বাংলাদেশে পাঠান! ৫২ বছর পর হিন্দি সিনেমাকে আদৌ মেনে নেবে মুজিবের বাংলা?

Pathaan in Bangladesh: বাংলাদেশের মানুষদের একাংশের চিরকালই বিশ্বাস, হিন্দি সিনেমার কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব চলচ্চিত্রের বাজার ক্ষতির মুখে পড়বে।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
বাংলাদেশে পাঠান! ৫২ বছর পর হিন্দি সিনেমাকে আদৌ মেনে নেবে মুজিবের বাংলা?

ভারতকে পাঠান দেখিয়ে দিয়েছে কেন এই তৃতীয় বিশ্বে শাহরুখ খানই শেষ সুপারস্টার। চার বছর পরে বড় পর্দায় ফিরেছিলেন শাহরুখ। পাঠান দেখতে হলে উপচে পড়েছিল প্রায় অর্ধেক ভারতবর্ষ! তারপর ওটিটিতেও মুক্তি পেয়েছে জন-দীপিকা আর শাহরুখের পাঠান। এবার ভারতের ব্লকবাস্টার পদ্মা পেরিয়ে চলল পড়শি বাংলাদেশে। ৫২ বছর পরে হিন্দি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশে। ইদেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল পাঠানের। তবে নানা কূটনৈতিক জটিলতার কারণে তা আটকে যায়। ১২ মে, ৫২ বছরের খরা কাটিয়ে বাংলাদেশে মুক্তি পেল ‘পাঠান’।

কেন এত বছর পর হিন্দি সিনেমার জন্য দরজা খুলে দিল বাংলাদেশ সরকার? এত দিন ভারতীয় হিন্দি ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে আপত্তি ছিল বাংলাদেশ সরকারের। এর আগে বাংলাদেশে তিনটি হিন্দি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল ঠিকই। তবে ২০১৫ সাল থেকে হিন্দি সিনেমার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কঠিন হয়। এবার বাংলাদেশে হিন্দির ছবির সেই দরজা খুলে দিল পাঠান। যশরাজ ফিল্মসের আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউশনের সহ সভাপতি নেলসন ডিসুজা জানিয়েছেন, সিনেমা চিরকালই দেশ, সংস্কৃতি এবং জাতিগত দূরত্ব কমিয়েছে। সীমানার বেড়াজাল পার করে মানুষকে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশে শাহরুখ খানে বড় সংখ্যক ভক্ত রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সিনেমা হলে পাঠান মুক্তির সিদ্ধান্ত দুই রাষ্ট্রের মধ্যেই সংস্কৃতির বন্ধুত্বকে দৃঢ় করবে, এমনটাই বিশ্বাস তাঁর। বাংলাদেশে এই ছবির পরিবেশক অনন্য মামুন জানিয়েছেন, এই প্রথম কোনও ভারতীয় হিন্দি সিনেমা বাংলাদেশের মানুষ হলে গিয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। পাঠানের অগ্রিম টিকিট বিক্রিও বাংলাদেশে সাড়া ফেলেছে। অগ্রিম বুকিংয়েই প্রায় সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশে। ভারতে মুক্তির চার মাস পর ৪১ টির বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে পাঠান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভুলে ভরা সিনেমা! পাঠান দেখতে গিয়ে এই ৩ টি মারাত্মক ভুল কি লক্ষ্য করেছেন?

Pathaan Movie Mistakes: পাঠানের একটি দৃশ্যে, শাহরুখ খান বলছেন যে ২০০২ সালে তাঁর পোস্টিং ছিল আফগানিস্তানে। সেখানে একজন স্থানীয়কে তিনি বাঁচিয়েছিলেন।

২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি ঢাকার সিনেমা হলে সলমান খানের সিনেমা ওয়ান্টেড মুক্তির পর হিন্দি সিনেমার প্রদর্শন বন্ধে রাজপথে নেমেছিলেন শিল্পী ও নির্মাতারা। সেই আন্দোলনের পর থেকে বাংলাদেশের সিনেমা হলে আর কোনও হিন্দি সিনেমা মুক্তি পায়নি। তারপর পাঠান ঝড় উঠল বাংলাদেশে। প্রথম সপ্তাহেই পাঠানের ২০৬টি শো রয়েছে বাংলাদেশে।

হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এখনও অবধি সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে পাঠান। ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে শাহরুখের ম্যাজিক। অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পাওয়ার পর শাহরুখ খানের ভক্তদের অনেকেই নানা মাধ্যমে সিনেমাটি দেখে ফেলেছেন। তারপরেও বাংলাদেশে এই সিনেমার অগ্রিম টিকিট বুকিং তাক লাগিয়েছে। দাম বাড়ানোর পরও অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে খুব একটা প্রভাব পড়েনি।

সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ এপ্রিল সাফটার আওতায় নতুন করে উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেয় বাংলাদেশের সরকার। পাঠানের জায়গায় ভারতের পাঠানো হয়েছে ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিব খানের সিনেমা পাঙ্কু জামাই। সাফটার আওতায় এই বছর পরীক্ষামূলকভাবে উপমহাদেশীয় ১০টি সিনেমা বাংলাদেশে আনতে পারবেন সেই দেশের সিনেমার ডিস্ট্রিবিউটাররা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নক্ষত্রের অবসর নেই, খুচরো জনতার খড়কুটো আজীবন শাহরুখই

Shah Rukh Khan: শাহরুখের অবিশ্বাস্য সব কেরামতি দেখে আপনা থেকেই হাত জড়ো হয়ে আসছে, অনন্ত দর্শকবৃন্দ দোয়া করছে, “হে নক্ষত্র, সব ঠিক করে দাও"।

তবে পাঠান মুক্তি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কও জেগেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মানুষদের একাংশের চিরকালই বিশ্বাস, হিন্দি সিনেমার কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব চলচ্চিত্রের বাজার ক্ষতির মুখে পড়বে। ‘পাঠান’ মুক্তির দিনটিকে 'কালো দিন' বলেও মনে করছেন অনেকে কারণ এই বাংলাদেশের মানুষই বাংলা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। তাই উর্দু-হিন্দি ভাষার বলিউডি সিনেমা বাংলাদেশের হলে চলতে পারে না। অস্তিত্ব সংকটের প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের নাগরিকদের একাংশ। অন্য অংশের মতে আবার, পাঠান কিংবা যে কোনও হিন্দি সিনেমা আমদানি করা যেতেই পারে বাংলাদেশে, তবে তা বাংলায় ডাবিং করেই করে দেখানো উচিত। ভারতের তামিল বা মালয়ালম ভাষার সিনেমাও হিন্দি ভাষাভাষিদের জন্য হিন্দিতে ডাবিং করা হয়। তাই পাঠান বাংলাদেশে বাংলা ভাষাতেই মুক্তির দাবি উঠেছিল।

শর্ত সাপেক্ষে হিন্দি সিনেমা বাংলাদেশে আমদানির পক্ষে সওয়াল করে চলচ্চিত্র বিষয়ক ১৯ টি সংগঠন। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই চলচ্চিত্র পরিষদ এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দেয় সে দেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রকে। জানানো হয়, শর্ত সাপেক্ষে হিন্দি সিনেমা বাংলাদেশে আমদানিতে কোনও আপত্তি নেই তাদের। এর আগে বাংলাদেশের হলে হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল এই দাবিতে যে, হিন্দি সিনেমা বাংলাদেশের নিজস্ব সিনেমাকে শেষ করে দেবে। পরে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণ শুরু হলেও বিরোধিতা দেখা দেয়। অথচ সিনেমা হলে লাভের মুখ না দেখা মালিকরা চান, হিন্দি সিনেমা দিয়ে আয় বাড়াতে।

এতকাল হলিউডের সিনেমা বাংলাদেশে মুক্তির পেলেও ভারতীয় হিন্দি সিনেমার মুক্তিতে প্রবল আপত্তি ছিল মানুষের। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গত ৫২ বছরে বাংলাদেশে মাত্র তিনটি হিন্দি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সলমান খানের ‘ওয়ান্টেড’, শাহরুখ খানের ‘মাই নেম ইজ খান’ আর আমির খানের ‘থ্রি ইডিয়টস’। এই তিনটি সিনেমাও নানা নিষেধ ও বিক্ষোভের মুখে পড়েই মুক্তি পেয়েছিল, মুক্তির পরেও চলেছে তীব্র বিক্ষোভ। অবশেষে, পাঁচটি শর্ত মেনে দুই বছরের জন্য ১৮টি হিন্দি সিনেমা আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তারই প্রেক্ষিতেই প্রথম হিন্দি সিনেমা হিসাবে বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘পাঠান’।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।