যৌনতা হোক বা যন্ত্রণা, দেহই ফকিরদের পরীক্ষাগার

Surojit Sen
৫ মিনিট
যৌনতা হোক বা যন্ত্রণা, দেহই ফকিরদের পরীক্ষাগার

যে বয়সে পড়ার কথা নয়, সেই বয়সে রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে প্রথম পাতাতেই একটি গানের মুখোমুখি হই। গানটি হল: খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়/ ধরতে পারলে মনোবেড়ি আমি দিতাম পাখির পায়। বলা বাহুল্য, বুঝতে পারিনি, এরকম একটি খাঁচা কে বা কারা তৈরি করেছে, যেখানে পাখি আসে আবার বেরিয়েও যায়? কারণ বাড়িতে পাখি থাকায় খাঁচা সম্পর্কে ধারণা ছিল। বহুদিন পরে বুঝতে পারি, লালন তাঁর এই গানে খাঁচা বলতে বুঝিয়েছেন আমাদের দেহকেই। শুধু তাই নয়, ফকির লালন ছয়শোর বেশি এই দেহতত্ত্বের গান রচনা করেছেন।

এলাম আমি কোথা থেকে?- এই প্রশ্নেরই পথ ধরে বহুদূর হেঁটে সাধু-সন্ত-মরমিয়ারা এসে পৌঁছন নিজেরই কাছে, বা বলা যায় নিজের দেহের কাছে। বুঝতে পারেন, জানতে হবে দেহকে, কেননা দেহ থেকেই তাঁরা জন্মেছেন। পেয়েছেন দুর্লভ মানবজনম। তাই এই মানবজনমকে বৃথা নষ্ট না করে দেহকে জানার মধ্য দিয়ে তাঁরা প্রেম-মুক্তি-আনন্দ আর অনন্তের সন্ধান করেছেন। প্রতিবাদ করেছেন জাতপাত, ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। গুরু-শিষ্য পরম্পরায় মুখে মুখে ছড়িয়েছে তাঁদের দেহতত্ত্বের নিয়মনীতি আর গানে গানে ছড়িয়েছে এই তত্ত্বের গুণকীর্তন, যে তত্ত্বের ভাষা জানা না থাকলে গানের প্রকৃত অর্থ জানা যাবে না।

বাংলার ফকিরদের বিষয়টা বুঝতে গেলে ইসলামি সুফি ঐতিহ্যটি একটু জানা দরকার। আরবি ‘সুফ’ শব্দটির অর্থ 'পশম'। এই সাধকরা পশমের আচ্ছাদন ব্যবহার করতেন শরীর ঢাকার জন্য। একদল মহম্মদ-ঘনিষ্ঠ সহচর সাধক সুফি নামে পরিচিত ছিলেন। যেমন তাঁরা নিজেদের ঘিরে রাখতেন পশমের আপাত ঘন আবরণ দিয়ে, তেমনই তাঁরা ঘিরে রাখতেন মহম্মদকে।

সুফি মতবাদ কোরানের গুপ্ত ঐতিহ্যের ওপর নির্ভরশীল। সুফিরা কোরানের যে ব্যখ্যা করে, তা শরিয়তিরা ঘৃণা করে। সুফিরা বলে, এই হল আসল কোরান আর শরিয়তিরা বলে ওটা কোরানের বিকৃত ব্যাখ্যা। দেহের মধ্যে খোদা আছেন, তাঁকে জানার সাধনায় গড়ে ওঠে সুফিদের দেহসাধনার সংস্কৃতি। সুফি প্রেমপন্থী সাধকেরা যুগলসাধনায় শরীরের ভেতরের খোদাকে জানতে চেষ্টা করেন। সুফি সাহিত্যও নর-নারীর যুগলপ্রেম, আশেক–মাশুকের প্রসঙ্গে পূর্ণ।

ইসলামের সূত্রপাত থেকেই ধর্মীয় কর্তৃত্বের সঙ্গে রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পর থেকেই ইসলামের মধ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব শুরু। সুফিসাধকরা রক্ষণশীল রাষ্ট্রীয় ধর্মের বিরুদ্ধে মসজিদের প্রার্থনায় যোগ না দিয়ে মসজিদের বাইরে খাটিয়ায় বসে নীরবে প্রতিবাদ জানায়। উদ্বিগ্ন রাষ্ট্র আর রক্ষণশীল ধর্ম সুফিদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। বহু সুফি সাধককে হত্যা করা হয়। তাতেও এই দর্শনটিকে মুছে ফেলা যায়নি।

দেহতত্ত্বের জ্ঞান সাধারণের কাছে গুপ্ত, দুর্বোধ্য। এই বিষয়ে একটি সুফি গল্প আছে। প্রসঙ্গত, একদল মহম্মদ সহচর সাধক সুফি নামে পরিচিত ছিলেন। আরবিতে সুফি শব্দটির অর্থ 'পশম' বা পবিত্রতা। সুফিরা পশমের আচ্ছাদন বা কম্বল ব্যবহার করতেন। যেমন তাঁরা নিজেদের ঘিরে রাখতেন পশমের আপাত ঘন আবরণ দিয়ে, তেমনই তাঁরা ঘিরে রাখতেন মহম্মদকে। তো একদিন হজরত মহম্মদ তাঁর সঙ্গীদের কাছে ঈশ্বরসৃষ্ট সপ্তস্বর্গের ব্যাখ্যা করছিলেন। তখন চকিতেই এর এক নতুন অর্থ তাঁর মনে ভেসে ওঠে। ইবন আব্বাস, হজরত অনুচর এক মরমি সুফি সাধক উপস্থিত সেই আসরে। হজরত শুধু তাঁকেই বলেন সেই নতুন অর্থ। পরে অন্যরা আব্বাসকে জিজ্ঞেস করেন যে, কী সেই নতুন অর্থ? আব্বাস বলেন যে, সেই নতুন অর্থ যদি আমি তোমাদের জানাই, তাহলে তোমরা আমাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবে। আব্বাস এই কথাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, অদীক্ষিত শ্রোতার কাছে গুপ্তজ্ঞান উন্মোচিত করা মহাপাপ। তাতে সেই জ্ঞানটিকেই হত্যা করা হয়।

বাংলার ফকিরদের সুফি ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার আছে বলে মনে করা হয়। সুফি মতবাদ কোরানের গুপ্ত ঐতিহ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। দেহের মধ্যে খোদা আছেন, তাঁকে জানার সাধনায় গড়ে ওঠে সুফিদের দেহসাধনার সংস্কৃতি। বাংলায় ফকির শব্দটির অর্থ ১. ভিক্ষুক ২. সাধনার জন্য অর্থ-বিত্ত-সমাজ পরিত্যাগ করে যে নিজের দেহটুকু সম্বল করে নিঃস্ব হয়েছে। ৩. লালন দেহতত্ত্বের গুপ্তসাধনাকে 'ফকিরি' বলেছেন। বাংলার ফকিররা প্রণাম করেন মানুষকে, কারণ এঁরা মনে করেন, ঈশ্বর মানবদেহেই আছেন। তাঁদের যুক্তি হল, মানুষের শরীর থেকেই যখন মানুষের জন্ম, তাহলে মানবজন্মের পিছনে ঈশ্বরের কোনও ভূমিকা নেই। আর যদি মানবজন্মের প্রক্রিয়াই ঐশ্বরিক ব্যাপার হয়, তাহলে সেই ঈশ্বর মানুষের দেহের ভেতরই আছেন। বাংলা দেহতত্ত্বের গান যেহেতু দেহসাধনাকে কেন্দ্র করেই লেখা, তাই এর ভাষাটিও প্রচ্ছন্ন। ফকিররা এই ভাষাকে বলেন ইশারা কালাম বা ইঙ্গিতমূলক ভাষা।

ফকিররা বলেন, নিজের দেহকে জানতে হবে, দেহের ভাষা বুঝতে হবে। তবেই দেহের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা যাবে। যেমন পদকর্তা হাসান ফকির তাঁর একটি পদে বলছেন, কথা বলছে আল্লা পরোয়ার/ মোমিনের কালেবে আল্লার ঘর । এই কথারই উল্টোপিঠের কথা বীরভুমের নিজামুদ্দিন ফকিরের কাছে শুনি। তিনি বলেছিলেন, "কোরানের একটি আয়াতেই বলা আছে, ফেতরা তাল লাহিল লাতি ফাতারান নাসা আলাই হা, অর্থাত্‍ তোমাদের যে রূপ তোমরা জন্মে পেয়েছ, সেই রূপ আল্লারও।"

দেহকে জানার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেহ-র সহ্যশক্তিরও পরীক্ষা ফকিররা করে থাকেন। পাথরচাপুড়ির মেলায় দেখেছি, গভীর রাত, একটা বিরাট আগুনের কুণ্ডকে ঘিরে ফকিররা বসে আছেন। গান হচ্ছে। সেখানে শীর্ণকায় এক বৃদ্ধ ফকির, তাঁর ভুরুতে, পিঠে, হাতে বেঁধানো রয়েছে কয়েকটি ধাতুর চকচকে লম্বা শলাকা আর তিনি নিরন্তর জিকর করে যাচ্ছেন বিড়বিড় করে, মাঝে মাঝে যখন চিত্‍কার করছেন ‘হক্ দাতা আল্ আল্ আল্' বলে, তখন বোঝা যাচ্ছে কী নাম জিকর করছেন।

মধ্যযুগের সুফি সাধক সক্ তী এক জমায়েতে ধর্মকথা শোনাচ্ছেন। সেই সময় একটি বিছে তাঁকে বারবার দংশন করছিল। পরে তাঁর রক্তাক্ত পা দেখে শিষ্যরা বলে, "আপনি বিছেটাকে তাড়িয়ে দিলেন না কেন?" সক্ তী হেসে বলেন, "আমার লজ্জা করল, কারণ তখন আমি ধৈর্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখছিলাম।" সুফি সাধক আবিসকে হজরত মহম্মদ খুব শ্রদ্ধা করতেন। আবিস ধুলো-নোংরা লাগা ছেঁড়া পোশাক পরে ঘুরতেন, তাই দেখে বাচ্চারা 'পাগল' বলে তাকে পাথর ছুড়ে মারত। আবিস সেই বাচ্চাদের বলতেন, "ছোট ছোট ঢিল মারো, বড় পাথর মারলে রক্তপাত হবে, ওজু অশুদ্ধ হবে, আমি নমাজ পড়তে পারব না।"

এক সুফি সাধকের মনে ইচ্ছে জেগেছে, গরম রুটি আর মাংসের ঝোল খাবেন, বহুদিন তিনি ঠিকমতো খেতে পাননি। এই কথা ভাবতে ভাবতে সাধক পথ চলছেন । হঠাৎ সামনে হইহল্লা শুনে সাধক উঁকি দিয়েছেন, কী ব্যাপার! সঙ্গে সঙ্গে ক্রুদ্ধ জনতা তাঁর ওপর ‘চোর চোর’ বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি কিছু বলবার আগেই সপাসপ চাবুক পড়তে লাগল তাঁর ওপর। পথচলতি এক বৃদ্ধ তাঁকে চিনতে পেরে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে বিশ ঘা চাবুক পড়ে গেছে। সেই বৃদ্ধ সাধককে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সুশ্রুষা করে খেতে দিলেন। সাধক দেখেন, সেই খাবার হল গরম রুটি আর মাংসের ঝোল। খাবার মুখে তোলার সময় কে যেন তাঁর মনের ভেতর বলে উঠল, "মনে রেখো, তোমার বাসনার দাম বিশ ঘা চাবুক। যতবার মনে লোভ জাগবে ততবার বিশ ঘা চাবুক খেতে হবে।"

ফকির তাঁর দেহ নিয়ে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তা শারীরিক যন্ত্রণাই হোক, বা যৌনযোগাভ্যাস। লালনের গান দিয়ে শুরু করেছিলাম, ওই গানের কথাই ফকির গণি পাগল তাঁর পদে আরেকভাবে বলেছেন। মনে পড়ছে, ২০০৪ সালের পাথরচাপুড়ির মেলার মধ্যরাত। বিখ্যাত বটগাছের পাশেই ছোট ছাউনিতে আছেন আরমান ফকির। দেহ ঈশ্বরের কথায় আরমান শোনালেন ওঁর গুরু ফকির গণি পাগলের গান: এই দেহপিঞ্জরে বন্দি করো খোদারে/ দমসাগরে প্রেমের তরী বেলা থাকতে ধর/ মিছে এই খেলাঘর ভেঙে যাবে দুদিন পর/ মাটির বিছানা খাঁটি তখন হবে সার।

লিখেছেন
Surojit Sen
Surojit Sen
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।