কালে কালে জৌলুস হারিয়েছে পুজোসংখ‍্যা? কী মত লেখকদের

Durgapuja 2022: পুজোসংখ‍্যার মান পড়ছে? কী বলছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, প্রচেত গুপ্ত, স্বপ্নময় চক্রবর্তী, অপরাজিতা দাশগুপ্ত, সাদিক হোসেনরা?

Aritra Dasgupta
৫ মিনিট
কালে কালে জৌলুস হারিয়েছে পুজোসংখ‍্যা? কী মত লেখকদের

শরৎকাল এলেই বাঙালি সেজে ওঠে 'পুজোর সাজ'-এ। ব্যতিক্রম হয় না সাহিত্যও। সেই কোন ১৮৭২ সালে কেশবচন্দ্র সেনের হাত ধরে শুরু হয়েছিল যে, শারদ সাহিত্যর ধারা একশো বছর কাটিয়ে আজও তার জয়যাত্রা চলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে তার রূপ। শুরুর দিকের হাতে গোনা কয়েকটা পত্রিকা এখন সংখ্যায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। বাঙালি মননশীল জাতি। তাই তার বিশেষ পালাপার্বণের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জুড়ে গিয়েছে সাহিত্যের উত্তরাধিকার।

বাংলায় প্রথম শারদীয়া পুজোসংখ্যায় উপন্যাস বেরোয় 'বসুমতী'-তে। তারপর সাহিত্যর পুজোসংখ্যায় হাতেখড়ি হয় 'আনন্দবাজার পত্রিকা'-র। ১৯২৬ সালে প্রথম পুজোসংখ্যা বের করে আনন্দবাজার। তার কিছু বছর পরের আনন্দবাজার পুজোসংখ্যায় ছাপা হয় প্রথম উপন্যাস মানিক বন্দোপাধ্যায়ের 'শহরতলী' এবং রবীন্দ্রনাথের বড় গল্প 'রবিবার'।

শারদ সংখ্যার পুনর্জন্ম হয় 'দেশ'-এর সম্পাদক সাগরময় ঘোষের হাত ধরে। তখন বাংলা সাহিত্যের নাব্যতায় সাহিত্যের তরী ভাসিয়েছেন বহু দিকপাল লেখক। রবীন্দ্রনাথ তো আছেনই, পাশাপাশি তখন খ্যাতির মধ্যগগনে বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী। এর পাশাপাশি লিখছেন নরেন্দ্র দেব, রাধারাণী দেবী- আরও অনেকে।

সময়টা ১৯৪৩। তখনও দেশভাগের বিভীষিকাময় দিনগুলো দেখেনি বাঙালি। দেব সাহিত্য কুটির থেকে প্রত্যেক বছরই পুজোর সময় বের হয় একটি করে নতুন বই। সম্পাদনা করেন নরেন্দ্র দেব বা প্রেমেন্দ্র মিত্রর মতো লেখক। আর সেই বইয়ের প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতাজুড়ে থাকে আশাপূর্ণা দেবী, রাধারাণী দেবী, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বিধায়ক ভট্টাচার্য, নরেন্দ্র মিত্র, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা। তখন পুজোসংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে বেরোতে শুরু করেছে টেনিদা ও ঘনাদার একটি করে গল্প। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সাল থেকে 'শুকতারা' পত্রিকার পুজোসংখ্যায় কলম ধরলেন প্রবাদপ্রতিম নারায়ণ দেবনাথ। জন্ম হলো 'নন্টে ফন্টে ' ও 'বাঁটুল দি গ্রেট'-এর মতো কমিক স্ট্রিপের।

১৩৭৮ সন, বা ১৯৭১ সালের 'দেশ'

প্রায় একই সময়ে 'দেশ' পত্রিকায় সুবোধ ঘোষের সঙ্গে লেগে থেকে তাঁকে দিয়ে পুজোসংখ্যার উপন্যাস লিখিয়ে নিচ্ছেন সাগরময় ঘোষ। ছয় থেকে সাতের দশকে বাংলা সাহিত্যে লিখছেন একঝাঁক নতুন লেখক। ১৯৭১ সালে ছোটদের জন্য বেরোচ্ছে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সম্পাদনায় 'আনন্দমেলা পুজাবার্ষিকী'। প্রথম 'আনন্দমেলা'-য় পাতাজোড়া ইলাস্ট্রেশনের সঙ্গে বেরোচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের 'প্রোফেসর শঙ্কু'। পাশাপশি 'সন্দেশ'-এ বেরোচ্ছে ফেলুদা সিরিজ, লীলা মজুমদারের শিশুসাহিত্য, নলিনী দাশের গণ্ডালু সিরিজ।

'আনন্দমেলা'-য় প্রোফেসর শঙ্কু-র বিজ্ঞাপন

আনন্দমেলা-র পূজাবার্ষিকীতেও তখন চাঁদের হাট। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখছেন সন্তু-কাকাবাবু সিরিজ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লিখছেন 'মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি'-র মতো মারাত্মক সব কিশোর উপন্যাস। পুজোয় ধারাবাহিক বেরোচ্ছে বুদ্ধদেব গুহ র 'ঋজুদা'। আর শেষ পাতে থাকছে মতি নন্দীর জাদু গদ্যে লেখা 'কোনি', 'স্ট্রাইকার', 'স্টপার'-এর মতো লেখা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শারদীয়া পুজোসংখ্যায় সাহিত্য হয়? নাকি গোটাটাই ঝোঁক?

Durga Puja Sharodiya: বাঙালির প্রথম শারদীয়া বের করেছিলেন কেশব চন্দ্র সেন। ‘ভারত সংস্কার সভা’ তখন তাদের বিখ্যাত সাপ্তাহিক ‘সুলভ সমাচার’ বের করত। হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত হল ১২৮০ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৮৭৩ সালের পুজোয় তাঁরা একটি ‘ছুটির সুলভ’ বের করবেন।

পিছিয়ে ছিল না আনন্দবাজার পত্রিকা-র পুজোসংখ্যা। রমাপদ চৌধুরীর 'পিকনিক', 'খারিজ', 'এখনই বা বাহিরি'-র মতো সব ক্লাসিকের জন্ম পুজোসংখ্যার পাতায়। নীললোহিত-এর উপন্যাস, সমরেশ বসুর লেখা, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস তখনকার পুজোসংখ্যা যেন সাহিত্যের আকর।

কিন্তু সময়ের বাঁকে বাঁকে কী জৌলুস হারিয়েছে পুজোসংখ্যা? পুজোসংখ্যার একাল-সেকালের অন্যতম সাক্ষী বর্ষীয়ান সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতে, "আমরা যখন লিখতে শুরু করি তখন একঝাঁক লেখক অমর সাহিত্য সৃষ্টি করছেন একসঙ্গে। বিভিন্ন পুজোসংখ্যায় লিখছেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, দিব্যেন্দু পালিতের মতো লেখক। তখনকার একটা ট্র্যাডিশন ছিল, প্রত্যেক দশ বছর অন্তর অন্তর একঝাঁক নতুন লেখক তৈরি হতো। সেটা তিনের দশক থেকেই ধারাবাহিকভাবে হয়ে আসছে। এখন এসে মনে হয়, সেই ধারাবাহিকতায় একটা ছেদ পরেছে। সাহিত্য নিয়ে মাতামাতিও অনেকটা কমে গেছে।"

বিভিন্ন পুজোসংখ্যায় লিখছেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, দিব্যেন্দু পালিতের মতো লেখক। তখনকার একটা ট্র্যাডিশন ছিল, প্রত্যেক দশ বছর অন্তর অন্তর একঝাঁক নতুন লেখক তৈরি হতো। সেটা তিনের দশক থেকেই ধারাবাহিকভাবে হয়ে আসছে।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কেবল আনন্দবাজার-ই নয়, তারপরে 'আজকাল' বা 'বর্তমান'-এর মতো পত্রিকার পুজোসংখ্যাতেও আত্মপ্রকাশ করেছেন একাধিক লেখক, যাঁরা দীর্ঘদিন পুজোসংখ্যায় সৃষ্টি করেছেন একের পর এক ক্লাসিক উপন্যাস। স্বপ্নময় চক্রবর্তী, অমর মিত্র, ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের পুজোসংখ্যার লেখা পড়ে পুজো কেটেছে আমবাঙালির। কিন্তু পুজোসংখ্যার চাপে কি কোথাও মান হারিয়েছে সাহিত্য? সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে মনে করেন, "আমাদের স্কুলজীবন কেটেছে সমরেশ বসুর 'বিবর', সুনীল গাঙ্গুলীর 'আত্মপ্রকাশ', শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'ঘুণপোকা'-র মতো উপন্যাস পড়ে। তারপর আনন্দবাজারে লিখতে এসে পেয়েছি রমাপদ চৌধুরীর মতো মানুষকে। যিনি লেখককে দিয়ে তার লেখাটা বের করে আনতে জানতেন। সাহিত্য যুগে যুগে বদলায়। মান পরেছে কি না, সেটা বিচার করবে উত্তরকাল। কিন্তু পুজোসংখ্যা নিয়ে সেই মাতামাতি হারিয়ে গিয়েছে অনেকটাই। পাঠকের উৎসাহ কমে গেলে লেখকের উৎসাহে খানিক ভাটা পড়বেই।"

প্রচেত গুপ্ত-র মতে, "পুজোসংখ্যার চাপ সাহিত্যের ক্ষতি করে কি না এই প্রশ্ন বহুকাল ধরেই হয়ে আসছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, এই ফরমায়েশি পুজো সংখ্যার লেখাই বাংলা সাহিত্যে এমন অনেক কাল্ট উপন্যাস, ছোটগল্প বা কবিতার জন্ম দিয়েছে যা ভবিষ্যতে আর কখনও হয়তো হবে না। লেখার ক্ষেত্রে সময় আমার মতে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভালো লেখা একরাতেও হয় আবার পাঁচ বছর সময় নিয়েও অনেক লেখা পাঠকের মনে দাগ কাটতে পারে না।"

আমাদের মনে রাখতে হবে, এই ফরমায়েশি পুজো সংখ্যার লেখাই বাংলা সাহিত্যে এমন অনেক কাল্ট উপন্যাস, ছোটগল্প বা কবিতার জন্ম দিয়েছে যা ভবিষ্যতে আর কখনও হয়তো হবে না।

প্রচেত গুপ্ত

পুজোসংখ্যার মান পড়ে যাওয়া নিয়ে সম্পূর্ণ অন্যরকম ভাবনা লেখিকা অপরাজিতা দাশগুপ্তের। তাঁর বক্তব্য, "এখনকার পুজোসংখ্যার অধিকাংশ লেখা দেখে মনে হয় তার পিছনে কোনও অধ্যাবসায় নেই। কথাটা হয়তো শুধু, শারদ সাহিত্য নয়, মোটের ওপর পনেরো আনা লেখার ক্ষেত্রেই সত্যি। বিশেষ করে উপন্যাস লেখার জন্য বিশেষ পড়াশোনা বা পরিশ্রম করতে অনেকে রাজি নন। সেজন্য হয়তো তাঁদের লেখা পাঠকমনে তেমন ছাপ ফেলতে পারে না।" পুজোসংখ্যার ফরমায়েশি লেখা সাহিত্যের মান কমিয়ে দেয় কি না, এই প্রশ্নে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি। বলেন, "আমার কাছে পুজো‌সংখ্যার লেখার বিশেষ চাপ থাকে না। সারা বছরই আমি লিখতে থাকি। কখনও কাগজের সম্পাদকের ফরমাশ মেনে, কিন্তু অধিকাংশ সময়ই নিজের ভেতরের তাগিদ থেকে। যে লেখার জন্য যত পরিশ্রম দরকার হয়, যে লেখা যে গবেষণা দাবি করে, তা করতে আমি কখনওই পিছপা হই না।"

কথাটা হয়তো শুধু, শারদ সাহিত্য নয়, মোটের ওপর পনেরো আনা লেখার ক্ষেত্রেই সত্যি। বিশেষ করে উপন্যাস লেখার জন্য বিশেষ পড়াশোনা বা পরিশ্রম করতে অনেকে রাজি নন। সেজন্য হয়তো তাঁদের লেখা পাঠকমনে তেমন ছাপ ফেলতে পারে না।

অপরাজিতা দাশগুপ্ত

সময়ের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে পুজোসংখ্যার সাহিত্য নিয়ে অন্য মতামত রাখেন এই প্রজন্মের লেখক সাদিক হোসেন। সাদিক বলেন, "বাইরে থেকে চাপ দিয়ে লিখিয়ে নেওয়ায় আমি বিশ্বাসী নই। ফরমায়েশি লেখা সবসময়ই লেখকের লেখাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পুজোসংখ্যা‌ও তার ব্যতিক্রম নয়। 'দেশ', 'আনন্দবাজার পত্রিকা'-র পুজোসংখ্যার তুলনা টেনে তাঁর অভিমত, "সেই সময়টাই বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগ আর এখন কিছুই হচ্ছে না- এমনটা আমার মনে হয় না। বরং এখন আরও অনেক ভালো ভালো লেখা তৈরি হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে সফল কোনও কাগজের পুজোসংখ্যায় না লিখেও বহু মানুষ নিঃশব্দে ভালো লিখে যাচ্ছেন। সর্বোপরি ইন্টারনেটের সহায়তায় বহু তরুণ লেখক তাঁদের ব্যতিক্রমী লেখা নিয়ে সরাসরি পৌঁছতে পারছেন পাঠকের দরবারে।"

১৯৯৩ সালে কবীর সুমন লিখেছিলেন, 'লেখকরা লেখে আর প্রকাশক ছাপে/ সাহিত্য মরে পুজোসংখ্যার চাপে'- আজকের তরুণ সাহিত্যকদের হাত ধরেই প্রকাশকের সেই বাইনারির বাইরে গিয়ে পুজোসংখ্যার চাপ থেকে শাপমুক্তি ঘটছে সাহিত্যর। লেখক-পাঠকের মাঝখান থেকে প্রকাশকের ভূমিকা কমলেও নতুন পাঠক তাকে কীভাবে আত্মস্থ করছে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যায়।

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।