জাপানের অস্তিত্বই মুছে যাবে পৃথিবী থেকে! কেন এমন আশঙ্কার কথা শোনালেন প্রধানমন্ত্রী?

Japan Disappered Prime Minister Worry : জাপান দেশটারই হয়তো অস্তিত্ব থাকবে না। কিন্তু হঠাৎ কী এমন সংকট দেখা দিল পূর্ব এশিয়ার এই দেশে?

inscript
৩ মিনিট
জাপানের অস্তিত্বই মুছে যাবে পৃথিবী থেকে! কেন এমন আশঙ্কার কথা শোনালেন প্রধানমন্ত্রী?

জাপান, মানে সূর্যোদয়ের দেশ। সেখানকার মানুষের নিয়মানুবর্তিতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, সময়জ্ঞান আর প্রযুক্তির বিস্ফোরণ পৃথিবীর অন্যান্য দেশও সমীহ করে। সেই ভূমিকম্পের দেশ জাপানই এখন সংকটের মুখে! সরকারি আধিকারিকরা প্রতি মুহূর্তে বিপদের গন্ধ পাচ্ছেন। এমন অবস্থা যে, খোদ সেখানকার প্রধানমন্ত্রীও দেশের এমন অবস্থা নিয়ে মহা চিন্তায়। তিনি এও আশঙ্কা করছেন, অবস্থা না বদলালে জাপান দেশটারই হয়তো অস্তিত্ব থাকবে না। কিন্তু হঠাৎ কী এমন সংকট দেখা দিল পূর্ব এশিয়ার এই দেশে?

অতিমারির ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন অনেকটা ঠিকঠাক। বিজ্ঞান, প্রযুক্তিও নিজেদের ডানা মেলেই চলেছে। এই সময় দাঁড়িয়ে থেমে নেই জাপানও। তবে জাপান প্রশাসনের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টই যত চিন্তার কারণ। সেই রিপোর্টই এখন সেখানকার সরকারের মাথাব্যথা। কেন? জাপান প্রশাসনের সেই রিপোর্ট বলছে, জাপানে শিশুদের জন্মহার কমছে। কিন্তু সেই জন্মহারের তুলনায় বাড়ছে মৃত্যুহার। কীরকম? ২০২১ সালে যেখানে ৮ লক্ষ ১০ হাজার মতো শিশু জাপানে জন্মগ্রহণ করে, সেখানে ২০২২-এ সংখ্যাটি দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ! অন্যদিকে, ২০২২-এই সাড়ে ১৫ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিট ফল? জাপানের জনসংখ্যা কমছে।

জাপান প্রশাসন বলছে, যত দিন যাচ্ছে, জন্মহার আর মৃত্যুহারের এই ব্যবধান বাড়ছে। সেখানে একটা বড় অংশের মানুষ বয়স্ক। একটু একটু করে তাঁদেরও মৃত্যু হবে। এই অবস্থাতেই শিয়রে সমন দেখছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাও এই ব্যাপারে যথেষ্ট চিন্তিত। মন্ত্রী পরিষদও প্রতিদিন এই সমস্যা সমাধানে আলোচনা করছেন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পার্ষদদের আশঙ্কা, জনসংখ্যা এমন দ্রুতগতিতে কমতে থাকলে জাপান দেশটাই হারিয়ে যাবে পৃথিবী থেকে। আর কেউ থাকবেই না সেখানে!

কিন্তু এমনটা কেন হচ্ছে? জাপানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, প্রযুক্তি যথেষ্ট উন্নত। আর্থিক দিক দিয়েও এই দেশটি স্বাবলম্বী। জীবনযাপনে যথেষ্ট নিয়ম মেনে চলেন সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই। জাপানে সময়ের দাম রয়েছে। তাহলে কেন এমন পরিস্থিতি? সাত বছর পর জন্মহারের পতন এবং মৃত্যুহারের বৃদ্ধি – কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হল সুস্থ ফ্যামিলি প্ল্যানিং, জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের বেশকিছু নীতি। কেবল জাপান নয়, চিন, আমেরিকা, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলিতেও জন্মহার কমছে।

আগেকার দিনে, একজন দম্পতির দুইয়ের বেশি সন্তান থাকত। ভারতের মতো এশিয়ার দেশগুলিতে সেটা ছিল মামুলি ব্যাপার। কিন্তু এখন পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারত সরকারের তরফ থেকে যেমন প্রচার করা হয় ‘হাম দো হামারে দো’ কর্মসূচি। চিনে ‘ওয়ান চাইল্ড পলিসি’ বা এক শিশু নীতির প্রচলনও রয়েছে। সেখানে সংসারে একটি শিশু থাকলে সরকারের তরফে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। জাপানেও ব্যাপারটি অনেকটাই তেমন।

এদিকে মৃত্যুহারের সঙ্গে জন্মহার বাড়লে জনসংখ্যায় একটা সামঞ্জস্য বজায় থাকে। কিন্তু জাপানে সেটা হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে সেই দেশের প্রশাসনের আরও একটি রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করা যাক। ২০২২-এ জাপান ক্যাবিনেট অফিস থেকে জেন্ডার বা লিঙ্গভিত্তিক রিপোর্ট পেশ করা হয়। সেখানে একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়, ৩০ বছর বয়সি মেয়েদের মধ্যে ২৫.৪ শতাংশ বিয়েই করতে চান না। একইভাবে ২৬.৫ শতাংশ পুরুষও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান না। বিয়ে করলেও, সন্তান ধারণের ব্যাপারে সাবধানে পদক্ষেপ নিতে চায় তরুণ প্রজন্ম। এছাড়াও নিজেদের সংস্কৃতিকে বাঁচানোর জন্য জাপানের অভিবাসন নীতিও অত্যন্ত কড়া। আর এই সবকিছুর ফলই পড়েছে সেনসাসে।

সম্প্রতি চিন নিজের কড়া ‘ওয়ান চাইল্ড পলিসি’ থেকে একটু সরে দাঁড়িয়ে নরম হয়েছে। জাপানও কি সেই পথে হাঁটবে? নিজেদের নিয়মকানুন নিয়ে আরেকটু ভাবনাচিন্তা করবে? কারণ যদি এভাবেই মৃত্যুর হার বেড়ে যায়, আর জন্মের হার কমতে থাকে, তবে সামাজিক ব্যবস্থাটা আস্তে আস্তে ভেঙে পড়বে। তাতে আখেরে বিপদে পড়বে গোটা দেশটাই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।