মুদ্রাস্ফীতি চরমে, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারতের গরিব মানুষ?

এর আগে কখনও এমনটা ঘটেনি যে, পনেরো মাস যাবৎ প্রত্যেক মাসে মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে দশ শতাংশ করে। ভারত সরকারের দেওয়া তথ্য থেকেই এই পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে।

Paranjoy Guha Thakurta
৩ মিনিট
মুদ্রাস্ফীতি চরমে, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারতের গরিব মানুষ?

ভারতে যে মুদ্রাস্ফীতি আমরা কয়েকমাস ধরে দেখছি, তার সঙ্গে জুড়ল নয়া জিএসটি। সাধারণ মানুষের ওপর এই পরিস্থিতি কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তা বুঝতে গেলে আমাদের আরও কিছু বিষয় বোঝা প্রয়োজন।

ভারত সরকার মুদ্রাস্ফীতি বোঝার জন্য দুই ধরনের সূচক ব্যবহার করে, একটি হলো হোলসেল প্রাইস ইনডেক্স, বা পাইকারি মূল্য সূচক, অন্যটি হলো কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা উপভোক্তা মূল্য সূচক। পাইকারি মূল্য সূচকে দেখা যায়, যারা উৎপাদন করছে, তাদের খরচ কীভাবে বাড়ছে, অন্যদিকে উপভোক্তা মূল্য সূচক দেখায়, সাধারণের জীবনযাপন কীভাবে প্রভাবিত হয় মূল্যবৃদ্ধির ফলে। মানুষের আয়ের সঙ্গে যদি মুদ্রাস্ফীতির গতির সামঞ্জস্য না থাকে, তাহলে জীবনযাপনের মানদণ্ড পড়তে থাকে। ভারতে এটাই ঘটে চলেছে বিগত কয়েক বছর ধরে। সাধারণভাবে বেঁচে থাকার যে খরচ, তা বাড়ছে, অথচ আয় বাড়ছে না, ফলে আমমানুষের যাপনের মান ধীরে ধীরে পড়ছে, সাধারণ নাগরিকের দুরবস্থা বাড়ছে ক্রমশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিপজ্জনক সময়ের দিকে পা বাড়াচ্ছে ভারতীয় গণতন্ত্র

কপিল সিব্বলের মতো নেতারা যদি একের পর এক দল ছাড়তে থাকেন, ২০১৪ সালে যে 'কংগ্রেস-মুক্ত ভারত'-এর কথা মোদি বলেছিলেন, তাই সত্যি হবে। এবং তা হবে ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে এক অভিশপ্ত দিন।

পনেরো মাস যাবৎ প্রত্যেক মাসে মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে দশ শতাংশ করে, এর আগে কখনও যা ঘটেনি। ভারত সরকারের দেওয়া তথ্য থেকেই এই পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি মূল্য সূচক মে মাসে হয়েছে ১৫.৮ শতাংশ‌। আমি বলব, বিগত তিরিশ বছরে ভারতের এই অবস্থা হয়নি। একথা ঠিক যে, বিশ্বজুড়েই অবস্থা এরকম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে লাগাতার। কিন্তু আমাদের দেশের সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই, তাদের কাছে বাস্তব হলো, জিনিসপত্রের দাম অহরহ বাড়ছে, এবং তার ফলে তার জীবনধারণ কঠিন হয়ে উঠছে। এখানে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনা অবান্তর।

কেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে? কারণ তেলের দাম বাড়ছে। তেলের দাম প্রায় চল্লিশ শতাংশ বেড়েছে মে মাসে। ভারতে যে কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, তার নব্বই শতাংশ আমদানি হয়। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধর পর তেলের দাম বেড়েছে তীব্র গতিতে। অন্যদিকে, ২২ মে ভারত সরকার ডিজেল এবং পেট্রোলের ওপর যে উৎপাদন শুল্ক বসে, তা কমিয়ে দিয়েছে। কিছুটা দাম পড়েছে তেলের। কিন্তু তেলের দাম যে গতিতে বাড়ছিল, তা এমনকী এই সরকারকেও, যারা কিনা গরিবের কথা তত ভাবে না, তাদেরকেও চিন্তায় ফেলেছিল। আমাদের দেশে সরকারি তেলের কোম্পানিগুলির অবস্থা সঙ্গিন। কারণ, উত্তরপ্রদেশ-সহ পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন পাঁচ মাস তেলের দাম বাড়ায়নি তারা। কেন বাড়ায়নি, তার উত্তরও সহজ। কারণ, সরকার তাদের বাড়াতে দেয়নি। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পর, এবং তার ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর, আবার সেই দাম বাড়তে থাকল। এমনকী, দাম বাড়ল গ্যাস সিলিন্ডারেরও। যখন ডিজেলের দাম বাড়ে, তখন অন্য অনেককিছুর ওপর তার প্রভাব পড়তে বাধ্য।

অন্যদিকে উপভোক্তা মূল্য সূচক কখনওই দুই থেকে ছয় শতাংশের বেশি বাড়া উচিত নয়। কিন্তু গত ছ'মাস প্রতি মাসে এই সূচক সাত শতাংশের ওপর বাড়ছে, লাগাতার। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বারবার এই সূচক কমার আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু অবস্থা থেকে গেছে তথৈবচ। আর এই সূচক কমলেও জিনিসপত্রের দাম আদতে কমছে না, বাড়ছে। শুধু যে গতিতে বাড়ছিল, তার থেকে কম গতিতে বাড়ছে।

গম, মুসুরির ডাল, মুগ ডাল, খাবার তেল, বিভিন্ন ধরনের সবজি, পেঁয়াজ, টমেটো, আলুর মতো দৈনন্দিন পণ্যর দাম বাড়ছে। এর ফলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়ছে দেশের গরিব মানুষ। কারণ তাদের আয়ের অনেকাংশ খরচ হয় খাবারের জন্য। ফলে, গরিবের অবস্থা ঠেকছে তলানিতে। একইসঙ্গে বেড়ে চলেছে উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্তর মধ্যে শ্রেণিবৈষম্যর মাত্রা। আজ ভারতে এই দুই শ্রেণির মধ্যে যে ব্যবধান, তা নজিরবিহীন। বিভিন্ন প্রতিবেদন, সমীক্ষা দেখাচ্ছে, এই বৈষম্যের সূচকে ভারত বিশ্বের মধ্যে প্রায় শীর্ষে রয়েছে। তার সঙ্গে জুড়ছে যুবসমাজের বেকারত্বর সমস্যা ও রোজগারের অভাব। ফলে, মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা বসাচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি। আজ ভারতের সাধারণ মানুষ কীভাবে বাঁচছে, ভারত সরকারের নথিই তার প্রমাণ দিচ্ছে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

তিন বছরেও থামেনি, মণিপুরে ফের যেভাবে বাড়ছে সহিংসতা

Manipur Violence 2026: গত ২৬ সেপ্টেম্বর সেনাপতি জেলায় দুই নাগা নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা সামনে আসে। তার দু'দিন আগে কামজং জেলার পিলং এলাকায় পৃথক হামলায় চার জন টাংখুল নাগা নাগরিক নিহত হন। এই পরিস্থিতিতে নাগা সংগঠন ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি) চার মাস ধরে চলা জাতীয় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করলেও রাজ্যে হিংসা থামার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।

নাৎসি জার্মানি থেকে FTII–SRFTI: ফিল্ম স্কুল কেন ক্ষমতার চোখে এত গুরুত্বপূর্ণ?

History of Film school's against Fasicsm: ১৯৩৩ সালে নাৎসিরা ভাঙচুর করেছিল বার্লিনের ফিল্ম স্কুল টনফিল্মশুলে। ১৯৩৫ সালে মুসোলিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন ইতালির ফিল্ম স্কুল সিএসসি। ২০১৫ সালে ভারতে পুনের এফটিআইআইতে মোদী সরকারের নিয়োগ বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৩৯ দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ২০২৬-এ কলকাতার এসআরএফটিআইতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইট-পাথরের হামলা সেই ইতিহাসকেই পুনরাবৃত্ত করল। হামলার পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য আজও একই, স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও ইতিহাস বলে, ফিল্ম স্কুল কেবল একটি ভবন নয়, একটি ধারণা, একটি মতাদর্শিক বলয়।

জেলের ৭১৬ দিন: কী পড়তেন, কী ভাবতেন, কীভাবে লড়তেন ভগৎ সিং?

Bhagat Singh jail life: জেলখানায় ভগৎ সিংয়ের সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিল বই। দ্বারকাদাস লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান শাস্ত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলের ভিতর বই পাচার করতেন। এই ৭১৬ দিনে তিনি প্রায় ৩০০-র বেশি বই পড়েছেন ভগৎ সিংহ।

বাম বসন্ত ফিরবে বার্লিনে? শতাব্দীর সংগ্রাম শেষে আবার নতুন ভোর

Left-Wing Resurgence in Hitler’s Berlin: হিটলারের বার্লিনে ফিরছে বামপন্থা। তরুণরা সংক্রমিত। ইতিহাসের এই বিদ্রূপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন দুঃস্বপ্নের নগরীতে।

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'