বুকে ব্যথা নিয়েও শট দিয়েছিলেন, ফিরে দেখা মহানায়কের শেষ দিন

চিরদিনের মতো বাঙালিকে ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন তার রূপকথার নায়ক? অবশেষে উত্তমকুমারের বাড়ির লোকের তরফে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হল। সারা কলকাতা যেন মুহূর্তের মধ্যে শোকস্তব্ধ হয়ে গেল।

rudranjan
৪ মিনিট
বুকে ব্যথা নিয়েও শট দিয়েছিলেন, ফিরে দেখা মহানায়কের শেষ দিন

‘ক্লোজ শট'-এ ধরা আছে তাঁর মুখ। চোখে হালফ্যাশনের সানগ্লাস। ঠোঁটে জ্বলন্ত ‘ফাইভফিফটিফাইভ’ সিগারেট। চলতি হিন্দিতে অনেকে যার নাম দিয়েছিলেন, ‘পাঁচশো পচপন’। ‘নায়ক’ ছবির এই দৃশ্যের সঙ্গে আপামর বাঙালি পরিচিত। তাঁকে ছাড়া এই ছবির মূল অভিনেতা হিসেবে কারও কথা ভাবতে পারেননি সত্যজিৎ রায়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার লিখেছিলেন, ‘প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে’। কিন্তু বাঙালির একমাত্র ম্যাটিনি আইডল খুব একটা নীরবে আসেননি। তিনি এসেছিলেন যথেষ্ট কোলাহল সঙ্গে নিয়ে। চলেও গিয়েছিলেন রাজার মতো। তারপরেও বাঙালির ম্যাটিনি আইডলের অনুসন্ধান থামেনি। কিন্তু, জীবনানন্দর থেকে খানিক ধার করেই বলা চলে, ‘এ পৃথিবী একবার পায় তারে, পায় নাকো আর।’

তারকার মৃত্যু হয় নিঃশব্দে। পৃথিবী থেকে তার আঁচটুকুও পাওয়া যায় না। আর এমন উজ্জ্বল তারকার মতোই মৃত্যু হয়েছিল ‘নায়ক’-এর অরিন্দম মুখার্জির চরিত্রাভিনেতার। বাঙালি যাঁকে চেনে উত্তমকুমার নামে। কেমন কেটেছিল মহানায়কের মৃত্যুর আগের চব্বিশ ঘণ্টা?

দিনটা ছিল ১৯৮০ সালের ২৩ জুলাই। ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির শুটিং তখন পুরোদমে চলছে। সকাল সকাল নিয়মমাফিক পুজো সারলেন উত্তম। তারপর খাওয়া-দাওয়া সেরে রওনা দিলেন স্টুডিওর দিকে। সঙ্গে ছিলেন প্রযোজক অসীম সরকার। উত্তমের শারীরিক অবস্থা তখন ভালো না। ‘ছোটি সি মুলাকাত’ ছবি ফ্লপ হওয়ার দরুন বাজারে বিস্তর ধার-দেনা। তার ওপর সুপ্রিয়া দেবী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। দুশ্চিন্তা যেন আর কাটে না। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও নিয়মমাফিক লৌকিকতা সারছেন তিনি। প্রত্যেকবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই হয়ে উঠছেন এক অন্য জগতের মানুষ। তখন আর তিনি টলিজগতের চিরপরিচিত খাদ্যরসিক, আড্ডাপ্রিয় উত্তমকুমার নন। অভিনয়ের মুনশিয়ানায় তিনি তখন মহাকাব্য রচনা করেছেন। অকল্পনীয় অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলছেন, ‘বাঘবন্দী খেলা’ বা ‘নগর দর্পণ'-এর চরিত্রদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক তরুণী লাল ব্লাউজ ছুড়েছিলেন উত্তমকুমারের দিকে

উত্তম সবসময় সুচিত্রাকে রমা নামে ডাকতেন। কখনও সুচিত্রা নামটি তাঁর মুখে শুনিনি। আমার প্রশ্নের উত্তরে বললেন, রমাকে এত ভালো দেখতে যে, শুধু ওকে দেখার জন্যই তো হাজার হাজার লোক আসে। আমার সবথেকে সুন্দরী, গ্ল্যামারাস নায়িকা কিন্তু রমা।

সেদিন গাড়িতে উঠতে গিয়ে প্রথম ধাক্কাটা খেলেন উত্তম। তিনি দেখলেন, তাঁর বহু পুরনো টেপরেকর্ডারখানা গাড়ির ভেতর থেকে বেমালুম উধাও হয়ে গেছে। বুঝতে বাকি রইল না, যন্ত্রটা চুরি হয়েছে। তাঁর কত বছরের বন্ধু এই টেপরেকর্ডার। শুটিংয়ে যাওয়ার সময় প্রত্যেকদিন এই টেপরেকর্ডারে নিজের পছন্দ মতো গান বাজাতেন তিনি। আজ তার অনুপস্থিতি যেন সত্যিই বন্ধু-বিচ্ছেদের মতো। বিষণ্ণ হয়ে পড়লেন উত্তম। স্টুডিওতেও সারাদিন আনমনা হয়ে রইলেন। অবশেষে ডাক পড়ল শুটিং ফ্লোরে। শট তৈরি। সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক ধুন্ধুমার ঝগড়ার দৃশ্যে অভিনয় করবেন তিনি।

শোনা যায়, এটাওয়া ঘরানার বুজুর্গ উস্তাদ এনায়েত খাঁ, কন্যার মৃত্যুর খবর শুনেও রেওয়াজের আসন ছেড়ে উঠতে পারেননি। সুরবাহার হাতে নিয়ে তিনি কন্যার মৃত্যুর বেদনা বুকে চেপে বেহাগ বাজিয়েছিলেন। নিজের শিল্পকর্মের প্রতি এনায়েত সাহেবের এমন নিষ্ঠার সঙ্গে বোধহয় তুলনা চলে একমাত্র উত্তমকুমারের।

দৃশ্যটা ছিল সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার। এমতাবস্থায় উত্তমকুমার দাড়ি কামাতে কামাতে তাঁকে বলবেন, ‘আমিও দেখে নেব, আমার নাম গগন সেন...।’ দৃশ্য হলো পরিকল্পনামাফিক। উত্তমকুমার সংলাপও বললেন। কিন্তু দৃশ্য শেষ হওয়ামাত্র অসুস্থ হয়ে পড়লেন। বুকে ব্যথা শুরু হয়েছিল আগেই। শট দিতে দিতে একহাতে বুক চেপে ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু একবারের জন্যও সংলাপ থামাননি।

শুটিং থেকে ফিরে ফের নিয়মরক্ষার খাতিরে ছুটতে হল বন্ধু দেবেশ ঘোষের বাড়িতে। বিশ্রামের জো নেই তাঁর। বন্ধুর বাড়ি থেকে আড্ডা দিয়ে ফিরলেন রাত করে। বাড়ল অসুস্থতা। বাড়ির লোকেরা সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণ কলকাতার ‘বেলভিউ’ নার্সিংহোমে তাঁকে ভর্তি করালেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মৃত্যু হল মহানায়কের। তাঁর চিকিৎসার জন্য পাঁচ জন ডাক্তারের একটা মেডিক‍্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই কিছু করা গেল না।

মহানায়কের মৃত্যুর খবর সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু চাপা গুঞ্জন কি আর আটকে থাকে? ২৫ জুলাই ভোর থেকেই উত্তমকুমারের গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির সামনে ভিড় করছিল মানুষ। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন সাংবাদিক। প্রশ্ন একটাই, সত্যিই কি তাহলে ইন্দ্রপতন ঘটেছে? চিরদিনের মতো বাঙালিকে ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন তার রূপকথার নায়ক? অবশেষে উত্তমকুমারের বাড়ির লোকের তরফে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হল। সারা কলকাতা যেন মুহূর্তের মধ্যে শোকস্তব্ধ হয়ে গেল। স্রেফ ধুতি আর বাংলার শার্ট পরে হাজার হাজার দর্শকের মন জিতে নিতে আর কেই-ই বা পেরেছেন?

স্বর্ণযুগের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে সেদিন চলে গিয়েছিলেন উত্তমকুমার। এই আলো-আঁধারির স্বর্ণযুগই তো এসে উপস্থিত হতো মান্না দে বা শ্যামল মিত্রর গানের ইন্টারলিউডে। সেই যুগের সন্ধেগুলো ছিল মায়াময়। গরিব কেরানি দশটা-পাঁচটার চাকরি সেরে বাড়ি ফিরতেন। তারপর সপরিবারে ভিড় জমাতেন বসুশ্রী বা উজ্জ্বলা সিনেমায়। হলের বাইরে বাদামি রঙের ঠোঙায় পাওয়া যেত অদ্ভুত সুস্বাদু চানাচুর। আর ভেতরে সেলুলয়েড স্ক্রিনে চলত অপূর্ব সব কাণ্ডকারখানা।

কখনও বিশ্বজিৎ রেড রোড দিয়ে চলে যেতেন গাড়ি হাঁকিয়ে। লিপ মেলাতেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানের সঙ্গে, ‘কাছে রবে, কাছে রবে, জানি কোনওদিন হবে না সুদূর।’ কখনও আবার স্বয়ং উত্তমকুমার মাথায় বাঁকা টুপি পরে ঠোঁটের কোণে সিগারেট নিয়ে আড়চোখে পিছন ফিরতেন। শুধু সেই দৃষ্টির জোরেই একধাক্কায় গোল্ডেন জুবিলি পার করত বাংলা ছবি।

এক সময়ে এমনই প্রেম ছিল বাংলা ছবিতে। অনিল চট্টোপাধ্যায় সংলাপ বলতেন ধ্রুপদী মীড়ের ঢঙে, টেনে টেনে। সেই সংলাপের মধ্যে দিয়েই যেন ফুটে উঠত ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সপ্তসিন্ধু, দশ দিগন্ত। তারপর এল ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর যুগ। পেশিবহুল নায়ক গুণ্ডাচক্র ধ্বংস করে নায়িকাকে একা হাতে উদ্ধার করবেন। নায়িকা হয়ে উঠবেন তাঁর শেষ বেলার বিজয়ী ট্রফির মতো। এমনই হয়ে উঠল অধিকাংশ মূলধারার বাংলা ছবির ছাঁচে বাধা গল্প। আসল কথা হলো, এই ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান'-এর ধারণার প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে, নায়করা যেন প্রবলভাবে পুরুষ হয়ে উঠলেন। প্রেমিক হতে ভুলে গেলেন।

লিখেছেন
rudranjan
rudranjan
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।