বোধন থেকে বিসর্জন, বাঙালির পাতে জায়গা পাক পুজোর ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টিগুলি

Bengali Sweets: উৎসবের শেষ বেলাতে আনন্দের রস নিংড়ে নিতে ভোলে না বাঙালি। বিসর্জনের পর কোলাকুলি, মিষ্টিমুখ কোনওটাতেই কমতি পড়ে না এদিন ।

Sanchari Bhowmik
৪ মিনিট
বোধন থেকে বিসর্জন, বাঙালির পাতে জায়গা পাক পুজোর ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টিগুলি

আকাশে বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ। মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে গেছে প্যান্ডেলে এবং রেস্তোরাঁয় মানুষের ভিড়। তবে মাঝে মধ্যে আকাশ মুখ ভার করছে, কালো মেঘ খানিকটা ভয়ও দেখাচ্ছে। তাও বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে রয়েছে অঢেল খাওয়া দাওয়া আর সেখানে বাদ যায়নি নানারকম মিষ্টি পদও! আসলে পুজো আসছে আসছে ব্যাপারটাই ভালো। বোধন থেকে মিষ্টিমুখে মায়ের আগমনী সুর বেজে উঠলেও নবমীনিশি পেরোলেই শূন্যতা গ্রাস করে আপামর বাঙালিকে। দশমীর সকাল থেকেই মুখ ভার। তবু উৎসবের শেষ বেলাতে আনন্দের রস নিংড়ে নিতে ভোলে না বাঙালি। বিসর্জনের পর কোলাকুলি, মিষ্টিমুখ কোনওটাতেই কমতি পড়ে না এদিন। মিষ্টির দোকানে ভিড়ের ঠেলায় থাকে না তিল ধারণের জায়গা । অনেকে আবার বাড়িতেই বানান মিষ্টি। পুজোয় পাতে কোন কোন মিষ্টি রাখতেই হবে, দেখা যাক এক ঝলকে–

বোঁদে: বাঙালি বাড়িতে বোঁদের এক আশ্চর্য মাহাত্ম্য রয়েছে। আজও ঠাম্মা-দিদিমাদের রান্নাঘরে পুজোর সময় উঁকি দিলে দেখা যায় তাঁরা নিজের হাতেই বানাচ্ছেন বোঁদে। বিউলির ডাল নিজের হাতে বেটে নিয়ে তারপর ভালো করে ফেটিয়ে নিন। তারপর গরম ঘিতে ছাঁকনা দিয়ে বিউলির ডাল বাটা ছাড়ুন, কড়াইতে যেই ছাড়বেন তখনই তা বোঁদের আকার নেয়। বোঁদে ভেজে নিয়ে চিনির রসে ডোবাতে হয়। চিনির রসে বোঁদে ভালো করে ভিজে গেলে সেগুলি ছাঁকনা দিয়ে তুলে ঠান্ডা করে নিলেই তৈরি হয়ে যায় বোঁদে।

মিহিদানা: পুজোর সকালে জলখাবারের লুচির সঙ্গে পাতে জায়গা করে নেয় মিহিদানা। তবে এই মিহিদানার রয়েছে এক ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও। ১৯০৪ সালে রাজ পরিবারের আমন্ত্রণে বর্ধমানে এসেছিলেন বড়লাট লর্ড কার্জন। তাঁকে মধ্যাহ্ন ভোজে বিশেষ মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য কারিগরকে নির্দেশ দেন বর্ধমানের মহারাজ বিজয়চাঁদ মহাতাব। সেই সময় থেকেই মিহিদানার দাপট বাংলা জুড়ে চলছে। মিহিদানা তৈরি করা হয় গোবিন্দভোগ চাল ও ছোলার বেসন দিয়ে।

সীতাভোগ: বর্ধমানের আরও একটি ঐতিহাসিক মিষ্টি হল সীতাভোগ। সীতাভোগ তৈরির প্রধান উপাদান গোবিন্দভোগ চাল। গোবিন্দভোগ চাল থেকে প্রস্তুত হওয়ার কারণেই সীতাভোগের একটি নিজস্ব স্বাদ ও সুগন্ধ হয়। এই চাল গুঁড়ো করে প্রথমে পাউডার করে তাতে ১:৪ অনুপাতে ছানা মিশিয়ে পরিমাণমতো দুধ দিয়ে মাখা হয়। তারপর একটি বাসমতী চালের আকৃতির মতো ছিদ্রযুক্ত পিতলের পাত্র থেকে ওই মিশ্রণকে গরম চিনির রসে ফেলা হয়। এর ফলে সীতাভোগ বাসমতীর চালের ভাতের মতো দেখতে লম্বা সরু সরু দানাযুক্ত হয়। এর সঙ্গে ছোট ছোট গোলাপজাম এবং কখনো কখনো কাজুবাদাম ও কিশমিশ মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মিষ্টির জন্য ট্রেন দাঁড়াত এক ঘণ্টা! লেডিকেনির ইতিহাস আজও অবাক করে

Ledikeni History: আসল রহস্য কী এই লেডিকেনির পিছনে?

জিলিপি: অনুষ্ঠান, মেলা মানেই জিলিপি। আর জিলিপির প্যাঁচের কথা কম-বেশি সকলেই জানে। তবে সেই প্যাঁচে মিষ্টি নেই, যে মিষ্টি আছে আসল জিলিপিতে। জিলিপি বা জলেবির উৎপত্তি মধ্যপ্রাচ্যে। মনে করা হয়, পার্সি আক্রমণকারীরা ভারতে নিয়ে এসেছিল এই জলেবি। তবে এই মুহূর্তে কোনও সন্দেহ নেই যে, ভারতের মানুষ আবেগ দিয়েই তাকে আপন করে নিয়েছে। এমনকী বাঙালি ঘরে তার আদরের নাম ‘জিলিপি’। এটি মূলত মিহি ময়দা থেকে তৈরি, প্যাঁচালো আকারে ভেজে জাফরান চিনির সিরাপে ভিজিয়ে রেখেই বানানো হয়।

সরপুরিয়া: নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত অধরচন্দ্র দাসের সরপুরিয়ার নাম এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরেও শোনা যায়। পুজোর ক'টা দিন তাই মিষ্টিমুখ করতে নিজেদের প্লেটে রাখতে পারেন সরপুরিয়া ও সরভাজাকে। ক্ষীর, কাজু, পেস্তা ও নানা উপকরণ সহযোগে বানানো হয় এই মিষ্টি।

মিষ্টি দই: মিষ্টি দই বাংলার ঐতিহ্য। এটি জনপ্রিয়ও বটে। দুধ, চিনি বা গুড় সহযোগে তৈরি করা হয় এটি। লাল দইয়ের উপরিভাগে থাকে ক্ষীরের স্তর। নদিয়ার যেমন সরপুরিয়া বিখ্যাত তেমনই নদিয়া চৈতন্য মহাপ্রভুর জায়গা, নবদ্বীপ ধামের লাল দইও খুবই বিখ্যাত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাসি দুধেই মিষ্টিমুখ! এবার পুজোয় বাড়িতেই সহজে বানিয়ে ফেলুন এই পদগুলি

নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধ দিয়েও বানিয়ে ফেলতে পারেন জিভে জল আনা মিষ্টি।

কাজু বরফি: বরফি হল একটি বিখ্যাত ভারতীয় মিষ্টি, যেটির নামকরণ ফার্সি শব্দ থেকে। যার অর্থ ‘তুষার’। এর প্রধান উপাদান কনডেন্সড মিল্ক। কাজু বা পেস্তা দিয়ে তৈরি হয় বরফি। সেগুলির উপরের অংশে লাগানো হয় তবক বা রুপোলি ফয়েল, যেটি খাওয়া যায়।

গুলাব জামুন: ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় মিষ্টিগুলির একটি হল এই গুলাব জামুন। অত্যন্ত নরম, স্পঞ্জি এই মিষ্টি ময়দা এবং গুঁড়ো দুধ বা কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে তৈরি করা হয়। স্বাদ বাড়াতে মেশানো হয় এলাচ এবং গোলাপ। সম্ভবত গোলাপের ব্যবহার থেকেই নাম ‘গুলাব জামুন’।

জলভরা: জলভরা মিষ্টির নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে। তবে অনেকেই ডায়েটের কারণে সারাবছর মনের মতো করে মিষ্টি খেতে পারেন না। তাঁরা কিন্তু এই পুজোর সময় মন থেকে একেবারে ঝেড়ে ফেলতে পারেন ডায়েটের জুজুকে, আর প্রাণ ভরে করতে পারেন মিষ্টি মুখ। কথিত আছে, ময়রা বাড়িতে আসে নতুন জামাই। তাকে কীভাবে মিষ্টি দিয়ে চমক দেওয়া যায়, সে বিষয়ে ভাবতে ভাবতেই তৈরি হয় আজকের ‘জলভরা’। মুখে দিতেই জামাই অবাক! আজও প্রসিদ্ধ সেই মিষ্টি। শীতের দিনে যা মুখে দিলে মোলায়েম গুড় মন ভালো করে দেবেই।

ক্ষীর এবং ফিরনি: ক্ষীর ঐতিহ্যবাহী এক ভারতীয় মিষ্টি। ফিরনি তৈরি হয় চালের গুঁড়ো দিয়ে। দুধ ঘন করে জাল দিয়ে ক্ষীর তৈরি করতে অনেকটা সময় লাগে। ফিরনি সব সময়ই ঠান্ডা পরিবেশন করা হয়। ক্ষীর গরম গরমও ভালো লাগে। এ ছাড়া, বাংলায় পায়েস বা পরমান্নও বেশ জনপ্রিয়। পুজোর ভোগে পরমান্ন নিবেদন করা হয় ইষ্ট দেবতার উদ্দেশ্যে।

রস মালাই: এই মিষ্টি অনেকটা রসগোল্লার মতোই। তবে দেখতে চ্যাপ্টা। এটি সরওয়ালা মিষ্টি দুধে (মালাই) ডুবে থাকে। সাধারণত বাদাম এবং কেশর দিয়ে সাজানো হয় রসমালাই।

রসগোল্লা: বাংলার এই বিখ্যাত মিষ্টি নিয়ে আছে জনপ্রিয় গান ও সিনেমা। রসগোল্লার উৎপত্তিই সেই ছবির বিষয়। ১৮৬৮ সালে কলকাতার নবীনচন্দ্র দাসের সৃষ্টি এই রসগোল্লা। শোনা যায়, নিজের স্ত্রীর কথা রাখতেই তিনি এই বিশেষ মিষ্টি তৈরি করেন। কলকাতার রসগোল্লার জগত জোড়া নাম কিন্তু স্বাদের গুণেই। এটি তৈরি করতে সম্পূর্ণ ছানার গোলা মিষ্টি চিনির রসে ডুবিয়ে বানানো হয়।

লিখেছেন
Sanchari Bhowmik
Sanchari Bhowmik
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।