ধ্রুপদী মর্যাদা পেল বাংলা ভাষা! নতুন প্রজন্মের কাছে সম্মান পাবে মাতৃভাষা?

Bengali Classical Language: বাংলার পাশাপাশি মারাঠি, পালি, প্রাকৃত এবং অসমিয়া এবার থেকে ধ্রুপদী ভাষা।

inscript
৩ মিনিট
ধ্রুপদী মর্যাদা পেল বাংলা ভাষা! নতুন প্রজন্মের কাছে সম্মান পাবে মাতৃভাষা?

বাংলা প্রাণের ভাষা, বাংলা মাতৃভাষা আমাদের। এবার আমাদের বাংলাভাষা ধ্রুপদী ভাষাও! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আরও পাঁচটি ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। বাংলার পাশাপাশি মারাঠি, পালি, প্রাকৃত এবং অসমিয়া এবার থেকে ধ্রুপদী ভাষা। মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে, এমন বিশেষ মর্যাদা পাওয়া ভাষার সংখ্যা ৬টি থেকে বেড়ে হলো ১১। আগে তামিল, সংস্কৃত, তেলগু, কন্নড়, মালায়লাম এবং ওড়িয়া ভাষা ছিল ধ্রুপদী ভাষা। ২০০৪ সালে এই মর্যাদা পেয়েছিল তামিল ভাষা। শেষবার ২০১৪ সালে ওড়িয়া ভাষা ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পায়।

এবার যে পাঁচটি ভাষা ধ্রুপদী মর্যাদা পেল, তার মধ্যে কয়েকটি ভাষাকে এই মর্যাদা দেওয়ার দাবি বহুদিন ধরেই ঝুলে ছিল। বিশেষ করে মারাঠি ভাষা। মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চভান ২০১৪ সালে এই উদ্দেশ্যে ভাষা বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। ওই প্যানেল জানিয়েছিল, মারাঠি ধ্রুপদী ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার সমস্ত মানদণ্ডই পূরণ করেছে। সেই প্রতিবেদনটি কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

গত মাসের শেষে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মারাঠিকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিকে উপেক্ষা করছেন। জয়রাম বলেছিলেন, "প্রধানমন্ত্রীর শাসনামলে, কোনও ভাষাকেই ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়নি। মারাঠি ভাষাকে ধ্রুপদী ঘোষণা করার জন্য ২০১৪ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চভান যে দাবিপত্র জমা দেন, গত দশ বছর ধরে সেই বিষয়ে কিছুই করেননি মোদি।" উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সেই দাবি পূরণ হয়েছে।

বাংলা ভাষাকে ভারতীয় ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, "বাংলাকে অবশেষে ভারত সরকার একটি ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করছিলাম... আমরা অবশেষে ভারতের ভাষার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক শীর্ষে পৌঁছেছি।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলা ভাষা বাঁচাতে বাংলাপক্ষ আদৌ প্রয়োজনীয়?

Bangla Paksha : ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতে বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ যা আজ নিপীড়িত, লুণ্ঠিত, প্রতারিত বাঙালির পেশি ও কণ্ঠস্বর।

ভারতে অজস্র ভাষা। অসংখ্য উপভাষাও। এর মধ্যে কোন ভাষা ধ্রুপদী তা ঠিক করবে কে? কীভাবেই বা ভারতের ধ্রুপদী ভাষা নির্বাচিত হয়?

১। ১,৫০০-২,০০০ বছর সময়কালে ভাষার প্রাথমিক পাঠ্য/লিপিবদ্ধ ইতিহাসের প্রাচীনত্ব থাকতে হবে।

২। প্রাচীন সাহিত্য/পাঠের অংশ হতে হবে যা এই ভাষায় কথা বলা মানুষদের কাছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাজিত ঐতিহ্য হিসাবে বিবেচিত হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শব্দকল্পদ্রুম আর আ মরি বাংলা ভাষা

৩। কবিতা ছাড়াও গদ্য, লিপি এবং শিলালিপির প্রমাণ থাকতে হবে।

৪। ধ্রুপদী ভাষা এবং সাহিত্য তাদের বর্তমান ধাঁচ থেকে আলাদা হতে পারে বা তাদের শাখাগুলির পরবর্তী ধরনগুলির থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

পাঁচটি নতুন ধ্রুপদী ভাষার মধ্যে, অসমিয়া, বাংলা এবং মারাঠি ব্যাপকভাবে কথ্য। পালিতে ভারতের পাশাপাশি লাওস, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের কিছু অঞ্চলে কথা বলা হয়। এটি বুদ্ধের উপদেশের ভাষা। এলাহাবাদ এবং পাটনা সহ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় এই ভাষা।

কোনও ভাষা যদি ধ্রুপদী মর্যাদা পায় তাহলে তার কী বিশেষত্ব ঘটে? সরকারি সূত্র অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রক ধ্রুপদী ভাষার প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছে। সংস্কৃতের প্রচারের জন্য তিনটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে। প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ক্লাসিক্যাল তামিল যেখানে প্রাচীন তামিল গ্রন্থের অনুবাদ, গবেষণার প্রচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও তামিল ভাষা পণ্ডিতদের জন্য বিশেষ কোর্স পরানো হয়। মাইসুরুতে সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেসের অধীনে ধ্রুপদী কন্নড়, তেলগু, মালায়ালম এবং ওড়িয়াতে পড়াশোনার জন্য উৎকর্ষ কেন্দ্রও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ধ্রুপদী ভাষায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য, এই ভাষা চর্চায় উত্সাহিত করার জন্য বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে। শুধু গবেষণায় নয়, এই ভাষার প্রাচীন গ্রন্থগুলির সংরক্ষণ, নথিবদ্ধ করা এবং ডিজিটাইজেশনের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও সরকারের উদ্দেশ্য। কিন্তু বাংলা ভাষার গ্রহণযোগ্যতা কি নিতুন প্রজন্মের কাছে বাড়বে তাতে? যারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চা করেন, তাঁদের কাছে এই ভাষা প্রাণের ভাষা, সন্দেহ নেই। তার বাইরে যে বৃহৎ জগৎ, যেখানে অন্তত প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা বাঁচাও বলে আর্তনাদ শোনা যায় সেইখানে বাংলার এই ধ্রুপদী হয়ে ওঠার গুরুত্ব কতখানি?

বাংলা ভাষা রোজের পাঠ্যবই থেকে সরেই গেছে বড় অংশের পড়ুয়াদের। রোজের কথাবার্তায় অদ্ভুত খিচুড়ি ভাষার প্রয়োগ দেখে এখনও সকলেরই প্রায় কান-সওয়া হয়ে গেছে। রেডিওতে অদ্ভুত বাংলায় কথা বলেন জকিরা, অকারণে হিন্দি শব্দকে বাংলা ভেবে বলে ফেলেন কত কত মানুষ, বাংলা বই সন্তানকে কিনে দেন না কত কত বাবা মা! ভারতবর্ষের বিবিধ ভাষাচরিত্রে বাংলা ধ্রুপদী হলো কি হলো না, তাতে বাংলা ভাষার আয়ুর কি ক্ষয় বা বৃদ্ধি ঘটল আদৌ?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অথর ইজ ডেড, যে লেখে সে আমি নয় এআই?

Caine Prize winning story AI allegations: ১১ অক্টোবর লেখক ও সাংবাদিক ভোহিনি ভারা ‘দ্য আটলান্টিক’-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন—যার শিরোনাম ছিল “Yet Another Literary Prizewinner Seems to Be AI”। সেখানে তিনি জানান, ‘পাংগ্রাম’ নামের একটি এআই-ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি প্রায় পুরোটাই কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত।

জমিদারগিন্নির অপমানের জবাব দিতেই শুরু পাঞ্জা বাড়ির দুর্গাপুজো

Panja family Durga Puja: এক বর্ষামুখর দুর্গাষ্টমীর দিনে জমিদারবাড়ির মহিলারা, জমিদারগিন্নির সঙ্গে, বাড় সিউড়ির দুর্গাপ্রতিমা দর্শনে যান। ফেরার পথে কর্দমাক্ত রাস্তা পেরোনোর সময় দামি শাড়ি কাদা থেকে বাঁচাতে তাঁরা শাড়ির পাড় কিছুটা তুলে হাঁটছিলেন। কথিত আছে, তা দেখে পাড়ার কয়েকজন কটূক্তি করে বলেন— “পাঞ্জা বাড়ির বউ কাপড় উঠিয়ে চলছে!”

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।