পিরানহা নয়, বিশ্বের প্রাচীনতম হ্রদে সত্যিই বাস 'মানুষখেকো' মাছের?

Lake Baikal Cannibal Fish: মাছের স্বচ্ছ দেহ, আঁশ নেই একটিও, লম্বায় প্রায় ২১ সেন্টিমিটার বা ৮.৩ ইঞ্চির কাছাকাছি।

inscript
৩ মিনিট
পিরানহা নয়, বিশ্বের প্রাচীনতম হ্রদে সত্যিই বাস 'মানুষখেকো' মাছের?

হ্রদের বয়স ২৫ মিলিয়ন বছর! বিশ্বের প্রাচীনতম হ্রদটি রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব সাইবেরিয়ায়, ২৫ মিলিয়ন বছর আগে থেকে। বিশ্বের প্রাচীন হওয়ার মুকুট নয় স্রেফ, পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ হওয়ার শিরোপাও রয়েছে এর। ছোটবেলায়, ইস্কুলের পাঠ্যবইয়ে এই হ্রদের নাম সকলেই পড়েছেন। সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদ ১,৭০০ মিটার, মানে ৫,৬০০ ফুট গভীর, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অহিমায়িত স্বাদু জল ধরে রেখেছে বৈকাল। তবে পাঠ্যে অনেকেরই অজানা ছিল এই হ্রদে বসবাসকারী মাছেদের কথা, বলা ভালো, 'মানুষখেকো' মাছেদের কথা। বৈকাল হ্রদের নীচে স্পঞ্জ, লিম্পেট, মাছ আর ব্যাকটেরিয়ার ছড়াছড়ি। বিশ্বাস করা হতো, লুসুদ-খান নামের একটি ড্রাগনও নাকি বৈকালের নীচে লুকিয়ে ছিল, যদিও প্রমাণ মেলেনি কখনই।

বৈকাল হ্রদে অনেক অদ্ভুত এবং বৈচিত্র্যময় প্রজাতির বাস, সেই কারণেই হ্রদটিকে 'রাশিয়ার গ্যালাপাগোস' নামেও ডাকা হয়। প্রতি বছর পাঁচ মাস বরফের পুরু স্তরে এই হ্রদ ঢাকা থাকলেও, হ্রদে যে বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে তা বিস্ময়কর। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই হ্রদে বসবাসকারী ৮০ শতাংশ উদ্ভিদ এবং প্রাণীই এই গ্রহের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এই বিরল প্রাণীদের মধ্যেই অন্যতম হলো বৈকাল অয়েলফিশ যা গোলোমিয়াঙ্কস নামেও পরিচিত। মাছের স্বচ্ছ দেহ, আঁশ নেই একটিও, লম্বায় প্রায় ২১ সেন্টিমিটার বা ৮.৩ ইঞ্চির কাছাকাছি। মূলত দু'টি প্রজাতি রয়েছে এই অয়েলফিশের, C. baikalensis এবং C. dybowski।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সায়ানাইডের চেয়ে ১২০০ গুণ বিষাক্ত! এই মাছ খাওয়া মাত্রই কোমাতে স্বামী, স্ত্রীর মৃত্যু!

Dangerous Puffer Fish: পাফার ফিশ এক জনপ্রিয় জাপানি খাবার। এতে শক্তিশালী এবং মারাত্মক বিষ টেট্রোডোটক্সিন এবং স্যাক্সিটক্সিন থাকতে পারে।

অদ্ভুত চেহারা ছাড়াও আরও কিছু অস্বাভাবিক কারণ গভীর হ্রদের বাস্তুতন্ত্রে এদের ভূমিকা বিশাল। বিশ্বের সবচেয়ে গভীর মিঠে জলের মাছ এরাই। আর মিষ্টি জলের এই মাছই নাকি 'নরখাদক'! আসলে ক্যানিবাল শব্দটির বাংলা করলে দাঁড়ায় মানুষখেকো। কিন্তু ক্যানিবাল আসলে তারাই যারা নিজেদের মতো প্রজাতির মাংস খেয়ে নেয়। প্ল্যাঙ্কটোনিক কোপেপড, অ্যাম্ফিপড এবং লার্ভার মতো খাবার ছাড়াও এই মাছেরা নিজেদের বাচ্চাদেরও গিলে ফেলে। নিজের বাচ্চা খেয়ে ফেলার জন্যই এই মাছেদের বলা হয় 'ক্যানিবাল'। মানুষ খেতে মোটেও পছন্দ করে না এই মাছ।

সারা বছর ধরে, বৈকাল হ্রদের তাপমাত্রা বেশ নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। গ্রীষ্মে হ্রদের কিছু এলাকায় জলপৃষ্ঠের স্তরটি ১৬° সেলসিয়াসের কাছাকাছি উষ্ণ হতে পারে। তবে জানুয়ারি থেকে মে মাসের শুরুর দিক পর্যন্ত চার মাস বরফে ঢাকা থাকে এই হ্রদ। গড়ে প্রায় ০.৫ থেকে ১.৪ মিটার (১.৬ থেকে ৪.৬ ফুট) বরফে মোড়া থাকে বৈকাল। কিছু এলাকায় হামক, বরফের জমাট গিঁটের মতো অংশ জলপৃষ্ঠের উপরে উঠে যায়, এটি ২ মিটারের (৬.৬ ফুট) মতো পুরু হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চুনো পুঁটি থেকে রাঘব বোয়াল, ৫১৬ বছরের এই মেলা মাছপ্রেমীদের কাছে স্বর্গ!

Fish Fair : মাঘের পয়লা তারিখে মাছের মেলা, শীতের আমেজে জমজমাট আয়োজন

শীতের মাসগুলিতে বরফের বলয়ের জন্য দীর্ঘকাল ধরে বিখ্যাত এই হ্রদ। বৈকালের এই বরফের বলয় এতই বিশাল যে মহাকাশ থেকেও তাদের দেখা যেত। NASA ২০২০ সালে এই বিশাল বলয়ের রহস্য সমাধান করে।

স্যাটেলাইট এবং সেন্সর থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে আবিষ্কৃত হয়েছে যে, হিমায়িত হ্রদের পৃষ্ঠের গভীরের উষ্ণ ঘূর্ণিগুলি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে, এই ঘূর্ণিগুলি কড়া শীতের মাসগুলিতেও জলের উষ্ণ প্রবাহ তৈরি করছে। স্রোতের শক্তি কেন্দ্রেই সবচেয়ে দুর্বল, তাই পৃষ্ঠের বরফ জমেই থাকে। তবে ঘূর্ণির বাইরের শক্তিশালী স্রোত বরফকে গলাতে পারে।

বরফ জমা হ্রদের উপর দিয়ে যদি কেউ গাড়ি নিয়ে যেতে চান, তাহলে এই বলয়গুলি তাঁদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। স্যাটেলাইটের দৃষ্টিকোণ থেকে বরফের এই বলয় স্পষ্ট বোঝা যায় ঠিকই, কিন্তু হ্রদে নেমে স্থল স্তরে এদের চিহ্নিত করা বেশ কঠিন। ফ্রান্সের টুলুসে ফেডারেল ইউনিভার্সিটির ল্যাবরেটরি ফর স্টাডিজ ইন স্পেশিয়াল জিওফিজিক্স অ্যান্ড ওশানোগ্রাফির (LEGOS) সহকারী অধ্যাপক আলেক্সি কওরায়েভ, নিয়মিতভাবে তাঁর গবেষক দলের সঙ্গে নতুন নতুন গঠিত বরফের বলয়গুলির অবস্থান চিহ্নিত করে একটি ওয়েবসাইটে আপডেট করেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।