'দুষ্টু লোক' বলে ইন্টারভিউ দিলেন না সুচিত্রা সেন

সুচিত্রা তেমনভাবে শরীর দেখাননি কখনও। তাঁর ছিল ঢাকা না-ঢাকার খেলা। এই খেলার তিনি দেবী। কামকলা তাঁর শরীরে বইছে নদীর মতো। এই নিরন্তর বহতা নিয়ে তিনি তাঁর বাড়ির দীর্ঘ বারান্দা পেরিয়ে আমার কাছে, একেবারে সামনে, এসে দাঁড়ালেন।

Ranjan Bandyopadhay
৩ মিনিট
'দুষ্টু লোক' বলে ইন্টারভিউ দিলেন না সুচিত্রা সেন

সুচিত্রা সেনকে অনেকবার সামনাসামনি দেখেছি। কথাও বলেছি। এসব ঘটনা ঘটেছে ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৭০-এর মধ্যে। আমার বয়স তখন বিশ থেকে তিরিশের ভেতর। পিছন ফিরে তাকিয়ে একটা সত্যি কথা বলে রাখি। সুচিত্রার মত মনোহর সুন্দরী, এবং অমোঘ যৌন আবেদনের বাঙালি মেয়ে আর একটিও দেখিনি। সুচিত্রা আমার অতীতের অবসেশন নয়। বর্তমানেও সুচিত্রা আমার সেক্স-স্বপ্ন।

সুচিত্রা তেমনভাবে শরীর দেখাননি কখনও। তাঁর ছিল ঢাকা না-ঢাকার খেলা। এই খেলার তিনি দেবী। কামকলা তাঁর শরীরে বইছে নদীর মতো। এই নিরন্তর বহতা নিয়ে তিনি তাঁর বাড়ির দীর্ঘ বারান্দা পেরিয়ে আমার কাছে, একেবারে সামনে, এসে দাঁড়ালেন। আমার বয়স পঁচিশ। আমি ডুবে গেলাম, ভেসে গেলাম, পাগল হয়ে গেলাম তাঁর প্রণয়ে। সুচিত্রার সঙ্গে আমার প্রেম সারাজীবনের ডুবসাঁতার!

সুচিত্রা আমাকে কোনওদিন কোনও সাক্ষাৎকার দেননি। বেশ করেছেন দেননি। ঠিক করেছেন। উত্তমকুমার আমাকে বারবার ইন্টারভিউ দিয়েছেন। সুচিত্রা আমার মরীচিকা চিরন্তনী!

আমি প্রতিশোধ নিতে ছাড়িনি। প্রতিদিন প্রেমপত্র লিখেছি সুচিত্রা মায়াবিনিকে। প্রতিদিন চিঠির সঙ্গে ফুলের স্তবক। চিঠির গায়ে মিশিয়েছি ফরাসি পারফিউম। সাতদিনে সাতটি প্রণয়পত্র। সাতটি স্তবক। দরজায় রেখে এসেছি। কোনও উত্তর আসেনি। আমার সুচিত্রাকে আরও ভালো লেগেছে। উত্তর না দেওয়ার অধিকার সুচিত্রার আছে। যেমন আমার আছে পাগলের মতো তাঁর প্রেমে পড়ার অধিকার। এবং তাঁকে সেই প্রণয় জানানোর অধিকার।

মুনমুন আমাকে একদিন ফোন করল। তখন কিন্তু ল্যান্ডলাইনের যুগ। বাবা ফোন ধরে বললেন, মুনমুন ফোন করেছে তোকে। মুনমুন আমার খুব বন্ধু। তখন। এবং এখনও।

মুনমুন বলল, মা-র সঙ্গে তুমি কী করছ বলো তো?

আমি বললাম, প্রেম।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'পুরুষের থেকে অনেক বেশি কষ্ট সহ্য করে মেয়েরা', সত্যজিৎ বলেছিলেন সেদিন

মানিকদা গম্ভীর। উনি পাইপ মুখে সামনের বিশাল খোলা জানলা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ মগ্ন। কোনও কথা নেই। আমার বুক ধড়ফড় করছে। কী বিপন্ন অপেক্ষা!

মুনমুন বলল, তাহলে আমার সঙ্গে কী করছ?

বললাম, প্রেম।

মুনমুন হেসে বলল, মা আমাকে বলেছে তোমাকে জানিয়ে দিতে, মা তোমাকে কোনওদিন ইন্টারভিউ দেবে না।

আমি বললাম, কেন?

মুনমুন বলল, মা বলেছে তুমি খুব দুষ্টু লোক, তাই।

আমি সুচিত্রার প্রেমে আরও পাগল হলাম। এবং বুঝলাম, সুচিত্রাকে নিয়ে আমার পাগল হওয়ার কোনও শেষ নেই। আজও সুচিত্রাকে নিয়ে আমার দুষ্টু-মিষ্টি খোয়াব অন্তহীন, বিপজ্জনক!

সেইসব গোপন-গহন ইচ্ছের দাগ লেগে আছে আমার সুচিত্রাকে নিয়ে লেখা অসংখ্য লেখায়। আমার বাসনার বাসা সুচিত্রাকে লেখা আমার পত্রগুচ্ছ। আর আমার দু'টি বই। একটির নাম 'সুচিত্রা ও অন্যান্য'। অন্য বইটি 'গাংচিল' প্রকাশিত, 'সুচিত্রা: অন্তরাল ও নির্বাসন'। এটি সুচিত্রা সেনকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, যার নায়ক উত্তমকুমার।

ছবি সৌজন্য: লেখক

'সুচিত্রা ও অন্যান্য' উদ্বোধন হয়েছিল পার্ক হোটেলের ব‍্যাঙ্কোয়েটে। উদ্বোধন করেছিল মুনমুন। এবং দু'টি বইই বেরিয়েছে সুচিত্রার জীবনকালে। দু'টি বইই আমার সুচিত্রা অবসেশনের প্রবুদ্ধ ফসল!

'সুচিত্রা ও অন্যান্য'-তে প্রকাশিত হয়েছে আমার সুচিত্রাকে লেখা প্রেমপত্রগুচ্ছের একটি চিঠি। তার কিছুটা এইরকম: অলক্ষ্য অলকাপুরী নিবাসিনী সমীপে, তুমি যে সাংবাদিকদের বিশ্বাস করো না, খবরের কাগজের লোকজনদের ওপর তোমার যে শ্রদ্ধা-ভক্তি নেই, এই বিষয়ে তোমার মতো আমিও নিশ্চিত। তোমার ব্যক্তিগত জীবন একান্ত তোমারই। অস্কার ওয়াইল্ডের দৈত্যের মতো তুমি দেওয়াল তুলে দিয়েছ তোমার একান্ত নিজস্বকে আগলে। তবু তোমাকে খুব ভালবাসি বলে জানতে ইচ্ছে হয়, কী খেতে ভালবাসো তুমি? বাড়িতে শাড়ি না হাউজকোট? না কি খোলামেলা আরামের অন্য কিছু? কী রঙের লিপস্টিক তোমার পছন্দের? কোন কোন মুডে বা দিনরাতের কোন কোন সময়ে আবেদনের কোন রং ঠোঁটে? আচ্ছা, কেমন ছিল তোমার সঙ্গে তোমার স্বামীর সম্পর্ক? মুনমুন সিনেমায় নামছে। তাতে তোমার কষ্ট না খুশি? কী করো তুমি সারাদিন? পুজো? বই? একলা ঘরে মনকেমন? আর উত্তম? তোমার উতু? মন কেমনের কষ্ট নেই? তুমি কিন্তু থেকেই গেলে আমার প্লাবন। আমার পাগলামি। আমার অবসেশন। যতদিন বাঁচব, লিখব তোমাকে নিয়ে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এক তরুণী লাল ব্লাউজ ছুড়েছিলেন উত্তমকুমারের দিকে

উত্তম সবসময় সুচিত্রাকে রমা নামে ডাকতেন। কখনও সুচিত্রা নামটি তাঁর মুখে শুনিনি। আমার প্রশ্নের উত্তরে বললেন, রমাকে এত ভালো দেখতে যে, শুধু ওকে দেখার জন্যই তো হাজার হাজার লোক আসে। আমার সবথেকে সুন্দরী, গ্ল্যামারাস নায়িকা কিন্তু রমা।

সুচিত্রা সেনকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন উত্তমকুমার, উত্তরে কী বলেছিলেন মহানায়িকা?

উত্তম মৃদু হেসে বলেন, রমার সঙ্গে আমার কেমিস্ট্রির মিল, বুঝলে হে! এই জিনিস অভিনয় করে তৈরি করা যায় না। কেমিস্ট্রির বাংলাটা কী হবে বলো তো?

মানহানির মামলার হুমকি দিয়েছিলেন উত্তমকুমার, কী ছিল সেই বিতর্কিত সাক্ষাৎকারে

একটা সিম্পল ইন্টারভিউ। যে ইন্টারভিউ প্রমাণ করবে, উত্তমকুমারের গ্ল্যামার, কারিশমা সব নেহাত ওপরের ব্যাপার। ভেতরের মানুষটা নেহাত সাধারণ। অর্থাৎ, খুব আস্তে আস্তে মানুষটির পায়ের তলা থেকে কার্পেটটা সরিয়ে নিতে হবে।

প্লেনে দু'জনে দাঁড়িয়ে গল্প করেছিলাম, অপর্ণার মতো বন্ধু হয় না

একবার উড়ানে দেখা হলো অপর্ণার সঙ্গে। একেবারে অপ্রত্যাশিত দেখা হওয়া। দু'জনেই যাচ্ছি আমেরিকায়। অপর্ণা বিজনেস ক্লাস। আমি সাধারণ শ্রেণি। আমরা ক্লাসলেস হয়ে স্রেফ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করলাম। এই অপর্ণাকে কোনওদিন ভুলব না।

'হিমালয়ের মতো পথ আগলে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তাই দুম করে মারলাম হিমালয়কে লাথি'

দুর্গাপুজোর মধ্যে চলে গেলেন সুনীলদা। সকালবেলা টিভি চ্যানেল থেকে ফোন, সুনীলদা নেই, কিছু বলবেন?

'দুগ্গাপুজোয় শুধু নতুন জুতো হলেই হবে! নতুন সেক্স চাই না?' পুজোর সোনাগাছির গোপন কথা

Redlight Area: অষ্টমীর অপরাহ্ন গড়িয়ে যায় অষ্টমীর সন্ধ‍্যায়। বাবুদের ভিড় বাড়তেই থাকে। লক্ষ্য করি, নাগরীরা সবাই পড়েছে নতুন কাপড়। নিজেরা কিনেছে? না বাবুরা দিয়েছে?

মহাভারতে সতীত্বের কোনও চিহ্ন নেই, বলেছিলেন রাধাপ্রসাদ গুপ্ত

Bengali Journalism: আজকাল দেখেছি অধিকাংশ সাংবাদিক নানা বিষয়ে পড়াশোনা করেন না। একটা সময় এমন ছিল না।