মুর্শিদাবাদ হিংসা পূর্বপরিকল্পিত! মমতার নিশানায় নেপথ্যে কারা?

Mamata Banerjee on Murshidabad: মমতা এদিন বলেছেন, "বিএসএফ সেদিন গুলি না চালালে পরদিন অশান্তির ঘটনা ঘটত না। আপনারা কী লোকাতে চেয়েছেন?‌"

inscript
২ মিনিট
মুর্শিদাবাদ হিংসা পূর্বপরিকল্পিত! মমতার নিশানায় নেপথ্যে কারা?

এখন ঈষৎ শান্ত মুর্শিদাবাদ। সপ্তাহখানেক আগেই ওয়াকফ আইন নিয়ে অসন্তোষের জেরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল এই জেলার ধুলিয়ান এবং সামসেরগঞ্জ। মৃত্যু, আগুন, পাড়ায় পাড়ায় উত্তেজনা সব বেশ কিছুটা থিতিয়ে যাওয়ার পর মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এই অশান্তি পূর্বপরিকল্পিত।

বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদের অশান্তির কারণ ব্যাখ্যা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “গণ্ডগোল কারা করিয়েছেন, সবাই জানে। এরা নাকি ধর্মের নেতা! মুর্শিদাবাদে কী হয়েছিল আমার কাছে প্রমাণ রয়েছে। তবে আরও কিছু প্রমাণ হাতে আসবে। তারপর সব সকলের সামনে তুলে ধরব।” নাম বা দল উল্লেখ না করলেও, মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত যে আসলে কেন্দ্রের শাসকগোষ্ঠী বিজেপি-র দিকে তা বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

ধুলিয়ান এবং সামসেরগঞ্জের অশান্তি প্রসঙ্গে ধর্মীয় নেতাদের নিশানা করে মমতা বলেছেন, “কয়েকজন ধর্মীয় নেতা সেজেছে। পালে বাঘ না পড়লেও বাঘ, বাঘ বলে চিৎকার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়। এরা গৃহশত্রু। আমি সকলকে মিত্র ভাবি। আমার কোনও শত্রু নেই। মনে রাখতে হবে, মুর্শিদাবাদের ইতিহাস আছে। এটা বাংলার রাজধানী ছিল।” রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, খুব স্বাভাবিক জায়গা থেকেই বিরোধী হিসেবে বিজেপির দিকেই আঙুল তুলবে তৃণমূল। কিন্তু কেন মমতা বলছেন, আরও কিছু প্রমাণ হাতে আসা বাকি? ইতিমধ্যেই পহেলগাঁও হামলা বিষয়ে অন্য সমস্ত বিরোধীদের মতো কেন্দ্রকে সমর্থনই করেছে তৃণমূল। সেখানে মুর্শিদাবার ইস্যুতে বিরোধিতার খুব একটা প্রাসঙ্গিকতা থাকবে কিনা সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুর্শিদাবাদ: হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া আর কি কাটা যাবে না?

Murshidabad Violence: এ তো রাজনীতির খেলা। নয়ত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে কেন পুলিশের গাড়ি জ্বালাতে হবে বা মুসলমানরা কেন হিন্দুদের আক্রমণ করবে তা সাধারণের বোধগম্য হওয়ার কথা নয়।

মুর্শিদাবাদের আক্রান্তদের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রশ্নেও বিজেপিকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। “আমি ভেবেছিলাম ওদের সঙ্গে কথা বলব কিন্তু তা তো হচ্ছে না। বিজেপি ওদের সরিয়ে নিয়েছে। কেন এই লুকোচুরি? কী আড়াল করার চেষ্টা?” প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। কেন মমতার মনে হচ্ছে এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত? নিজের যুক্তিতে উত্তর দিয়েছেন তিনি।

মুর্শিদাবাদ ইস্যুতে বিরোধী বিজেপির দিকে মূল আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে একাধিক এমন গোষ্ঠীর কথা উঠে এসেছে যা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে শাসক বিজেপি নিয়ন্ত্রিত। যেমন, মমতা এদিন বলেছেন, "বিএসএফ সেদিন গুলি না চালালে পরদিন অশান্তির ঘটনা ঘটত না। আপনারা কী লোকাতে চেয়েছেন?‌ বিজেপি তো ছুপারুস্তম।" জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। কমিশনের সদস্যরা মুর্শিদাবাদ সফরে এসেছিলেন।মমতার প্রশ্ন, মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা কি বিজেপি-শাসিত উত্তরপ্রদেশ এবং জাতিগত হিংসা-কবলিত মণিপুর পরিদর্শন করেছে? “মানবাধিকার কমিশন কি মণিপুর এবং উত্তরপ্রদেশ সফরে গিয়েছিল? তারা মুর্শিদাবাদ সফরে তৎপর ছিল। ২০১৬ সালে নোট বাতিল ঘোষণার একদিন পর যেমন অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলি সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, ঠিক তেমনই দাঙ্গা হওয়ার পরপরই মানবাধিকার কমিশন মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়েছিল। সেই কারণেই আমি বলছি যে এই হিংসা পূর্বপরিকল্পিত।"

মুখ্যমন্ত্রী নিশানা করেছেন বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা সংবাদমাধ্যমগুলিকেও। মমতা বলছেন, “আমি বেশিরভাগ ষড়যন্ত্রের কথা উন্মোচন করেছি, আমি মিডিয়ার সামনে এটাও প্রকাশ করব... দুর্ভাগ্যবশত, কিছু মিডিয়া হাউজ গুজব ছড়াতে বিজেপির হাত ধরেই খেলতে নেমেছে।”

মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, “সাম্প্রদায়িক হিংসা উস্কে দেওয়ার পরিবর্তে, আমাদের সীমান্ত রক্ষার জন্য প্রচেষ্টা চালানো উচিত। চেয়ারে থাকলে ধর্মীয় ভিত্তিতে জনগণকে বিভক্ত করতে পারা যায় না”। তবে তিনি একইসঙ্গে বলছেন, “সাম্প্রদায়িক অশান্তি যারা করে, আমরা তাঁদের ঘৃণা করি।” আবার বলছেন তিনি কারও বিরুদ্ধে নন, তিনি দাঙ্গার বিরুদ্ধে। তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদ ইস্যুতে কেন এখনও অবস্থান টলমলে মুখ্যমন্ত্রীর?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।