খাসি বা ইলিশ নয়! ইছামতির গলদা চিংড়ি ভোগে সন্তুষ্ট কৃষ্ণচন্দ্রের সাধের ইটিন্ডার সিদ্ধেশ্বরী কালী

Kali Puja 2022: মন্দির পার্শ্ববর্তী যে পুকুর রয়েছে সেখানে নাকি কালী স্নান করতেন এবং একাধিক পূণ‍্য তিথিতে খাঁড়া হাতে কালীকে নাকি রাস্তায় প্রদক্ষিণ করতেও দেখা যেত।

subhajit putatunda
২ মিনিট
খাসি বা ইলিশ নয়! ইছামতির গলদা চিংড়ি ভোগে সন্তুষ্ট কৃষ্ণচন্দ্রের সাধের ইটিন্ডার সিদ্ধেশ্বরী কালী

আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় যশোহরের ধূমঘাট থেকে নৌপথে টাকিতে যাচ্ছিলেন। অধুনা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এই এলাকাটি সেই সময় ছিল অরণ্যে ঘেরা। দীর্ঘ নৌযাত্রার ফলে ক্লান্ত হয়ে বসিরহাট শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে ইছামতি নদীর পাড়ে একটি স্থানে বিশ্রাম করার পরিকল্পনা নেন তিনি। রাত কাটানোর পর ইছামতি নদীর সূর্যোদয় দেখে আপ্লুত হন রাজা। সেই সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি সেখানে একটি গঞ্জ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। যার নামকরণ হয় ইটিন্ডা।

এখানেই শেষ নয়, সেই গ্রামে তিনি একটি কালীমন্দির তৈরি করার নির্দেশ দেন তৎকালীন টাকীর রায়চৌধুরী জমিদারদের। যেমন কথা তেমন কাজ! এলাকার বন-বাদাড় পরিষ্কার করে একদিকে জোরকদমে তৈরি হয়ে গেল গঞ্জ। অন্যদিকে তালে তাল মিলিয়ে গড়ে উঠল সিদ্ধেশ্বরী মন্দির। বাঁশ ও বিচালির ছাউনি দিয়ে তৈরি হয়েছিল সেই মন্দির। বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট ১নং ব্লকের ইটিন্ডা-পানিতর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইটিন্ডা কলবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সেই মন্দির কালের নিয়মে এখন কংক্রিটের কাঠামোয় রূপান্তরিত হয়েছে কিন্তু তার ঐতিহ্য তথা পুজোর পরম্পরা কিছুই বদলায়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কালো বা নীল নয়! অবাক করবে বাংলার এই তিন অঞ্চলের সাদা কালীর কাহিনি

White Kali Puja 2022: মাঝে মাঝে রাতে হঠাৎ তামাক সেবনের ইচ্ছাও হয় দেবীর। তাই মন্দিরের এক কোণেই প্রস্তুত রাখা থাকে গড়গড়া।

শ্যামাপুজোর দিন সাধারণত দেখা যায়, ভোগ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে খিচুড়ি, কোথাও বা খাসির মাংস, আবার কোথাওবা ইলিশ মাছ। কিন্তু ইটিন্ডার এই সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো ইছামতির গলদা চিংড়ি ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। যুগ যুগ ধরে মৎস্যজীবিরা ইছামতি থেকে যে গলদা চিংড়ি কালীর কাছে নিয়ে আসেন, সেগুলিই ভোগ রূপে কালীকে অর্পণ করা হয়। এই ভোগের বৈচিত্র্য রাজ্যের মধ্যে একপ্রকার নজির সৃষ্টি করেছে বলা যায়।

লোক মুখে শোনা যায়, এই মন্দির থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পার্শ্ববর্তী গ্রাম সংগ্রামপুরের দক্ষিণা কালী ইটিন্ডার এই সিদ্ধেশ্বরী কালীর সম্পর্কে বোন হন। তাঁদের মধ্যে এক মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে যাতায়াতের গল্পও শোনা যায়। কালীর পায়ের সামনে তিনটি ঘট স্থাপন করা আছে। যা একদিকে কালি অন্যদিকে শীতলা ও চণ্ডীকে এক অনন‍্য রূপ দিয়েছে। লোকমুখে আরও শোনা যায়, মন্দির পার্শ্ববর্তী যে পুকুর রয়েছে সেখানে নাকি কালী স্নান করতেন এবং একাধিক পূণ‍্য তিথিতে খাঁড়া হাতে কালীকে নাকি রাস্তায় প্রদক্ষিণ করতেও দেখা যেত। এমন একাধিক ইতিহাস, গল্পকথা ও লোককথা জড়িয়ে রয়েছে এই সিদ্ধেশ্বরী কালীর সঙ্গে যা আজও ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।