কে ও? প্রধানমন্ত্রীর শপথে অনাহূত প্রাণীর ছায়া! রহস্য রাষ্ট্রপতি ভবনে

Narendra Modi’s Oath Ceremony: সেই বজ্রআঁটুনির মধ্যে থেকেই সেই অনুষ্ঠানের একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রপতিভবনের করিডরে ঘোরাফেরা করতে গিয়েছে এক রহস্যময় জন্তুকে?

Sohini Das
২ মিনিট
কে ও? প্রধানমন্ত্রীর শপথে অনাহূত প্রাণীর ছায়া! রহস্য রাষ্ট্রপতি ভবনে

দেশের ১৮তম লোকসভা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন নরেন্দ্র মোদি। গত রবিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে তৃতীয় বার প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ গ্রহণ করলেন তিনি। সেই সঙ্গেই মোদির মন্ত্রিসভার আরও ৭১ জন আমাত্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বলে কথা। স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তা ছিল আঁটোসাঁটো। তবে সেই নিরাপত্তা বলয় ভেঙেই ঢুকে পড়ল সে সকলের চোখের আড়ালে। কিন্তু দর্শকদের নজর এড়াল না সেই দৃশ্য।

রবিবারের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ হাজির ছিলেন বিজেপির বহু বিশিষ্ট নেতারা। ছিলেন এনডিএ শিবিরের নেতারাও। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তো ছিলেনই। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল রাষ্ট্রপতিভবন। মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন পড়শি দেশের রাষ্ট্রনায়কেরাও। ছিলেন দেশের নামী শিল্পপতি থেকে অভিনেতারাও। সব মিলিয়ে মোট ৮ হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন সেদিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে।

সেই বজ্রআঁটুনির মধ্যে থেকেই সেই অনুষ্ঠানের একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রপতিভবনের করিডরে ঘোরাফেরা করতে গিয়েছে এক রহস্যময় জন্তুকে? কী ছিল আসলে সেটি? নেটিজেনরা তীক্ষ্ণ চোখ দিয়ে লক্ষ্য করেছেন প্রাণীটিকে। নিরাপত্তা বলয়ের তোয়াক্কা না করেই দিব্যি ক্যামেরার লেন্সের সামনে দিয়েই বহাল তবিয়তে হেঁটে বেরিয়েছে সেই রহস্যপ্রাণী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির শপথগ্রহণে কেন ডাক পেলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

Mamata Banerjee Modi 3.0: মমতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই এনডিএ জোটের সমর্থনে বিজেপি সরকারের মেয়াদ বেশি দিনের নয়।

মঞ্চে তখন বিজেপি সাংসদ দুর্গা দাস। তাঁর শপথগ্রহণ ততক্ষণে শেষ। চলছে সইসাবুদের কাজ। মঞ্চেই চেয়ারে বসে সেই কাজ সারেন তিনি। তার পর উঠে যান রাষ্ট্রপতির কাছে। একে অপরকে হাত জোড় করে নমস্কার করতে দেখা যায় তাঁদের। ঠিক তখনই তাঁদের অলক্ষ্য পিছন দিয়ে চলে যায় সেই প্রাণীটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির শপথে 'মুঘল' খানা! নৈশভোজের মেনুতে কী কী পদের আয়োজন বিজেপির?

Modi Oath Ceremony Menu: এই দাবদাহের মধ্যে মোদির শপথগ্রহণ উপলক্ষ্যে ৫ ধরনের জ্যুসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

অনেকেই হাঁটার ভঙ্গি ও চেহারা দেখে আঁচ করেছে ওই রহস্যজন্তু আসলে আস্ত একটি চিতাবাঘ। স্বাভাবিক ভাবেই ছড়ায় আতঙ্ক। দেশের হবু এবং ভাবী মন্ত্রীদের উপর এমন একটি প্রাণীর হামলা হলে কী ঘটতে পারত, সে নিয়েও শুরু হয়ে যায় জল্পনা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, খোদ রাজধানীর বুকে আস্ত একটা চিতাবাঘ খোদ রাষ্ট্রপতিভবনে কীভাবেই বা ঢুকবে! কেউ কেউ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন সেই আশঙ্কা। তাঁরা বলছেন, জন্তুটি চিতাবাঘ নয়। বরং বিড়ালজাতীয় কোনও প্রাণী। বিগ ক্যাট ফ্যামিলি-র কেউ হলেও হতে পারে, কিন্তু তা চিতাবাঘ নয় বলেই দাবি তাঁদের।

স্বাভাবিক ভাবেই রাষ্ট্রপতিভবনে চিতাবাঘ আতঙ্ককে ঘিরে হইচই পড়ে গিয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তুঙ্গে ওঠে জল্পনা। সেই পরিস্থিতিতে আসরে নামে দিল্লি পুলিশ। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, চিতা নয়। কোনও ভাবে সাধারণ একটি বিড়ালের ছবিই ধরা পড়েছিল অতিথিদের ক্যামেরায়।

দিল্লি পুলিশ তাদের এক্স-বার্তায় লেখে, “কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমে একটি পশুর ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সময় হিংস্র জন্তুকে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এই তথ্য ঠিক নয়। যে ছবিটি উঠেছে, সেটি একটি বিড়ালের।” এই ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আর্জিও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ।

তৃতীয়বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদি। এর আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুরই একমাত্র এই রেকর্ড ছিল। সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে জল্পনা তো ছিলই। আর সেই জল্পনাতেই নতুন আশঙ্কা উস্কে দিয়েছিল সেই আশ্চর্য রহস্যজন্তুটির ছায়া। যদিও রহস্য জাল বাঁধার আগেই তাতে জল ঢালল পুলিশ। রাষ্ট্রপতিভবন এলাকায় থাকা কোনও পড়শি বিড়ালই যে ছিল ওই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের অনাহূত অতিথি, তা পরিষ্কার হয়ে গেল অচিরেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।