অশ্লীল বলে অভিধানে নেই, কোথা থেকে এল 'গ্রামভারি' শব্দটি?

কোন পথে গম্ভীর শব্দটি গ্রাম্ভারি হল, সেই বিষয়ে অভিধান নীরব। তৎসম গম্ভীর ও তদ্ভব (?) গ্রামভারি বা গ্রাম্ভারির মধ্যবর্তী কোনও প্রাকৃত-অপভ্রংশ দেখানো হয়নি। এখানেই একটু খটকা লাগে। তাহলে কি ব্যুৎপত্তিটি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া?

Asit Das
৫ মিনিট
অশ্লীল বলে অভিধানে নেই, কোথা থেকে এল 'গ্রামভারি' শব্দটি?

আজকের শব্দ গ্রাম্ভারি, গ্রামভারি বা গেরামভারি। অনেক নামজাদা সাহিত্যিকের লেখাতেই এই শব্দটির ব্যবহার লক্ষ করা যায়। 'য়ুরোপপ্রবাসীর পত্র'-তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তৎকালীন বিলেতের গড়পড়তা মহিলাদের গিন্নিপনা নিয়ে গভীর অনুভবের কথা ব্যক্ত করেছেন। একজায়গায় লিখেছেন, "তাঁরা বলেন, 'পলিটিকস্ ও অন্যান্য গ্রাম্ভারি বিষয় নিয়ে পুরুষেরা নাড়াচাড়া করুন; আমাদের কর্তব্য কাজ স্বতন্ত্র'।" কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 'বিদেশিনী' কবিতায় লিখেছেন, "প্রশান্ত-সাগর-জলে ঢেউ তুলে চলেছে জাহাজ/ গ্রামভারি-সুগম্ভীর যাত্রী তাহে যুবক ইংরাজ।" শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সৈয়দ মুজতবা আলী, কে না শব্দটি ব্যবহার করেছেন!

এই গ্রাম্ভারি, গ্রামভারি বা গেরামভারি শব্দটি আমরা প্রায়শ ব্যবহার করি লেখায়, কিন্তু এই বঙ্গের কোনও অভিধানে শব্দটি নেই। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বঙ্গীয় শব্দকোষ', জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের 'বাঙ্গালা ভাষার অভিধান', সংসদ বাংলা অভিধানে শব্দটি পাইনি। সুবলচন্দ্র মিত্রর সরল বাঙ্গালা অভিধানেও নেই। পাইনি অশোক মুখোপাধ্যায় সংকলিত 'সমার্থ শব্দকোষ'-এও।একমাত্র বাংলাদেশের বাংলা একাডেমির অভিধানে 'গ্রাম্ভারি' শব্দটি আছে। ব্যুৎপত্তি দেওয়া হয়েছে, সংস্কৃত বা তৎসম 'গম্ভীর' থেকে। তবে কোন পথে গম্ভীর শব্দটি গ্রাম্ভারি হল, সেই বিষয়ে অভিধান নীরব। তৎসম গম্ভীর ও তদ্ভব (?) গ্রামভারি বা গ্রাম্ভারির মধ্যবর্তী কোনও প্রাকৃত-অপভ্রংশ দেখানো হয়নি। এখানেই একটু খটকা লাগে। তাহলে কি ব্যুৎপত্তিটি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া?

আমাদের সামনে আর কোনও অভিধান-সমাধান নেই। তাই নিজেই একটু কাজে লেগে পড়তে হল। বাংলায় সমধর্মী আর কোনও শব্দের খোঁজ করতে গিয়ে রাশভারি আর পায়াভারি, শব্দদু'টি মনে পড়ল। বলা বাহুল্য, প্রথমটির অর্থ গম্ভীর প্রকৃতির লোক। রাশ শব্দটি সংস্কৃত রাশি থেকে এসেছে। অর্থ হলো, প্রকৃতি।

আর পায়াভারি মানে যে পদমর্যাদায় উঁচুতে থাকার জন্য অহংকারী ও গম্ভীর ব্যাক্তি, তা কাউকে বলে দিতে হয় না। যদিও কোনও কোনও অভিধানকার ফারসি 'পাইয়াহ্' থেকে পায়া এনেছেন, সংস্কৃত পদ থেকেও পায়া আসতে পারে। ব্যুৎপত্তির জগতে পায়ে পায়ে অনেক পথ পার হওয়া তো যায়ই।

তা না হয় হলো, আসলে গ্রাম্ভারি বা গ্রামভারি তথা গেরামভারি শব্দটি এল কোথা থেকে? ভারী বা ভারি মানে যে গম্ভীর, তা অভিধানেই আছে। চিন্তা শুধু গ্রাম বা গেরাম অংশটি নিয়ে। চিন্তা করতে করতে কয়েকটি সম্ভাবনার হদিশ মেলে। গ্রাম বা গেরাম যে এখানে গঞ্জ নয়, তা বোঝার জন্যে পাণ্ডিত্য লাগে না। তবে সন্দেহের কোনও অবকাশ না রাখাই ভাল। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বঙ্গীয় শব্দকোষ'-এ চেনা-জানা গ্রাম শব্দটিকে আবার দেখলাম। গ্রাম-এর দুটি ব্যুৎপত্তি দেওয়া আছে।

প্রধান মতটি হলো, [√গম্ + অ (ঘঞ্ )-র্ম্ম,]। অর্থ,

১. লোকের গমনস্থান

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাউল শব্দ কি এসেছে 'বাউন্ডুলে' থেকে? অভিধানে যে উত্তর রয়েছে

বাউন্ডুলে বা বাউণ্ডুলে, বানান যাই-ই লেখা হোক না কেন, তা অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করেই লেখা উচিত। শব্দের আলোচনায় ধান ভানতে শিবের গীত হয়ে যায় মাঝে মাঝে।

২. সমূহ, নিচয়

৩. (সংগীতে) ষড়জ, মধ্যম ও গান্ধার— এই ত্রিবিধ স্বরবিভাগ।

'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' প্রকাশিত নবদ্বীপ-পরিক্রমা বইয়ে আছে, "ষড়জমধ্যমগান্ধারাস্ত্রয়ো গ্রামা মতা ইহ।" ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচনাবলিতে আছে, 'সপ্ত সুর তিন গ্রাম'। তাহলে এমন অর্থ করাই যায়, ক্রমাগত ষড়জ, মধ্যম আর গান্ধারের রেওয়াজ করে গলা বা কণ্ঠস্বর যার ভারী বা গমগমে হয়ে গেছে, তারই গ্রামভারি বা গেরামভারি গলা। কিংবা, সংগীতের এই বিশেষ বলে বলীয়ান হয়ে গম্ভীর ও দেমাকি হয়েছে যে ব্যক্তি, সেই ব্যক্তিই গ্রাম্ভারি বিশেষণের যোগ্য। প্রথমে হয়তো এই অর্থেই শব্দটি প্রয়োগ করা হত, পরে ব্যাপকার্থে প্রয়োগ শুরু হয় জনসমাজে। কিছুই অসম্ভব নয়। আমরা তো টাইমমেশিনে চেপে সেই সময়ের ঘটনার সাক্ষী হতে পারছি না, তাই কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, তা হলফ করে বলা মুশকিল। আন্দাজ বা ইনটুইশনের উপর নির্ভর করতে হয়। তবে এটা মানতেই হবে, গ্রামভারি শব্দটির প্রথম অংশটিকে নিখাদ 'গ্রাম' ধরেও একটি ব্যাখ্যায় পৌঁছনো যায়, ব্যাখ্যাটি নেহাত জোলো নয়, মৌলিকত্বের দাবি করে।

ভাষাবিজ্ঞানে কোনও কিছুই চোখকান বুজে মেনে নেওয়ার জো নেই। কোন শব্দের পরিবর্তিত রূপ গ্রাম্ভারির এই গ্রাম-অংশ, তা বের করাই আসল কাজ। খুঁজতে খুঁজতে দেখলাম আরও দু'টি সম্ভাব্য শব্দ থেকে আসতে পারে এটি। এক, গরিমা থেকে অপভ্রংশে গেরাম বা গ্রাম। গর্ব বোঝাতে গরিমা শব্দটির প্রয়োগ সাহিত্যে ভূরি ভূরি। হয়তো মূলে গ্রাম্ভারি শব্দটি ছিল গরিমাভারী। ভারী বা ভারি মানে যে গম্ভীর, সেটা অভিধানেই মেলে। ব্যক্তিবিশেষকে যেমন ভারী বা ভারি বলা হয়, গলার আওয়াজকেও ভারি বলা হয়।

গরিমাভারি শব্দটি যে প্রথমে গেরামিভারি হয়ে পরে গেরামভারি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তা থেকেই বাঙালি শব্দটিকে সাধু করে নিয়েছে, বলা শুরু হয়েছে গ্রাম্ভারি বা গ্রামভারি। গরিমাভারী শব্দটির কোনও প্রয়োগ পাইনি সাহিত্যে। তবে সব শব্দ তো লিখিত আকারে থাকে না, মুখেমুখেই পরিবর্তিত হয় অনেক শব্দ। পরিবর্তিত রূপটিকেই হয়তো আমরা লিখিতভাবে পাই সাহিত্যে।

আর একটি সম্ভাব্য শব্দ হল, গরম। বাংলা গরম শব্দটি আদতে ফারসি থেকে এসেছে। যদিও জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস সংস্কৃত 'ঘর্ম্ম' থেকেও গরম আসতে পারে বলে অনুমান করেছেন। আবহাওয়া যেমন গরম হয়, মানুষের মেজাজও গরম হয়। অনেক বাংলা লব্জ আছে গরম নিয়ে। কথায় কথায় মেজাজ গরম করা অনেকের স্বভাব। টাকার গরমে লোকে ধরাকে সরাজ্ঞান করে। তার এত গরম কীসের ভাবতে ভাবতে অনেক পড়শির দিবারাত্র নিদ্রাহীন কাটে।

গরমভারী বা গরমভারি থেকেও কি আসতে পারে গ্রাম্ভারি বা গ্রামভারি শব্দটি? অসম্ভব নয়। যেহেতু পায়াভারির 'পায়া' অংশটি ফারসি 'পাইয়াহ্' থেকে এসেছে বলে লিখেছেন অনেক অভিধানকার। শব্দে আরবি-ফারসি-বাংলার মেলবন্ধন তো হরদম দেখা যায়। যেমন লজ্জাশরম, বিয়েশাদি, মনমর্জি, ইত্যাদি।

তাহলে দাঁড়াল এই যে, রাশভারি, পায়াভারির মতো গেরামভারি বা গ্রাম্ভারি একটি সমাসবদ্ধ পদ। তার বৈধ ব্যুৎপত্তিও পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলায় ঘ্যাম বলে একটি শব্দ আছে। কথ্য বাংলায় ব্যবহারও আছে। মানে দেমাক, দাপট। এই ঘ্যাম শব্দটি কিন্তু হরিচরণ, জ্ঞানেন্দ্রমোহন, সুবল মিত্রে পাওয়া যাবে না, শুধু সংসদ বাংলা অভিধানে আছে। অদ্ভুত ব্যাপার, প্রয়োগের উদাহরণ দেখানো হয়েছে, অর্থ ও ব্যুৎপত্তি নেই। ঘ্যামভারি বলে কোনও শব্দের কথা শোনা যায় না। যদিও কাউকে কাউকে 'তোর ভারি ঘ্যাম হয়েছে' বলতে শুনেছি। ঘ্যাম শব্দটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে অভ্র বসুর লেখা 'বাংলা স্ল্যাং, সমীক্ষা ও অভিধান' বইটিতে। ব্যুৎপত্তি নেই, প্রয়োগের উদাহরণ আছে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা থেকেও প্রয়োগ দেখানো হয়েছে। গ্রামভারির সঙ্গে ঘ্যামের কোনও সম্পর্ক আছে কি না, জানি না।

তবে এই বঙ্গের সুশীল অভিধানকারগণ গ্রাম্ভারি বা গেরামভারি শব্দটির এন্ট্রি অভিধানে কেন রাখেননি, তা বোঝা দুষ্কর। একেবারে রাখেননি তা নয়, অভ্র বসুর 'বাংলা স্ল্যাং, সমীক্ষা ও অভিধান', বইটিতে 'গেরামভারি/গেরেমভারি' শব্দের এন্ট্রি আছে। বিশেষণ পদ লিখেও অভ্রবাবু ব্যুৎপত্তিতে (> গাম্ভীর্য) লিখেছেন। গাম্ভীর্য কিন্তু বিশেষ্য পদ। অর্থ লিখেছেন, দেমাকি চালচলন। সমরেশ বসুর 'প্রজাপতি' উপন্যাস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন,

এক-একজনের যেমন থাকে, পাড়ার মধ্যে একটু গেরামভারি চাল, একটু হিড়িক মেরে চলা, সেরকম কিছু না,...।

তাহলে কি আমাদের অভিধানপ্রণেতারা 'গ্রাম্ভারি' শব্দটিকে অশ্লীলতাগন্ধী ভেবে পরিহার করেছেন? না, শব্দটিকে অকুলীন ভেবেছেন? না কি ব্যুৎপত্তি না জেনে অভিধানে রাখতে সাহস করেননি? কে জানে!

বাংলাদেশের বাংলা একাডেমি যেটা করতে পারে, আমাদের বাংলা আকাদেমি তা কেন করছে না, তা বোঝা শক্ত।

লিখেছেন
Asit Das
Asit Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।