২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাম প্রত্যাহার, কেন বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না পবন সিং?

Lok Sabha Election 2024 BJP Candidate List: শনিবারই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সেই তালিকায় অন্যতম ছিল বিজেপি প্রার্থী পবন সিং। তবে বেশিক্ষণ গেল না, নিজেই লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়া থেকে সরে দাঁড়ালেন পবন।

Sohini Das
৩ মিনিট
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাম প্রত্যাহার, কেন বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না পবন সিং?

আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপির তরফ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। স্বাভাবিক ভাবেই ভোটের মুখে যথেষ্ট বড় চমক এই ঘটনা। অন্যদিকে আসানসোলে মুখ পুড়ছে বঙ্গ বিজেপির। আসানসোলে প্রার্থী হচ্ছেন না পবন সিং। নাম ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটল সেই ঘটনা। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ভোজপুরী গায়ক পবন সিং নিজেই জানিয়েছেন সরে আসার কথা। এমনকী সেই পোস্টটি তিনি ট্যাগ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডাকেও।

শনিবারই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সেই তালিকায় অন্যতম ছিল বিজেপি প্রার্থী পবন সিং। তবে বেশিক্ষণ গেল না, নিজেই লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়া থেকে সরে দাঁড়ালেন পবন। কিন্তু কেন? ব্যক্তিগত সমস্যা না দলীয় নির্দেশ, কেন সরে এলেন ভোজপুরি 'ললিপপ' গায়ক পবন। কোনও কোনও সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই নাকি এই ঘোষণা করেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে মহিলা অবমাননার। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তার পোস্ট করা মিউজিক ভিডিওগুলিও যথেষ্ট আপত্তিকর বলেও অভিযোগ কয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই ভিডিও ঘিরে কম বিতর্কও হয়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপির প্রার্থী হবেন কারা? গভীর রাতের বৈঠকে যা ঠিক করলেন মোদি-শাহ

BJP Candidates 2024 Lok Sabha Election : ২০১৯ সালের নির্বাচনে যে আসনগুলিতে লড়েও জিততে পারেনি বিজেপি সেই আসনগুলিতে নিজেদের অবস্থানের উন্নতির দিকে চেষ্টা করছে বিজেপি।

পবনের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আসানসোল বিজেপির মধ্যে শোরগোল পড়ে যায় বলেই গুঞ্জন। এমনকী বিভাজনও তৈরি হয়। বহিরাগত’-এর তত্ত্ব তুলে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের আপত্তি, পবন বিহার থেকে বাংলায় এসে লড়ছেন। শুধু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও এই তারকার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে ভোজপুরি এই সুপারস্টারের। তাঁর বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ এনেছেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোতি সিং। পবনের প্রথম স্ত্রীয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন রকম চর্চা রয়েছে। আত্মঘাতী হয়েছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী। লোকসভার মতো গুরুতর নির্বাচনে পবনকে প্রার্থী করা নিয়ে খুব একটা খুশি ছিল না আসানসোলের গেরুয়া শিবির। আর সেই সব অভিযোদ আসার পরেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে পবন সিংকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া বলে শোনা যাচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘মোদি জমানায় ২৫ কোটি দেশবাসী দারিদ্রমুক্ত’! তবে রেশন কাকে দিচ্ছে বিজেপি সরকার?

Poverty in India: কিন্তু সত্যিই যদি প্রতিদিন ৭৫ হাজার করে মানুষকে গরিবির আওতা থেকে বের করে এনে থাকে মোদি সরকার, তাহলে ঘটা করে বিনামূল্যে রেশনের ঘোষণা আসলে কাদের জন্য?

রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে পবন লেখেন, “আমি ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। দল আমাকে বিশ্বাস করেছিল এবং আসানসোল থেকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছিল, কিন্তু কিছু কারণে, আমি আসানসোল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব না।” রাজনীতিক মহলের একাংশের দাবি, পবন সিংয়ের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আসানসোলের বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে তুমুল আলোচনা! বিশিষ্টজন থেকে রাজ্যের শাসকদল, সকলেই ‘ললিপপ’ গায়কের নিন্দায় সরব। অভিযোগ, বাংলার মহিলাদের নিয়ে ‘যৌন উদ্দীপক’, নারী ‘বিদ্বেষী’ গান গেয়েছেন তিনি। এবার আসানসোলের বিজেপি প্রার্থী বদলের দাবি ওঠে দলেরই অন্দরে। দ্রুত ওই আসনে অন্য কাউকে প্রার্থী করার দাবি জানান তথাগত রায়। লেখেন, “বিজেপি তো আর তৃণমূলের মতো একজন মহিলার খামখেয়ালিপনা দিয়ে প্রার্থী বাছাই করে না। বরং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সমীক্ষা করে প্রার্থী বাছাই করে। তবে সমীক্ষকরা ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আসানসোলের জন্য নতুন করে ভাবা দরকার।”

প্রথম থেকেই পবন সিংকে প্রার্থী করা নিয়ে নানা তির্যক মন্তব্য করেছে তৃণমূল। সম্প্রতি সে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টা আক্রমণ করেছিলেন বিজেপির অমিত মালব্যও। তবে তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনে এল পবনের ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা। পবন সিংয়ের সিদ্ধান্তকে বাংলার মানুষের জয় হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যবাসীর প্রবল ‘জনগর্জনে’র জন্যই সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন পবন। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের প্রতিক্রিয়া হল, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় এলেন এবং নারীশক্তি ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে অনেক বক্তৃতা দিয়ে গেলেন। তারপর তিনি এমন একজনকে টিকিট দিলেন, যিনি বাংলার নারীদের অপমান করেছেন। এটাই হল ‘মোদির গ্যারান্টি’ – যদি আপনি বাংলার এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাহলেই বিজেপি আপনাকে টিকিট দেবে।" পবন সিংয়ের মিউডিক ভিডিওর নিন্দা করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহা এবং মলয় ঘটক- দুই তৃণমূল নেতাই।

প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নাম তুলে নেওয়ার ঘটনা যে রাজ্যবিজেপির পক্ষে বেশ অস্বস্তিকর, তা অস্বীকার করার জো নেই। অনেকেই বলছেন, একজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়াবেন না বলে ঘোষণা করে দেওয়ার বিষয়টা মোটেও স্বাভাবিক নয়। বিশেষত ওই প্রার্থী যে লড়াইয়ে উৎসাহী ছিলেন, তা তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট ছিল। সেখান থেকে আচমকা নাম তুলে নেওয়ার নেপথ্যে বিজেপি নেতৃত্বের হাত রয়েছে বলেই মনে করছে অভিজ্ঞরা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।