ইউক্রেনকে পরাস্ত করতে কেন শীতের অপেক্ষায় রয়েছে রাশিয়া

Russia Ukraine War: শীতের আগমনের অপেক্ষার সবথেকে বড় কারণ হলো, ইউক্রেন এবং সেই সঙ্গে সমগ্র ইউরোপকে শক্তি তথা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া।

Satyaki Tat
৩ মিনিট
ইউক্রেনকে পরাস্ত করতে কেন শীতের অপেক্ষায় রয়েছে রাশিয়া

তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পুরোদমে চলছে। হিটলারের নাৎসি-বাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়নের রক্ষণ ভেদ করে এগিয়ে চলেছে দ্রুত। সেনার দক্ষতা, অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা, সবদিক থেকেই নাৎসিরা এগিয়ে। ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে স্তালিনের বাহিনী। কিন্তু স্তালিন তাতে বিচলিত নন, কারণ রাশিয়া এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের আয়তন অভূতপূর্বভাবে বৃহৎ। যাঁরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন পোড়ামাটি নীতির কথা। আরও একটি বিরাট বড় কারণ ছিল, যা প্রবলবিক্রমে শুরু হওয়া নাৎসি অভিযানকে ব্যর্থ করে হিটলারের বাহিনীর পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। তা হলো শৈত্য। হ্যাঁ, পূর্ব ইউরোপের বিখ্যাত বা কুখ্যাত শৈত্য। এতটাই ঠান্ডা যে, সেই সময়ের সবথেকে ভয়ংকর সেনাবাহিনীও তার মোকাবিলা করার জন্যে প্রস্তুত ছিল না।

সাত দশক পর, সেই পরাক্রমী সোভিয়েতের ধ্বংসস্তুপে বসে যুদ্ধ চালাচ্ছেন স্তালিনের মতোই আর একজন একনায়ক। যদিও যোগ্যতায় স্তালিনের রেড আর্মির ধারেকাছেও নেই বর্তমান একনায়ক পুতিনের সেনা। অন্য দেশের ভূমিখণ্ড দখল করতে গিয়ে পর্যুদস্ত হয়েছে রুশ সেনা। তাই এখন তাদের নায়ক শরণাপন্ন হয়েছেন তাঁর পূর্বসুরি স্তালিনের। শুরু হয়েছে শীতের জন্যে অপেক্ষা।

শীতের আগমনের অপেক্ষার সবথেকে বড় কারণ হলো, ইউক্রেন এবং সেই সঙ্গে সমগ্র ইউরোপকে শক্তি তথা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া। রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে এমনিতেই বিপদের মুখে ইউরোপীয় দেশগুলি, বিশেষ করে জার্মানির মতো দেশ, যেখানে নর্ডস্ট্রিম পাইপলাইন থেকে গ্যাস সরাসরি পৌঁছে যেত। কিন্তু জ্বালানির সমস্ত উৎস এখন রাজনীতির অস্ত্র। শত্রুপক্ষকে ধরাশায়ী করে দেওয়ার হাতিয়ার। সেই সঙ্গেই শীত আসার আগে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে ইউক্রেনের রাজধানী কিভের সমস্ত পরিকাঠামো, যা সেই শহরের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অবশেষে বন্ধু রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভারত! ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে কতটা কার্যকরী ভারতের অবস্থান?

Ukraine crisis: রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফল খুব ভালোভাবেই টের পাচ্ছে ভারত। ভারতে খাদ্য সংকট, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধেরই ফল।

কিভের মেয়র কিছুদিন আগেই এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে, রুশ সেনাবাহিনী দেশের রাজধানী কিভকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চাইছে। চাইছে রাজধানীর মানুষদের তীব্র জলকষ্টর মুখে ঠেলে দিতে। ইউক্রেনের সেনাকে পরাজিত না করতে পেরে শাস্তি দিতে চাইছে সাধারণ মানুষকে, যাতে তাঁরা প্রবল শীতে নিজেদের বাড়িতে উষ্ণ না রাখতে পারেন।

সেই কারণে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে একে একে ধ্বংস করছে বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সরবরাহকারী পরিকাঠামোগুলিকে। সেই কারণে সমস্ত শহরবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে যে-কোনও মুহূর্তে প্রশাসন শহর একেবারে খালি করে দিতে পারে। শীতের প্রকোপ যত বাড়বে, রাশিয়ার আক্রমণ ততটাই ধারালো হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

"এই পরিস্থিতি এড়াতে যা যা করণীয় সবই আমরা করছি। কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় বলতে গেলে, আমাদের শত্রুরা নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে, যাতে রাজধানী কিভ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং পানীয় জলের অভাবে শেষ হয়ে যায়। এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের সবার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। আমরা এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যে কী ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, তার ওপরেই আমাদের সবার ভাগ্য, আমাদের দেশের ভাগ্য নির্ভর করছে। পুতিনের ইউক্রেনের মানুষকে নিয়ে কিছু যায় আসে না। ওর জমি প্রয়োজন," সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন কিভের মেয়র ভিটালি ক্লিটস্কো।

অন্যদিকে এই ধরনের হামলার পিছনে রাশিয়ার যুক্তি হলো, তারা ক্রাইমিয়ার সেতুতে বিস্ফোরণের বদলা হিসেবেই এই আক্রমণগুলি করছে। ভ্লাদিমির পুতিনের দেশের এহেন যুক্তি শুনলে অবাকই হতে হয়। যদিও অবাক হওয়ার হয়তো সত্যিই কিছু নেই। ইতিহাস সাক্ষী, স্বৈরাচারীরা কীভাবে তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ভয়াবহ সব যুক্তি দিয়েছেন। ঠিক যেভাবে পুতিন ইউক্রেনের নাৎসিদের দমন করতে দেশটিকে আক্রমণ করেছিলেন। যদিও সেই অজুহাত মনে হয় তিনিই ভুলে গেছেন। আর পৃথিবীকে নাৎসি-জুজু দেখাচ্ছেন না তিনি। কোন মুখেই বা দেখাবেন? অতি-শক্তিধরের তকমা নিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে গিয়েছিলেন ইউক্রেনের মতো একটি ছোট্ট দেশকে। আজ ন'মাস পর তাঁর নিজের সেনার কত হতাহতর সংখ্যা তিনি নিজেই হয়তো বলতে পারবেন না। তাই বিদ্যুতের পরিকাঠামো উড়িয়ে দিতে হচ্ছে, বিশ্বকে পরমাণু হামলার হুমকি দিতে হচ্ছে।

পুতিন জেনেভা কনভেনশনেরও আর পরোয়া করেন না। নিজের ক্ষমতা বাঁচাতে তিনি এতটাই তৎপর। সেই কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক ব্যবস্থাপনায় হামলা চালানো অন্যায়। কিন্তু যাঁর ক্ষমতার ভিত্তিই অন্যায় অপরাধের ওপর, তিনি কি জেনেভা কনভেনশনের কথা মান্য করবেন? যাঁর সেনা গণহত্যা চালায়, গণধর্ষণ করে, তাদের আবার কীসের মানবতাবোধ?

লিখেছেন
Satyaki Tat
Satyaki Tat
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়, ট্রাম্পের ক্ষমতায় কতটা লাগাম পড়বে?

US midterms 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দুর্গে বড় ধস নামিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শুল্কনীতি এবং যুদ্ধ সংক্রান্ত অসন্তোষের জেরে ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান করল ভোটাররা। বদলের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে?

মিডটার্ম নির্বাচনে কে কত টাকা ঢাললেন?

US midterm elections 2026: আমেরিকার নির্বাচনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ব্যয়। ইলন মাস্ক ও জর্জ সোরোসের মতো ধনকুবেরদের অনুদান, সুপার প্যাক ও ডার্ক মানি কীভাবে আমেরিকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে?

মানুষ টাকা পেয়ে গেলে ভুলে যাবে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ সম্পর্কে বললেন বিজেপি বিধায়ক সজল

Sajal Ghosh interview: ‘ভয় ছাড়া ভক্তি আসে না’— আইন-শৃঙ্খলা, দুর্গাপূজা বিতর্ক এবং তৃণমূলের দলবদল নিয়ে নিজের মতামত জানালেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।

ভারতের রাজনীতি কতটা বদলে দিয়েছেন মোদী?

25 years of Narendra Modi: ২৫ বছরে মোদী কতটা বদলে দিয়েছেন ভারতের রাজনীতি? উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রচারের ধরন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং জাতীয় পরিচয়ের ধারণা—কীভাবে বদলেছে দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র?

ব্রাজিল থেকে আমেরিকা যে কারণে দক্ষিণপন্থীদের শাস্তি দিচ্ছে শান্তিকামী মানুষ

The Alt - right Tide Turns: বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদের ভিত্তি কেঁপে উঠেছে। হাঙ্গেরিতে ১৬ বছরের অরবান-শাসনের অবসান, সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের নির্বাচনী বিজয়, ব্রাজিলে প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও লুলার জয়, আমেরিকায় মিডটার্মে ডেমোক্র্যাটদের সংসদের দুই কক্ষ দখল, সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে অতি-দক্ষিণপন্থী জোয়ারে ভাটার সুর। তবে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইতালিতে দক্ষিণপন্থা এখনও টিকে আছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও চলছে জেনজিদের, শ্রমজীবী অভিবাসী মানুষদের বিক্ষোভ।

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?