বাচ্চা চাই! কেঁদেকেটে একশা উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম

Kim Jong Un: যে হৃদয়কে তুলনা করা হয় হিটলার কংবা মুসোলিনির মতো স্বৈরাচারীর সঙ্গে, হঠাৎ কেন আর্দ্র হয়ে উঠল সেই কিমের হৃদয়। কেন জনসমক্ষে কাঁদলেন তিনি?

Sohini Das
৩ মিনিট
বাচ্চা চাই! কেঁদেকেটে একশা উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম

তাঁর ভয়ে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়। গোটা বিশ্বের সমস্ত দেশনায়ক বা একনায়কের চেয়েও যেন তিনি ভয়ঙ্কর। তাঁকে ডরায় না এমন রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রনেতা বিরল। অথচ গোলগাল মানুশষটাকে দেখলে কে বলবে তাঁর ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে এক দোর্দণ্ডপ্রতাপ শাসক-মন। কথা বলছি উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনকে নিয়ে। কিম এবং উত্তর কোরিয়া, তাবড় বিশ্বের কাছেই এক ত্রাসের নাম। প্রায়শই শোনা যায় রাজদ্রোহীকে তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন গুলিতে। সে দেশে জেলে যাওয়ার রাস্তা থাকলেও, বেরোনোর রাস্তা নেই। এমনটাই বলে থাকেন নিন্দুকেরা। এমনকী শত্রুকে পিরানহা ঠাসা জলাশয়ে ফেলে দিতেও কাঁপে না যার বুক, সেই কিমের চোখে নাকি জল! উত্তর কোরিয়ার একটি অনুষ্ঠানে বসে ভরা সভায় কেঁদে ফেলেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম।

এমন আশ্চর্য ঘটনায় চমকে উঠেছে গোটা বিশ্ব। কিমের আবেগ আর পশ্চিমদিকে সূর্য ওঠা, অনেকটা একই রকম। এতগুলো বছরে তাঁর চোখে জল তো দূরের, তাঁকে নরম হতেই দেখেননি কেউ কখনও। ফলে দেশের ভিতরে বাইরে সকলেই ভয়ে কাঁটা কিমের। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ায় হয়ে গেল মাতৃদিবস। সেই মাতৃদিবসের একটি অনুষ্ঠানে দেশের মহিলাদের সামনে বসে কেঁদে ফেললেন সেই কিম। চোখের জল বাঁধ মানছে না। কোনওমতে রুমাল দিয়ে চোখ মুছে তবু বক্তৃতা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বৈরাচারী শাসক। যা দেখে চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গিয়েছে অনুষ্ঠানে আগত সমস্ত অতিথির। স্বাভাবিক ভাবেই নেটবিশ্বে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সেই ভিডিও। যা দেখে ভ্রূ কুঁচকেছে গোটা দুনিয়াই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বয়স দশ, যেভাবে উত্তরসূরীকে তিলে তিলে গড়ছেন কিম জং

North Korea Kim Jon : মেয়ের নামে নাম রাখলেই নিষেধাজ্ঞা জারি, যে কারণে নর্থ কোরিয়ায় এই নিয়ম চালু করলেন কিম জং

NEW: North Korean dictator Kim Jong Un starts crying as he begs North Koreans to have more babies.

North Korean birth rates are about to skyrocket 📈

The incident happened at the National Mothers Meeting hosted by the dictator who started dabbing his eyes in an effort to get…

— Collin Rugg (@CollinRugg)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
করোনা নেই, তবুও উত্তর কোরিয়ায় লকডাউন! কারণ শুনলে হেসে গড়িয়ে পড়বেন আপনিও

Kim Jong Un North Korea Lockdown : সম্প্রতি সেই কিম জং উনের কাণ্ডকারখানা ফের একবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এল।

না, গোপন কান্না সে নয়। এমনকী চোখের জল লুকানোর কোনও চেষ্টাই ছিল না তাঁর। বরং প্রকাশ্যেই দেশের মহিলাদের সামনে নিজের আবেগ এনে রেখেছেন কিম। না, প্রাথমিক ভাবে অবশ্য আঙুল দিয়ে চোখের জল মুছে ফেলার চেষ্টা তিনি করেছিলেন। কিন্তু বাঁধ মানেনি সেই স্রোত। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হন রুমালের সাহায্য় নিতে। মুখ নামিয়ে চোখ মুছে নেন তিনি। কিন্তু কিমের হলটা কী? যে হৃদয়কে তুলনা করা হয় হিটলার কংবা মুসোলিনির মতো স্বৈরাচারীর সঙ্গে, হঠাৎ কেন আর্দ্র হয়ে উঠল সেই কিমের হৃদয়। কেন জনসমক্ষে কাঁদলেন তিনি?

কোরিয়ার সেন্ট্রাল টেলিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোরিয়ার মা-দের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। পিয়ংইয়ঙে সে বৈঠক ডাকেন স্বৈরাচারী স্বয়ং। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, যে দেশনায়ক ব্যস্ত মুহূমুহু অস্ত্র পরীক্ষা আর নিজের আঙুলের ডগায় দেশকে নাচাকতে, তাঁর হঠাৎ দেশের মহিলাদের প্রয়োজন হল কেন। আর এরপরেই জানা গেল আসল কথাটি। উত্তর কোরিয়ায় জন্মহার নাকি কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে। যা নিয়ে নাকি বেজায় চিন্তিত কিম। এই বিপদে তাঁকে উদ্ধার করতে পারে দেশের মেয়েরাই। তাই তাঁদের ঘটা করে ডেকে আনা। সেখানে উত্তর কোরিয়ার মায়েদের কাছে আরও সন্তান প্রসবের আর্জি জানান কিম। জানান, দেশের জন্মহার বৃদ্ধিতে সাহায্য় করতে পারেন কেবল মায়েরাই। দেশের জাতীয় শক্তিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও যে একমাত্র ভরসা তাঁরাই, এ কথাও জানান কিম। এরপরেই আবেগে সিক্ত হয়ে দেশনায়ক জানান, তিনি যখনই সমস্যায় পড়েন, তখনই তাঁর প্রথম মনে পড়ে মায়েদের কথা।

গত এক বছরে উত্তর কোরিয়ায় জন্মের হার তলানিতে এসে ঠেকেছে। মাত্র ১.৮ শতাংশ জন্মহার নিয়ে কাজেই উদ্বেগে সে দেশের সরকার। আপাতত উত্তর কোরিয়ার জনসংখ্যা আড়াই কোটির কাছাকাছি। এ ভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বাসিন্দাহীন হয়ে পড়বে দেশটি। দীর্ঘদিন খাদ্যাভাবের মধ্যে গিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তার উপর কিমের মতো স্বৈরাচারী শাসকের হাতে পড়ে তাদের জীবন ওষ্ঠাগত। পান থেকে চুণ খসলেই মেলে কঠিনতর শাস্তি। এমনকী বাদবাদি দেশগুলির মতো খোলামেলা মেশা বা বাইরের পৃথিবীতে যাওয়ার অনুমতিও নেই উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দাদের। সে কারণেই কি এমন কঠিন দেশে নতুন শিশুদের আনতে অনিহাবোধ করছেন দেশের মানুষ! কেন কমে যাচ্ছে কোরিয়ার জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত! যা বজায় রাখতে জনসমক্ষে কাঁদতে হল স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়ক কিম জং উনকে।

যদিও সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, এ সবই সাজানো। পাথরহৃদয় কিমের চোখের জল আসলে কুমিরের কান্না ছাড়া আর কিছুই নয়। জনসংখ্যা বাড়াতে উত্তর কোরিয়া সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই নানা প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। তিন বা তার বেশি সন্তান থাকলে, বাড়িভাড়া মকুব, বিনামূল্যে খাবার ও ওষুধ সরবরাহের মতো একাধিক প্রতিশ্রুতি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেসব কোনও কিছুই কাজ না হওয়ায় শেষপর্যন্ত আস্তিন থেকে চোখের জলের ব্রহ্মাস্ত্রটি ব্যবহার করলেন উত্তর কোরিয়ার এই স্বৈরাচারী শাসক।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।