শিক্ষায় এগিয়ে মেয়েরা, তাও কেন এই রাজ্যে কোনও মহিলাই ভোট পান না নির্বাচনে?

Nagaland Assembly Election 2023: এমনকী মহিলা প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও খোদ মহিলারাই খুব একটা এগিয়ে আসেননি।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
শিক্ষায় এগিয়ে মেয়েরা, তাও কেন এই রাজ্যে কোনও মহিলাই ভোট পান না নির্বাচনে?

হেঁশেলে মহিলাদের দখল বেশি, সেখানে মেয়েদের সিদ্ধান্তই সারকথা। মহিলাদের শিক্ষা বেশি, মহিলাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণও বেশি। তবে সেই সিদ্ধান্তগ্রহণ দেশের জন্য নয়, রাজ্যের জন্য নয়। কেবলই নিজস্ব গেরস্থালিতে সেই সিদ্ধান্তের মর্যাদা রয়েছে। উত্তরপূর্বের রাজ্য নাগাল্যান্ড ১৯৬৩ সালে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পায়। তারপর থেকে এই রাজ্যে ১৩টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও মহিলা বিধানসভায় নির্বাচিত হননি।

দেশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছে ইন্দিরা গান্ধীকে। সুষমা স্বরাজ থেকে শুরু করে নির্মলা সীতারমণ- প্রতিরক্ষা, বিদেশ থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রকের মতো শক্তিশালী দফতর সামলেছেন মহিলারা। জয়ললিতা, মায়াবতী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নাম উঠে এসেছে রাজ্য চালনার ক্ষেত্রে। নাগাল্যান্ড কেন এখনও কোনও মহিলাকে এতখানি ভরসা করতে পারল না তবে?

রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে থাকা এবং তাঁদের সামাজিক-রাজনৈতিক চেতনাও তুখোড়। তা সত্ত্বেও নাগাল্যান্ডে এখনও পর্যন্ত একজনও মহিলা বিধায়ক নির্বাচনে জেতেননি। রাজনীতিতে মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা শুধু মুখেই বলা হচ্ছে না, নানাভাবে তা বাস্তবায়িত করার প্রয়াসও চলছে। তাহলে কেন এই পাহাড়ি রাজ্যে কিছুতেই তা সম্ভব হলো না?

২০২২ সালে, এস ফ্যংগং কোনইয়াক (রাজ্যসভা সদস্য) ইতিহাস তৈরি করেন। চার দশকেরও বেশি সময় পরে উত্তর-পূর্বে এই রাজ্য থেকে প্রথম মহিলা সাংসদ হন তিনি। ১৯৭৭ সালে রাজ্য থেকে লোকসভায় নির্বাচিত প্রয়াত রনো এম শাইজার পরে কোনইয়াকই দ্বিতীয় সাংসদ হন। নাগাল্যান্ডে মহিলাদের সামাজিক অবস্থান কিন্তু মোটেও খারাপ না। রাজ্যের মহিলা সাক্ষরতার হার ৭৬.১১ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ৬৪.৬ শতাংশের চেয়ে বেশিই ভালো। এমনকী পুরুষদের সাক্ষরতার হারও বেশ ভালো। নাগাল্যান্ড রাজ্যে একাধিক নারী অধিকার সংস্থারও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাহলে কেন এই অবস্থা রাজনীতির ক্ষেত্রে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধর্ম নয়, চাকরিই পথ! ত্রিপুরাতে কি এবার হারানো গড় ফিরে পাবে বামেরা?

Tripura Assembly Election 2023: রাজ্য ভাগাভাগি না করেই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই আদিবাসীদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে চায় বামেরা।

নাগাল্যান্ডে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২০ জন মহিলা বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালেই পাঁচটি আসনে মহিলা প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ভোটের ছয় ভাগের এক ভাগও পাননি। এখনও পর্যন্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে লড়া ২০ জন মহিলার মধ্যে ১৩ জনের অবস্থা এই একই।

আসলে বাইরে থেকে যতই শিক্ষার হার বেশি হোক বা মাতৃতান্ত্রিকতার মোড়ক থাক, দেশ চালানোর ক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আসা রুখতে হানাহানিও হয়েছে এই রাজ্যে। নাগাল্যান্ডের নির্বাচনী রাজনীতিতে মহিলাদের বিরোধিতা তাই নতুন নয়। ২০১৭ সালে, স্থানীয় নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা করায় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ধর্মঘট ডাকে উপজাতীয় সংস্থাগুলি। সেই সময় হিংসার জেরে দুই ব্যক্তির মৃত্যুও হয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, এই সংরক্ষণ সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত করা নাগাল্যান্ডের বিশেষ অধিকারকে লঙ্ঘন করে। সংবিধানের ৩৭১(এ) ধারা প্রথাগত নাগা আইন এবং পদ্ধতি রক্ষা করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় থাকতে পারে না। মহিলাদের টিকিট দিতে নারাজ রাজনৈতিক দলগুলোও। এমনকী মহিলা প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও খোদ মহিলারাই খুব একটা এগিয়ে আসেননি। গ্রাম পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এখনও পর্যন্ত একজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন, তাও সেই ২০০৫ সালে।

নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও নাগা জনগণকে এবার মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। মহিলারা কেবল পরিবার নয়, সমাজের ও দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় থাকতে পারেন এবং অনেক দক্ষভাবেই পারেন, বোঝানো হচ্ছে সকলকেই। নেফিউ রিওর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (এনডিপিপি) ৬০ সদস্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইস্তেহার প্রকাশ করেছে, সেই ইস্তেহারে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে লিঙ্গ সাম্যের বিষয়টি।

এনডিপিপি পশ্চিম আঙ্গামি এবং ডিমাপুর-৩ আসন থেকে দুইজন মহিলাকে নির্বাচনে প্রার্থী করেছে। সামগ্রিকভাবে, চারজন মহিলা বিধানসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কংগ্রেস এবং বিজেপিও যথাক্রমে টেনিং এবং আটোইজু আসনে একজন করে মহিলাকে প্রার্থী করেছে।

১২ মার্চ নাগাল্যান্ড নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে। পাশাপাশি আরও দু'টি উত্তর-পূর্বের রাজ্য মেঘালয় এবং ত্রিপুরার ফলাফলও ঘোষণা করা হবে। ২০২৩ সালে ভারতের ব্যস্ত নির্বাচনী মরশুমের সূচনা হচ্ছে এই তিনটি ভোট দিয়েই। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বিধানসভা ভোটগুলি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

বিজেপি ত্রিপুরাকে ধরে রাখতে এবং অন্য দু'টি রাজ্যে নিজেদের দখল আরও বাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং বামেরা নিজেদের ময়দানে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাচ্ছে। আর তৃণমূলও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে প্রভাব বিস্তারে মরিয়া। এই সমস্ত ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মহিলারা কতখানি এগিয়ে আসবেন এবার? বদল কি হবে? সিদ্ধান্তগ্রহণ পুরুষদের একচেটিয়া অধিকারের জায়গা হয়েই রইবে কেবল? নাকি বদলাবে! প্রাচীন চিন্তার জগদ্দল নড়তে সময় তো লাগবেই, শুরুটা হবে সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেই।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।