অসম পুলিশের নজরে সিদ্ধার্থ বরদারজন, করণ থাপার, অপরাধ স্বাধীন সাংবাদিকতা?

Karan Thapar and Siddharth Varadarajan: এই নিয়ে দু'বার 'দ্য ওয়্যার'-এর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করল অসম পুলিশ। বলাই বাহুল্য, 'দ্য ওয়্যার' কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের উপর আক্রমণ হিসেবে দেখছে।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
অসম পুলিশের নজরে সিদ্ধার্থ বরদারজন, করণ থাপার, অপরাধ স্বাধীন সাংবাদিকতা?

দেশের দুই বিখ্যাত প্রবীণ সাংবাদিককে তলব করল অসম পুলিশ। 'দ্য ওয়্যার'-এর সম্পাদক সিদ্ধার্থ বরদারাজন এবং প্রবীণ সাংবাদিক করণ থাপারকে ২২ অগাস্ট গুয়াহাটি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ দুজনের কাছেই একই নোটিস গিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, "একটি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আপনাদের থেকে কিছু তথ্য আমাদের দরকার।" নোটিসে এও উল্লেখ করা আছে, ২২ অগাস্ট যথা সময়ে পুলিশের কাছে হাজিরা না দিলে এই দুই সাংবাদিককে গ্রেফতারও করা হতে পারে৷ তবে ঠিক কোন মামলায় ডাকা হয়েছে তা নোটিসে উল্লেখ নেই৷ এমনকি দেওয়া হয়নি এফআইআর-এর কপিও। যদিও সমন জারি করলে এফআইআর-এর প্রতিলিপি দেওয়া বাধ্যতামূলক। যথাক্রমে ১৪ এবং ১৮ অগাস্ট দু'টি পৃথক নোটিস পেয়েছেন। এই নিয়ে দু'বার 'দ্য ওয়্যার'-এর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করল অসম পুলিশ। বলাই বাহুল্য, 'দ্য ওয়্যার' কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের উপর আক্রমণ হিসেবে দেখছে।

গত ২৮ জুন ভারতীয় বায়ু সেনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে লেখা একটি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে এক বিজেপি নেতা অভিযোগ দায়ের করলেও এই সাম্প্রতিক অভিযোগটি একই বিষয়ে কিনা তা নিয়ে সন্ধিহান 'দ্য ওয়্যার' মনে করাচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং কর্ণাটক হাই কোর্টের রায়। যেখানে বলা হচ্ছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর জনসমক্ষে আনতে হবে এবং এফআইআর-এর প্রতিলিপি ব্যাতীত এই সমন বৈধ নয়।

ইতোমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কর্পস।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রশ্ন করার সংস্কৃতি সাংবাদিকতা থেকে যে ভাবে হারাল...

Journalism in India: 'বাংলা যা ভাবছে' অনুষ্ঠানে 'গোদি মিডিয়ার কীর্তিফাঁস' সূচক আলোচনায় বক্তব্য রেখেছিলেন সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা, সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য, বাংলা পক্ষের প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায় এবং সাংবাদিক প্রতীক। প্রতীকের বক্তব্যের লিখিত সংরূপ তুলে ধরা হল ইনস্ক্রিপ্টের পাতায়।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২, ১৯৬, ১৯৭(১)(ডি)/৩(৬), ৩৫৩, ৪৫ এবং ৬১ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে৷ এর মধ্যে ১৫২ নম্বর ধারাটি দেশদ্রোহিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা এই প্রথম নয়। আগেও বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই নিউজক্লিক এবং বিবিসি-র মতো সংবাদমাধ্যমে অভিযান চালানোর অভিযোগ উঠেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির উপর।

গত লোকসভা ভোটের আবহে ফ্রি স্পিচ কালেকটিভ বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, ভারতে ৪ মাসে ১৪৮টি বাকস্বাধীনতা খর্ব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ, সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ ইত্যাদি। নিউজ ক্লিক-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থকে ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ফ্রি স্পিচ কালেকটিভ-এর ওই রিপোর্টে কাশ্মীরের সাংবাদিক আসিফ সুলতানের কথা উল্লেখ ছিল। এই সাংবাদিককে জামিন হওয়ার চার দিন পর পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছিল।

অন্যদিকে আবার ২০২৪ সালের শুরুতে 'The Caravan'-এ প্রকাশিত 'Screams from the army post' শিরোনামের প্রতিদিবেদনটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রের তথ্য এবং সম্প্রচারক মন্ত্রক। এমনকি মোদি সরকারের সমালোচনা করায় 'Bolta Hindustan' নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলকে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র, এমনই তথ্য উঠে এসেছিল ফ্রি স্পিচ কালেকটিভ-এর ওই প্রতিবেদনে।

প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই দেশদ্রোহিতার আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে৷ প্রাক স্বাধীনতা যুগে ব্রিটিশরা এই আইন এনেছিল যাতে দেশবাসী ইংরেজ শাসনের বিরোধিতা করতে না পারেন। পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ সরকার এই আইনের আওতায় বিনা বিচারে ভারতীয়দের জেলে বন্দি করে রাখত। একাধিক স্বাধীনতা সংগ্রামী এই আইনের আওতায় কঠোর সাজাও পেয়েছিলেন৷ ১৮৯১ সালে বঙ্গবাসী পত্রিকার সম্পাদক রামচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রদ্রোহিতার আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পরে এখনও এই আইন থেকে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

উল্লেখ্য, কয়েকমাস আগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের হয়েছিল অসমের আদালতে। এখন ফের দুই বিখ্যাত সাংবাদিককে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে সমন পাঠানোয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ উঠছে। সমাজমাধ্যমে একটা অংশ মনে করছে অসম পুলিস গুয়াহাটির অপরাধ দমন শাখার মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, গঠনমূলক সমালোচনা আর স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্যই কি করণ থাপর এবং সিদ্ধার্থ বরদারাজনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা?

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।