প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে সোজা ফোর্বসের তালিকায়, কীভাবে কোটিপতি হলেন ভারতীয় এই শিল্পপতি?

Richest Indian: করোনাকালীন সময়টা বাকি সমস্ত সংস্থা অর্থনৈতিক ভাবে মুখ থুবড়ে পড়লেও, লাভের মুখ দেখেছিল তাঁর সংস্থা জেডস্কেলার। সেই সময়েই ফোর্বসের তালিকায় উঠে আসেন জয়।

Sohini Das
৩ মিনিট
প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে সোজা ফোর্বসের তালিকায়, কীভাবে কোটিপতি হলেন ভারতীয় এই শিল্পপতি?

পারিবারিক সম্পত্তির জোরে অর্থশালী তো অনেকেই হন। কিন্তু বিন্দু বিন্দু করে সিন্ধু গড়ার সামর্থ কম মানুষেরই থাকে। তার পিছনে থাকে অঢেল পরিশ্রম ও মনের জোর। ঠিক তেমনই ব্যতিক্রমী মানুষ জয় চৌধুরী। ভারত থেকে গিয়ে আমেরিকার মাটিতে তিনি তৈরি করেছেন নিজের সাম্রাজ্য। ক্লাউড সিকিওরিটি সংস্থা জেডস্কেলারের মালিক তিনি। ভারতের একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে আমেরিকায় পাড়ি। শুধু পাড়ি নয়, সেখানে গিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার ব্যবসা। আপাতত বিশ্বের অন্যতম ধনীদের তালিকায় বেশ উপর দিকেই জয় চৌধুরীর নাম।

হিমাচল প্রদেশের উনা জেলার পানোহ নামের একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে আসা জয়ের। বাবা ছিলেন সামান্য কৃষক। নূন্যতম সুযোগ-সুবিধাটুকুও ছিল না সে গ্রামে। না ছিল বিদ্যুৎ, না ছিল জল। রাস্তার আলোয় বসে পড়াশোনা করতেন বিদ্যাসাগর। জয়ের অবস্থাও খানিকটা তেমনই ছিল। বাড়ির বাইরে একটি ছাউনির তলায় বসে পড়াশোনা করতে হত তাঁকে। গ্রামের চৌহদ্দিতে ছিল না তেমন কোনও স্কুল। প্রতিদিন ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হত তাঁকে।

চারপাশ ঘিরে ছিল প্রতিকূলতা। তবে সেই বাধার পাহাড় পেরিয়ে অন্য এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন জয়। আর সেই স্বপ্নের পথ ধরেই এসেছে সাফল্য। ৬২ বছরের জয় নিজেই একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নিজের স্কুলযাত্রার কথা। জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় চার কিলোমিটার পথ হেঁটে ধুসরা গ্রামে পড়তে যেতে হত তাঁদের। তবে স্কুল থেকেই পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিলেন জয়। ছোট্ট গ্রামের স্কুল থেকে পড়াশোনা করেই পৌছে গিয়েছিলেন আইআইটি বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে। সেখান থেকে বিটেক পাশ করার পর মার্কিন মুলুকে পড়তে যায়ার সুযোগ পান। ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর শেষ করেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বছর ঘুরতে না ঘুরতেই কোটিপতি! ভারতের সবচেয়ে বেশি মাইনের চাকরি কোনগুলি?

Highest paying jobs in india : লাখ লাখ টাকা বেতন! জানেন বর্তমান সময়ের নিরিখে ভারতের সবচেয়ে বেশি মাইনের চাকরি কোনগুলি?

আজ থেকে নয়, বরাবরই ভারত থেকে অসংখ্য শিক্ষিত, বুদ্ধিদীপ্ত মাথা পাড়ি দেয় বিদেশে। প্রায় সমস্ত বড় বহুজাতিক সংস্থায় ভারতীয় মাথা মিলবেই। জয়ও তাঁদের মধ্যেই একজন। ইতিমধ্যেই পৃথিবীর ধনীতম মানুষের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পৃথিবীর ২৬৭তম ধনীতম ভারতীয়ের পালকও তাঁর মুকুটে।

আইবিএম, ইউনিসিস এবং আইকিউ সফটওয়্যারের মতো বহুজাতিক সংস্থা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন জয়। তবে অন্যের দাসত্ব করতে বেশিদিন ভালো লাগেনি আর। ১৯৯৬ সালে জয় ও তাঁর স্ত্রী জ্যোতি মিলে শুরু করে সিকিওর আইটি নামে একটি সাইবার সিকিওরিটি সংস্থা। সেই শুরু। জেডস্কেলারের আগে কোরহারবার, সিকিওর আইটি, সাইফার ট্রাস্ট, এয়ার ডিফেন্সের মতো একাধিক সংস্থা শুরু করেছিলেন জয়েরা। তবে দাঁড়িয়ে গেল জেডস্কেলার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আম্বানি, আদানিদের থেকেও বেশি মোট সম্পত্তির পরিমাণ! চেনেন বিশ্বের ধনীতম এই মহিলাকে?

Richest woman in the world : বিশ্বসেরা ধনী এই মহিলার সম্পত্তির পরিমাণ জানলে চোখ কপালে উঠবে যে কারোর

করোনাকালীন সময়টা বাকি সমস্ত সংস্থা অর্থনৈতিক ভাবে মুখ থুবড়ে পড়লেও, লাভের মুখ দেখেছিল জেডস্কেলার। সেই সময়েই ফোর্বসের তালিকায় উঠে আসেন জয়। প্রথম দশ ধনী ভারতীয়ের তালিকায় নবম স্থান জিতে নেন তিনি। সে সময়ে তাঁর সংস্থার ভ্যালুয়েশন ছিল ১৮,৫৪,৫৮ কোটি টাকার কাছাকাছি। আড়াই হাজারেরও বেশি কর্মী ও পাঁচ হাজার মক্কেল রয়েছে তাঁদের সংস্থার।

করোনাকালীন সময়ে বাকি সমস্ত সংস্থা যখন লাগাতার কর্মীছাঁটাইয়ে মন দিয়েছিল, তখন ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করেছে জেডপ্লাস। যার জন্য অচিরেই ইন্দো-আমেরিকান ব্যবসার দুনিয়ায় ৪৫তম আসবে চলে আসে জয়ের সংস্থা। আর তার সমস্ত কৃতিত্বই যায় তাঁরই কাঁধে। ভারতের একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করে নিজের ক্ষমতাবলে যেখানে পৌঁছেছেন জয়, তা মুখের কথা নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ ব্যবসামুখী হয়েছে আজকের ভারতীয়রাও। দেশে তরুণ উদ্যোগপতিদের সংখ্যা যাতে বাড়ে, তার জন্য একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছে সরকারও। পরবর্তীকালে যারা নিজস্ব ব্যবসা খোলার পথ বেছে নিতে চান, তাঁদের কাছে এক অনুপ্রেরণা জয়। বিশেষত প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ছেলেমেয়েদের জন্য তো বটেই। তবে জয়েদের মতো বুদ্ধিদীপ্ত মাথারা যাতে আগামী দিনে দেশ না ছাড়েন, ব্রেন-ড্রেনের সংখ্যা যাতে কমে, তার দায়িত্ব কিন্তু নিতে হবে সরকারকেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।