কেন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর দরকার পড়ল নতুন সংসদ ভবনের?

New Parliament building: পুরনো সংসদ ভবনটি ১৯২৭ সালে চালু করা হয়েছিল।

inscript
২ মিনিট
কেন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর দরকার পড়ল নতুন সংসদ ভবনের?

নতুন সংসদ ভবনে রাজদণ্ড নিয়ে নরেন্দ্র মোদি গণতন্ত্র প্রজাতন্ত্র শব্দগুলিকে বসিয়েছেন ঝাঁ চকচকে আসনে। আপ্যায়ন করেছেন। ভারতে পুরনো একটি সংসদ ভবন তো ছিলই। প্রায় ১০০ বছর বয় হতে চলল এই ঐতিহাসিক ভবনের। এতদিন সেখানে বসে কাজকর্ম করতেও অসুবিধা হয়নি। তাহলে কেন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পেরিয়ে ভারতের একটি নতুন সংসদ ভবনের দরকার পড়ল? সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, পুরোনো সংসদ ভবনটি ১৯২৭ সালে চালু করা হয়েছিল। প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো হেরিটেজ গ্রেড-১ ভবনটিতে বিগত কয়েক দশক ধরে সংসদীয় কার্যক্রম চলে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নানা নির্মাণ চলেছে, নানা কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রাচীন এই ভবনটি নাকি অতিরিক্ত ব্যবহৃত হয়ে গিয়েছে এবং স্থান সংকুলান, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে সক্ষম নয় পুরোনো সংসদ ভবন।

কী কী মূল সমস্যা পুরোনো সংসদে?

সাংসদদের বসার জায়গা সংকীর্ণ: পুরোনো সংসদ ভবনটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার জন্য তৈরি করা হয়নি। ২০২৬ সালের পর লোকসভা আসনের সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৫ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় হলে মাত্র ৪৪০ জনের বসার ক্ষমতা রয়েছে। যখন যৌথ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, সীমিত আসনের সমস্যা দেখা যায়। চলাচলের জন্য সীমিত স্থানের কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকিও দেখা দেয়, জানিয়েছে সেন্ট্রাল ভিস্তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট।

দুর্দশাগ্রস্ত পরিকাঠামো: জল সরবরাহ এবং নর্দমা, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম, সিসিটিভি ক্যামেরা ইত্যাদির মতো পরিষেবাগুলি পরে পরে ব্যবস্থা করার কারণে বিভিন্ন জায়গায় জলের লাইনের কারণে ভবনটির নান্দনিকতা নষ্ট হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এই পুরনো সংসদ ভবনের একটি সমস্যা।

যোগাযোগ পরিকাঠামো উন্নত নয়: আগের সংসদে যোগাযোগের পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তি পুরোনো। সমস্ত হলঘরে শব্দের ব্যবস্থাপনারও উন্নতির প্রয়োজন।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: পুরোনো সংসদ ভবনটি যখন নির্মিত হয়েছিল তখন দিল্লি সিসমিক জোন-২-এ ছিল। বর্তমানে এটি সিসমিক জোন-৪-এ রয়েছে। ফলে ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তার সঙ্কট রয়েইছে।

কর্মচারীদের জন্য জায়গা অপর্যাপ্ত: বছরের পর বছর ধরে কাজের জায়গা বাড়াতে ছোট ছোট অফিসঘর গড়ে তোলা হয়েছিল যার ফলে কর্মক্ষেত্র কমেছে, স্থানাভাব দেখা গিয়েছে।

নতুন সংসদ ভবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?

সেন্ট্রাল ভিস্তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বলেছে, নতুন ভবনটি পুরোনো সংসদ ভবনের পাশেই। পুরোনো এবং নতুন সংসদ ভবন একসঙ্গেই কাজ করবে যাতে কাজকর্ম আরও মসৃণ এবং দক্ষ হয়।

নতুন সংসদ ভবনের এলাকা প্রায় ৬৫,০০০ বর্গ মিটার। এর ত্রিভুজাকার আকৃতির জন্য জায়গার সর্বোত্তম ব্যবহার করা সম্ভব।

নতুন ভবনে ৮৮৮ টি আসন রয়েছে একটি বৃহত্তর লোকসভা হলে এবং ৩৮৪ টি আসনের বড় রাজ্যসভা হলও আছে৷ সংসদের যৌথ অধিবেশনের জন্য লোকসভা ১,২৭২টি আসন রাখতে পারে।

লোকসভা হলটি ভারতের জাতীয় পাখি ময়ূর থিমের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

রাজ্যসভা ভারতের জাতীয় ফুল পদ্মের থিমের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

নতুন ভবনে একটি অত্যাধুনিক সাংবিধানিক হল আছে যা ভারতীয় নাগরিকদের গণতন্ত্রের কেন্দ্রে রাখার এক প্রতীক।

ভবনটিতে অত্যাধুনিক অফিসের জায়গা থাকবে যেখানে যোগাযোগ প্রযুক্তি হবে সর্বোৎকৃষ্ট।

নতুন ভবনে অত্যাধুনিক অডিও-ভিজ্যুয়াল সরঞ্জাম সহ বড় কমিটি রুম এবং লাইব্রেরি থাকবে।

ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই 'প্ল্যাটিনাম-রেটেড গ্রিন বিল্ডিং' পরিবেশগত উন্নয়নকে মাথায় রেখে চলবে।

নতুন সংসদ ভবনে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের অবাধে চলাফেরার সুবিধা রয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।