কে ও? প্রধানমন্ত্রীর শপথে অনাহূত প্রাণীর ছায়া! রহস্য রাষ্ট্রপতি ভবনে
Narendra Modi’s Oath Ceremony: সেই বজ্রআঁটুনির মধ্যে থেকেই সেই অনুষ্ঠানের একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রপতিভবনের করিডরে ঘোরাফেরা করতে গিয়েছে এক রহস্যময় জন্তুকে?

দেশের ১৮তম লোকসভা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন নরেন্দ্র মোদি। গত রবিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে তৃতীয় বার প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ গ্রহণ করলেন তিনি। সেই সঙ্গেই মোদির মন্ত্রিসভার আরও ৭১ জন আমাত্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বলে কথা। স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তা ছিল আঁটোসাঁটো। তবে সেই নিরাপত্তা বলয় ভেঙেই ঢুকে পড়ল সে সকলের চোখের আড়ালে। কিন্তু দর্শকদের নজর এড়াল না সেই দৃশ্য।
রবিবারের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ হাজির ছিলেন বিজেপির বহু বিশিষ্ট নেতারা। ছিলেন এনডিএ শিবিরের নেতারাও। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তো ছিলেনই। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল রাষ্ট্রপতিভবন। মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন পড়শি দেশের রাষ্ট্রনায়কেরাও। ছিলেন দেশের নামী শিল্পপতি থেকে অভিনেতারাও। সব মিলিয়ে মোট ৮ হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন সেদিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে।
সেই বজ্রআঁটুনির মধ্যে থেকেই সেই অনুষ্ঠানের একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রপতিভবনের করিডরে ঘোরাফেরা করতে গিয়েছে এক রহস্যময় জন্তুকে? কী ছিল আসলে সেটি? নেটিজেনরা তীক্ষ্ণ চোখ দিয়ে লক্ষ্য করেছেন প্রাণীটিকে। নিরাপত্তা বলয়ের তোয়াক্কা না করেই দিব্যি ক্যামেরার লেন্সের সামনে দিয়েই বহাল তবিয়তে হেঁটে বেরিয়েছে সেই রহস্যপ্রাণী।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mamata Banerjee Modi 3.0: মমতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই এনডিএ জোটের সমর্থনে বিজেপি সরকারের মেয়াদ বেশি দিনের নয়।
মঞ্চে তখন বিজেপি সাংসদ দুর্গা দাস। তাঁর শপথগ্রহণ ততক্ষণে শেষ। চলছে সইসাবুদের কাজ। মঞ্চেই চেয়ারে বসে সেই কাজ সারেন তিনি। তার পর উঠে যান রাষ্ট্রপতির কাছে। একে অপরকে হাত জোড় করে নমস্কার করতে দেখা যায় তাঁদের। ঠিক তখনই তাঁদের অলক্ষ্য পিছন দিয়ে চলে যায় সেই প্রাণীটি।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Modi Oath Ceremony Menu: এই দাবদাহের মধ্যে মোদির শপথগ্রহণ উপলক্ষ্যে ৫ ধরনের জ্যুসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
অনেকেই হাঁটার ভঙ্গি ও চেহারা দেখে আঁচ করেছে ওই রহস্যজন্তু আসলে আস্ত একটি চিতাবাঘ। স্বাভাবিক ভাবেই ছড়ায় আতঙ্ক। দেশের হবু এবং ভাবী মন্ত্রীদের উপর এমন একটি প্রাণীর হামলা হলে কী ঘটতে পারত, সে নিয়েও শুরু হয়ে যায় জল্পনা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, খোদ রাজধানীর বুকে আস্ত একটা চিতাবাঘ খোদ রাষ্ট্রপতিভবনে কীভাবেই বা ঢুকবে! কেউ কেউ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন সেই আশঙ্কা। তাঁরা বলছেন, জন্তুটি চিতাবাঘ নয়। বরং বিড়ালজাতীয় কোনও প্রাণী। বিগ ক্যাট ফ্যামিলি-র কেউ হলেও হতে পারে, কিন্তু তা চিতাবাঘ নয় বলেই দাবি তাঁদের।
স্বাভাবিক ভাবেই রাষ্ট্রপতিভবনে চিতাবাঘ আতঙ্ককে ঘিরে হইচই পড়ে গিয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তুঙ্গে ওঠে জল্পনা। সেই পরিস্থিতিতে আসরে নামে দিল্লি পুলিশ। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, চিতা নয়। কোনও ভাবে সাধারণ একটি বিড়ালের ছবিই ধরা পড়েছিল অতিথিদের ক্যামেরায়।

দিল্লি পুলিশ তাদের এক্স-বার্তায় লেখে, “কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমে একটি পশুর ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সময় হিংস্র জন্তুকে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এই তথ্য ঠিক নয়। যে ছবিটি উঠেছে, সেটি একটি বিড়ালের।” এই ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আর্জিও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ।
তৃতীয়বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদি। এর আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুরই একমাত্র এই রেকর্ড ছিল। সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে জল্পনা তো ছিলই। আর সেই জল্পনাতেই নতুন আশঙ্কা উস্কে দিয়েছিল সেই আশ্চর্য রহস্যজন্তুটির ছায়া। যদিও রহস্য জাল বাঁধার আগেই তাতে জল ঢালল পুলিশ। রাষ্ট্রপতিভবন এলাকায় থাকা কোনও পড়শি বিড়ালই যে ছিল ওই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের অনাহূত অতিথি, তা পরিষ্কার হয়ে গেল অচিরেই।







