মুকেশ আম্বানির বাড়ির দিকে কেন আড়নজ‍র রতন টাটার?

Ratan Tata vs Mukesh Ambani: রতন টাটা বনাম মুকেশ আম্বানি! ঠিক কী ঘটেছিল?

Raktim Dey
৩ মিনিট
মুকেশ আম্বানির বাড়ির দিকে কেন আড়নজ‍র রতন টাটার?

ভারতে বিত্তবানদের মধ্যে শ্রদ্ধেয় এবং জনদরদি বলে যারা পরিচিত, তাদের মধ্যে প্রথম সারির নাম রতন টাটা। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও তাঁর একটি নেশা হলো মানবকল্যাণ। নেশা না বলে বরং বলা যায় সাধারণ মানুষের উপকার করা তাঁর সাধনা। তাঁর জীবনধারনের রীতি থেকে তাঁর বক্তব্য- সবকিছুই বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বেফাঁস মন্তব্য করা তাঁর স্বভাবের সঙ্গে ঠিক খাপ খায় না। সংযম তাঁর চরিত্রর একটা বড় গুণ। মানুষের জীবনধারণের মান উন্নত করার চেষ্টায় মগ্ন এই মানুষটির একটি সাক্ষাৎকার গত দশকে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই আলোড়নের প্রভাব আজও মাঝেমধ্যেই আমরা নেটমাধ্যমে দেখতে পাই।

২০১১ সালে এক বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক রতন টাটার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছিল। সেই সাক্ষাৎকারে রতন টাটাকে ভারতে অপর এক ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ভবিষ্যতের বাসস্থান অ্যান্টিলা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেই প্রশ্নের উত্তরে রতন টাটা বলেছিলেন,

আমি বুঝতে পারি না, মানুষ এমনটা কীভাবে করতে পারে? যাঁরা এই ধরনের বাড়িতে থাকেন, তাঁদের নিজের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকা দরকার এবং সকলের আর্থিক, সামাজিক উন্নতির জন্য চিন্তা করা দরকার। যাঁদের কাছে প্রভূত পরিমাণ অর্থ রয়েছে, তাঁদের উচিত, নিজেদের অর্থের কিছুটা মানবকল্যাণে ব্যয় করা। এইভাবেই সমাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি কারও কাছে প্রভূত অর্থ থাকে এবং সে সমাজের আর্থিক বৈষম্য দূর করার চেষ্টা না করে, শুধু মনেই ভাবে যে, দেশের আর্থিক বৈষম্য আপনা থেকেই দূর হয়ে যাবে, তাহলে তা সকলের দুর্ভাগ্য।

এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। কিছু মানুষ রতন টাটার এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়েছিল। বহু মানুষ বলেছিল, ভারতের মতো একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশের ক্ষেত্রে একটি কথা খাটে, এখানে ধনী আরও ধনী হয়ে চলেছে এবং গরিব আরও গরিব হয়ে চলেছে। রতন টাটার মতো মানুষরাই সেই অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারবেন। তাই এমন এক ভারতবাসীর জন্য দেশের মানুষের গর্ব অনুভব করা উচিত। রতন টাটার এই সাক্ষাৎকার আবার সকলে সমর্থনও করেনি। কিছু মানুষ বলেছিলেন যে, রতন টাটা আসলে মুকেশ আম্বানির প্রতি হিংসার বশবর্তী হয়ে এই বক্তব্য করেছেন। আবার কিছু মানুষ বলেছিলেন যে, রতন টাটা নিজে সাধারণ জীবনযাপন করেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তাই ব্যবসা করে উপার্জিত অর্থে কেউ নিজের বাড়ি বানালে তাঁর সমালোচনা করা উচিত নয়। কারণ সেটাও তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।

এই বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা প্রশমিত করতে আসরে নেমেছিল টাটা গোষ্ঠী। টাটা গোষ্ঠীর এক মুখপাত্র বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ইংরেজি দৈনিকটির প্রকাশ করা রতন টাটার সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন অসংগতি রয়েছে। টাটা গোষ্ঠীর শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান কখনওই কোনও ব্যক্তি অথবা জায়গা উদ্ধৃত করে কোনও বক্তব্য রাখেননি। রতন টাটা কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়েও কোনও বক্তব্য রাখেননি। 'প্রভূত অর্থ এবং সম্পত্তি' বলতে ভুল তথ্য পেশ করা হয়েছে। তারা দৈনিকটির দফতরে যোগাযোগ করে এই অসংগতিপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রকাশের কারণ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করছে।

টাটা গোষ্ঠীর মুখপাত্রর এই বিবৃতির পরে টাটা অথবা আম্বানি, কোনও গোষ্ঠীর তরফেই এই সাক্ষাৎকার সম্পর্কে নতুন কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। যদিও সাধারণ মানুষের মনে হয়তো এই একটা সাক্ষাৎকার রং চড়িয়ে সিনেমার রূপ ধরেছিল। সেই সিনেমার নায়ক যেন রতন টাটা। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার জীবন্ত রূপ। বহু মানুষের উপকার করে তিনি মানুষের কাছে শিল্পপতির থেকে জনদরদি হিসেবে বেশি সম্মান পেয়ে চলেছেন। টাটা গোষ্ঠীর এত বড় ব্যবসা এবং সেই ব্যবসার এত আয় সত্ত্বেও কেন রতন টাটা ভারতের সবথেকে ধনী ব্যক্তি হতে পারেননি, সেই সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য এবং তার বিশ্লেষণ বিনামূল্যে নেটমাধ্যমে পাওয়া যায়। কিন্তু যাকে নিয়ে এত হইচই? ৮৪ বছর পর আজও তিনি মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করছেন।

লিখেছেন
Raktim Dey
Raktim Dey
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।