ক্ষমতার শীর্ষে, তবু বাঙালির চোখে কেন 'বঞ্চিত' সৌরভ?

Sourav Ganguly: রবীন্দ্রনাথের পর বাঙালিকে সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন যিনি, সেই সৌরভ দেখা যাচ্ছে কম রাবীন্দ্রিক নন।

Pratik
৭ মিনিট
ক্ষমতার শীর্ষে, তবু বাঙালির চোখে কেন 'বঞ্চিত' সৌরভ?

পি সতশিবম আর রঞ্জন গগৈ-এর বেশ নিন্দা হয়েছিল। কারণ তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসর নেওয়ার পর যথাক্রমে কেরলের রাজ্যপাল আর রাজ্যসভার মনোনীত সদস্যের পদ গ্রহণ করেছিলেন। নিজেরে করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলই করি অপমান– একথার এমন জলজ্যান্ত উদাহরণ আমাদের দেশেও বিরল। সব পেশাতেই কিছু কাজ আছে, যা বেআইনি না হলেও অশোভন বলে সাধারণত কেউ করেন না। যেমন মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার পর পাঞ্জাব বা অসমের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে যাননি। কাল মুখ্যমন্ত্রিত্ব চলে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে তৃণমূলের মেয়র পদপ্রার্থী হবেন না সম্ভবত। কিন্তু সতশিবম আর গগৈ শোভনতার ধার ধারেননি। তাঁদের সিদ্ধান্তে ভারতের বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে প্রশ্ন আলাদা, কিন্তু ক্ষমতার জন্য তাঁরা কতখানি লালায়িত, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। স্বেচ্ছায় পদাবনতিও যে কারও অভীষ্ট হতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা শক্ত হতো।

বিশ্বাস করা আরও সহজ করে দিলেন আমাদের ঘরের ছেলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আরও ছোট পরিসরে, আরও ছোট একটা পদের জন্য তিনি ঝাঁপিয়েছেন। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী তথা শক্তিশালী ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি পদে প্রায় তিন বছর কাটানোর পর এখন তিনি ঘোষণা করেছেন, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সভাপতি পদের প্রার্থী হবেন।

সৌরভ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে পৌঁছেছিলেন সিএবি হয়েই। কিন্তু সিএবি-র মসনদে তাঁকে বসিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদেহী সৌরভ খর্বকায় মুখ্যমন্ত্রীর পিছনে লক্ষ্মী ছেলের মতো দাঁড়িয়ে আছেন আর মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিশাল ছায়া দিয়ে সৌরভকে আড়াল করে সিএবি সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করছেন– এই দৃশ্য অনেকেরই এখনও মনে আছে। দুর্জনে বলে, মুখ্যমন্ত্রী ওভাবে হাতে ধরে চেয়ারে বসিয়ে না দিলে সৌরভের পক্ষে সিএবি সভাপতি হওয়া শক্ত ছিল। কারণ খেলার মাঠে অধিনায়ক হিসেবে তিনি দলের মধ্যে যতটা জনপ্রিয় ছিলেন, মাঠের বাইরে বাংলার ক্রিকেট প্রশাসকদের মধ্যে ততটাই অপ্রিয়। কারণটাও সহজবোধ্য। সৎ বা দুর্নীতিগ্রস্ত যা-ই হোন, ময়দানে যাঁরা ক্লাব চালান, তাঁরা বছরের পর বছর বহু সময় ব্যয় করে নিজেদের ব্যবসা বা চাকরির খানিকটা ক্ষতি করেই কাজটা করেন। সেই কাজের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে অ্যাসোসিয়েশনের রাজনীতিতে সফল হয়ে সিএবির পদাধিকারী হতে হয়। কথাটা বিশ্বনাথ দত্ত বা জগমোহন ডালমিয়ার মতো প্রবাদপ্রতিম প্রশাসকদের ক্ষেত্রে যতটা সত্যি, একদা সিএবি-র যুগ্ম সচিব প্রয়াত শরদিন্দু পাল বা গৌতম দাশগুপ্তর ক্ষেত্রেও ততটাই সত্যি। তাঁরা যথাক্রমে কুমোরটুলি আর শ্যামবাজার ক্লাব চালিয়েছেন কয়েক দশক। অথচ সৌরভ সেসব কিছুই করলেন না। খেলা ছাড়ার পরের কয়েক বছর ধারাভাষ্য, বিজ্ঞাপনে মুখ দেখানো, টিভির পর্দায় দাদাগিরি করতে করতেই সিএবি-র যুগ্ম সচিব হয়ে গেলেন। তারপর স্রেফ মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদে ডালমিয়ার মৃত্যুর পর সিএবি সভাপতি হয়ে বসলেন।

সৌরভভক্তরা স্বভাবতই রেগে যাবেন, বলবেন খেলাটা যখন ক্রিকেট, তখন সৌরভ কত বড় ক্রিকেটার- সেটাই তো আসল কথা। মাঠে অত বড় বড় কীর্তি যাঁর, তাঁকেও প্রশাসনে আসতে হলে আগে ক্লাবের হেঁশেল ঠেলতে হবে– এ অন্যায় দাবি। শরদিন্দু, গৌতমরা ক্রিকেটের কী জানেন? কত হাজার রান আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে? তাঁদের মতো দীর্ঘকাল লড়তে হবে কেন সৌরভকে? এই মনোভাব কেবল ভক্তদের নয়। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের প্রধান বিনোদ রাইও নবগঠিত বোর্ডের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে যাওয়ার সময়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন সৌরভের মতো মানুষ বোর্ড সভাপতি হলেন বলে। রাই বলেছিলেন, সৌরভই ওই পদের পক্ষে যোগ্যতম।১

স্বাধীনতার আগে থেকে মূলত অ-ক্রিকেটার লোক দ্বারা চালিত ভারতীয় বোর্ডে যে পরিমাণ অব্যবস্থা এবং দুর্নীতি চলেছে, যার ফলে সুপ্রিম কোর্ট এন শ্রীনিবাসনকে পদচ্যুত করে বোর্ডের আমূল সংস্কার করার নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ওপর অত্যধিক ভরসা করা হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখের বিষয়, প্রাক্তন খেলোয়াড়রা প্রশাসনে এলেই প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত হবে, স্বেচ্ছাচার চলবে না- এমনটা পৃথিবীর কোথাও প্রমাণিত হয়নি। সুযোগ পেলে যা ইচ্ছে তাই করতে প্রাক্তন খেলোয়াড়রা যে কম যান না, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি। যদিও তিনি কোনও মুখ্যমন্ত্রীর প্রসাদে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সর্বোচ্চ পদে আসীন হননি, দস্তুরমতো ফুটবল রাজনীতি করেই অতদূর উঠতে হয়েছিল। আসলে ফিফা প্রাক্তন খেলোয়াড় মানেই ঈশ্বরপ্রেরিত প্রশাসক– এমনটা বিশ্বাস করে না। প্রাক্তন ফুটবলারদের জন্য আলাদা করে জায়গা সংরক্ষণও ফিফার নীতিবিরুদ্ধ। সম্প্রতি যে যে কারণে ফিফা সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে নির্বাসন দিয়েছিল, তার অন্যতম হলো সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের প্রস্তাবিত সংবিধানে প্রাক্তন ফুটবলারদের জন্য আলাদা করে পদের ব্যবস্থা। ফিফার সাফ কথা– প্রাক্তন ফুটবলার প্রশাসনে স্বাগত, কিন্তু তাকে আসতে হবে রাজ্য অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমেই। অর্থাৎ, ফুটবলারকে প্রশাসক হয়ে উঠতে হবে, প্রাক্তন বলে প্রশাসনকে বাইপাস করা চলবে না।

সৌরভ যেরকম মসৃণভাবে অফ সাইডে ফিল্ডিংয়ের ফাঁক দিয়ে বাউন্ডারি খুঁজে ফেলতেন, সেরকমভাবেই ক্ষমতায় পৌঁছনোর বাইপাস খুঁজে নেন। নবান্নে ধরনা দিয়ে সিএবি সভাপতি হয়েছিলেন, বোর্ড সভাপতি হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র প্রসাদে। তাঁকে ওই পদে থাকতে দেওয়া হলো না বলে এই মুহূর্তে ডান, বাম নির্বিশেষে বাঙালি ক্ষুব্ধ। সেই বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পর আর কোনও ঘটনায় বোধহয় বাঙালিকে এতখানি ঐক্যবদ্ধ করা যায়নি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে পরিষ্কার, যাঁর প্রসাদে বোর্ডের সভাপতি হওয়া গিয়েছিল, তাঁর বিরক্তিতেই পদ হাতছাড়া হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে২ তো সবিস্তারে লেখা হয়েছে, ৬ অক্টোবর গভীর রাতে অমিত শাহ-র বাড়িতে এক বৈঠকে ঠিক হয় সৌরভকে এবার সরিয়ে দেওয়া হবে। মজার কথা, সেখানে সৌরভের কার্যকলাপ নিয়ে নানা আপত্তি তোলেন শ্রীনিবাসন এবং উপস্থিত অন্য বোর্ডকর্তারা তাঁর কথায় সায় দেন। কোন শ্রীনিবাসন? যাঁর কুকীর্তির ফলে বোর্ডে ওলট-পালট হয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নজরদারিতে সংস্কার হয়েছিল। সেই শ্রীনিবাসন দেখা যাচ্ছে আজও যথেষ্ট ক্ষমতাশালী। কে বোর্ড সভাপতি হবে, তা তিনি এখনও নির্ধারণ করতে পারেন। বস্তুত ২০১৯ সালে সৌরভের সভাপতি হওয়ার পিছনেও তাঁর সম্মতি ছিল। তাহলে কী লাভ হলো লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সংস্কার করে? কী লাভ হলো সৌরভের মতো প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেটার বোর্ড সভাপতি হয়ে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
টি-টোয়েন্টির রমরমায় ক্রিকেটাররা এখন কর্পোরেট চাকুরে?

ক্রিকেটারদের এবার একশো ভাগ কর্পোরেট চাকুরে হয়ে ওঠার দিন শুরু হতে যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমে জোর জল্পনা, সৌরভকে নাকি অমিত শাহ সরিয়ে দিলেন তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে রাজি হননি বলে। একথা পাতে পড়তে না পড়তেই ভারতের বিজেপিবিরোধী, উদারপন্থী মানুষ একেবারে টপ করে গিলে নিয়েছেন। সৌরভের কেমন শক্ত মেরুদণ্ড, তা গ্রেগ চ্যাপেলের পর অমিত শাহ-ও টের পেয়ে গেলেন ইত্যাদি মর্মে সোশাল মিডিয়া বিদীর্ণ করছেন অনেকেই। এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যদি সৌরভের দিদি তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে প্রার্থী করে ফেলেন তাহলে ‘লিবারেল’ হিসেবে সৌরভের দর আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে। সকলে ইতিমধ্যেই ভুলে গেছেন, সৌরভ এতদিন চেয়ারে বসেছিলেন দেশের দু'নম্বর বিজেপি নেতা অমিত শাহ ও তদীয় পুত্র জয় শাহ-র সৌজন্যেই। শুধু তা-ই নয়, বোর্ডের নতুন সংবিধান অনুযায়ী সৌরভের কার্যকাল সভাপতি হওয়ার দশ মাস পরেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। বর্তমান কর্মকর্তাদের মেয়াদ বাড়ানো হোক- সুপ্রিম কোর্টে এই সংবিধানবিরোধী আর্জি জানিয়ে ফেভিকলের বিজ্ঞাপনের নেতার মতো নিজ নিজ চেয়ারে এতদিন বসেছিলেন সৌরভ, জয়রা। সুপ্রিম কোর্ট এত ব্যস্ত যে, সেই আর্জির শুনানির দিন কেবলই পিছিয়েছে। আড়াই বছর পর গত মাসে৩ বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় (যিনি আগামী মাসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করবেন) ও হিমা কোহলি রায় দিলেন, তিন বছর নয়, বোর্ড সভাপতি, যুগ্ম সচিব ও অন্যরা একটানা ছ'বছর বহাল থাকতে পারবেন। অর্থাৎ ২০১৮ সালের রায়ের একেবারে উল্টো পথে হেঁটে নতুন সংবিধান বদলে অনেকাংশে পুরনো জায়গায় ফিরে যাওয়া হলো। এহেন ক্ষমতাশালীদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ করে নেওয়া সৌরভ আজ বাংলার চোখে 'মিস্টার বেচারা'। এতটাই বেচারা যে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলবেন, সৌরভকে যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের পদের জন্য লড়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। সৌরভের পদচ্যুতি বাঙালির জাতীয় সংকট। মুখ্যমন্ত্রী কি চুপ করে থাকতে পারেন?

তবে রবীন্দ্রনাথের পর বাঙালিকে সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন যিনি, সেই সৌরভ দেখা যাচ্ছে কম রাবীন্দ্রিক নন। বিপদে মোরে রক্ষা করো, দিদির কাছে এ নহে তাঁর প্রার্থনা। তিনি চন্দ্রচূড়-কোহলির রায় নির্ঘাত খুঁটিয়ে দেখেছেন, আইনের ফাঁক খুঁজে ক্ষমতা ধরে রাখার বুদ্ধিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দুই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সত‍শিবম আর গগৈ-এর ওপর দিয়ে যান। রায়ে বলা আছে, ক্রিকেট প্রশাসনের এক এক স্তরে ছ'বছর ক্ষমতায় থাকার পরে কুলিং অফ পিরিয়ড থাকবে, স্তর বদলে গেলে নয়। ফলে সিএবি সভাপতি হয়ে তিনি আরও কিছুদিন নিশ্চিন্তে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন; বোর্ড সভাপতি হওয়ার পরে রাজ্য সংস্থার সভাপতি হওয়া দু'-চারজনের যতই দৃষ্টিকটু মনে হোক।

এতে বাংলার ক্রিকেটের কী লাভ হবে, সেই প্রশ্ন অবান্তর। সৌরভ এর আগেও সিএবি সভাপতি ছিলেন, তাতে বাংলার ক্রিকেট কতটা উন্নত হয়েছে, সেই হিসেব কেউ দেন না। বোর্ড সভাপতি হয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের কেমন ছন্নছাড়া অবস্থা করে ছেড়েছেন, তা তো চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে। সাফল্য বলতে অতিমারীর মধ্যেও আইপিএল আয়োজন। অবশ্য আইপিএল চালানো ছাড়া অন্য কাজ আছে বলে হয়তো সৌরভ-জয় মনেই করেননি। তাই আইপিএল চালু ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও চালু থাকা রঞ্জি ট্রফি বন্ধ ছিল। ওদিকে জাতীয় দলে বিশৃঙ্খলার চূড়ান্ত। বিরাট কোহলির অধিনায়কত্ব যাওয়া নিয়ে নাটক; বিরাট প্রধান নির্বাচক চেতন শর্মা, সভাপতি সৌরভ-সুদ্ধ গোটা বোর্ডকে সাংবাদিকদের সামনে মিথ্যেবাদী সাব্যস্ত করলেন, কিন্তু কোনও শাস্তি হলো না। সমস্ত ক্রিকেট-খেলিয়ে দেশে জাতীয় দল ঘোষণা হলে তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন নির্বাচকরা। কে আহত, কাকে বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে পরিষ্কার বিবৃতি দেন। ভারতেও বরাবর এমন ব্যবস্থাই চালু ছিল। সৌরভের আমলে সেসব উঠে গেছে। কে যে কখন বিশ্রাম নিচ্ছেন, আর কে চোটের জন্য বাইরে থাকছেন তা বোঝা দুষ্কর। নানারকম খবর সংবাদমাধ্যমে ভাসতে থাকে আর যে ক্রিকেটপ্রেমীর যা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, তিনি তা-ই মেনে নেন।

সৌরভের নিজের আচরণও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। বোর্ড সভাপতির বিজ্ঞাপনী মডেল হওয়া ক্রিকেট-পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্য। তাও আবার বোর্ডের সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তিতে আবদ্ধ সংস্থার প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থার বিজ্ঞাপনে। এসব প্রশ্ন গত তিন বছরে বোর্ডের সভায় উঠেছে, কিন্তু লাভ হয়নি। কারণ সৌরভের ঢাল ছিলেন জয় শাহ। তাছাড়া যে-দেশে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং অমুক কোম্পানি, তমুক কোম্পানির বিজ্ঞাপন আলো করে খবরের কাগজগুলোর প্রথম পাতায় বসতে পারেন, সেখানে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতিকে আটকাবে কে?

এইভাবে দু'হাতে কামানো সৌরভ বাংলার আপামর মানুষ ও মুখ্যমন্ত্রীর চোখে আজ বঞ্চিত, নিপীড়িত। সেই নিপীড়নের অবসান হবে কী হলে? সৌরভকে বিশ্ব-ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার প্রধানের নির্বাচনে প্রার্থী হতে দিলে? তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৌরভের হয়ে আর্জি জানিয়েছেন। ক্রিকেটের এহেন গণতন্ত্রীকরণ গভীর আশাব্যঞ্জক। বোর্ডটা তুলে দিয়ে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে দিয়ে দিলে হয় না? সংসদে তো আজকাল রাজনৈতিক বিতর্ক বিশেষ হয় না। না হয় ক্রিকেট দল নির্বাচনটা ওখানে হবে।

তথ্য সূত্র:

১। টাইমস অফ ইন্ডিয়া

২। নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

৩। টাইমস অফ ইন্ডিয়া

৪। এই সময়

লিখেছেন
Pratik
Pratik
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?