ক্ষমতায় এসেই 'তুঘলকি' যাদব! কেন মধ্যপ্রদেশে নিষিদ্ধ হল মাছ-মাংস-ডিম বিক্রি?

Mohan Yadav, Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে খোলাবাজারে নিষিদ্ধ করা হল মাছ-মাংস-ডিম বিক্রি। বন্ধ হল লাউড স্পিকার ব্যবহার।

Sohini Das
৩ মিনিট
ক্ষমতায় এসেই 'তুঘলকি' যাদব! কেন মধ্যপ্রদেশে নিষিদ্ধ হল মাছ-মাংস-ডিম বিক্রি?

মধ্যপ্রদেশে কাঙ্খিত জয় ছিনিয়ে এনেছে বিজেপি। আঠেরো বছরের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে সরিয়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসেছেন মোহন যাদব। আর রাজ্যের দায়িত্ব পেয়েই রাজ্যে তুঘলকি নিয়ম চালু করে দিলেন তিনি। মধ্যপ্রদেশ জুড়ে জারি হল একগুচ্ছ নয়া নির্দেশিকা। রাজ্যে খোলাবাজারে নিষিদ্ধ করা হল মাছ-মাংস-ডিম বিক্রি। বন্ধ হল লাউড স্পিকার ব্যবহার।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। স্কুল পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের মেনুতে ডিম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শিবরাজ সিং সরকার। ২০১৫ সাল নাগাদ রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ি খাবারে ডিম বিতরণ বন্ধ করেন তিনি। সে নিয়ে বেশ বিতর্কও হয়েছিল রাজ্য জুড়ে। নতুন মুখ্য়মন্ত্রী মোহন যাদবও যে সেই পথেরই পথিক, তা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেন যাদব। এর পরেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে একগুচ্ছ নতুন ঘোষণার কথা বলেন তিনি। খাদ্য নিরাপত্তা বিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে রাজ্যে খোলা বাজারে মাছ-মাংস বিক্রির ব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ১৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় আছে রাজ্যে মাছ-মাংসের খোলা বাজার বিক্রেতাদের কাছে। তার পরে আর কোনও রকম অন্যথা বরদাস্ত করবে না সরকার।

একই সঙ্গে লাউডস্পিকার ব্য়বহার নিয়েও কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে নয়া বিজেপি সরকার। বছর খানেক আগেই ধর্মীয় স্থানে লাউড স্পিকার বাজানোকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কর্ণাটক। তাপ এসে পড়েছিল মধ্যপ্রদেশেও। এবার ক্ষমতায় এসেই সে বিষয়টি নিয়েও কড়া পদক্ষেপ করলেন নতুন মুখ্য়মন্ত্রী মোহন যাদব। ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার বাজানো থেকে শুরু করে ডিজে ব্যবহারের মতো বিষয়গুলির দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। শব্দের মাত্রা যাতে কোনও ভাবেই নির্ধারিত মানদণ্ড পেরিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য প্রতিটি জেলায় ফ্লাইং স্কোয়াড গড়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শিবরাজকে ছেঁটে মোহনের হাতেই মধ্যপ্রদেশের ভার! নেপথ্যে বিজেপির ঠিক কোন অঙ্ক?

MP CM Mohan Yadav: ১৮ বছর মুখ্যমন্ত্রীর পদ সামলেও মধ্যপ্রদেশের গদির লড়াই থেকে ছিটকে গেলেন শিবরাজ সিংহ চৌহান। তার বদলে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হলেন মোহন যাদব।

প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য প্রোটিন শরীরে একান্ত ভাবে প্রয়োজনীয়। এ কথা সকলেই জানেন। তবে মানেন না। তাই প্রতিবার শিশুর পুষ্টির মতো ব্যপারগুলোর কথা ভাবতে ভুলে যায় সে রাজ্যের সরকার। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, মধ্যপ্রদেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে অন্তত ৪২ শতাংশই অপুষ্টির শিকার। সেসব জানা সত্ত্বেও স্কুলে মিডডে মিলে ডিমের মতো সুষম ও সুলভ প্রোটিনের উৎস সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও পাল্টায় না সিদ্ধান্ত।

কংগ্রেস নেতা কমলনাথের জমানায় কিছুদিনের জন্য মধ্যপ্রদেশে ডিমের উপর নিষেধাজ্ঞা উঠেছিল। তবে কংগ্রেস সরকারের সেই সিদ্ধান্তের ব্যাপক সমালোচনা করেছিল বিজেপি। তৎকালীন বিরোধী ও বিজেপি নেতা গোপাল ভার্গব এ-ও বলেন, স্কুলের মিড ডে মিলে ডিম চালু করা নাকি শিশুদের নরখাদকে পরিণত করতে পারে। তিনি জানান, তাঁদের সংস্কৃতি নাকি আমিষ নিষিদ্ধ। ফলে কাউকে ডিম খেতে বাধ্য করা যায় না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বালকনাথ নয়, প্রথমবার ভোটে জেতা ভজনলালকেই কেন রাজস্থানে বাছল বিজেপি?

Rajasthan CM: মঙ্গলবার জয়পুরের সর্দার পটেল মার্গে বিজেপির রাজ্য দফতরে বিজেপির সদ্যজয়ী বিধায়কদের বৈঠকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা ব্রাহ্মণ নেতা ভজনলাল শর্মার নাম ঘোষণা করলেন তিন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক।

অচিরেই ফুরায় কংগ্রেস জমানা। কমলনাথের হাত থেকে সিংহাসন ছিনিয়ে নেন শিবরাজ। আর ফের মিডডে মিলের মেনু থেকে হাওয়া হয়ে যায় ডিম। নয়া হিন্দুরাষ্ট্র গড়ার মহান দায়িত্বে ব্রতী হয়েছে বিজেপি সরকার। খুব শিগগিরই অযোধ্যায় উদ্বোধন হতে চলেছে রামমন্দির। তার প্রস্তুতি প্রায় সারা। মন্দিরের কাজ যত দ্রুত গতিতে শেষ হয় এদেশে, তত দ্রুত উন্নয়ন হয় না। অপুষ্টিতে ভুগে ভুগে শরীরে একগাদা রোগের জন্ম দেয় মানুষ, শিশু, নারী। এমনটাই দস্তুর।

বিধানসভা ভোটে তিন রাজ্যে ব্যাপক জয় পেয়েছে বিজেপি। তিন রাজ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নয়া মুখ। তাদের মধ্যে কেউ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র প্রতিনিধি, কোথাও আবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ব্রাহ্মন নেতা, কোথাও আবার আদিবাসী ভোটের কথা মাথায় রেখে আদিবাসী নেতাকেই বেছে নিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

শুধু মধ্যপ্রদেশেই যে ছবিটা এমন তা কিন্তু নয়। পড়শি রাজ্যেও প্রকাশ্যে মাংস বিক্রির বিরোধিতা করেছেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক। হাওয়ামহব বিধানসভা আসন থেকে জয়ী বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্য ক্ষমতায় এসেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে সমস্ত মাংসের দোকান বন্ধের কথা ঘোষণা করেছেন। নানা ভাষা, নানা মতের দেশ ভারতবর্ষ বরাবরই নানা খাদ্যরুচিরও দেশ। সেই বৈচিত্র্যই এ দেশের সম্পদ। আর সেই বৈচিত্র্যের ঐক্যটাকেই একেবারে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি সরকার। মধ্য়প্রদেশ ও রাজস্থান যার জ্বলন্ত প্রমাণ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।