বিয়ে মানেই জোড়া ইলিশ! বাংলার সংস্কৃতিতে যেভাবে জড়িয়ে এই মাছ

পদ্মার ইলিশের স্বাদ ভিন্ন কেন? মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলেন পদ্মা ও মেঘনা অববাহিকায় জলের প্রবাহের ধরন আলাদা, যার ফলেই ইলিশের স্বাদেও পার্থক্য থাকে। পদ্মায় সাধারণত তিন রকমের ইলিশ পাওয়া যায়- পদ্মা ইলিশ, চন্দনা ইলিশ, ও গুর্তা ইলিশ।

tiasa gupta
৪ মিনিট
বিয়ে মানেই জোড়া ইলিশ! বাংলার সংস্কৃতিতে যেভাবে জড়িয়ে এই মাছ

...নদীর নিবিড়তম উল্লাসে মৃত্যুর পাহাড়।

তারপর কলকাতার বিবর্ণ সকালে ঘরে ঘরে

ইলিশ ভাজার গন্ধ; কেরানীর গিন্নির ভাঁড়ার

সরস শর্ষের ঝাঁজে। এলো বর্ষা, ইলিশ-উৎসব।

বুদ্ধদেব বসুর কলম থেকে উৎসারিত ‘ইলিশ’ কবিতা যেন যথার্থই ইলিশপুরাণ। কলমের এক আঁচড়ে বর্ষার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন ইলিশ উৎসবের অনুষঙ্গ।

পাতে ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাত আর এক টুকরো ভাজা ইলিশ, সঙ্গে নুন, কাঁচালঙ্কার যোগ্য সঙ্গত। এই সামান্যর স্বপ্নে চিরকাল মশগুল লক্ষ লক্ষ বাঙালি। বর্ষায় খিচুড়ির সঙ্গে ভাজা ইলিশ হোক বা চ‌টজলদি বেগুন দিয়ে ঝোল, ইলিশ-সুখের তালিকা দীর্ঘ। মাছের বাজারে গেলে পকেটে রেস্তো থাকুক বা না থাকুক, তার চকচকে রুপোলি দেহসৌষ্ঠব চোখ টানবেই। আর কড়াইয়ে পড়লেই স্বর্গীয় আঘ্রাণ! চরম খাদ্যে বেরসিকেরও জিভের গোড়ায় জল আসতে বাধ্য। আসলে বাঙালির কাছে ইলিশ কেবল উপাদেয় মাছ নয়, স্বতন্ত্র সংস্কৃতি।

বাঙালির ইতিহাস, বাণিজ্য এমনকী, শাস্ত্রেও জুড়ে রয়েছে ইলিশ। এককথায় বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে ইলিশের যুগলবন্দি বহুদিনের। বাঙালির সাহিত্যেও জায়গা করে নিয়েছে রূপে-গুণে সুন্দর এই মাছ। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর কবিতা 'ইলশে গুঁড়ি'-তে ইলিশ মাছের ডিমের কথাও উল্লেখ করেছেন।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘ইলশে গুঁড়ি’ কবিতায় ছন্দে ছন্দে বর্ষাকে আবাহন করেছেন। ইলিশকে রেখেছেন তিনি বৃষ্টির স্বরূপ বন্দনায়:

ইলশে গুঁড়ি! ইলশে গুঁড়ি

ইলিশ মাছের ডিম।

ইলশে গুঁড়ি ইলশে গুঁড়ি

দিনের বেলায় হিম। ...

নেবুফুলের কুঞ্জটিতে

দুলছে দোদুল দুল;

ইলশে গুঁড়ি মেঘের খেয়াল

ঘুম-বাগানের ফুল।

প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'ঘনাদা' থেকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি'-তেও রয়েছে ইলিশ প্রেমের উল্লেখ।

'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসটি পাঠ করতে গিয়ে স‌ংগত কারণেই পাঠকের অনুসন্ধিৎসা জাগে ইলিশ নিয়ে। কারণ ইলিশের প্রসঙ্গ এলেই আসে পদ্মার ইলিশ। 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের কৈবর্তপল্লীর মাঝিদের জীবিকার প্রধান উৎস ইলিশ শিকার। উপন্যাসে ইলিশ শিকারের প্রসঙ্গ অবশ্যই আছে; আছে ইলিশ শিকারের যন্ত্রণা, বিপণনের স‌ংকট, ইলিশের দাম নিয়ে মুৎসুদ্দি শ্রেণির প্রতারণা, মূল্যবোধের স্খলন- কোনওকিছুই বাদ যায়নি উপন্যাসে।

এত যার রূপের গমক, সে এল কোথা থেকে, কেনই বা তার এত আদর, সে খোঁজও চলছে কবে থেকে। এই মাছের নাম কে দিয়েছেন? নশো বছর আগে পণ্ডিত জীমূতবাহন ইলিশের নাম দিয়েছিলেন। তবে নামের পিছনে অর্থ রয়েছে। আমরা যে বানানটি লিখি, সেটা ঠিক নয়। আসল বানানটি হল 'ইলীশ'। 'ইল' মানে 'জলের মধ্যে', আর 'ঈশ' কথার মানে যিনি 'শাসক'। একসঙ্গে এর অর্থ দাঁড়ায়, যে জলজগতের কর্তা। তবে ব‍্যুৎপত্তির জন্য বানানটি এখন 'ইলিশ' লেখা হয়। এছাড়াও ইলিশ শব্দের অর্থ, তৈলাক্ত বা চকচকে। এলাকাবিশেষে নাম বদলেছে এই সুস্বাদু মাছের। ওড়িয়া ভাষায় ইলিশকে বলে ইলিশি। তেলুগুতে এই মাছকে বলে পোলাসা। গুজরাতে আবার স্ত্রী ও পুরুষ ইলিশের নাম আলাদা। স্ত্রী ইলিশকে বলা হয় মোদেন, পুরুষ ইলিশের নাম পালভা। পাকিস্তানের সিন্ধু ভাষায় এই মাছের নাম পাল্লা। বার্মিজদের ভাষায় এই মাছ সালাঙ্ক।

বাঙালির ইলিশ প্রেম আদি, অকৃত্রিম, চিরন্তন। ইলিশের পেটি, গাদা, ল্যাজা, মুড়ো, তেল, কানকো, কাঁটা, ডিম... জলের রানির কিছুই যে ছাড়া যায় না! ঝোল, ঝাল, তেল, অম্বল- যেমনভাবেই খান, খাওয়ান, সবেতেই সুখ! ইলিশ আর শুধুমাত্র একটা মাছে আটকে নেই! সংস্কৃতির অংশ হয়ে গিয়েছে! এখানেই শেষ নয়! ইলিশ মাছ ধরতে বেরনোর আগে ধূপধুনো দিয়ে নৌকায় ওঠেন জেলেরা। জাল পুজো করেন। নৌকার গলুইয়ে মিষ্টিবাতাসা বা চিনি দিয়ে, তারপর জাল তোলেন। এরপর, জালে যখন প্রথম ইলিশটা ওঠে, তাকে একটা থালায় করে, জালের ওপর রেখে, সিঁদুর-হলুদ মাখিয়ে বরণ করা হয়! অনেকে আবার ধূপধুনো, বাতাসাও দেন। তারপর, মাছের মাঝের খানিকটা অংশ কেটে নৌকার গলুইয়ে পুঁতে দেন। পরম্পরাগতভাবে এমনটাই চলে আসছে।

এ তো গেল জেলেদের কথা। বাড়িতে জেলে বউদেরও নিয়মের শেষ নেই। সরস্বতী পুজোর দিন জোড়া ইলিশ এনে সিঁদুর-হলুদ মাখিয়ে ধানদুর্বা দিয়ে কুমিল্লা ও নোয়াখালির জেলেবউরা ইলিশ বরণ করেন। গলায় গান- ইলিশ মাছে কাটে বউ/ ধার নাই বটি দিয়া/ ইলিশ মাছ রান্দে বউ/ কচু বেগুন দিয়া।

রানি বলে কথা! তাঁকে নিয়ে এটুকু আদিখ্যেতা না করলে কি আর চলে?

ইলিশ বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। ভাজা, ভাপা, ঝোল আর তরকারি— এই চার পদ্ধতিতে ইলিশ খায় বাঙালি। ইলিশ আমাদের জীবনের এতটাই গভীরে ঢুকে গেছে যে আমরা জোড়া ইলিশকে বানিয়ে ফেলেছি শুভ ও মঙ্গলের প্রতীক। বিয়ের মতো শুভ কাজে একসময় জোড়া ইলিশ দেওয়া হতো। বাঙালি যে পরিবারে ইলিশের যত বেশি আয়োজন, সে পরিবারের ততটাই খ্যাতি।

ইলিশেরও আবার রকমফের আছে- চন্দনা ইলিশ, খয়রা ইলিশ, জাইতকা ইলিশ, ফ্যাঁসা ইলিশ ইত্যাদি। তবে বাঙালির কথায়, বা তর্কে যে দুই ইলিশের নাম সবচেয়ে বেশি উঠে আসে তা হল পদ্মার ইলিশ ও গঙ্গার ইলিশ। পদ্মার ইলিশে তেল বেশি এবং দেখতেও উজ্জ্বল। তাই পদ্মার ইলিশের স্বাদ বেশি পছন্দ করে মানুষ। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, নদীর ইলিশ সাধারণত একটু বেঁটেখাটো হয়। আর সমুদ্রের ইলিশ আকারে অনেকটাই লম্বা ও সরু। এছাড়া পদ্মা-মেঘনা অববাহিকার ইলিশ মাছের আকার হয় পটলের মতো, অর্থাৎ মাথা আর লেজ সরু আর পেটটা মোটা হতে হবে। খাদ্যরসিকরা মনে করেন, নদীর ইলিশ আর সাগরের ইলিশের মধ্যে স্বাদে অনেক পার্থক্য আছে।

কিন্তু পদ্মার ইলিশের স্বাদ ভিন্ন কেন? মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলেন পদ্মা ও মেঘনা অববাহিকায় জলের প্রবাহের ধরন আলাদা, যার ফলেই ইলিশের স্বাদেও পার্থক্য থাকে। পদ্মায় সাধারণত তিন রকমের ইলিশ পাওয়া যায়- পদ্মা ইলিশ, চন্দনা ইলিশ, ও গুর্তা ইলিশ। অন্যদিকে গঙ্গায় দুই ধরনের ইলিশ- খোকা ইলিশ ও ইলিশ। ছোট ইলিশগুলিকেই খোকা ইলিশ বলা হয়। আরও ছোটগুলিকে বলা হয় খয়রা ইলিশ। গঙ্গা ও পদ্মার ইলিশের মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য হল গঙ্গার ইলিশের গায়ে সোনালি আভা থাকে এবং পদ্মার ইলিশের গায়ে থাকে এক ধরনের গোলাপি আভা। বলা হয়, পদ্মার ইলিশে তেল এত বেশি যে রান্নার সময় কিছুটা তেল ফেলে দিতে হয়। তবে পদ্মা ও গঙ্গা ও দুই ইলিশের ক্ষেত্রেই ডিম ছাড়ার আগে মাছের স্বাদ বেশি থাকে। মৎস্যজীবীরা জানান, ভাদ্র মাসে ইলিশের পেটে ডিম থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল কাব্যে যে ৩১টি মাছের তালিকা দিয়েছেন, তার সর্বশেষ মাছটি হলো ইলিশ। শেষ হোক বা শুরু, আদ্যোপান্ত বাঙালি হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াতে ইলিশের রসাস্বাদন থাকবেই। পকে‌টে যতই টান পড়ুক, যতই পদ্মার ইলিশ আর গঙ্গার ইলিশ নিয়ে তর্ক জারি থাক, কাঁটা বেছে খেতে গিয়ে অপরিসীম পরিশ্রমে খাবার টেবিলে ঘাম ঝরুক, বর্ষামুখর সকালে বাঙালির বাজারের থলি থেকে উঁকি দেবেই জলের রানির রুপোলি চোখ। যে রানিকে নিয়ে বাঙালির এত আদিখ্যেতা, সেই তো বাঙালি সংস্কৃতিকে পৃথিবীতে স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে।

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।