ভোটে জিতেও মিলল না ছাড়! মহিলা জওয়ানের হাতে সপাটে চড় খেলেন কঙ্গনা

Kangana Ranaut: দিনের আলোয় সকলের সামনে অপদস্থ হতে হল অভিনেত্রীকে। চন্ডীগড় বিমানবন্দরে সিআইএসএফের এক মহিলা কনস্টেবলের হাতে সপাটে চড় খেলেন কঙ্গনা।

Sohini Das
৩ মিনিট
ভোটে জিতেও মিলল না ছাড়! মহিলা জওয়ানের হাতে সপাটে চড় খেলেন কঙ্গনা

এর আগে বহুবার বহু বিতর্কে জড়িয়েছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী। পড়েছেন বহু বিপাকেও। কখনও তাঁর মুম্বইয়ের অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিএমসি, কখনও সহ-অভিনেতার সঙ্গে চিঠি বিতর্কে জড়িয়ে চর্চায় এসেছেন। তবে সেসব বিতর্ক বিবাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে এবার লোকসভার ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। এবং হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতেও যান কঙ্গনা। তবে ভোটে জেতার পরেই বিরাট বিপাকে পড়লেন কঙ্গনা। দিনের আলোয় সকলের সামনে অপদস্থ হতে হল অভিনেত্রীকে। চন্ডীগড় বিমানবন্দরে সিআইএসএফের এক মহিলা কনস্টেবলের হাতে সপাটে চড় খেলেন কঙ্গনা।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মোহালি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নয়াদিল্লি যাচ্ছিলেন সদ্য জয়ী সাংসদ। বিমানবন্দরের লাউঞ্জে ঘটনাটি ঘটে বলে খবর। কঙ্গনাকে চড় মারার ঘটনায় জড়িত কনস্টেবলের নাম কুলবিন্দর কৌর বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কী কারণে সদ্য নির্বাচিত সাংসদকে চড় খেতে হল সিআইএসএফ জওয়ানের হাতে? কী এমন করেছিলেন কঙ্গনা।

কিছুদিন আগেই কৃষক বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে উঠেছিল পঞ্জাব। সেই আঁচ এসে পৌঁছয় দিল্লিতে। কৃষক আন্দোলনের জের যে এখনও ভীষণ ভাবে টাটকা পঞ্জাব জুড়ে, তার প্রমাণ লোকসভা ভোটে পঞ্জাবের ফলাফল। একটিও আসন সেখানে পায়নি বিজেপি। সে সময়ে কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে ভুলভাল কথা বলে বিতর্কে জড়ান কঙ্গনা। বিলকিস বানোর ছবি পোস্ট করে তাঁকে পঞ্জাবের কৃষক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন কঙ্গনা। টুইট করে এ-ও বলেন, শাহিনবাগ দাদি কৃষকদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তাঁর সেই বক্তব্য ঘিরে জোর বিতর্ক হয়। তার পরে অবশ্য টুইটটি উড়িয়ে দেন কঙ্গনা। এই বক্তব্যের জন্য কঙ্গনাকে ক্ষমা চাইতে পর্যন্ত বলেছিল সংযুক্ত কিসান মঞ্চ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাম মন্দিরে দ্রৌপদী মুর্মু নেই, কঙ্গনা রানাওয়াত আছেন! কেন?

Kangana Ranaut at Ram Mandir : কঙ্গনা নিজে দ্বারকা থেকে নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিয়ে ফেলেন। দ্বারকায় কঙ্গনা বলেছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ চাইলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন।

এখানেই শেষ নয়। কৃষক আন্দোলনে সামিল মহিলারা একশো টাকার বিনিময়ে বিক্ষোভে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন কঙ্গনা। সূত্রের খবর, সেই আন্দোলনে ছিলেন সিআইএসএফ জওয়ান কুলবিন্দর কৌরের মা-ও। কঙ্গনার সেই বক্তব্যকে ঘিরে অনেকদিন ধরেই ক্ষোভ জমে ছিল ভিতরে তাঁর। কৃষিজীবী মায়ের সেই অপমান মানতে পারেননি কুলবিন্দর।

কঙ্গনার তখনকার সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া যে এতদিন পরে এই ভাবে তাঁর দিকে ছুটে আসবে, তা কি আদৌ কখনও কল্পনা করতে পেরেছিলেন বিজেপি সাংসদ। এদিন মোহালির বিমানবন্দরে সেই প্রসঙ্গ তুলেই তাঁর গালে একটি সপাটে থাপ্পড় বসিয়ে দেন দায়িত্বরত সিআইএসএফ কনস্টেবল। তবে শুধু এইটুকু কারণেই বিবাদ নয়। সূত্রের খবর, ওই সিআইএসএফ কনস্টেবল নিরাপত্তা চেকিংয়ের সময় কঙ্গনাকে তাঁর মোবাইলটি ট্রে-তে রাখার নির্দেশ দেন। আর তা করতে রাজি হননি কঙ্গনা। উল্টে ওই কনস্টেবলকেই শাঁসাতে থাকেন কঙ্গনা। ধাক্কা পর্যন্ত মারেন। এর পরেই ধৈর্যচ্যুতি হয় ওই নিরাপত্তা কর্মীর। এর বিবাদ অশান্তিতে গড়াতেই কষিয়ে চড় বসিয়ে দেন তিনি সাংসদের গালে। ঘটনায় পাল্টা মারতে গিয়েছিলেন কঙ্গনাও। বাকিরা ধরে বেঁধে তাঁকে সামলান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জারি ১৪৪ ধারা, ভোটের আগে দিল্লির পারদ চড়াছে কৃষক বিক্ষোভের আঁচ

Farmers' protest: সেই আন্দোলনের আঁচ রাজধানীতে পড়ার আগে সোমবারই রাজ্যজুড়ে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। একদিন-দু'দিনের জন্য নয়। একমাসের জন্য জারি করা হয়েছে কার্ফু।

Shocking rise in terror and violence in Punjab….

— Kangana Ranaut (Modi Ka Parivar) (@KanganaTeam)

যদিও ধাক্কাধাক্কির কথা অস্বীকার করেছেন কঙ্গনা। তাঁর অভিযোগ, ওই মহিলা কৃষক আন্দোলনের সমর্থক। তাই তাঁকে আক্রমণ করেছেন তিনি। একটি ভিডিওবার্তায় কঙ্গনা বলছেন, ‘‘আমার কাছে অনেক ফোন আসছে। প্রথমেই জানাই, আমি ভাল আছি। আজ চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির পর আমি যখন বেরোলাম, পাশের একটি কেবিন থেকে এক মহিলা নিরাপত্তারক্ষী বেরিয়ে এসে পাশ থেকে আমার গালে মারেন। আমাকে গালিগালাজও করেন। আমি ওঁকে যখন জিজ্ঞেস করলাম, কেন উনি এমন করলেন, উনি বললেন, উনি কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করেন। আমি নিরাপদে আছি। কিন্তু পঞ্জাবে যে ভাবে আতঙ্কবাদ এবং উগ্রবাদ বেড়ে চলেছে, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’’

জানা গিয়েছে, এর পর বিকেল তিনটের ভিস্তারা ফ্লাইটে দিল্লি উড়ে গিয়েছেন কঙ্গনা। সূত্রের খবর, দিল্লিতে নেমে সিআইএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল নীনা সিংহ এবং অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন কঙ্গনা। চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে কী কী ঘটেছে, তা আধিকারিকদের কাছে ব্যাখ্যা করেন। নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগও করেছেন তিনি। অভিনেত্রী-সাংসদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করা হয়েছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।