শাসকের উল্লাসের বলি! ৯ বছরের তামান্নার মৃত্যু ভুলতে কতক্ষণ নেবে পশ্চিমবাংলা?

Kaliganj Tamanna Khatun: কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের গণনা শেষ হওয়ার আগেই নাকি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ বিপুল ভোটে জয়ী হতে চলেছেন। তাই বিজয়োল্লাস তো জায়েজ!

inscript
৩ মিনিট
শাসকের উল্লাসের বলি! ৯ বছরের তামান্নার মৃত্যু ভুলতে কতক্ষণ নেবে পশ্চিমবাংলা?

রাজায় রাজায় যুদ্ধ করলেই যে উলুখাগড়াদের মরণ হয় তা নয়। রাজা ও তার নানাস্তরের পারিষদরা যদি প্রচণ্ড আনন্দে উন্মত্তের মতো উৎসবে মাতে, তাহলেও বলির তালিকায় নাম ওঠে উলুখাগড়াদেরই। সে ৮০ বছরের প্রাচীন প্রজা হোক বা চতুর্থ শ্রেণির ছোট্ট ছাত্রী। রাজ্যের শাসক তৃণমূল বিজয় উল্লাসে মেতেছিল। কালীগঞ্জে উপনির্বাচন হয়ে গিয়েছে। তখনও ভোট গণনা কিন্তু হয়নি। অর্থাৎ কে জিতবে গণতান্ত্রিক হিসেবমতো তা অজানাই থাকার কথা। তবু, শাসক তো অন্তর্যামীরই রূপ! তাই আগেভাবেই নিশ্চিত জয়ের আনন্দে বিজয়োল্লাস। রাজার জয়ে বোমা ফাটবে, গুলি চলবে আর সেই বোমার আঘাতে মৃত্যু হবে সেই প্রজার, যে ভোট দেওয়ার বয়সেও পৌঁছয়নি। নিরীহ বালিকা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী, ৯ বছরের তামান্না খাতুন শাসকের জয়ের 'কোল্যাটেরাল ড্যামেজ' হয়েই বিদায় নেবে পৃথিবী থেকে, বড় বড় দেশে এমন ছোট ছোট ঘটনা হয়েই থাকে।

পুলিশ বলেছে, "যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের ছাড়া হবে না। এই মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের খোঁজে চলছে তল্লাশি"। শাসকের অধীনে থাকা রাজ্য পুলিশ এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছে, “'কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের কালীগঞ্জ পুলিশ স্টেশন এলাকায়, একটি বিস্ফোরণে এক বালিকার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে যে দুষ্কৃতীরা রয়েছে, তাদের ধরতে আমরা কোনও ত্রুটি রাখব না। অভিযুক্তদের খোঁজে জোরকদমে তল্লাশি চলছে।" মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, "কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার বারোচাঁদগড়ে বিস্ফোরণে একটি বাচ্চা মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আমি মর্মাহত এবং গভীর শোকাহত। এই দুঃখের দিনে পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।"

Today, a 13 year old girl succumbed to her injuries sustained from an explosion in Kaliganj PS area of Krishnanagar police district. We shall spare no stones unturned to nab the culprits who were behind the incident. Raids are on in full swing to arrest those responsible for this…

— West Bengal Police (@WBPolice)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পুলিশ তো হাতের পুতুল! শঙ্খ ঘোষকেও কটূক্তি করতে ছাড়েননি মমতার স্নেহধন্য কেষ্ট

Anubrata Mondal: সেখানে গিয়ে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘একটা পাগল উপাচার্য। বিশ্বভারতীতে কোনও দিন রাজনীতি হয় না। আমরা ইন্দিরা গান্ধীকে দেখেছি, রাজীব গান্ধীকে দেখেছি। তাঁরা সভা করতে এলে ওখানে হেলিকপ্টার নামাতেন না। ওঁর এত দুঃসাহস মানছে না বাংলার মানুষ।’’

জানা গিয়েছে, তামান্নার মৃত্যুর ঘটনায় চার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন আদর শেখ, মানোয়ার শেখ, কালু শেখ এবং আনওয়ার শেখ। সোমবার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের গণনা শেষ হওয়ার আগেই নাকি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ বিপুল ভোটে জয়ী হতে চলেছেন। তাই বিজয়োল্লাস তো জায়েজ! অভিযোগ, বিজয়মিছিল থেকে বোমা ছোড়া হয় সিপিএম কর্মীদের বাড়ি লক্ষ্য করে। একটি সকেট বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া, বড় চাঁদঘর পঞ্চায়েতের মোলান্দা গ্রামের বাসিন্দা তামান্না খাতুনের।

I am shocked and deeply saddened at the death of a young girl in an explosion at Barochandgar in Krishnanagar police district. My prayers and thoughts are with the family in their hour of grief.

Police shall take strong and decisive legal action against the culprits at the…

— Mamata Banerjee (@MamataOfficial)

তামান্নার দোষ? আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেছেন, ‘‘আমি দেখেছি কারা বোমা ছুড়েছে। আমরা সিপিএম করি। ওদের নাম না-জানলেও সকলের মুখ চেনা, সবাই তৃণমূল করে।’’ এরপরের ঘটনা সকলেরই মোটামুটি জানা। কয়েকদিন সমস্ত সংবাদমাধ্যমে উত্তপ্ত আলোচনা হবে, সমস্ত দলই নানা ইতিহাস টেনে সমস্ত দলের মুণ্ডপাত করবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কান্নাকাটিও চলবে। কালীগঞ্জ নিজস্ব ছন্দে ফিরে যাবে। চার অভিযুক্ত এবং অভিযুক্তদের মদত দেওয়া নেতাদের কী হবে, তা সংবাদে আর শিরোনামে আসবে না, বিস্মৃতির অন্তরালে চলে যাবে একটি শিশুমৃত্যু ও শাসকের উল্লাস। চলে আসবে আগামী নির্বাচন, বোমা মজুত হবে। পুলিশের কাছে সেসবের কোনও খবরই থাকবে না। শুকনো সহানুভূতি নিয়ে তামান্নাদের মতো অজস্র পরিবার কোনও বিচার না পাওয়াকে 'কপাল' মেনে কাটিয়ে দেবে অনন্ত ক্যালেন্ডার বর্ষ।

উল্লেখ্য, নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে তৃণমূল। গতবারের বিধানসভা নির্বাচনের থেকেও ভোটের মার্জিন বেড়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জে জয়ী হয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন (লাল) আহমেদ। তাঁর মৃত্যু হওয়াতেই উপনির্বাচনের আয়োজন। উপনির্বাচনে ৪৯,৭৫৫ ভোটে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী তথা নাসিরুদ্দিনের কন্যা আলিফা। শাসক সম্ভবত এই জয়ের আভাস আগেই পেয়ে গেছিল, তাই চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হওয়ার আগেই বিজয়োল্লাস চালানোর অনুমতি মিলেছিল, তাতে ৯ বছরের ছোট্ট শিশু মারা গেল! তামান্না বোমায় ভয় পেত, আওয়াজে ভয় পেত। কিন্তু বিজয়ের উল্লাসের কবেই বা শিশুর ভয়ের থেকে সংবেদনশীল দূরত্ব বজায় রেখেছে?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।