চোর না পতিতা? 'ছিনাল' শব্দের আসল মানে রয়ে গেছে আড়ালেই

Bengali Vocabulary: অপরের পুরুষধন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যেও যে ছিনকার, ছিনার বা ছিনাল শব্দের উৎপত্তি হতে পারে, তা কেউ ভেবে দেখেননি।

Asit Das
৪ মিনিট
চোর না পতিতা? 'ছিনাল' শব্দের আসল মানে রয়ে গেছে আড়ালেই

এবারের শব্দ 'ছিনাল'। অর্থ সকলেরই জানা, ব্যভিচারিণী। বঙ্গীয় শব্দকোষ ব্যুৎপত্তি দিয়েছে, [সং ছিন্না; 'ছিণ্ন, ছিণ্ণাল'– জার, 'ছিণ্ণা, ছিণ্ণালী'– জারস্ত্রী (দেশী); ছিণ্ণাল (অভিধান-রাজেন্দ্র, জৈন প্রাকৃতকোষ); হি ছিনাল; ঠ ছিনাল(পুরুষ, স্ত্রী); গু ছিনাল]। প্রয়োগদৃষ্টান্ত, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর লিখেছেন, 'ডাকাত ছিনার(ছিনাল) চোর'। দ্বিজ বংশীদাস লিখেছেন, 'চুরি ছিনালির দায়, দুই কান চিরা'।জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের অভিধানে ব্যুৎপত্তি আছে,[ সং ছিন্না, প্রাকৃত-ছিন্নাল; ছিনাল(বেশ্যা)। "ছিন্নালিয়া পুত্তো (মৃচ্ছকটিক)। হিন্দি ছিনার]। বি, বেশ্যা, ব্যভিচারিণী স্ত্রী, কুলটা, ভ্রষ্টা। প্রয়োগদৃষ্টান্ত, 'ডাকাত ছিনার চোর হাজার হাজার'। বিশ্বকোষও জানাচ্ছে, ব্যুৎপত্তি সংস্কৃত 'ছিন্না' থেকে। সংসদ বাংলা অভিধান ব্যুৎপত্তি দিচ্ছে, [প্রাকৃত- ছিন্নাল]। অর্থ, ভ্রষ্টা নারী, কুলটা, ব্যভিচারিণী স্ত্রীলোক। গোলাম মুরশিদ সম্পাদিত(সহসম্পাদক স্বরোচিষ সরকার) বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধানে ছিনাল শব্দটির ব্যুৎপত্তিতে সংস্কৃত ছিন্না শব্দের কথাই বলা হয়েছে। ১৯৭৩ সালে লেখা আল মাহমুদের কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে,

সে কানেট পরে আছে হয়তো বা চোরের ছিনাল।

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকার পুরনো একটি সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে, 'ছিনাল' শব্দটিকে সেখানে দেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘোড়াও নাকি দেশি 'ঘোড়ো' থেকে এসেছে। পরে সংস্কৃতায়ন হয়ে ঘোটকরূপ ধারণ করেছে।

যে প্রশ্নটি মনে জাগছে, বারবার চোরডাকাতের সঙ্গেই 'ছিনাল' তথা 'ছিনার' শব্দটিকে একাসনে বসানো হচ্ছে কেন? তথাকথিত কুলটা, বেশ্যাদের সঙ্গে চোরডাকাতের এই সহাবস্থান অবাক করে। তাহলে কি কুলটা, গণিকাদের থেকে ছিনার বা ছিনাল একটু আলাদা?

সুশীলকুমার দে-র 'বাংলা প্রবাদ' বইয়ে ছিনাল নিয়ে অনেকগুলি প্রবাদ আছে।

১. চোর, ছিনাল, চোপায় দড়, আগে যায় শীতলার মাড়।

২. চোরের না, ছিনালের মা।

৩. চোরের মন ভাঙা বেড়ায়, ছিনালের মন আড়ায়-পাড়ায়।

এখানেও দেখা যাচ্ছে চোরের সঙ্গে ছিনালের সহাবস্থান। চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারীর কমন ফ্যাক্টর ছিনিয়ে নেওয়া। ছিনাল তথা ছিনার-ও কি কিছু ছিনিয়ে নেয়! বেশি ভাবতে হবে না। ঘরের বউয়ের হাত থেকে পতিদেবতাকে ছিনিয়ে নিতে ওস্তাদ ছিনার-নারীরা বাবুকালচারের যুগে বহু-আলোচিত, বহুচর্চিত বিষয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গ্রিক না সংস্কৃত? 'কেন্দ্র' শব্দের উৎস নিয়ে যে ঝগড়া লেগেই আছে

Bengali Vocabulary: কেন্দ্র-র ব্যুৎপত্তি নিয়ে স্পষ্টতই দু'টি মত দেখা যাচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিধান গ্রিক Kentron-এর পক্ষ নিলেও, কয়েকটি প্রামাণ্য অভিধান সংস্কৃত ব্যুৎপত্তির পক্ষে।

অমন যে দোর্দণ্ডপ্রতাপ জমিদার তথা জাহাজ-কয়লার ব্যবসায়ী প্রিন্স দ্বারকানাথ, তাঁর হাতেই তো ছিল শহর কলকাতার ছেচল্লিশটি ব্রথেলের মালিকানা। পতিদেবতাদের দিনরাতের মোচ্ছবের নিভৃতনিকেতন। বাড়ির যুবক-প্রৌঢ়দের নিয়েই তো স্বৈরিণীদের স্বর্গরাজ্য রচিত হয়েছিল সেখানে । ছিনিয়ে না নিলে চলবে কী করে তাদের? ছিনিয়ে নেওয়াই তো দস্তুর তাদের কাছে!

কাদম্বরী দেবীর সুযোগ্য স্বামী জ্যোতিরিন্দ্রনাথের পাঞ্জাবির পকেট থেকে কোন বারাঙ্গনার চিঠি-চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল যেন? রাজা রামমোহন রায়ের বাড়ির নৃত্যগীতে কারা যেন নাচাগানা করত? দেশি-বিদেশি কোন বাইজিরা? হৃদয় ছিনিয়ে, অর্থ ছিনিয়ে কারা নিজেদের বিত্তশালী করে তুলত?

ছিনিয়ে নেওয়াই যেন ছিনার তথা ছিনালের অভ্যাস তথা পেশা। এই 'ছিনানো' ক্রিয়াপদটির মূলেও বঙ্গীয় শব্দকোষ 'ছিন্ন'-কে টেনে এনেছে। জ্ঞানেন্দ্রমোহনও তাই। সংসদ বাংলা অভিধান একটু ভিন্ন পথে হেঁটেছেন, ছিনানো-র ব্যুৎপত্তি দেওয়া হয়েছে, [ বাং √ছিনা–তু হি. ছীন]।

তাহলে সংসদ অভিধান ছিনানো-কে দেশি (দ্রাবিড়-অস্ট্রিক গোত্রের) শব্দই ভেবেছেন।

আমার মতে এই 'ছিনানো' ক্রিয়াপদটিই ছিনাল শব্দের মূলে আছে। চোর-ডাকাত যেমন গৃহস্থের বা পথিকের কাছ থেকে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়, ছিনার তথা ছিনালও অন্য নারীর প্রাণাধিক ধনকে ছিনিয়ে নেয়। এই ছিনিয়ে নেওয়া বা পরস্বাপহরণ অতিশয় নিন্দনীয় ব্যাপার। তাই সমাজরক্ষকরা চোরেদের যে চোখে দেখেন, ছিনালদেরও সেই চোখেই দেখেন, হেয়জ্ঞান করেন।

মনোজ বসুর 'নিশিকুটুম্ব' উপন্যাসে চোর-বাবাজীবন রাতে গৃহস্থের বাড়িতে এন্ট্রি নিয়ে ঘরণীর সঙ্গে সোয়ামীর ভূমিকায় অভিনয় করে তার সব কিছু হাতিয়ে নিয়েছিল। এই ধরনের চোরের দেখা পাওয়া আজকাল অতীব দুষ্কর। কালেভদ্রে এ-জাতীয় পুণ্যবান চোরের দেখা মেলে।

'সংসার সীমান্তে' সিনেমায় ( মূল কাহিনী: প্রেমেন্দ্র মিত্র) সিঁধে।ল চোর অঘোরের কীর্তিকাহিনীর কথাও আমরা জানি। তার প্রেমিকাও ছিল তথাকথিত ছিনাল। তারা দু'জন শেষমেশ ঘর বাঁধতে পেরেছিল কি না, জানা যায়নি। তবে সমাজ তাদের সেই পরিসরটুকু দেয়নি বলেই মনে হয়।

রবীন্দ্রনাথ সমগ্র সাহিত্যকর্মে একবারও 'ছিনাল' শব্দটি ব্যবহার করেননি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন টেগোর ভেরিওরাম সেটাই দেখাচ্ছে। আসলে রাবীন্দ্রিক পিউরিটান রুচিতে ছিনাল 'ভদ্রলোক'-এর ভাষা হিসেবে পরিগণিত হয়নি। দ্বারকানাথের গণিকাগৃহের ব্যবসা তিনি যে ভালোচোখে দেখতেন না, তা এই অনুল্লেখেই পরিষ্কার। বস্তুত কবিগুরু তাঁর সমস্ত লেখাপত্রে মাত্র একবার দ্বারকানাথের নাম লিখেছেন। এতই তীব্র ছিল তাঁর দ্বারকানাথবিদ্বেষ। দ্বারকানাথের সমস্ত দলিলদস্তাবেজ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। দেবেন্দ্রনাথ একাই এই কম্মো যে করেননি, রবীন্দ্রনাথেরও মদত ছিল তাতে, সেটা পণ্ডিতরাই বলেন।

জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বারটান নিয়ে অনেক গল্প আছে। বেলগাছিয়ার বাগানবাড়ি, ছাড়াও চন্দননগরের মোরান সাহেবের বাংলোতেও তিনি সময় কাটাতে যেতেন। সেখানে গঙ্গার বুকে বজরায়, বাংলোর ছাদে রবীন্দ্রনাথ-কাদম্বরীর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর, কোনও রকম ছিনালিপনা ছিল না, নিন্দুকরা যাই রটাক না কেন!

অনেক লেখকের লেখাতেই 'ছিনাল' শব্দটি জ্বলজ্বল করছে। তবে কে কোথায় লিখে গেছেন, এই মুহূর্তে সব মনে পড়ছে না। রবীন্দ্রনাথ না লিখলেও তাঁর পূর্ববর্তী সাহিত্যকরা ছিনাল লিখেছেন। দীনবন্ধু মিত্র 'নবীন তপস্বিনী'-তে লিখেছেন, 'আমি আর ছেনালের কথা ভুলিনে'। মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো' প্রহসনে লিখেছেন, 'ছুঁড়ীর কি চমৎকার রূপ গা, আর একটু ছেনালীও আছে।'

রবীন্দ্রোত্তর পর্বে শরৎচন্দ্র, তারাশঙ্কর, মানিক লিখতে পারেন। জীবনানন্দ দাশও। কবিতায় নয়, উপন্যাসে, গল্পে। নবারুণ ভট্টাচার্য লিখেছেন হয়তো। মনে পড়ছে না।।

সমরেশ বসু তাঁর 'অভয়ের বিয়ে' উপন্যাসে সদ্যবিবাহিতা বধূ নিমি-র মুখে বসিয়েছেন ছিনাল শব্দটি।

...পশুশক্তি নিষ্পিষ্ট করতে চাইছে এই শরীর।

নিমির ভয়, তবু বিদ্রূপ হেসেই বলল, একে থেটারি ঢং বলে না তো আর কী বলে?

অভয় বলল, তাই বুঝি, তবে বলো, শুনি আর কী বলবে?

নিমিও যেন শক্ত হতে চাইল। আবার কি? ওই ছিনাল খুড়ির বাড়িতে–

কী?

–হ্যাঁ, ওখেনে আর ভাসুর-পো-গিরি করতে যাওয়া চলবে না।

যা হোক, ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে লাভ নেই, 'ছিনাল' শব্দটির ব্যুৎপত্তিতেই ফিরে আসা যাক।

ছিন্ন (ছিন্না) থেকে হোক বা প্রাকৃত ছিন্নাল থেকেই হোক, এটাই পাঠকের মাথায় গাঁট্টা মেরে অভিধানগুলিতে বোঝানো হয়েছে যে, সমাজ-সংসার থেকে ছিন্ন বা পতিত হয়েই এদের নিচ পেশায় গমন। তাই এরা ছিনাল, পতিতা, কুলটা। কিন্তু অপরের পুরুষধন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যেও যে ছিনকার, ছিনার বা ছিনাল শব্দের উৎপত্তি হতে পারে, তা কেউ ভেবে দেখেননি।

'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ'-এর পত্রিকায় অনেক আগেই যা লেখা হয়েছে, তা মানতে বাধা কেন অভিধানকারদের? ছিনাল-কে দেশি শব্দ হিসেবে ঘোষণা করে সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকার নামী লেখক ঠিক করেছিলেন কি না, তা বিদ্বজ্জনসমাজের ও ভাষাবিদদের ভেবে দেখা উচিত।

লিখেছেন
Asit Das
Asit Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।