জলের নিচে জেগে ৬০০ বছরের চিনা শহর! বিজ্ঞানীদের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে যে খোঁজ

Atlantis of China: জলের এত নিচে ঠিক যেভাবে অবিকৃত রয়েছে ৬০০ বছরের পুরনো শিচেং শহর, তা দেখে বিস্মিত অভিযাত্রী থেকে ইতিহাসবিদ, সকলেই। আর সে কারণেই অনেকে তাকে প্রাচ্যের অ্যাটলান্টিস বলে থাকেন।

Sohini Das
৩ মিনিট
জলের নিচে জেগে ৬০০ বছরের চিনা শহর! বিজ্ঞানীদের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে যে খোঁজ

সমুদ্রের নিচে হারিয়ে যাওয়া আস্ত একটা দ্বীপ, গোটা সভ্যতা। এমন গল্প তো প্রায়শই শোনা যায় রূপকথা,পৌরাণিক গল্প কিংবা সিনেমায়। জিব্রাল্টার প্রণালীর পশ্চিমে অবস্থিত অতলান্তিক মহাসাগরের সেই কিংবদন্তি দ্বীপ অ্যাটলান্টিসের কথাও আমাদের অনেকেরই জানা। কিন্তু সেই অ্যাটলান্টিস আদৌ কোনওদিন ছিল, নাকি পুরোটাই কল্পনা, তা নিয়ে অবশ্য অনেক রকম মতভেদ রয়েছে। তবে সেই আটলান্টিস থাকুক ছাই না থাকুক, চিনের ঝেঝিয়াং প্রদেশে সমুদ্রের তলদেশে আজও রয়ে গিয়েছে আস্ত একটি শহর। তবে শুধু রয়ে গিয়েছে বললে ভুল হবে, সযত্ন সংরক্ষিত করা হয়েছে ৬০০ বছর পুরোনো সেই শহরকে।

১৯৫৯ সালে জিনআন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির সময় বাঁধের রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল আস্ত শহরটিকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অন্য জায়গায়। আর মানুষের হাতে তৈরি বন্যায় প্লাবিত হয়ে গিয়েছিল গোটা শিচেং শহর। তার পর কয়েক দশক সেই শহরটির কথা ভুলেই গিয়েছিলেন মানুষ। এখনও যে কিয়ানদা হ্রদের ৪০ মিটার গভীরে রয়ে গিয়েছে সেই শহরের অস্তিত্ব, তা জানত না প্রায় কেউই।

২০০১ সালে একটি অভিযানে অভিযাত্রীদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে হারিয়ে যাওয়া সেই অ্যাটলান্টিস শিচেং। সরকারের উদ্যোগে প্রাচীন সেই শহরের অবশিষ্টাংশ খুঁজে আনতে শুরু হয় একের পর এক অভিযান। আর তার পর যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে কার্যত অবাক চিন-প্রশাসন-সহ গোটা বিশ্ব। জলের নিচে আজও অপরিবর্তিত রয়েছে নানা পাথরের স্থাপত্য, যা তৈরি হয়েছিল ১৩৬৮ থেকে ১৯১২ সালের সময়কালে মিং এবং কিং রাজত্বে তৈরি। সিচেং শহরকে স্থানীয়রা বলেন সিংহের শহর। উশি পাহাড় সংলগ্ন এলাকা হওয়ার কারণেই এমন নাম বলে মনে করা হয়। চিনা ভাষা ম্যান্ডারিনে এই উ শি-র অর্থ পাঁচটি সিংহের পাহাড়। সেখান থেকেই ওই শহরকে বলা হত সিংহের শহর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাতের ইশারায় ঠিক হলো জমির মাপ! যেভাবে চিনাদের বসতি গড়ে উঠল বাংলায়

Chinatown: আজকের চায়নাটাউন, টেরিটিবাজার বা জি হিং চার্চ-কে ঘিরে কলকাতায় যে চিনা বসতি গড়ে উঠেছে, তার যাত্রাপথ শুরু আছিপুরে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চিনি থেকে সিগারেট! অবাক করবে চিনা বরদের এই আশ্চর্য বরপণ

China's Controversial Wedding Tradition: সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে বরের গাড়ি আটকে আশ্চর্য দাবি জানাতে দেখা গিয়েছে গ্রামবাসীকে।

২০১১ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের দৌলতে জলের তলার ওই শহরের বেশ কয়েকটি ছবি সামনে আসে। যা মুগ্ধ করেছিল বিশ্বকে। প্রায় এক বর্গকিলোমিটারের অর্ধেক জায়গা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে জলমগ্ন এই শহরটি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ওই ছবি থেকে জানা গিয়েছে, মোট পাঁচটি প্রবেশদ্বার ছিল শহরটির। প্রশস্ত রাস্তায় ২৫৬টি খিলান লাগানো পথ ছিল। যেখানে ড্রাগন, ফিনিক্স, সিংহ প্রভৃতি মূর্তি খোদাই করা রয়েছে। এছাড়া পাথরের মধ্যে খোদাই করা একাধিক শিলালিপির খোঁজ মিলেছে জলের অতলে। যার মধ্যে কিছু কাজ ১৭৭ সালের বলে অনুমান করা হচ্ছে।

জলের এত নিচে ঠিক যেভাবে অবিকৃত রয়েছে ৬০০ বছরের পুরনো শিচেং শহর, তা দেখে বিস্মিত অভিযাত্রী থেকে ইতিহাসবিদ, সকলেই। আর সে কারণেই অনেকে তাকে প্রাচ্যের অ্যাটলান্টিস বলে থাকেন। জলের নিচে জেগে থাকা এই যে নগর, তার স্থাপত্য, ছ'শো বছরের ইতিহাস, তা যে ভাবে বেঁচে রয়েছে চিনে, তা এক বিস্ময়। কেউ কেউ মনে করেন, জল আসলে এখানে বর্মের মতো যা বাতাস, বৃষ্টি এবং সূর্যের ক্ষয় থেকে শিচেং শহরকে রক্ষা করেছে, করে চলেছে অবিরত।

এই তো ক'দিন আগেই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ খোঁজার প্রমোদ অভিযানে নেমে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল একটি জাহাজ। তাদের ফেরা হয়নি। জলের নিচে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল সেই প্রমোদতরীটি। তবে চিনের এই জলমগ্ন শহরটি কিন্তু ফেরায়নি অভিযাত্রীদের। ইতিহাসবিদদের সামনে খুলে দিয়েছে সম্পূর্ণ এক নতুন ইতিহাসের দরজা। তবে যে কেউ যে চাইলেই সেই শহর দেখে আসতে পারবেন, তা কিন্তু নয়। এই লুকানো বিশ্বের খোঁজ পেতে চাই অতল গভীর জলে সাঁতারের অভিজ্ঞতা। যা সাধারণ পর্যটকদের কাছে মোটেও নিরাপদ নয় বলেই জানাচ্ছেন অভিজ্ঞরা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।