ক্ষমা চাইবেন? 'গদ্দার' জোক বিতর্কে স্পষ্ট যা জানালেন কমেডিয়ান কুণাল কামরা

Kunal Kamra-Eknath Shinde Joke: এফআইআর, ভাংচুর, ধমকানি-চমকানির মুখে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমা তিনি চাইবেন না।

inscript
৩ মিনিট
ক্ষমা চাইবেন? 'গদ্দার' জোক বিতর্কে স্পষ্ট যা জানালেন কমেডিয়ান কুণাল কামরা

বহুদিন পর আবার ভারতে স্ট্যান্ড আপ কমেডির জগতে চর্চায় এসেছেন কুণাল কামরা। বিজেপি-আরএসএস বিরোধিতার কারণে বহুবার আইনের প্যাঁচে পড়তে হয়েছে তাঁকে। মুম্বইতে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পর আবারও কুণাল কামরার উপর শাসকের নজর পড়েছে। পড়বে নাই বা কেন! কুণাল সাহস দেখিয়েছেন, খোদ মুম্বইতে বসে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সমালোচনা করার। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে এই একনাথ শিন্ডের নাটকীয় দলত্যাগের পরেই শিবসেনা দল দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, উদ্বব শিবির এবং শিন্ডে শিবির। সেই একনাথ শিন্ডেকে কুণাল 'গদ্দার' বা বিশ্বাসঘাতক হিসাবে উল্লেখ করেছেন তাঁর স্ট্যন্ড আপ কমেডি শোয়ে। এই ঘটনার পরেই শিবসেনার শিন্ডে শিবিরের সদস্যরা যে জায়গায় কুণাল কামরার শো রেকর্ড করা হয়েছিল, সেখানে গিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং শিবসেনা বিধায়ক মুরজি প্যাটেল কুণালের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। মানহানি এবং জনসাধারণকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

বছর ৩৬-এর কুণাল কোনওদিনই দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। এই এফআইআর, ভাংচুর, ধমকানি-চমকানির মুখে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমা তিনি চাইবেন না। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে কুণাল জানিয়েছেন,

"আমি ক্ষমা চাইব না... আমি এই জনতাকে ভয় পাই না এবং আমি আমার খাটের তলায় লুকিয়ে থাকব না, বিষয়টা থেমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।"

কুণাল কামরা আরও লিখেছেন, অজিত পাওয়ার (প্রথম উপ মুখ্যমন্ত্রী সিএম) একনাথ শিন্ডে (দ্বিতীয় উপ মুখ্যমন্ত্রী) সম্পর্কে যা বলেছিলেন, তিনিও সেই একই কথাই বলেছেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস একনাথ শিন্ডেকে 'অপমান' করার জন্য কুণাল কামরাকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। বলেছেন, যে 'শহুরে নকশাল' এবং 'বাম উদারপন্থী'-রা এই ধরনের কাজকে সমর্থন করে তাদের 'সবক' শেখানো হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গালাগাল খেলেই বলে, "ডার্ক জোক লিখেছি, সমাজ আমায় বুঝল না!"

Dark Comedy: আমাদের এখানে এই ধরনের কোনও কমিক নেই। যারা ছিল, তারা এখন কেসের ঠেলা সামলাচ্ছে। বেশ হচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আমাদের মধ্যে জমে থাকা যাবতীয় অন্ধকারেরই প্রতিফলন ডার্ক জোক

Dark Comedy: নানা শিল্পকর্ম আমাদের নানাভাবে অস্বস্তিতে ফেলে। অস্বস্তি দেওয়াটাও শিল্পের একটা কাজ বটে। কিন্তু এই অস্বস্তিরও এক নিজস্ব রাজনীতি রয়েছে।

গত রবিবার রাতে শিবসেনার সদস্যরা মুম্বইয়ে খারের হ্যাবিট্যাট কমেডি ক্লাব গিয়ে ভাংচুর চালায়। এই হ্যাবিট্যাটেই কুণাল কামরার শো হয়েছিল। এখানেই নয়া ভারত নামে একটি সাম্প্রতিক কমেডি শো চলাকালীন, কুণাল কামরা শিবসেনাকে বিভক্ত করা এবং বিজেপির সঙ্গে জোট গড়ার জন্য শিন্ডেকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলেন। শিন্ডের শারীরিক চেহারা এবং মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করার সময় 'থানের একজন নেতা' বলে উল্লেখ করে একটি পরিচত বলিউডি গানের প্যারোডি করেন কুণাল। কুণাল কামরা এই ভাংচুর করাকে 'কাণ্ডজ্ঞানহীন' বলেই মনে করছেন। তিনি নিজস্ব ভঙ্গিতে বলেছেন, ভাংচুরের বিষয়টা খানিক বাটার চিকেন পছন্দ না হওয়াতে টমেটোভর্তি লরি উল্টে প্রতিশোধ নেওয়ার মতোই অযৌক্তিক। কুণাল তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন,

"উন্মত্ত জনতা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে হ্যাবিট্যাটের আস্ত থাকা উচিত নয়। এটি নিছক একটি বিনোদনের মঞ্চ। সব ধরনের শোয়ের জন্য একটি জায়গা। হ্যাবিট্যাট (বা অন্য কোনও স্থান) আমার কমেডির জন্য দায়ী নয়, বা আমি যা বলি বা করি তার উপর এর কোনও ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণ নেই।"

কুণাল কামরা আরও বলেছেন যে, পরবর্তী শোয়ের জন্য, তিনি সম্ভবত "এলফিনস্টোন ব্রিজ বা মুম্বইয়ের অন্য কোনও জায়গা" বেছে নেবেন যা দ্রুত ধ্বংসের প্রয়োজন।

রাজনৈতিক নেতা বা দল নিয়ে কুণাল কামরার রসিকতা নতুন নয়। বিজেপি বিরোধী অবস্থান তাঁর অত্যন্ত স্পষ্ট। বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে বারেবারে প্রশ্ন তুলেছেন কামরা। কামরা লিখেছেন, "কোনও প্রভাবশালী মানুষের বিরুদ্ধে রসিকতা সহ্য করতে আপনি অক্ষম হলে তা আমার অধিকারের প্রকৃতিকে পরিবর্তন করবে না। আমি যতদূর জানি, আমাদের নেতাদের এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার সার্কাস নিয়ে ঠাট্টা করা আইনের পরিপন্থী নয়। তবে, আমার বিরুদ্ধে যে কোনও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি পুলিশ ও আদালতকে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। কিন্তু আইন কি ন্যায়সঙ্গতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, যারা রসিকতা সহ্য না করতে পেরে ভাংচুর চালানোকে যুক্তিসঙ্গত মনে করল?”

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।