গানের জন্য টাইপরাইটার বিক্রি করেছিলেন, চোখে জল আনবে কেকে-র লড়াইয়ের গল্প

কেউই মেনে নিতে পারছেন তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যু। তবে সবথেকে আবেগঘন বার্তা এসেছে কে কে-র বন্ধু গৌতম চিকার তরফ থেকে।

Piya Saha
৩ মিনিট
গানের জন্য টাইপরাইটার বিক্রি করেছিলেন, চোখে জল আনবে কেকে-র লড়াইয়ের গল্প

কলকাতায় অনুষ্ঠান শেষে কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ তথা কে কে -র অকালপ্রয়াণের শোক কাটিয়ে উঠতে পারছে না কলকাতা সহ গোটা দেশ।গতকাল মুম্বইয়ের ভারসোভার শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। হরিহরণ, শ্রেয়া ঘোষাল,অলকা আগ্নিক, অভিজিতের মতো তারকারা উপস্থিত ছিলেন তাঁকে শেষবারের জন্য শ্রদ্ধা জানাতে। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভক্ত, পরিবার, সহকর্মীদের কাছ থেকে শোকবার্তা এসেই চলেছে । কেউই মেনে নিতে পারছেন তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যু। তবে সবথেকে আবেগঘন বার্তা এসেছে কে কে-র বন্ধু গৌতম চিকার তরফ থেকে।

পেশায় লেখক এবং অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট গৌতম চিকারমেন সঙ্গীত শিল্পীর সাথে একসাথে কলেজে পড়তেন। একই ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন কে কে এবং গৌতম। তাঁরা ছাড়াও তাঁদের 'হরাইজন' ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন জুলিয়াস, ফ্রানজ, টম এবং সন্দীপ। কে কেই ছিলেন এই ব্যান্ডের মুখ্য গলা। গৌতম দিল্লীর কিরোরি মাল কলেজে একসাথে কাটানো সময় এবং অনুষ্ঠান করতে বিভিন্ন কলেজে যাওয়ার কথা অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। জানিয়েছেন কতখানি সংঘর্ষের পর একজন শিল্পী শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনে বসতে পারেন। তাঁর করা ট্যুইটগুলি কে কের অনুরাগীদের চোখে জল এনেছে।

গৌতম লিখেছেন,'আমরা প্রায় সব কলেজের অনুষ্ঠানেই গান গাইতে যেতাম। এর মধ্যে বেশিরভাগ জায়গাতেই আমরা গান গেয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় হয়েছি। আইআইটি কানপুর এবং দিল্লি, শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সেও আমরা অনুষ্ঠান করেছি।এমনকি সিরি ফোর্ট অডিটোরিয়ামে পেশাদার ব্যান্ড হিসেবে অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছিলাম আমরা। সেই রাতে ৫০০০ টাকা উপার্জন করেছিলাম এবং মনে হচ্ছিল যেন আমরাই রাজা!'

তবে গৌতম জানিয়েছেন যে তাঁদের ব্যান্ডের কে কে এবং জুলিয়াস ছাড়া বাকী কারোরই সৌভাগ্য হয়নি গানের জগতে থাকার, স্বপ্নের জন্য লড়াই করার। বাকী সকলেই যেখানে চাকরি খুঁজে নিয়েছিল কে কে সেখানে অনন্য। গায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল ছেলেটা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'দেবদাস' থেকে 'আশিকি টু'- গানের সুরে প্রেমের নদীর খোঁজ দিয়েছিলেন কে কে

শিল্পীকে চিরবিদায় জানানোর সময় ফিরে দেখা যাক তাঁর ঝুলিতে থাকা সুপারহিট সব গানগুলো।

এখানেই শেষ নয় তিনি আরও লিখেছেন,' ভীষণ প্রাণবন্ত এবং সৃজনশীল কে কে আপনাদের ব্যান্ডের প্রাণ ছিল। সঙ্গে অসাধারণ প্রতিভাশালী ও অতুলনীয় সুন্দর কনস্বরের কারণে ও একজন গায়কই ছিল '।

গৌতমের কথায় জানা যায় কলেজে পড়াকালীন কে কে চুটিয়ে ইংরেজি গান করতো কিন্তু মুম্বই চলে আসার পর কী অনায়াসে আর কী দারুণ ভাবে হিন্দি গান গাইতো তা ভাবা যায় না। এতেই বোঝা যায় কে কে কত বড় মাপের গায়ক ছিলেন। অন্য একটি ট্যুইটে তিনি লেখেন,

"বেশ কিছু বছর আগে আমি মুম্বই গিয়েছিলাম। ও আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। আমরা দু'জনে সারারাত মেরিন ড্রাইভ হেঁটেছিলাম আর আমাদের কলেজের কাটানো দিনগুলি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। আমাদের দুজনের বেড়ে ওঠা, জীবন, আমাদের স্ত্রী, সন্তান, কর্মজীবন, আমাদের স্বপ্ন, আশা,আমদের গান, পুরোনো গান, নতুন গান ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা এমন কত কিছু নিয়ে সারাক্ষণ কথা হল ওর সাথে। ওর আত্মা এক ভিন্ন জগতের যা গানের কর্ড, নোট, সুর,কথা,আলো, শব্দ দিয়ে পরিপূর্ণ ছিল।"

তিনি আরও বলেছেন, কে কে হিন্দ সিনেমার জগতে যেখানে পৌঁছেছিলেন তার জন্য তাঁকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বন্ধু গৌতমের কথাতেই উঠে এসেছে যে গান চালিয়ে যেতে একসময় কে কে নিজের টাইপরাইটারও বেঁচে দিয়েছিলেন।

তাঁর কথায়,'কে কে একসময় কাজ ছেড়ে বিভিন্ন হোটেলে গান গাইতে শুরু করেন।তবে কে কে এই কাজ করতে একেবারেই পছন্দ করতেন না। ও আমাকে ওর সংঘর্ষের কথা, লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বলেছে জয়ের গল্পও, কিভাবে সাফল্য এসেছে তাঁর গল্পও শুনেছি ওর মুখে। ওর কাছেই শুনেছি কীভাবে গানের অনুশীলন করতো, গানের জগতে নতুন মানুষের সাথে পরিচয়ের কথা।

'সেদিন রাতে মেরিন ড্রাইভের একেবারে প্রান্তে দাঁড়িয়ে ও আমাকে বললো প্রথম বার মুম্বই এসে আমি ঠিক এইখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। আর এই আলোর দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবছিলাম মুম্বই শহর কি তাঁর কোলে আমাকে একটু ঠাঁই দেবে !'

গৌতম লিখেছেন।

বন্ধুর এই ট্যুইটেই স্পষ্ট কত লড়াই করে এই জায়গা পেয়েছেন মুম্বইতে। বন্ধুর মৃত্যুতে গৌতম কতখানি ভেঙে পড়েছেন তা তাঁর ট্যুইটেই স্পষ্ট। বন্ধুকে শেষ বিদায় জানিয়ে তিনি লিখেছেন,' মাত্র ৫৩ বছর বয়স। জীবনের শেষ গান গেয়ে নিঃশব্দে চলে গেলেন। সঙ্গীতেই জীবন কেটেছে আর সঙ্গীতেই তাঁর মৃত্যু হল। বাকিদের জন্য দুঃখ রয়ে গেল কিন্তু কে কে স্বর্গদ্বারের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।' মানুষ নশ্বর কিন্তু শিল্পী ও শিল্প অবিনশ্বর।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শ্রীরামকৃষ্ণের চিকিৎসক গঙ্গাপ্রসাদ সেনের বাড়ির দুর্গাপুজো: পূর্ববঙ্গের ঐতিহ্য যেভাবে এল কুমারটুলিতে

Gangaprasad Sen Bari Durga Puja: গঙ্গাপ্রসাদ সেন ছিলেন বিখ্যাত আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবও তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে আসতেন। তাঁর বাবা নীলাম্বর সেন অবিভক্ত বাংলার এক নামকরা কবিরাজ ছিলেন। কলকাতায় আসার পর সেন পরিবার কুমারটুলিতে বসতি গড়ে এবং সেখানেই ১৮৫৭ সালে শুরু হয় দুর্গার আরাধনা।

১৩ বছর বয়সে ফুটপাথে থাকা, কার্গিলে জওয়ানদের পাশে, ‘পরিন্দা’য় আগুনে পুড়ে যাওয়া: নানা পাটেকর আসলে কেমন মানুষ ছিলেন?

Nana Patekar unknown facts: প্রকাশ রাজের ভাষায়, নানা কেবল একজন প্রবীণ সহকর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন এমন এক অভিভাবক-বন্ধু, যাঁর সঙ্গে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়া যেত, আবার একই টেবিলে বসে তাঁর হাতের রান্না করা খাবার ভাগ করে নেওয়া যেত। মদ বা মুম্বইয়ের তথাকথিত হাই-প্রোফাইল পার্টি কালচারের প্রতি তাঁর চিরকালই ছিল তীব্র অনীহা।

নানা পাটেকর: ফিরে দেখা অনন্য জীবন

Nana Patekar: ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন বোম্বে রাজ্যের রায়গড় জেলার মুরুদ-জানজিরায় এক মারাঠি পরিবারে জন্মেছিলেন বিশ্বনাথ পাটেকর। পরে সিনেমার দুনিয়ায় তিনি হয়ে ওঠেন ‘নানা পাটেকর’।

মাছ-ভাত খেয়েই বোধন, দশমীতে মৎস্যমুখ! বাগবাজার হালদার বাড়ির সাড়ে চারশো বছরের পরম্পরা

Bagbazar Haldar Bari Durga Puja: পুজোর ইতিহাসের সূত্রপাত ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে সাহেবপুর বা রহনপুরে। হালদার পরিবারের পূর্বপুরুষরা চন্দননগরের নোয়াপাড়ার জমিদার ছিলেন। তাঁদেরই এক পূর্বপুরুষ কৃষ্ণপ্রসাদ হালদার প্রমোদভ্রমণে ওড়িশার ওই এলাকায় গেলে স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে সত্যিই উদ্ধার হয় মহিষমর্দিনীর কষ্টিপাথরের মূর্তি।

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।