জাল ছবি উপহার দিয়ে বিজয়োল্লাস! মুনিরের কীর্তিতে উপহাসের মুখে পাকিস্তান

Pak army chief Asim Munir: বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেকিং সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে গুগল ইমেজেস থেকে ডাউনলোড করা চিনের PHL-03 রকেট লঞ্চারের একটি ছবি উপহার দিয়েছেন পাকিস্তানি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

inscript
৩ মিনিট
জাল ছবি উপহার দিয়ে বিজয়োল্লাস! মুনিরের কীর্তিতে উপহাসের মুখে পাকিস্তান

ভারতের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে পাকিস্তান জয়যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছিল ইসলামাবাদ। একাধিক ভুয়ো খবর, ভুয়ো ছবি-ভিডিও প্রচার করে ভারতের বিমান মাটিতে নামানোর, ভারতের ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি জোর গলায় করে এসেছে পাকিস্তান। যুদ্ধ শুধুই আর সেনায় সেনায় হয় না। সোশ্যাল মিডিয়াতেও হয়। ফলে দ্বিপাক্ষিকই নানা ভুল প্রচার করে নিজেদের এগিয়ে রাখার প্রবণতাও বেড়েছিল। তবে, ভুয়ো প্রচারের জগতে পাকিস্তান সম্ভবত সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। এক ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গেছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একটি হাই-প্রোফাইল নৈশভোজের অনুষ্ঠানে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে উপহার হিসেবে দিচ্ছেন একটি ফ্রেমে বাঁধানো ছবি। দিতেই পারেন। সেই নিয়ে এত হাসাহাসির কী হলো? পাক সেনাপ্রধান ছবিটি উপহার দিয়েছেন এই বলে যে, এটি ভারতের উপর পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের চিত্র। আর সূত্র বলছে, ছবিটি চিনের সামরিক মহড়ার একটি পুরনো ছবি।

ভুয়ো খবর যত আছে, সামাজিক মাধ্যম ও ফ্যাক্ট চেকিং-এর প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দাপটে সেই ভুল তথ্য খণ্ডনের উপায়ও আছে ততোধিক। ফলে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মুনির যতই দাবি করুন না কেন যে ওই ফ্রেমে বাঁধানো ছবি আসলে ভারতের উপর পাকিস্তানের হামলার, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা কিন্তু ধরে ফেলেছেন যে ছবিটির সঙ্গে বছর চারেক আগের চিনের সামরিক মহড়ার একটি ছবির বেশ সাদৃশ্য আছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাকিস্তানের 'জিহাদি জেনারেল'! কতখানি ক্রূর সেনা প্রধান মুনির?

Pakistan Army Chief Asim Munir: সেনা প্রধান আসিম মুনির বলেছিলেন, "পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য এবং নীতি হলো শহিদ অথবা গাজী (যে জিহাদে অংশ নেয়) হওয়া।"

বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ছবিটি সরাসরি চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ২০১৯ সালের এক মহড়ার যে ভিডিও জনসাধারণের জন্য উপলব্ধ, তা থেকেই নেওয়া হয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের জবাবে পাকিস্তান যে অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুসের দাবি করেছিল, সেই ভুয়ো ছবিটি সেই অভিযানের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেয়। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ভারতের বিরুদ্ধে পাক সেনাবাহিনীর আক্রমণ চিত্রিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে আস্ত এক ভুয়ো ছবি উপহার দিতে পারেন, তাও আবার ঘটা করে প্রচার করে! নিজেদের সামরিক অভিযানকে কি নিজেরাই বিশ্বের সামনে লঘু করে দিল না পড়শি দেশ?

সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেকিং সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে গুগল ইমেজেস থেকে ডাউনলোড করা চিনের PHL-03 রকেট লঞ্চারের একটি ছবি উপহার দিয়েছেন পাকিস্তানি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরই ওই হাই-প্রোফাইল নৈশভোজের আয়োজনও করেছিলেন। "মার্কা-এ-হক - অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস"-এর সময় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর 'অটল অঙ্গীকার' এবং পাকিস্তানের জনগণের 'অদম্য মনোবল’-কে সম্মান জানাতেই নাকি এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল। পাক রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি এবং অন্যান্যদের সহ শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এই নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতের বিরুদ্ধে সাফল্যের পুরস্কার! কেন সেনাপ্রধান মুনিরের পদোন্নতি ঘটাল পাকিস্তান?

Asim Munir: প্রয়াত প্রাক্তন সেনাশাসক আয়ুব খানের পর পাক সেনার দ্বিতীয় অফিসার হিসাবে মুনির 'পাঁচ তারা জেনারেল' পদে বসলেন।

কিছুদিন আগেই ফিল্ড মার্শাল পদে নজিরবিহীন পদোন্নতি হয়েছে আসিম মুনিরের। তার ঠিক পরেই ভুয়ো ছবি নিয়ে এমন উল্লাস স্বাভাবিকভাবেই দেশটির নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ফিল্ড মার্শাল পদমর্যাদা সেই সামরিক নেতাদের জন্যই সংরক্ষিত যাঁরা দেশকে যুদ্ধে অনস্বীকার্য বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু মুশকিল হলো পহেলগাঁও হামলা ও ভারতের অপারেশন সিঁদুরের প্রত্যাঘাতের পরে এই ধরনের তেমন কোনও সংঘাতই ঘটেনি। ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতই পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিতে হামলা করেছিল এবং পাকিস্তানি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে নামিয়ে এনেছিল। ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অপারেশন সিঁদুরের পরে পাকিস্তানের সামরিক হামলাকে ব্যর্থ করে দেয়। সীমান্তের ওপার থেকে উৎক্ষেপিত বেশিরভাগ ড্রোন এবং মনুষ্যবিহীন বিমানকে সফলভাবে বাধা দেয়।

এই বাস্তবতা সত্ত্বেও, অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস নিয়ে পাকিস্তানি দেশপ্রেমের এক আখ্যান লেখা হলো যার ভিত্তি চিনের এক ছবি! ভুয়ো ছবির উপর ভিত্তি করে রচিত ভুয়ো দেশপ্রেমের আখ্যান জনসাধারণের কাছে তাই উপহাসের বিষয় হয়ে উঠেছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।