লালগ্রহে এবার আশ্চর্য সবুজের খোঁজ! ভিনগ্রহীদের উপস্থিতি নিয়ে উস্কে দিল যে জল্পনা

Mars: এর আগে মঙ্গলে প্রাচীন সভ্যতার খোঁজ মিলেছিল নদী উপত্যকা ঘেঁষে। এবার মঙ্গলে মিলল সবুজের খোঁজ। যা কার্যত তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের।

Sohini Das
৩ মিনিট
লালগ্রহে এবার আশ্চর্য সবুজের খোঁজ! ভিনগ্রহীদের উপস্থিতি নিয়ে উস্কে দিল যে জল্পনা

অন্য গ্রহ নিয়ে মানুষের আগ্রহ আদি, অকৃত্রিম। আর তা যদি লালগ্রহ হয়, তাহলে তো কথাই নেই। পৃথিবীর যমজ এই ভিনগ্রহকে শুধু জানার ইচ্ছাই নয়, রীতিমতো লালগ্রহে বসতি স্থাপনের সুপ্ত ইচ্ছা মনের মধ্য়ে চেপে রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, মঙ্গলে কি কোনও দিন প্রাণের অস্তিত্ব ছিল? পৃথিবী ছাড়া আর কোনও গ্রহেই কি আদৌ রয়েছে প্রাণ? সেই খোঁজ মানুষকে বারবার পাঠিয়েছে নানা অভিযানে। কখনও চাঁদ তো কখনও মঙ্গল? এর আগে মঙ্গলে প্রাচীন সভ্যতার খোঁজ মিলেছিল নদী উপত্যকা ঘেঁষে। এবার মঙ্গলে মিলল সবুজের খোঁজ। যা কার্যত তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের।

সম্প্রতি নাসার পারসিভারেন্স রোভারে ধরা পড়েছে এমনই এক রহস্য। মঙ্গলের 'ব্রাইট অ্যাঙ্গেল' হিসেবে চিহ্নিত একটি জায়গায় নাকি বিরল লেপার্ড স্পটের খোঁজ মিলেছে। সম্প্রতি রোভারটি সেই ব্রাইট অ্যাঙ্গেল খেরে নেরেটভা ভ্যালি পেরিয়ে দক্ষিণে যাওয়ার সময় সার্পেন্টাইন র‌্যাপিডস নামে একটি জায়গায় রহস্যময় লাল শিলা খুঁজে পেয়েছিল। আর সেই শিলাতেই নাকি মিলেছে সাদা, কালো ও সবুজ রঙের দাগ। বিশেষত বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে ওই সবুজ রঙের দাগের উপস্থিতিই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নদী-উপত্যকায় ছিল প্রাচীন সভ্যতা? লালগ্রহের যে আশ্চর্য খোঁজ চমকে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের

Ancient Life On Mars: সম্প্রতি নাসার পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গলগ্রহে আশ্চর্য একটি জিনিস খুঁজে বের করেছে। কী সেটি? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সেটি নাকি এক ধরনের পাথরের নমুনা। যার নাম রাখা হয়েছে 'চেয়াভা জলপ্রপাত'।

পৃথিবীতে বহু সময়ই ওই ধরনের লাল শিলা মানে ধরে নেওয়া হয় লোহার উপস্থিতি। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ওই ধরনের লাল শিলার উপরে সবুজ ছাপের কারণ হতে পারে তরল জল পাথরে শক্ত হওয়ার আগে পলির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়া। সে সময় রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অক্সিডাইজ লোহার মধ্যে একাধিক পরিবর্তন আনে, যা ওই সবুজ ছাপ তৈরি করে। পৃথিবীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ওই সবুজ দাগের নেপথ্যে বহু সময়ই থাকে মাইক্রোবায়ালের উপস্থিতি। অর্থাৎ জীবাণু বা ক্ষয়প্রাপ্ত জৈব পদার্থের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে ওই বিক্রিয়া।

এই খোঁজের নেপথ্যে রয়েছে রোভারে শারলক ও পিক্সল যন্ত্রগুলি। আর এই সবুজ উপাদানের উপস্থিতিই রহস্য নতুন করে উস্কে দিয়েছে। তবে কি কোনও না কোনও কালে মঙ্গলে প্রাণের সন্ধান ছিল। যদি তা থেকেও থাকে, তাহলে তা বিনষ্টই বা হয়ে গেল কী করে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মঙ্গল গ্রহে এখনও লুকিয়ে রয়েছে জলের অস্তিত্ব! যে আবিষ্কার চমকে দিল বিজ্ঞানীদেরও

Mars Having Water Research : বিভিন্ন প্রাণী চলাফেরা করত? আরও বড় প্রশ্ন, আমাদের গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রের মতো মঙ্গলেও কি নদী বইত? জল ছিল?

নাসার পারসিভারেন্স রোভারে তোলা সেই ছবি

এর আগে মঙ্গল গ্রহে পারসিভারেন্স রোভার খুঁজে পেয়েছিল আশ্চর্য এক পাথর। যার নাম রাখা হয়েছিল চেয়াভা জলপ্রপাত। সেই পাথরের নমুনায় মিলেছিল এক ধরনের জৈব অণু বা মাইক্রোবায়ালের খোঁজ। বিজ্ঞানীরা অনুমান ছিল, যে নদী উপত্যকা থেকে মিলেছিল সেই পাথর, সেখানে কোনও সময় প্রাণের বসতি থাকাটা খুব একটা আশ্চর্যের নয়। এমনকী যেখান থেকে পাথরটি মেলে, সেখানে বহমান জলের অস্তিত্বও খুঁজে পেয়েছিল রোভার।

যেখানে মঙ্গলে প্রাণের খোঁজে এত হন্যে বিজ্ঞানী দল, সেখানে সম্প্রতি আমেরিকার টেক্সাসের রাইস ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী ড. স্কট সলোমান দাবি করেছে, মঙ্গলে নাকি মানুষের বেঁচে থাকা খুবই মুশকিল। কারণ মঙ্গলের গ্রহপৃষ্ঠ অবিশ্বাস্য রকমের কঠোর। ফলে সেখানে মানুষের বেঁচে থাকা খুবই কষ্টকর। তাঁর মতে, মঙ্গলে বসতিস্থাপনকারীরা যদি সন্তানের জন্ম দেয় তবে তাদের গায়ের রং সবুজ হতে পারে। এমনকী দুর্বল পেশী, দুর্বল দৃষ্টিশক্তি ও ভঙ্গুর হাড়ের মতো সমস্যাও থাকতে পারে তাদের। কারণ মঙ্গল পৃথিবীর থেকে আকারে অনেক ছোট এবং তার মাধ্যাকর্ষণও কম পৃথিবীর চেয়ে। তার উপর চৌম্বক ক্ষেত্র ও প্রতিরক্ষামূলক ওজোন স্তরেরও অভাব রয়েছে বলে সূর্য ও মহাজাগতিক রশ্নির থেকে বাঁচার ক্ষমতা নেই তার।

এককথায় মানুষের পক্ষে মঙ্গলে টিকে থাকা কঠিন। তবে মঙ্গলে যারা এককালে বসবাস করত, সেই ভিনগ্রহীরা ঠিক কেমন, তা নিয়ে উস্কে উঠেছে জল্পনা। কার্যত নাসার পারসিভারেন্স রোভারে ধরা পড়ে সবুজ-রহস্য নতুন করে সেই ভিনগ্রহীদের গঠন এবং জীবনধারণ নিয়েও নতুন নতুন সম্ভাবনা ও জল্পনার কথা উস্কে দিয়েছে। এই পাথরের অস্তিত্ব সেই গবেষণাকে নতুন দিক দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।