দোলেই দিল্লি যাত্রা অনুব্রতর! আগেও যে নেতাদের বাংলার বাইরে নিয়ে গিয়েছে ইডি-সিবিআই

Anubrata Mondal Delhi ED : এতকিছুর পরেও কাজের কাজটি হল না। আপাতত দিল্লির মাটিই দেখতে চলেছে অনুব্রত পর্বের পরবর্তী অধ্যায়।

inscript
৩ মিনিট
দোলেই দিল্লি যাত্রা অনুব্রতর! আগেও যে নেতাদের বাংলার বাইরে নিয়ে গিয়েছে ইডি-সিবিআই

নানাভাবে দিল্লি যাত্রা আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কোর্ট-আদালতের চক্করও কাটা হল বেশ কয়েকবার। তবুও সুরাহা হল না। শেষমেশ দিল্লির দিকেই পা বাড়াতে হল বীরভূমের বেতাজ বাদশা, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে। দোলের দিনই তাঁকে নিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হলেন ইডির আধিকারিকরা। গরু পাচার মামলায় তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই এই উদ্যোগ বলে আগেভাগেই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দিল্লির তিহার জেলে রাখা হতে পারে অনুব্রত মণ্ডলকে, এমনটাও জানা যাচ্ছে।

অনুব্রত মণ্ডল, ওরফে বীরভূমের ‘কেষ্ট’। তাঁর নামে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়। তৃণমূলের সামান্য এক জেলা সভাপতি হলেও তাঁর দাপট ছিল সর্বত্র। আর ভোটের আগে কখনও ‘নকুলদানা, গুড়-বাতাসা খাওয়ার’ নিদান, কখনও ‘চড়াম চড়াম’ মন্ত্র – অনুব্রত মানেই ছিল তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় ‘বাণী’। সেই অনুব্রতকেই ২০২২-র আগস্ট মাসে গ্রেফতার করা হয়। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে চলে নানা টালবাহানা। আসানসোল জেলে এতদিন বেশ ভালোই কাটছিল কেষ্টর। তৃণমূল কংগ্রেস দলও যে তাঁর পাশে আছে, তা ঠারে ঠারে বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু এতকিছুর পরেও কাজের কাজটি হল না। আপাতত দিল্লির মাটিই দেখতে চলেছে অনুব্রত পর্বের পরবর্তী অধ্যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অনুব্রতর ফিসচুলায় রক্ত, মেঝেতেই ঘুমোন পার্থ, কেমন আছেন তৃণমূলের পুরাতনীরা?

Anubrata Partha Conditions TMC : তৃণমূলের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ দুই নেতা এখন আর মাঠে ময়দানে নেই। কেমন আছেন তৃণমূলের পুরনো নেতারা?

হাই-প্রোফাইল, প্রভাবশালী, দাপুটে নেতা বলে কথা! তাই বীরভূমের কেষ্টকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও ছিল কড়া পুলিশি পাহারা। ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। জোকা ইএসআই হাসপাতাল ফিট সার্টিফিকেট দেওয়ার পরই তাঁর দিল্লি যাত্রার তোড়জোড় শুরু। তবে অনুব্রত মণ্ডল একমাত্র নেতা নন। বিগত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। বর্তমান সময়ের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, গরু পাচার মামলা তো আছেই, সঙ্গে রয়েছে অতীতের চিটফান্ড কাণ্ডের ছোঁয়া। সারদা-রোজ ভ্যালির সঙ্গেই রয়েছে নারদা স্টিং অপারেশন। শাসকদল তৃণমূলের একের পর এক নেতা এবং নেতা-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এই জাঁতাকলে পড়েছেন।

প্রতিবারই হয় সিবিআই, অথবা ইডি তদন্ত প্রক্রিয়ার ভার নিয়েছে। এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্যের বাইরেও তদন্তের কার্যকলাপ নিয়ে গিয়েছে। গরু পাচার মামলার সাপেক্ষেই চলে আসবে এরকম একজনের নাম – সায়গল হোসেন। আদতে অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল তৃণমূলের উচ্চপদস্থ কোনও নেতা ছিলেন না। কিন্তু ইডি-সিবিআইয়ের দাবি, এই পাচার চক্রে অনুব্রতর কার্যত ডানহাত ছিলেন সায়গল। সেইসূত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। তাই সায়গল হোসেনকেও গত বছরের অক্টোবরে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন অনুব্রত মণ্ডলকে তাঁর সামনে বসিয়ে জেরা করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জেলবন্দি, অসহায় পার্থর ভাগ‍্যের চাকা ঘুরছে কোনদিকে

Partha Chatterjee: একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ, নারী-সঙ্গের বিস্তারের মধ্যেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

এরপরই চলে আসবে শিক্ষক দুর্নীতি মামলা। এখনও যে কাণ্ড নিয়ে সরগরম জাতীয় রাজ্য রাজনীতি। এখনও ইতিউতি মিলছে টাকার খোঁজ; এক-দু’শো নয়, কোটি কোটি টাকা! কলকাতার বিভিন্ন জায়গায়, বেলঘরিয়া থেকে টালিগঞ্জে টাকার স্তূপের ছবি দেখেছে জনগণ। আর সেই দুর্নীতিতেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, তৃণমূলের মহাসচিব, কার্যত দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে জেল হেফাজত হয়েছে তাঁর বিশিষ্ট বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়েরও। এখন কলকাতায় থাকলেও, তদন্তের স্বার্থে মাঝখানে ভুবনেশ্বরে নিয়ে যেতে হয়েছিল দুজনকেই। সেখানেও পার্থ-অর্পিতাকে জেরা করা হয়।

‘প্রভাবশালী’ তত্ত্ব খাড়া করেই রাজ্যের বাইরে জেরা, তদন্তের কাজ চালাতে চায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি, এমনটাই মনে করে রাজনৈতিক মহল। তার আরেকটা উদাহরণ দেখা যাবে রোজভ্যালি কাণ্ডে। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় ২০১৭ সালে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল সাংসদ, আরেক হাই প্রোফাইল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার আগেই গ্রেফতার করা হয় তৎকালীন তৃণমূল নেতা, অভিনেতা, অধুনা প্রয়াত তাপস পালকে। প্রভাবশালী তত্ত্ব খাড়া করে দুজনকেই নিয়ে যাওয়া হয় ভুবনেশ্বরে। সেখানেই জেলে বন্দি থাকেন তাঁরা, জেরাও চলে। পরে অবশ্য মুক্তি পান দুজনেই।

গ্রেফতার করা না হলেও, দিল্লিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তৃণমূল নেতা মুকুল রায়কেও। একের পর এক দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে শাসকদলের যোগ অবশ্যই চিন্তার বিষয়। তবে দিল্লি-ভুবনেশ্বরে যাত্রা যে এখনই শেষ হবে না, তা বলাই যায়। শাসকদল তৃণমূলেরও অভিযোগ, সিবিআই-ইডিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতি যে যথেষ্ট উত্তপ্ত, তা বলাই যায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?