফুর জেরে বাড়িতে বন্দি ফিলিস্তিনি। রাস্তায় বেরোলে ইজরায়েলি সেনার গুলি, আর সেই সুযোগ নিয়ে ইজরায়েলি জবরদখলকারীরা লুঠপাট চালাচ্ছে স্থানীয় মানুষের বাড়িতে।

Sohini Das
৩ মিনিট
জমিদখল থেকে লুঠতরাজ! ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যে তাণ্ডব চালাচ্ছে ইজরায়েলি দখলদারেরা

সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও ইজরায়েল যে শান্তির পথে নেই, তা গোড়া থেকেই পরিষ্কার করে দিয়েছে তারা। হামাসদের হাত থেকে অপহৃতদের উদ্ধার করতেই চারদিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে নেতানিয়াহু সেনা। তেমন শর্তই দিয়েছিল হামাস। ইতিমধ্যেই হামাসের হাতে বন্দি বেশ কয়েকজন ইজরায়েলি নাগরিককে ফেরত পেয়েছে তারা। সেই সময়টুকু হামলা বন্ধ রেখেছে ইজরায়েলি সেনা। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে সেই যুদ্ধবিরতি। তার আগের দিন পর্যন্ত লাগাতার হামলা চালিয়ে গিয়েছে তারা। স্কুল, হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির, ইজরায়েলি সেনার নিশানা থেকে বাদ নেই কিছুই। এরই মধ্যে আবার গোদের উপর বিষফোঁড়া ইজরায়েলি সেটলার (জবরদখলকারী)-রা। ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক জুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে তারাও।

অধিকৃত ওয়েস্টব্যাঙ্কে ইজরায়েলি জবরদখলকারীদের অত্যাচার ক্রমাগত বাড়ছে। যখনতখন গুলি চালানো থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়িতে ঢুকে ধ্বংসলীলা চালানো, বাদ নেই কিছুই। মাথার উপর ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান, আর সামনে অত্যাচারি ইজরায়েলি দখলদারেরা। ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক জুড়ে বাসিন্দাদের যেন জলে কুমির ডাঙায় বাঘ। পরিস্থিতি এমন, জমিজিরেত ও ঘরদোর নিয়ে যেন আতঙ্কে-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁদের। যে কোনও সময় তাঁদের হাত থেকে সবটুকু সম্বল ছিনিয়ে নিতে পারে ইজরায়েলি জবরদখলকারীরা।

প্রায় প্রতিদিনই এলাকায় ঢুকে বাসিন্দাদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েলি জবরদখলকারীরা। নৃশংস মারধর থেকে চুরি, ডাকাতি, জবরদখল কিছুই বাদ নেই। ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক সংলগ্ন শহরগুলিতে চলেছে লাগাতার হামলা। গত এক সপ্তাহে জেনিন শহরের শরণার্থী শিবিরগুলিকে নিশানা করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী। ওই হামলায় দশ জনের মৃত্য়ু হয়, জখম হয় অন্তত ২০ জন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যুদ্ধ থামছে ঘোষণা করেও কেন গাজায় লাগাতার হামলা করছে ইজরায়েল

Israel Hamas Ceasefire: গত কয়েকদিনে গাজায় একের পর এক নতুন নতুন হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইজরায়েল। বৃহস্পতিবারও প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিচালিত আবু হুসেইন স্কুলে রকেট হামলা চলে।

ইজরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত শুধু ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে ২৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। জখম অন্তত ২৮৫০ জন। প্যালেস্টাইনের সঙ্গে ইজরায়েলের এই সাম্প্রতিক যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেখানকার শৈশব। ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছে প্রচুর শিশু। আর যারা বেঁচে রয়েছে, তাদের দিন কাটছে এক নজিরবিহীন আতঙ্ক ও দুঃস্বপ্নেও। বাড়ির বাইরে বেরিয়ে খেলাধুলোর মতো স্বাভাবিক জিনিসগুলো যেন ওদের কাছে এখন দূরের দ্বীপ। ক্রমাগত কানে ভেসে আসে একের পর এক হামলা, বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। শরণার্থী শিবিরগুলিকে বারবার নিশানা করে চলেছে ইজরায়েলি সেনা।

খেলা বন্ধ। স্কুল বন্ধ। বহু রাস্তাই অবরোধ করে রেখেছে ইজরায়েলি সেনা। দু-একটা জায়গায় অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে বটে। তবে যা পরিস্থিতি, গাজা ও প্যালেস্টাইনের অধিকাংশ জায়গাতেই নেট বন্ধ। ফলে পড়াশোনা, খেলাধুলা, এক কথায় স্বাভাবিক বেঁচে থাকার সমস্ত শর্ত লাটে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন নির্বিচারে ফিলিস্তিনি শিশুদের জেল? কত বন্দি রয়েছে ইজরায়েলের কারাগারে?

Palestinian prisoners in Israeli jails : ২০০০ সালে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরু হওয়ার পর থেকে ১২,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে ইজরায়েলি সেনা বাহিনী আটক করে রেখেছে।

ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের বাসিন্দাদের রাত কাটে না দুশ্চিন্তায়। কখন বাড়িতে এসে পড়বে ইজরায়েলি বোমা, তার চেয়েও বেশি দুশ্চিন্তা কখন যে ঘরে ঢুকে লুঠপাট চালাবে ইজরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। মুরগির খামার থেকে শুরু করে জমিজিরেত, সবটুকু ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাবে তারা। প্যালেস্টাইন জলপাই চাষের জন্য বিখ্যাত। সারা পৃথিবীতে রফতানি হওয়া জলপাইয়ের একটা বড় অংশ আসে এখান থেকেই। সেই জলপাই ক্ষেত, জমি, এখানকার সংস্কৃতির চিহ্নস্বরূপ। যা এই পরিস্থিতিতে বিপাকে।

সেই ১৯৬৭ সাল থেকে ওয়েস্টব্যাঙ্ক দখল করে রেখেছে ইজরায়েল। ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ডে অবৈধ ভাবে জোরজাবস্তি বসবাস করে অন্তত ৭ লক্ষ ইজরায়েলি সেটলার। সেই জবরদখলকারীরা বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় মানুষের উপরে নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের জলপাই গাছ থেকে শুরু করে কৃষিজমি ছিনিয়ে নেওয়া, সম্পত্তি চুরি, সেসব বিনষ্ট থেকে ধ্বংস, এসব নিয়েই বেঁচে রয়েছেন ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের ভূমিপুত্ররা। সাম্প্রতিক এই যুদ্ধ লাগার পর যেন নতুন করে সুযোগ পেয়ে গিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা। ইজরায়েলি সেনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অত্যাচার বাড়িয়েছে তারাও।

কার্ফুর জেরে বাড়িতে বন্দি ফিলিস্তিনি। রাস্তায় বেরোলে ইজরায়েলি সেনার গুলি, আর সেই সুযোগ নিয়ে ইজরায়েলি জবরদখলকারীরা লুঠপাট চালাচ্ছে স্থানীয় মানুষের বাড়িতে। সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা আক্রমণ করছে খামারগুলিকে। ক্ষেতে গেলেই ছুটে আসছে গুলি। বন্দুকের মুখে লুঠ করা হচ্ছে জলপাই। কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ফোন। বাড়ির ছেলেদের উপর চলে অকথ্য মার। নিজের বসভূমি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করছে তারা ফিলিস্তিনিদের।

নিজের দেশটা সম্পূর্ণ অচেনা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ ফিলিস্তিনিদের কাছে। সব দিক থেকে বাড়ছে অত্যাচার। ক্রমশ কোণঠাসা ফিলিস্তিনিদের শেষ করতে সব শক্তি লাগিয়ে দিচ্ছে ইজরায়েল। আইনকানুনের বালাই নেই। প্যালেস্টাইনের একাধিক জায়গা যেন বধ্যভূমি। যেখানে তাণ্ডব চালাচ্ছে ইজরায়েল। প্যালেস্টাইনকে কোণঠাসা করে চলছে তাণ্ডব। কখনও সেনাবাহিনীর রূপ নিয়ে, তো কখনও দখলদারেরর রূপ নিয়ে, প্যালেস্টাইনের মাটিকে সব রকম ভাবে রক্তাক্ত করে চলছে নেতানিয়াহুর পক্ষ। হিসেব মতো, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা এবার। তার পর কি ফের হামলার মাত্রা বাড়িয়ে ভয়ঙ্কর রূপে দেখা দেবে ইজরায়েল? আতঙ্কে ঘুম আসছে না ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।