পরিবেশ বাঁচাতে সাইকেল চালাচ্ছেন? সবচেয়ে বেশি মৃত্যুমুখে পড়ছেন আপনিই

Air Pollution and Bicycle: একই রাস্তায় একইসঙ্গে এসি গাড়ি, পথচারী মানুষ এবং বাইসাইক্লিস্টের উপর কতটা বায়ুদূষণের প্রভাব পড়ছে তা জানার জন্য একটি পরীক্ষা করা হয়।

Arindam Roy
৩ মিনিট
পরিবেশ বাঁচাতে সাইকেল চালাচ্ছেন? সবচেয়ে বেশি মৃত্যুমুখে পড়ছেন আপনিই

একটা মানুষ, ধরা যাক সে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে দিন আনি-দিন খাইয়ের চাকরি করে। সেই মানুষটি প্রতিনিধিত্ব করে এরকম লাখ লাখ মানুষের যারা, বাস বা অটোর ভাড়া বাঁচানোর জন্য সাইকেল চড়ে। কলকাতার অলিগলি পাকস্থলী দিয়ে তারা কোনওরকমে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে যায়। ধোঁয়া আর ধুলোয় তার কষ্ট হয় খুব, কাশি বা কফ এমনকী কানেও আজকাল একটু কম শোনা যাচ্ছে। একটু বেশিক্ষণ সাইকেল চালালেই হাঁফ ধরে তার। কিন্তু তার তো কোনও উপায় নেই। চালাতেই হবে সাইকেল। এর আগে পৃথিবীর বহু শহরে, বহু বিজ্ঞানী বহু গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে বায়ুদূষণ আমাদের ফুসফুস, আমাদের হৃৎপিণ্ড এবং সর্বোপরি গোটা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। আমাদের কলকাতাতেও হয়েছে এরকম গবেষণা কিন্তু কখনও সেই মানুষটার জন্য গবেষণা হয়নি যে কিনা একটি পরিবেশবান্ধব যাতায়াত মাধ্যম ব্যবহার করে অথচ সবথেকে বেশি বায়ুদূষণের সম্মুখীনও তাকেই হতে হয়।

সম্প্রতি পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ক্লাইমেট থিঙ্কার, কলকাতার অলিতে গলিতে বায়ুদূষণের মাত্রা কী রকম তা মেপেছে এবং তার পাশাপাশিই বেশ কিছু মানুষের সমীক্ষা করেছে যারা স্রেফ বাস এবং অটোর ভাড়া বাঁচাবার জন্য সাইকেল চড়েন। ৯ জন বাইসাইকেল আরোহী, প্রায় আট মাস ধরে শহরের আনাছে কানাচে ঘুরে বেরিয়েছেন তাদের সাইকেলে বায়ুদূষণ মনিটর সঙ্গে নিয়ে। তাতে কী পাওয়া গেছে? আমাদের এতদিন ধারণা ছিল যে, বড় রাস্তাতে সব থেকে বেশি বায়ুদূষণ হয় কারণ অনেক গাড়ি থাকে, বড় রাস্তা থেকে যত ছোট ছোট গলিতে ঢোকা যায় তত দূষণের পরিমাণ কমে যেতে থাকে। কিন্তু এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এই নতুন সমীক্ষা। এই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি এবং ছোট রাস্তা দূষণের নিরিখে পাল্লা দিতে পারে বড় রাস্তাগুলিকে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত, সব ঋতুতেই এই একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শহুরে পরিবেশবিদের ডায়েরি : অরিন্দম রায়

Shohure Poribeshbider Diary: উইপোকার ঢিপি এমন একটি স্থাপত্য শৈলীর উদাহরণ যেখানে ঢিপির মধ্যেকার তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বাইরের খুব গরম বা ঠান্ডার সময়ও একইরকম থাকে।

এর কারণ মূলত দুটো, প্রথমত রাস্তা যত ছোট হয় এবং তার সঙ্গে দু'পাশে বাড়ির উচ্চতা, ততই বাতাস চলাচল কমে যায়। ফলে একটা ছোট্ট রাস্তা দিয়ে হয়তো একটা গাড়ি গেছে বা দুটো মোটরবাইক গেছে কিন্তু সেই ধোঁয়াই পাক খেতে খেতে ওই জায়গাতে রয়ে যায়। দ্বিতীয় কারণ হলো, রাস্তার কাজ। বর্ষার পর থেকে কলকাতার অলিতে গলিতে রাস্তা খুঁড়ে জল এবং বিদ্যুতের লাইনের কাজ চলেছে। কাজ হয়ে যাওয়ার পরে রাস্তাগুলিতে কোনওরকমে মাটি বা বালি চাপা দেওয়া হয়েছে। এর ওপর দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে যখন সেই ধুলো বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে। একইসঙ্গে খোঁড়া রাস্তাতে জ্যাম হচ্ছে অনেক বেশি। ফলে দূষণ বাড়ছে।

এরপরে একই রাস্তায় একইসঙ্গে এসি গাড়ি, পথচারী মানুষ এবং বাইসাইক্লিস্টের উপর কতটা বায়ুদূষণের প্রভাব পড়ছে তা জানার জন্য একটি পরীক্ষা করা হয়। সেখানে একইসঙ্গে এসি গাড়ির মধ্যে, পথচারী মানুষ এবং বাইসাইকেলে বায়ুদূষণ মাপার যন্ত্র বসিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, বাইসাইকেল আরোহী এসি গাড়িতে বসা মানুষের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি বায়ুদূষণের সম্মুখীন হচ্ছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাড়িতে নিয়মিতই আসে ২০ লিটারের জলের জার? ভয়াবহ রোগের মুখে দাঁড়িয়ে আপনি

Water Jar Bacteria: শহরের বেশিরভাগ জায়গাতেই মূলত কুড়ি লিটারের জার ব্যবহার করে থাকেন বাসিন্দারা। সেই কুড়ি লিটারের জারে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি লক্ষণীয়।

আমরা কথা বলেছি প্রায় ২০০ জন সাইকেল আরোহীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে কিছু জন হলেন রিক্রিয়েশনাল সাইক্লিস্ট আর কিছু জন হলেন লাইভলিহুড সাইক্লিস্ট। অর্থাৎ কিছু মানুষ শরীর সুস্থ রাখার জন্য বা খেলা হিসেবে সাইকেল চালান আর কিছু মানুষ গণপরিবহণের টাকা বাঁচানোর জন্য সাইকেল চালান। আমরা দেখেছি, এই লাইভলিহুড সাইক্লিস্টরা রিক্রিয়েশনাল সাইক্লিস্টের থেকে প্রায় ৭ গুণের ও বেশি বায়ুদূষণের সম্মুখীন হন। কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন এই দূষণের মধ্যে সাইকেল চালিয়ে তাদের শরীর খারাপ হয়ে গেছে।

এই সমীক্ষার তথ্য তুলনা করা হয়েছে ইওরোপের বেশ কিছু দেশের সঙ্গে। সেখানে কিন্তু সাইকেল আরোহীরা অন্যান্য পরিবহণ মাধ্যমের তুলনায় বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা পান। তার মূল কারণ হলো, আলাদা বাইসাইকেল লেন এবং রাস্তা এবং সেই বাইসাইকেল লেনের মধ্যের গাছের সারি।

একটা অপ্রিয় প্রশ্ন তাই স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে। বাইসাইক্লিস্টরা সরাসরি কোনওরকম বায়ুদূষণ করেন না কিন্তু বায়ুদূষণের ফলে তারাই সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই অসাম্য কেন?

এই কাজটির জন্য আমরা কলকাতা সাইকেল সমাজ এবং শতঞ্জীব গুপ্তর কাছে কৃতজ্ঞ।

লিখেছেন
Arindam Roy
Arindam Roy
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?