হামলায় পাকিস্তানে তেজস্ক্রিয় নির্গমন! আশঙ্কার জবাবে যা জানাল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা

Pakistan Nuclear Facility: IAEA-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানের কোনও পারমাণবিক স্থাপনা থেকে কোনও তেজস্ক্রিয় পদার্থের কোনওরকম নির্গমন ঘটেনি।

inscript
৩ মিনিট
হামলায় পাকিস্তানে তেজস্ক্রিয় নির্গমন! আশঙ্কার জবাবে যা জানাল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা

অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী হামলা ও পাল্টা হামলায় আশঙ্কা ছিল পাক পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারগুলি ধ্বংস করে ফেলতে পারে ভারত। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে আগ বাড়িয়ে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দিল, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে পারমাণবিক ভীতি। আশঙ্কা ছিল, পাকিস্তানের পারমাণবিক কাঠামোর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ভারত, যার জেরে তেজস্ত্রিয় পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে। যদিও ভারত সেই ধরনের কোনও হামলার কথাই অস্বীকার করেছিল। তবে পারমাণবিক আশঙ্কা থেকে আপাতত বিশ্ববাসীকে নিষ্কৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)। এই সংস্থা জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধির পর পাকিস্তানের কোনও পারমাণবিক কাঠামো থেকে কোনও তেজস্ক্রিয় পদার্থের নির্গমন ঘটেনি।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, IAEA-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানের কোনও পারমাণবিক স্থাপনা থেকে কোনও তেজস্ক্রিয় পদার্থের কোনওরকম নির্গমন ঘটেনি। এর আগে, ভারতীয় বিমান বাহিনীও জানিয়েছে যে ভারত পাকিস্তানের কিরানা পাহাড়ে কোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেনি। এই কিরানা পাহাড়েই পাকিস্তানের মূল পারমাণবিক পরিকাঠামোর অবস্থান বলে জানা গেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন ভারতের বিরোধিতা করে পাকিস্তানকে সমর্থন করছে আজারবাইজান, তুরস্ক?

Azerbaijan–Pakistan Relation: ভারত যখন প্রত্যাঘাত হিসেবে অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা করে তারপরেই তুরস্ক ও আজারবাইজান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপের প্রকাশ্যে নিন্দা করে।

ভিয়েনার পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা IAEA একটি ঘটনা এবং জরুরি কেন্দ্রও পরিচালনা করে। এই কেন্দ্রটিই তেজস্ক্রিয় বিকিরণ সংক্রান্ত কোনও ঘটনা ঘটলে এবং এমন জরুরি অবস্থার প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।

পহেলগাঁও হামলার জবাবে ভারত অপারেশন সিঁদুর চালানোর পর পাকিস্তান ভারতে পাল্টা আক্রমণ করে, ভারতও প্রত্যুত্তর দেয়। সেই সামরিক সংঘাতের সময়ই আশঙ্কা করা হয়েছিল যে ভারত পাকিস্তানের পারমাণবিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত করেছে। গত ১২ মে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর এয়ার মার্শাল এ.কে. ভারতী বলেছিলেন, ভারতীয় বিমান বাহিনী কিরানা পাহাড়ে আঘাত করেনি। “কিরানা পাহাড়ে কিছু পারমাণবিক পরিকাঠামো রয়েছে তা আমাদের জানানোর জন্য আপনাদের (সংবাদমাধ্যম) ধন্যবাদ। আমরা এটা সম্পর্কে জানতাম না। আমরা কিরানা পাহাড়ে আঘাত হানিনি, বলেছিলেন এয়ার মার্শাল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি থাকতে কেন ট্রাম্প তড়িঘড়ি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দিলেন?

Donald Trump ceasefire: ভারত কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে বলে এসেছে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্ব দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং ভারত অন্যের মধ্যস্থতা চায় না।

এর পরদিন, ১৩ মে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বিদেশ দফতরের এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রধান উপ-মুখপাত্র থমাস পিগটকেও তেজস্ক্রিয় বিকিরণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। পিগট জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে তাঁর কাছে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি 'পারমাণবিক যুদ্ধ' নিয়ে আশঙ্কা করেই যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটলেন? এই প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, "আপনারা জানেন, ভারতের অবস্থান দৃঢ় যে আমরা পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করব না বা এই আতঙ্কের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদও পরিচালনা করতে দেব না। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনায়, আমরা সতর্ক করে দিয়েছি যে এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাদের অংশগ্রহণ তাদের নিজস্ব অঞ্চলে ক্ষতি বাড়াতে পারে।"

অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের সারগোধার মুশাফ বিমান ঘাঁটিতে ভারত আক্রমণ করেছিল। পাকিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি সারগোধা কিরানা পাহাড়ের কাছে অবস্থিত। সারগোধা বিমান ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও বলা হয় কারণ F-16 যুদ্ধবিমানগুলি এই ঘাঁটি ব্যবহার করে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ১০ মে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ভারত পাকিস্তান বিমান বাহিনীর তিনটি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে: নূর খান, মুরিদ এবং শোরকোট। পরবর্তীতে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ১৪ মে আইএসপিআরের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলে যে, "রাওয়ালপিন্ডি, গুজরাত, অ্যাটক, গুজরানওয়ালা, লাহোর, শেখুপুরা, নানকানা, ঘোটকি এবং করাচির মালির জেলা সহ একাধিক পাকিস্তানি শহরে ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে"।

নিয়ম অনুসারে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারিও ভারত ও পাকিস্তান কূটনৈতিক স্তরে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক পরিকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধার বিষয়ক তালিকা বিনিময় করেছে। ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ১৯৯১ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান প্রতি বছরের ১ জানুয়ারি এই চুক্তির আওতায় থাকা পারমাণবিক পরিকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে একে অপরকে অবহিত করবে। দুই দেশের মধ্যে টানা ৩৪ বার এই ধরনের তালিকা বিনিময় হয়েছে। প্রথমটি হয়েছিল ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি। অর্থাৎ দুই দেশই একে অন্যের পারমাণবিক কাঠামো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।